লাউ শাকে কি এলার্জি আছে
লাউ শাকে কি এলার্জি আছে সে সম্পর্কে আপনার যদি জানা না থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের এই আর্টিকেল থেকে জেনে নিতে পারেন। লাউশাকে এলার্জি আছে কিনা এবং লাউ শাকের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানতে পুরো আর্টিকেল জুড়ে আমাদের সঙ্গেই থাকুন।
লাউ শাকে কি এলার্জি আছে এ বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব এবং গর্ভাবস্থায় লাউ শাক খাওয়ার উপকারিতা, লাউ খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা, লাউয়ের বিচির উপকারিতা, লাউ খেলে কি ঠান্ডা লাগে এবং শীতকালীন লাউ চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।
পেজ সূচিপএ
লাউ শাকে কি এলার্জি আছে
লাউ সাথে কি এলার্জি আছে? এ বিষয়টি সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই ধারণা নেই। লাউ শাক একটি পুষ্টিকর খাবার এবং আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ উপকারী একটি খাদ্য হিসেবে পরিচিত। লাউ শাক খেতে যেমন সুস্বাদু তেমন আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের উপকার করে। তবে অনেকের মতে লাউ শাক খেলে এলার্জির সমস্যা হয় এমন ধারণা রয়েছে। লাউ শাক থেকে এলার্জি এটি একটি বিরল ঘটনা।
লাউ শাক খেলে এলার্জির কোন সমস্যা নেই। লাউ শাক আপনার জন্য নিরাপদ। তবে কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে লাউ শাক খাওয়ার পড়ে চুলকানি, ফুলা ভাব, লালচে ভাব ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে। আপনার যদি আগে থেকেই এলার্জির কোন সমস্যা থাকে তাহলে লাউ শাক খাওয়ার ফলে এলার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া লাউ শাক এ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহার করা হলে অনেক সময় লাউ শাক খেলে এলার্জি সমস্যা দেখা দেয়।
আরো পড়ুন: মিষ্টি আলু খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
আপনি যদি লাউ শাক থেকে আপনার এলার্জি সমস্যা বুঝতে চান তাহলে অবশ্যই প্রথমে অল্প করে লাউ শাক খান। যদি দেখেন যে লাউ শাক খাওয়ার ফলে আপনার এলার্জির সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে তাহলে লাউ শাক এড়িয়ে চলুন এবং ডাক্তারের পরামর্শ নেন। আর যদি দেখেন যে লাউ শাক খাওয়ার ফলে আপনার শরীরে এলার্জির কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে না তাহলে বুঝবেন লাউ শাক আপনার জন্য নিরাপদ।
লাউ শাকের উপকারিতা ও অপকারিতা
লাউ শাকের উপকারিতা ও অপকারিতা দুটোই রয়েছে। তবে লাউ শাকের উপকারিতায় বেশি অপকারিতা খুবই কম পরিমাণে। লাউ শাক পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি সবজি এবং ভিটামিন ও খনিজের একমাত্র উৎস। লাউ শাকের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন যেমন ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফাইবার, কম ক্যালোরি ইত্যাদি আরো বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যকর উপাদান। আমাদের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য লাউ শাক প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় রাখা উচিত। চলুন তাহলে জেনে নেই লাউ শাকের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে।
লাউ শাকের উপকারিতা
- লাউ শাক এর মধ্যে থাকা ভিটামিন সি আমাদের শরীরের বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ রোধ করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ঠান্ডা জনিত সমস্যা দূর করে।
- লাউ শাক মস্তিক ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে এবং রাতে খুব ভাল ঘুম আসতে সাহায্য করে। লাউ শাক দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতেও সহায়তা করে।
