জামের বিচির উপকারিতা ও অপকারিতা

জামের বিচির উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আপনার যদি জানা না থাকে তাহলে আজকের এই আর্টিকেল থেকে আপনি জাম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে নিতে পারেন। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক।
জামের বিচির উপকারিতা ও অপকারিতা
জাম একটি উপকারী ফল। তাই জামের বিচি গুড়া খাওয়ার নিয়ম, জামের বিচি গুড়া করার নিয়ম, জাম গাছের ছালের উপকারিতা, জাম খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা, গর্ভাবস্থায় জাম খাওয়ার উপকারিতা, জাম পাতার উপকারিতা ও জাম গাছের উপকারিতা সম্পর্কে এখন আপনাদের জানাবো।
পেজ সূচিপএ

জামের বিচির উপকারিতা ও অপকারিতা

জামের বিচির উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই তেমন কোন ধারণা নেই। কারণ আমরা বেশিরভাগ সময় জাম খেয়ে জামের বিচিগুলো ফেলে দেই। জামের মধ্যে যেমন বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিগুণ উপাদান রয়েছে তেমন জামের বিচির মধ্যেও রয়েছে বিভিন্ন ধরনের উপকারী উপাদান।
জামের বিচির মধ্যে কোন ধরনের শর্করা নেই এবং চিনির পরিমাণ খুবই কম তাই অনেকেই ডায়াবেটিস কমানোর জন্য জামের বিচি খেয়ে থাকে। জামের বিচির মধ্যে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার প্রোটিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম, জিংক, গ্লাইকোসাইড, ফাইটোকেমিক্যালস এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। জামের বিচি বহু পাচীনকাল থেকে আয়ুর্বেদিক ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। চলুন তাহলে জেনে নেই জামের বিচির উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে।

জামের বিচির উপকারিতা

  • জামের বিচি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জামের বিচির মধ্যে থাকা বিভিন্ন ধরনের উপাদান আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং ইনসুলিনের মাত্রা বাড়ায়। ফলে খুব সহজে আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে। আপনি যদি প্রতিদিন নিয়ম করে জামের বিচির গুড়া খান তাহলে ডায়াবেটিস আস্তে আস্তে নিম্নমুখী হবে।
  • জামের বিচি আপনার পেট ভালো রাখার জন্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। জামের বিচির মধ্যে রয়েছে ফাইবার ফলে আপনার পেটের ভেতরের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা যেমন অ্যাসিডিটি, বদহজম, পেটব্যথা, বয়ে বমি ভাব এমনকি কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতেও সাহায্য করে।
  • জামের বিচি আপনার লিভার এবং কিডনি সমস্যা দূর করতেও গুরুত্ব রাখে। আপনার যদি লিভারের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হয় কিংবা কিডনিতে পাথরের সমস্যা থাকে তাহলে জামের বিচি খেলে উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া আপনার যদি দীর্ঘমেয়াদি কোন পেটের সমস্যা থাকে তাহলে জামের বিচি সেই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতেও খুব কার্যকরী।
  • জামের বিচি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে একটি ভালো উৎস হতে পারে। আপনার যদি উচ্চ রক্তচাপ জনিত কোন সমস্যা থাকে তাহলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রতিদিন জামের বিচির গুঁড়া খেতে পারেন। এছাড়া উচ্চ রক্তচাপ আপনার শরীরে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি করে থাকে তাই অবশ্যই উত্তর রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত। জামের বিচি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আপনাকে সহায়তা করবে।
  • জামের বিচি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কার্যকরী। গ্রামের বিচির মধ্যে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যেগুলো আপনার শরীরে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ফাঙ্গাস এর বিরুদ্ধে লড়াই করে থাকে এবং আপনাকে সুস্থ রাখার জন্য আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। নিয়মিত আপনি যদি জামের বিচি খান তাহলে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ার সাথে সাথে শরীর থেকে বিভিন্ন ধরনের দীর্ঘমেয়াদী জীবাণু দূর করতেও সাহায্য করবে।
  • অতিরিক্ত ওজনের জন্য আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের দীর্ঘমেয়াদি রোগ জন্ম নেয়। তাই আমাদের শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা উচিত। আপনার শরীরের যদি অতিরিক্ত ওজন হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই সকালে খালি পেটে জামের বিচির গুড়া খাওয়ার অভ্যাস করুন। জামের বিচির গুঁড়া আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণের সহায়তা করে।
  • জামের বিচি ত্বকের ভেতরের বিভিন্ন ধরনের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। ত্বক ভালো রাখতে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সহায়তা করে।

জামের বিচির অপকারিতা

প্রতিটি খাবার যেমন আমাদের শরীরের জন্য উপকারী তেমন কিছু কিছু শারীরিক সমস্যার জন্য প্রতিটি খাবারই আমাদের শরীরে কিছুটা অপকার করে থাকে। চলুন তাহলে জেনে নেই জামের বিচির অপকারিতা সম্পর্কে।

  • জামের বিচি অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া উচিত না এতে আপনার পেটে সমস্যা হতে পারে।
  • জামের বিচির মধ্যে কোন এলার্জি নেই তবে কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে জামের বিচি খেলে এলার্জি সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • আপনার যদি নিম্ন রক্তচাপের সমস্যা থাকে তাহলে অবশ্যই জামের বিচি এড়িয়ে চলুন।
  • যারা ডায়াবেটিসের রোগী রয়েছেন তারা অবশ্যই জামের বিচি পরিমাণ মতন খাবেন। অতিরিক্ত জামের বিচি খাওয়ার ফলে আপনার সুগার লেভেল একেবারে নিচে নেমে যেতে পারে।
  • যারা গর্ভবতী এবং বাচ্চাদের দুধ খাওয়ান সেসব মায়েরা অবশ্যই জামের বিচি খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
  • জামের বিচির উপকারিতা ও অপকারিতা রয়েছে অনেক। তবে অবশ্যই নিয়ম করে এবং পরিমাণ মতন খাওয়া উচিত। আপনি যদি নিয়ম করে এবং পরিমাণ মতন প্রতিদিন জামের বিচি খান তাহলে অবশ্যই জামের বিচি থেকে উপকৃত হবেন। কিন্তু জামের বিচির অপকারিতা সম্পর্কে অবশ্যই আগে ভালোভাবে জেনে নিবেন। না হলে জামের বিচি খাওয়ার পরে উপকারের চাইতে ক্ষতি হবে বেশি।

জামের বিচি গুড়া খাওয়ার নিয়ম

জামের বিচির গুড়া খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে অবশ্যই আমাদের ভালোভাবে জানা উচিত কারণ জামের বিচি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী একটি উপাদান। জামের বিচি গুড়া খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে যদি আপনি খুব ভালোভাবে জেনে জামের বিচি প্রতিদিন নিয়ম করে খান তাহলে অবশ্যই জামের বিচির গুড়া থেকে প্রচুর পরিমাণে উপকার পাবেন। চলুন তাহলে জেনে নেই জামের বিচি গুড়া খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে।

  • আপনার যদি পেটের সমস্যা থাকে তাহলে জামের বিচির গুঁড়া প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস পানিতে মিশিয়ে খেতে পারেন এতে পেটের সমস্যা দূর হবে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমবে।
  • যদি উচ্চ রক্তচাপ সমস্যায় ভুগেন তাহলে দিনের যেকোনো সময় জামের বিচির গুঁড়া পানিতে মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে আপনার রক্তচাপ সমস্যা দূর হবে।
  • যদি ওজন নিয়ন্ত্রণের কথা ভাবেন তাহলে দিনে দুইবার এক চামচ করে জামের গুঁড়া এক গ্লাস পানিতে মিশিয়ে পান করুন। দেখবেন এক সপ্তাহের ভেতরে ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।
  • শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এক গ্লাস দুধের সাথে এক চা চামচ জামের গুড়া মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং শরীর বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাবে।
  • আপনার যদি জামের বিচি গুড়া এভাবে খেতে ভালো না লাগে তাহলে আপনি বিভিন্ন খাবারের সাথে মিশিয়েও জামের বিচি গুড়া খেতে পারেন। যেমন ভাতের সাথে, বিভিন্ন ধরনের স্যালাতের সাথে কিংবা বিকালে হালকা নাস্তার সাথে।

জামের বিচি গুড়া করার নিয়ম 

জামের বিচি গুড়া করার নিয়ম সম্পর্কে এখন আমরা জানবো। উপরে আমরা জেনেছি জামের বিচির উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে। এখন আমরা জানবো কিভাবে জামের বিচি গুড়া করা যায় সে সম্পর্কে। 
জামের বিচি গুড়া করার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন
জামের বিচি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য একটি উপকারী উপাদান তবে অবশ্যই সঠিক নিয়মে জামের বিচি গুড়া করা জানতে হবে। আপনি যদি সঠিক নিয়মে জামের বিচি গুড়া করতে না পারেন তাহলে জামের বিচি খাওয়ার সময় বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় পড়বেন এবং জামের বিচি খেতে পারবেন না। তাহলে চলুন জামের বিচি গুড়া করার নিয়ম সম্পর্কে জেনে নেই।