- লাউ শাকের মধ্যে রয়েছে ভিটামিন এ। তাই লাউ শাক খেলে আমাদের চোখের বিভিন্ন সমস্যা দূর হয় ও দৃষ্টিশক্তি উন্নত হয়।
- লাউ শাক একটি আঁশযুক্ত খাবার তাই লাউ শাক খেলে আমাদের পেটের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা যেমন কোষ্ঠকাঠিন্য, পাইলস ইত্যাদি সমস্যা দূর হয়। লাউ শাক খেলে পেটের ভেতর থেকে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর টক্সিন গুলো খুব সহজে বের হয়ে যায়।
- লাউ শাক ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম এর খুব ভালো উৎস। আপনি যদি নিয়মিত লাউ শাক খান তাহলে আপনার হাড়ের বিভিন্ন সমস্যা দূর হয় এবং হাড় মজবুত হয়।
- লাউ শাকের মধ্যে থাকা পটাশিয়াম আপনার উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেয়।
- লাউ শাকের মধ্যে রয়েছে আয়রন তাই আপনি যদি প্রতিদিন লাল শাক খান তাহলে আপনার রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং শরীরে আয়রনের ঘাটতি পূরণ হয়।
- লাউশাক আন্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার। তাই প্রতিদিন লাউ শাক খেলে আপনার ত্বক ভালো থাকে এবং ত্বকের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর জীবাণু খুব সহজেই ধ্বংস হয়ে যায়।
- লাউ শাক ডায়াবেটিস রোগীর জন্য খুব উপকার। লাউ শাক রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের সহায়তা এবং ইনসুলিনের মাত্রা বাড়ায়। ফলে খুব সহজে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।
- লাউ শাকের মধ্যে রয়েছে ফলিক অ্যাসিড। তাই আপনি যদি প্রতিদিন লাউ শাক খান তাহলে গর্ভাবস্থায় আপনার শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ এবং গর্ভবতী মায়ের শরীরে ফলিক এসিডের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।
- এছাড়া লাউ শাক আপনার শরীরে বিভিন্ন ধরনের ব্যথা কমাতে ও ভালো কাজ করে। আপনার যদি বাপের ব্যথার সমস্যা থাকে তাহলে লাউ শাক খেতে পারেন। লাউ শাকের মধ্যে থাকা ফাইটো নিউট্রিয়েন্ট শরীরের ব্যথা কমাতে সহায়তা করে।
লাউ শাক খাওয়ার অপকারিতা
উপরে আমরা লাল শাক খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জেনেছি এখন আমরা লাউ শাক খাওয়ার অপকারিতা সম্পর্কে জানব। প্রতিটি খাবারের ভালো-মন্দ দুইটাই থাকে। তবে লাউ শাকের উপকারিতা বেশি অপকারিতা খুবই কম কিন্তু সে বিষয়ে আমাদের অবশ্যই সতর্ক থাকা উচিত।
- লাউ শাকের মধ্যে অক্সালেট রয়েছে। তাই যাদের কিডনিতে পাথর রয়েছে তারা লাউ শাক খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।
- লাউ শাক খাওয়ার আগে অবশ্যই খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করে রান্না করা উচিত। ভালোভাবে পরিষ্কার করে রান্না না করে লাউশাকের ভেতরে থাকা জীবাণু আপনার পেটে বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
- কারো কারো ক্ষেত্রে লাউ শাক খেলে এলার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে। যদি আপনার এলার্জির কোন সমস্যা থাকে তাহলে অবশ্যই লাউশাক খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
- লাউশাকের মধ্যে থাকা পটাশিয়াম উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে। তাই আপনি যদি নিম্ন রক্তচাপের রোগী হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই লাউ শাক খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। এছাড়া আপনার যদি হৃদরোগের সমস্যা থাকে তাহলে লাউ শাক খেলে হৃদরোগের সমস্যা আরো বেশি বেড়ে যেতে পারে।
- অতিরিক্ত পরিমাণে লাউ শাক খাওয়া থেকে বিরত থাকুন বিশেষ করে যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে তারা। অনেকেই লাউশাক হজম করতে পারে না এবং ডায়রিয়ার সমস্যা দেখা দেয়।
- আপনার যদি আলসারের সমস্যা থাকে তাহলে অতিরিক্ত লাউ শাক খেলে আপনার পেটে গ্যাসের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।
উপরের অপকারিতা গুলো মেনে আপনি অবশ্যই লাউশাক পরিমাণ মতন খেতে পারবেন। লাউ শাক আপনার স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী তবে আমি মনে করি যে কোন খাবারই পরিমাণ মতন খেলে স্বাস্থ্যের কোন ক্ষতি হয় না এবং সে খাবার খেয়ে উপকৃত হওয়া যায়।
গর্ভাবস্থায় লাউ শাক খাওয়ার উপকারিতা
গর্ভাবস্থায় লাউ শাক খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে অনেকেই জানতে চাই। উপরে আমরা লাউ শাকে কি এলার্জি আছে এবং লাউ শাক খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করেছি। এখন আমরা আলোচনা করব গর্ভাবস্থায় লাউ শাক খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে।
গর্ভাবস্থায় বেশিরভাগ শাকসবজি আপনার জন্য নিরাপদ তবে অবশ্যই লাউ শাক আপনার জন্য গর্ভাবস্থায় নিরাপদ কিনা সে সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়া জরুরী চলুন তাহলে দেরি না করে গর্ভাবস্থায় লাউ শাক খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে আপনাকে একটি ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করি।
- ফলিক এসিডের পরিমাণ একজন গর্ভবতী মায়ের শরীরে কম থাকলে বাচ্চার জন্মের সময় বিভিন্ন ধরনের এুটি নিয়ে জন্মগ্রহণ করে তাই গর্ভাবস্থায় ফলিক এসিডের পরিমাণ গর্ভবতী মায়ের শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকা অত্যন্ত জরুরী। লাউ শাকের মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমানে ফলিক এসিড রয়েছে। তাই আপনি যদি গর্ভাবস্থায় লাউশাক খান তাহলে আপনার শরীরে এবং গর্ভের বাচ্চার শরীরে ফলিক এসিডের পরিমাণ ঠিক থাকবে।
- লাউশাকের মধ্যে রয়েছে উচ্চমাত্রায় ভিটামিন সি। গর্ভাবস্থায় ভিটামিন সি একজন গর্ভবতী মায়ের শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ঠান্ডা জনিত বিভিন্ন ধরনের সমস্যা থেকে গর্ভবতী মাকে রক্ষা করে।
- লাউ শাকের মধ্যে খুবই কম পরিমাণে ক্যালরি রয়েছে তাই আপনি যদি গর্ভাবস্থায় আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণের ভেতরে রাখতে চান তাহলে অবশ্যই খাদ্য তালিকায় লাল শাক রাখুন।
- লাউশাক আয়রনের ঘাটতি পূরণ করতেও সহায়তা করে। গর্ভাবস্থায় আমাদের শরীরে রক্তশূন্যতার সমস্যা দেখা দেয়। তাই আপনি রক্তস্বল্পতার ঘাটতি পূরণ করার জন্য প্রতিদিন লাউ শাক খেতে পারেন। এক কথায় বলতে গেলে লাউশাক রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।
- লাল শাকের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম রয়েছে। পটাশিয়াম আমাদের গর্ভাবস্থায় কোষ ভালো রাখতে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে রাখতে, শরীরের ভেতরে তরলের মাত্রা ঠিক রাখতে এবং কোষের ভেতরে সঠিকভাবে রক্ত চলাচল রাখতে সহায়তা করে।
- গর্ভাবস্থায় আমাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দেয়। আর লাউ শাক এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে আশঁ রয়েছে তাই আপনি যদি গর্ভাবস্থায় লাউ শাক খান তাহলে আপনার কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হবে।
গর্ভাবস্থায় লাউ শাক খাওয়া আপনার জন্য খুবই ভালো। কিন্তু কখনোই অতিরিক্ত পরিমাণে না। গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত পরিমাণে লাউ শাক খেলে আপনার পেটে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে যেমন পেটব্যথা, বদহজম, বমি বমি ভাব এমনকি ডায়রিয়ার মত সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
লাউ খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
লাউ খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে এখন আমরা বিস্তারিত জানবো। উপরে আমরা জেনেছি লাউ শাকে কি এলার্জি আছে এবং লাউ শাক খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে। লাউ, লাউ শাক কিংবা লাউয়ের বিচি প্রতিটি উপাদানই আমাদের শরীরের জন্য খুবই পুষ্টিকর।