  • জামের বিচি গুড়ো করার জন্য প্রথমে আপনাকে জামের আঁশগুলো খুব ভালোভাবে ছাড়িয়ে নিয়ে ভেতর থেকে বিচিগুলো বের করে নিতে হবে।
  • তারপর পরিষ্কার পানি দিয়ে জামের বিচি গুলোকে খুব ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। যেন জামের বিচির গায়ে কোন আঁশ লেগে না থাকে।
  • ভালোভাবে ধোয়া হয়ে গেলে জামের বিচিগুলো রোদে শুকিয়ে নিতে হবে।
  • খুব ভালোভাবে শুকানো হয়ে গেলে জামের বিচিগুলো পাটার সাহায্যে কিংবা বিলিন্ডারের সাহায্যে গুড়ো করে নিতে হবে।
  • গুড়ো করার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে জামের বিচিগুলো যেন মিহি ভাবে গুড়ো হয়। মিহি ভাবে গুড়ো হলে খেতে সুবিধা হবে।

জাম গাছের ছালের উপকারিতা

জাম গাছের ছালের উপকারিতা রয়েছে অনেক। বিভিন্ন চিকিৎসায় জাম গাছের ছাল আয়ুর্বেদিক ঔষধ হিসেবে বহু যুগ আগে থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। জাম গাছের ছাল আপনার শরীরের রক্ত পরিষ্কার করতে সহায়তা করে। শরীরের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া এবং ইনফেকশন কমাতে সহায়তা করে। যদি আপনার শরীরে কোন ঘা কিংবা দীর্ঘদিন যাবত ক্ষত থাকে তাহলে জাম গাছের ছাল বেটে লাগাতে পারেন। 
এতে অনেক বেশি আরাম পাবেন। জাম গাছের ছাল ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ। গাছের ছাল শুকিয়ে গুড়ো করে প্রতিদিন সকালে খেলে আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা কমে এবং ইনসুলিনের মাত্রা বাড়ে। জাম গাছের ছাল সবচেয়ে বেশি কাজ করে আপনার আমাশয় ভালো করতে। আপনার যদি অনেকদিন থেকে আমাশয় সমস্যা থাকে তাহলে অবশ্যই জাম গাছের ছাল খেতে পারেন। এছাড়া জাম গাছের ছাল আপনার দাঁত ও মাড়ি রাখতেও সমান কার্যকরী। 

জাম গাছের ডাল দিয়ে আপনি দাঁত পরিষ্কার করতে পারেন। এতে দাঁতের গোড়া মজবুত হয় ও দাঁতের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। জাম গাছের ছাল আপনার শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবেও কাজ করে এবং শরীর থেকে ফ্রি রেডিকেল গুলোকে খুব সহজে দূর করে দেয়। আপনার শরীরের যদি কোথাও কেটে যায় তাহলে জাম গাছের ছাল বেটে কাঁটা স্থানে লাগাতে পারেন। এতে খুব তাড়াতাড়ি আক্রান্ত স্থান শুকাবে।

জাম খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

জাম খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে এখন আমরা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব। আমাদের দেশের বিভিন্ন ধরনের ফলের ভেতরের জাম ফল অন্যতম একটি ফল হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত। জাম ফলের বৈজ্ঞানিক নাম (Syzygium cumini)। বাংলাদেশ ছাড়াও জাম ফল পাকিস্তান, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া ইত্যাদি দেশেও ব্যাপকভাবে চাষ হয়। 

তবে বাংলাদেশের ঢাকা, নোয়াখালী, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, সিলেট, দিনাজপুর, নোয়াখালী ইত্যাদি দেশে প্রচুর পরিমাণে জাম উৎপন্ন হয়। জাম ফল খেতে যেমন মজাদার হয় তেমন দেখতেও বেশ সুন্দর। চলুন তাহলে জাম খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেই।

জাম খাওয়ার উপকারিতা

  • ডায়াবেটিসের রোগীর জন্য জাম ফল একটি উপকারী ফল হিসেবে বহু যুগ আগে থেকে পরিচিত। জাম ফল রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং ডায়াবেটিস কমাতে সহায়তা করে। জাম ফলের ভেতরে থাকা শর্করা আপনার শরীরের ভেতরে জমে থাকা চিনিকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং ডায়াবেটিস রোগীর শরীরে যথেষ্ট পরিমাণে শক্তির যোগান দেয়।
  • জাম ফল শরীরে রক্তশূন্যতা রোগ দূর করতে সহায়তা করে। জাম ফলের মধ্যে থাকা আয়রন শরীরের রক্ত বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং আপনার শরীরকে রক্তশূন্যতার সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।
  • জাম ফলের মধ্যে থাকা ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন সি আপনার শরীরের হাড় ও দাঁত ভালো রাখতে খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
  • জাম ফলের মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আপনার শরীরের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের প্রদাহ কমিয়ে ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া জাম ফল আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতেও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
  • বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে প্রতিদিন জাম ফল খেলে জাম ফলের ভেতরে থাকা কেমো প্রটেক্টিভ আপনার শরীরকে ক্যান্সারের হাত থেকে রক্ষা করে।
  • জাম ফল আপনার হজম শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। জামের মধ্যে থাকা উচ্চপাইবার আপনার হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে এবং পেটের বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে।
  • জামফল ওজন নিয়ন্ত্রণের সহায়তা করে। আপনি যদি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান তাহলে জাম ফল খেতে পারেন। জাম ফলের ভেতরে থাকা উচ্চ ফাইবার আপনার পেট দীর্ঘক্ষণ পর্যন্ত ভরা রাখে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

জাম খাওয়ার অপকারিতা

  • জামফলের উপকারিতায় বেশি অপকারিতা খুবই কম। নিচে জামফলের অপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।
  • জাম খাওয়ার যেমন কিছু উপকারিতা রয়েছে তেমন আপনি যদি অতিরিক্ত পরিমাণে জাম খান তাহলে আপনার শরীরের বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি হতে পারে। জাম খেলে যেমন আমাদের পেটের বিভিন্ন সমস্যা দূর হয় তেমন অতিরিক্ত পরিমাণে জাম খেলে আপনার ডায়রিয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • কিছু কিছু জাম খাওয়ার পরে এলার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • অতিরিক্ত জাম খাওয়ার পরে আপনি যদি পরিমাণ মতন পানি না খান তাহলে আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • যাদের নিম্ন রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে তারা অতিরিক্ত পরিমাণে জাম খেলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

অতিরিক্ত জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী ও উত্তর

১. জামফলে কোন ভিটামিন থাকে ?
জাম একটি পুষ্টিকর ফল। জামফলের মধ্যে রয়েছে ভিটামিন সি, এ, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, প্রোটিন, গ্লুকোজ, পটাশিয়াম, ফাইবার, আইরন, কার্বোহাইড্রেট ও অন্যান্য আরো গুরুত্বপূর্ণ সব পুষ্টি উপাদান।

২.জাম কখন খাওয়া উচিত ?
জাম খেলে আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়। তাই ভারী খাবার খাবার পরে জাম খাওয়া উচিত। এতে আপনার হজম শক্তি বৃদ্ধি পাবে এবং গ্যাস ও বদহজম দূর হবে।

৩. জাম খাওয়ার পর কি কি খাওয়া যাবে না ?
জাম খাবার পরে সাথে সাথে পানি খাওয়া উচিত না অন্তত আধা ঘন্টা অপেক্ষা করা উচিত। খালি পেটে জাম খাওয়া মোটে উচিত না এতে আপনার বদহজম হতে পারে। জাম খাওয়ার পরে দুধ কিংবা দুধ জাতীয় কোন খাবার না খাওয়াই ভালো।

৪. জাম খেলে কি রক্ত বাড়ে ?
জামের মধ্যে থাকা ভিটামিন সি এবং আয়রন রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে সহায়তা করে। তাই প্রতিদিন জাম খেলে আপনার রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং শরীরের রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া ভালো হয়।

৫. জাম খাওয়ার পর দুধ খেলে কি হয়?
চিকিৎসকরা বলেন জাম খাওয়ার পরে দুধ খাওয়া মোটে উচিত না। জাম খাওয়ার পরে দুধ কিংবা দুধ জাতীয় কোন খাবার খেলে আপনার শরীরের জন্য তা বিপদজনক হতে পারে। তাই কখনোই জাম খাওয়ার পরে দুধ খাবেন না।

৬. ডায়াবেটিস হলে কি জাম বীজ ভালো ?
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য জাম এবং জামের বীজ খুবই উপকারী একটি ফল। আপনি যদি আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান তাহলে অবশ্যই জাম খাওয়ার সাথে সাথে জামের বীজের গুড়া খাওয়ার ও অভ্যাস করুন।