লাউ খেলে আমাদের শরীর অনেক বেশি সুস্থ থাকে এবং শরীরের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া খুব দ্রুত ধ্বংস হয়ে যায়। লাউ শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ায়।
লাউ এর মধ্যে থাকা ফাইবার আপনার ওজন কমাতে সহায়তা করে এবং দীর্ঘক্ষণ পর্যন্ত পেট ভরা রাখে। লাউ শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করতে সহায়তা করে। লাউয়ের মধ্যে রয়েছে কম ক্যালরি তাই আপনি যদি প্রতিদিন লাউ খান তাহলে শরীরে তাপমাত্রা কমে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। লাউ শরীরকে হাইড্রেট রাখতে সহায়তা করে।
আরো পড়ুন: স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির আয়ুর্বেদিক ঔষধ
লাউ পেট ঠান্ডা রাখে এবং পেটের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দূর করতে ও পাচনতন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়তা করে। লাউ হজম শক্তি বাড়াতে সহায়তা করে। লাউ উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেয়। লাউ শরীরে আয়রনের ঘাটতি পূরণ করতে সহায়তা করে এবং মানসিক চাপ কমায়। লাউ আপনার স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য উপকারী একটি সবজি তাই অবশ্যই প্রতিদিন পরিমাণ মতো লাউ খাদ্য তালিকায় রাখুন।
লাউ খাওয়ার অপকারিতা
- অনেক সময় লাউ খেলে এলার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- যারা ডায়াবেটিসের রোগী রয়েছেন তারা লাউয়ের রস চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাবেন না।
- অতিরিক্ত পরিমাণে লাউ খাওয়া ঠিক না। অতিরিক্ত পরিমাণে লাউ খেলে আপনার পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া ইত্যাদি সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
- লাউ রস করে খেলে অনেক সময় তেতো স্বাদ অনুভব হয়। ফলে আপনার পেট ব্যথা, বমি বমি ভাব কিংবা ডায়রিয়া হতে পারে।
- যারা নিম্ন রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন তারা অতিরিক্ত লাউ খাওয়া এড়িয়ে চলুন কারণ লাউ উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে। ফলে আপনি অতিরিক্ত লাউ খেলে নিম্ন রক্ত চাপের সমস্যায় ভুগতে পারেন।
- লাউ এর মধ্যে পটাশিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে তাই যারা কিডনির সমস্যায় ভুগছেন তারা ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে লাউ খাওয়া উচিত।
লাউ যদি আপনি পরিমাণ মতন খান তাহলে এটি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী। আপনার যদি শারীরিক কোন সমস্যা থাকে তাহলে অবশ্যই লাউ খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।
লাউয়ের বিচির উপকারিতা
লাউয়ের বিচির উপকারিতা রয়েছে অনেক। লাউ যেমন আমাদের শরীরের জন্য উপকারী কেমন লাউয়ের বিচিও আমাদের শরীরের জন্য উপকারী খাদ্য। লাউয়ের বিচির মধ্যে রয়েছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড।
তাই আপনি যদি প্রতিদিন লাউ খান তাহলে আপনার মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায় এবং স্মৃতিশক্তি বাড়ে। শিশুদের জন্য লাউয়ের বিচিও খুব উপকারী একটি খাদ্য। বাড়ন্ত বয়সের শিশুরা যদি প্রতিদিন লাউ খায় তাহলে বুদ্ধির বিকাশ ঘটে এবং স্মৃতিশক্তি বাড়ে।
লাউয়ের বিচির মধ্যে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড ছাড়াও পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, জিংক, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এ, ভিটামিন ই ইত্যাদি উপাদানও রয়েছে প্রচুর পরিমাণে। আমাদের দেহের বিভিন্ন কোষের কার্যকারিতা বাড়াতে লাউয়ের বিচি উপকারী।