গর্ভাবস্থায় জাম খাওয়ার উপকারিতা

গর্ভাবস্থায় জাম খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে প্রতিটি গর্ভবতী মায়ের জানা উচিত কারণ জাম একটি পুষ্টিকর ও সুস্বাদু ফল। জামের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিগুণ উপাদান। জামের মধ্যে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ইত্যাদি আরো গুরুত্বপূর্ণ সব উপাদান। বিশেষজ্ঞরা বলেন যে গর্ভাবস্থায় জাম খাওয়া সম্পূর্ণভাবে নিরাপদ। 

জামের মধ্যে যে পুষ্টিগুণ রয়েছে সেগুলো একজন গর্ভবতী মা এবং গর্ভের ভ্রনের জন্য অত্যন্ত জরুরী। গর্ভাবস্থায় আমাদের শরীরে প্রচুর পরিমাণে রক্তের ঘাটতি দেখা দেয়। আপনি যদি গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন জাম খান তাহলে আপনার শরীরে রক্তের ঘাটতি খুব সহজেই পূরণ করা সম্ভব। জামের মধ্যে রয়েছে এন্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান আর এই উপাদান গর্ভাবস্থায় আপনার শরীরে বিভিন্ন ধরনের প্রদাহ কমিয়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। 

গর্ভাবস্থায় জাম খেলে আপনার পেটের বিভিন্ন সমস্যা দূর হয় বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য মত কঠিন, মারাত্মক সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। গর্ভাবস্থায় আমাদের ওজন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা জরুরী। জামের মধ্যে থাকা কম ক্যালরি আপনার ওজন বাড়তে দেয় না তাই আপনি যদি প্রতিদিনের খাওয়া তালিকা জাম রাখেন তাহলে আপনার ওজন খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকবে। 

গর্ভাবস্থায় আমাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দেখা দেয়। প্রতিদিন জাম খেলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। এছাড়া জামের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার তাই আপনি যদি গর্ভাবস্থায় বমি বমি ভাব, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় পড়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই জাম খাওয়া শুরু করুন। জামের মধ্যে থাকা ফাইবার আপনার এই সমস্যাগুলো দূর করে পেট পরিষ্কার করতে সহায়তা করবে। 
আপনি হয়তো এতক্ষণে বুঝতে পেরেছেন গর্ভাবস্থায় জাম কতটা নিরাপদ এবং পুষ্টিকর। তবে অবশ্যই গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত পরিমাণে জাম খাবেন না এতে আপনার পেট ব্যথা কিংবা ডায়রিয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। 

এছাড়া জামের মধ্যে থাকা উপাদান আপনার উচ্চ রক্তচাপ একেবারে নিচে নামিয়ে দিতে পারে। তাই অবশ্যই পরিমাণ অনুযায়ী জাম খান এবং গর্ভাবস্থায় জাম থেকে সঠিক উপকার পান। আশা করি জামের বিচির উপকারিতা ও অপকারিতা জানানোর পাশাপাশি আমরা আপনাদের গর্ভাবস্থায় জাম খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কেও বিস্তারিত জানাতে পেরেছি।

জামের পাতার উপকারিতা

জামের পাতার উপকারিতা রয়েছে জামের মতোই। জাম খেলে যেমন আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের উপকার হয় যেমন জামের পাতা খেলেও আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের উপকার হয়। আপনি যদি প্রতিদিন সকালে জামের পাতা ভেজানো পানি খান তাহলে আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে, হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে, ঠান্ডা জনিত বিভিন্ন সমস্যা দূর হয়, লিভারের জন্য ভালো এবং কিডনির বিভিন্ন সমস্যা দূর হয়। 

জামের পাতার পেস্ট তৈরি করে আপনি যদি আপনার মুখের ত্বকে লাগান তাহলে ত্বকের ভেতর থেকে ব্রনের দাগ, ত্বকের ভেতরের ফুসকুড়ি ও চুলকানি ভালো হয় এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। ত্বকের ভেতরের খসখসে ভাব দূর হয় এবং চোখের নিচের কালো দাগ দূর হয়। প্রতিদিন সকালে আপনি চা এর পরিবর্তে জামের পাতা দিয়ে চা বানিয়ে খেতে পারেন। 

জামের পাতার চা আপনার হজম শক্তি বাড়াবে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে এবং শরীরের ভেতর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন গুলো খুব সহজে বের করে দিবে। বিশেষ করে আপনার যদি কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা থাকে তাহলে জামের পাতার খুব কার্যকরী। আপনার যদি গলায় খুসখুসি কাশি থাকে কিংবা শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা থাকে তাহলে জামের পাতার চা খেয়ে দেখতে পারেন।

জামের পাতার চা বানানোর নিয়ম

জামের পাতার চা বানানোর নিয়ম খুবই সহজ। একটি পাত্রে পরিমাণ মতো পানি নিয়ে তিন চারটি জামের পাতা খুব ভালোভাবে ধুয়ে পানির ভেতরে দিয়ে পাঁচ মিনিট ফুটিয়ে নিন। ফোটানো হয়ে গেলে গরম গরম পান করুন। যদি খেতে কিছুটা খারাপ লাগে তাহলে আপনি সামান্য পরিমাণ মধু মেশাতে পারেন। তবে জামের পাতার চা মধু ছাড়া খেলেই বেশি উপকার পাওয়া যায়।

সতর্কতা

অতিরিক্ত পরিমাণে জামের পাতার চা খাবেন না এতে আপনার শরীরের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে। তবে অবশ্যই জামের পাতা খাওয়ার আগে ভালো একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরী কারণ আপনার শরীরে কোন শারীরিক সমস্যার কারণে জামের পাতা খাওয়ার ফলে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাই একজন ভালো ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে জামের পাতা খাওয়া শুরু করুন।

জাম গাছের উপকারিতা

জাম গাছের উপকারিতা রয়েছে অনেক। জাম গাছের ছাল, জাম গাছের পাতা, জামের বীজ প্রতিটি উপাদানে আমাদের বিভিন্ন ধরনের উপকার করে থাকে। আপনি যদি জাম গাছের খাল ও বিচি গুড়া করে খান তাহলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, রক্ত পরিষ্কার, কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা, পেটের বিভিন্ন সমস্যা, গ্যাসের সমস্যা, রোগ প্রতিরোধ ইত্যাদি সমস্যা দূর হয়। 
জাম গাছের উপকারিতা
ওজন কমানোর জন্য আপনি জাম গাছের ছাল কিংবা জামের বিচির গুড়ো খেতে পারেন এছাড়া জাম গাছের বীজ লিভারের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া জাম গাছের পাতাও আপনার স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য বিশেষ উপকারী একটি উপাদান। 

জাম গাছ আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ উপকারী এমনটা নয় জাম গাছ আমাদের পরিবেশ ভালো রাখতেও বিশেষ উপকারী। জাম গাছের ছায়া অনেক বেশি ঠান্ডা হয়, জাম গাছের কাঠ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র বানানো যায় এবং গবাদি পশুরা জাম গাছের পাতা খেয়ে থাকে।

লেখকের মন্তব্য

আমি আশা করি, জামের বিচির উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানার পরে আপনি হয়তো এরপর থেকে জাম খাওয়ার পরে জামের বিচি অপ্রয়োজনীয় ভেবে আর ফেলে দিবেন না। এতক্ষণে হয়তো আপনি বুঝতে পেরেছেন জামের বিচি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী এবং অতিরিক্ত পরিমাণে জামের বিচি খেলে আপনার স্বাস্থ্যের কি কি ক্ষতি হতে পারে। 
জামের বিচি উপকারি এবং আপনার স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ কিন্তু অবশ্যই জামের বিচি খাওয়ার আগে একজন ভালো চিকিৎসকের পরামর্শ নিন কারণ আপনার শরীরের যদি কোন শারীরিক সমস্যা থাকে তাহলে জামের বিচি খাওয়ার ফলে ক্ষতি হতে পারে। একজন ভালো চিকিৎসার পরামর্শ নিয়ে জামের বিচি খাওয়া শুরু করুন।

আমি আশা করি আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি অনেক বেশি উপকৃত হয়েছেন এবং এতক্ষণে আপনার প্রিয়জনদের সাথে আমাদের আর্টিকেলটি শেয়ার করে ফেলেছেন যদি আমাদের আর্টিকেলটি আপনি আপনার প্রিয়জনদের জানাতে ভুলে যান তাহলে অবশ্যই জানিয়ে দিবেন। আর আমাদের আর্টিকেলটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানাবেন। আমি সব সময় আপনার কমেন্টের অপেক্ষা করি। আর এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য আপনাকে অনেক বেশি শুভেচ্ছা।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

বিডি অনলাইন আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url