লাউয়ের বিচি খেলে আমাদের ভালো ঘুম হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। সবচাইতে বড় কথা হলো যে আপনাকে আলাদা করে লাউয়ের বিচি কিনে খেতে হয় না এটি আপনি লাউয়ের সাথে খেতে পারেন। যদি বিনামূল্যে আপনি লাউয়ের বিচি খেয়ে উপকৃত হন তাহলে এর পুষ্টিগুণ থেকে বঞ্চিত হবেন কেন। অবশ্যই প্রতিদিন লাউ এর সাথে লাউয়ের বিচি খাওয়ার ও অভ্যাস করুন।
লাউয়ের বিচি খাওয়ার নিয়ম
লাউয়ের বিচি খাওয়ার নিয়ম রয়েছে বিভিন্ন রকম। লাউয়ের বিচি আপনার ইচ্ছামত খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন। লাউয়ের বিচি খাওয়ার কোন নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। লাউয়ের বিচি আপনি বিভিন্নভাবে খেতে পারেন যেমন লাউ থেকে বিচি বের করে বিভিন্ন ধরনের সবজিতে দিয়ে খেতে পারেন। লাউয়ের বিচি ভেজে খেতে পারেন। লাউয়ের বিচি গুড়া করে খেতে পারেন। এছাড়া লাউয়ের বিচির স্যুপ বানিয়েও খেতে পারেন।
লাউ খেলে কি ঠান্ডা লাগে
লাউ খেলে কি ঠান্ডা লাগে এমন প্রশ্ন অনেকেই করে থাকেন। লাউ সাধারণভাবে ঠান্ডা প্রকৃতির খাবার হিসেবে পরিচিত এবং শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে। তবে অনেকের মধ্যে ধারণা রয়েছে যে লাউ খেলে ঠান্ডা লাগে। আসলেই এই বিষয়টা একেবারে নির্ভর করে ব্যাক্তি ভেদে। যাদের ঠান্ডা জনিত সমস্যা রয়েছে তারা যদি লাউ খায় তাদের ঠান্ডা লাগতে পারে।
লাউ সাধারণভাবে শরীরে তাপমাত্রা কমায় তাই যাদের ঠান্ডা সমস্যা রয়েছে তারা লাউ খেলে ঠান্ডা লাগতে পারে। কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে লাউ খেলে সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে। লাউ এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন সি। লাউ সাধারণভাবে ঠান্ডা কমাতে সহায়তা করে। তবে আপনার যদি লাউ খাওয়ার পরে ঠান্ডা লাগে তাহলে অবশ্যই লাউ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন এবং একজন ভালো চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
লাউ শাকের পুষ্টিগুণ
লাউ শাকের পুষ্টিগুণ রয়েছে অতুলনীয়। লাউ শাকের মধ্যে রয়েছে কম ক্যালরি তাই আপনি যদি ওজন কমানোর কথা ভাবেন তাহলে অবশ্যই লাউ শাক খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন। এছাড়া লাউ শাক আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে এবং শরীরকে সুস্থ রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
১০০ গ্রাম লাউ শাকের পুষ্টিগুন নিচে দেওয়া হলঃ
- চর্বি - ০.১ গ্রাম।
- প্রোটিন - ১.৫ গ্রাম।
- ক্যালরি - ২৫ কিলোক্যালরি।
- কার্বোহাইড্রেট - ৪.৫ গ্রাম।
- চিনি - ০.৭ গ্রাম।
- পটাশিয়াম - ৩১২ মিলিগ্রাম।
- সোডিয়াম - ৮ মিলিগ্রাম।
- ফাইবার - ২.৩ গ্রাম।
- ভিটামিন এ - ৪৪৬০ আই ইউ।
- ভিটামিন সি - ৩২ মিলিগ্রাম।
- আয়রন - ১.১ মিলিগ্রাম।
- ক্যালসিয়াম - ১৫৫ মিলিগ্রাম।
- ফ্যাট - ০.১ গ্রাম।
লেখকের মন্তব্য - লাউ শাকে কি এলার্জি আছে
প্রিয় পাঠক আপনারা নিশ্চয় আমাদের এই আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খুব মনোযোগ সহকারে পড়েছেন এবং লাউ শাকে কি এলার্জি আছে এবং লাউ শাক খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সে সম্পর্কে একটি সঠিক তথ্য পেয়েছেন। আমাদের আজকের আর্টিকেলটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে তাও অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাবেন।
আরো পড়ুন: তুলসী পাতা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
আর আমাদের আর্টিকেলটি পড়ে যদি আপনি উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনার বন্ধু বান্ধবের সাথে আমাদের আর্টিকেলটি শেয়ার করুন। এছাড়া আপনি যদি স্বাস্থ্য বিষয়ক ও পুষ্টি বিষয়ক আরো বিভিন্ন ধরনের তথ্য পেতে চান তাহলে অবশ্যই bdonlineit.com ওয়েবসাইটটি নিয়মিত ভিজিট করুন।
বিডি অনলাইন আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url