বেল পাতার ১৬টি উপকারিতা ও অপকারিতা

বেল পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আপনাদের সুবিধার জন্য আজকের আর্টিকেলের বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করেছি তাই সমস্ত আর্টিকেল জুড়ে আমাদের সঙ্গে থাকুন। 
বেল পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা
বেলপাতা খাওয়ার নিয়ম, বেল পাতা খাওয়ার সঠিক সময়, বেল পাতার পুষ্টিগুণ, বেলপাতা দিয়ে রূপচর্চা কিভাবে করবেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। তাই দেরি না করে আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
পেজসূচিপএ

বেল পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা

বেল পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আমাদের প্রত্যেকটি মানুষেরই জানা উচিত কারণ বেলপাতা একটি উপকারী ভেষজ উদ্ভিদ হিসেবে পরিচিত। বেল গাছের পাতা শিকড়, ফল ইত্যাদি ভেষজ উদ্ভিদ হিসেবে বহু যুগ আগে থেকেই আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আর আপনি যদি নিয়ম অনুযায়ী বেলপাতা সেবন করে থাকেন তাহলে আপনার শরীর থেকে একাধিক রোগ নিরাময় হবে। 

বেল পাতার মধ্যে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে যেগুলো আমাদের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে খুবই জরুরী। বেল পাতার মধ্যে রয়েছে ভিটামিন সি, অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি এবং এন্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফাইবার ইত্যাদি গুণাবলী। চলুন তাহলে আর দেরি না করে বেল পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেই।

  • পেটের সমস্যা: বেলপাতা পেটের সমস্যা দূর করতে খুবই কার্যকরী একটি ভেষজ ওষুধ। আপনার যদি পাতলা পায়খানা গ্যাস, পেট ব্যথা ইত্যাদি সমস্যা থাকে তাহলে বেল পাতা খেতে পারেন। এক কথায় বলতে গেলে বেলপাতা পেটের যাবতীয় রোগ নিরাময় করতে খুব কার্যকরী একটি উপাদান। আপনার পেটে যদি বিভিন্ন রকমের সমস্যা থাকে তাহলে কচি বেলপাতা রস করে সকাল বিকাল খেতে পারেন এতে পেটের সমস্যা দূর হয়ে যাবে।
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: বেলপাতা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতেও খুবই কার্যকরী একটি ভেষজ ওষুধ। আপনার যদি অতিরিক্ত পরিমাণে ডায়াবেটিস বেড়ে থাকে এবং কোন ওষুধ দিয়েই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ভেতরে আনতে না পারেন তাহলে বেল পাতার রস খেতে পারেন। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে বেল পাতার রস খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে থাকে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।
  • জন্ডিস নিয়ন্ত্রণ: জন্ডিস নিয়ন্ত্রনে বেল পাতার রস খুবই কার্যকরী একটি ওষুধ। আপনার যদি জন্ডিসের সমস্যা থাকে কিংবা অতিরিক্ত পরিমাণে হাত-পা হলুদ হয়ে থাকে তাহলে জন্ডিস নিয়ন্ত্রণের জন্য আপনি বেল পাতার রস খেতে পারেন। প্রতিদিন সকালে কচি বেলপাতার রস খেলে জন্ডিস খুব দ্রুত নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।
  • মায়ের দুধের পরিমাণ বৃদ্ধি: বেল পাতার রস মায়ের দুধের পরিমাণ বৃদ্ধি করতেও খুব কার্যকরী। আপনার যদি দুধের পরিমাণ কম থাকে তাহলে দুধের পরিমাণ বাড়ানোর জন্য বেল পাতার রস প্রতিদিন খেতে পারেন।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে: বেল পাতার রস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। যাদের শরীর অনেক বেশি দুর্বল খুব সহজে ক্লান্ত হয়ে পড়ে তারা বেল পাতার রস খেতে পারে। এছাড়া যারা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করেন তাদের জন্য বেল পাতার রস খুবই কার্যকরী।
  • ফোলা ভাব কমায়: বেল পাতার রস ফোলা ভাব কমাতে সাহায্য করে। কোন শারীরিক সমস্যার কারণে আপনার শরীর যদি অনেক বেশি ফুলে যায় তাহলে বেল পাতার রস খেতে পারেন। এছাড়া অনেক সময় আমাদের হাত পা ফুলে যায় আর এই হাত-পা ফোলা থেকে মুক্তির জন্য বেল পাতার রস খুবই ভালো।
  • নাক দিয়ে রক্ত পড়া: আমাদের অনেকেরই নাক দিয়ে রক্ত পড়ার সমস্যা রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের ওষুধ খাওয়ার পরেও নাক দিয়ে রক্ত পড়ার সমস্যা বন্ধ হয় না। আপনাদের কারো যদি এমন কোন সমস্যা থাকে তাহলে অবশ্যই বেলপাতার রস খেতে পারেন। বেল পাতার রস না দিয়ে রক্ত পড়া খুব দ্রুত বন্ধ করে দেয়।
  • জ্বর নিরাময়: বেল পাতার রস জন নিরাময় করতে ও সাহায্য করে। আমাদের অনেক সময় জ্বর হয়ে থাকে এবং সে জ্বর অনেক দিন পর্যন্ত দীর্ঘ স্থায়ী হয়। বিভিন্ন ধরনের ওষুধ খাওয়ার পরেও জ্বর শরীর থেকে ছাড়তে চায় না। আপনি যদি এমন কোন সমস্যায় পড়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই বেল পাতার রস খেতে পারেন। বেল পাতার রস খেলে জ্বর খুব দ্রুত সেরে যায়।
  • ঠান্ডা জনিত সমস্যা: আপনার যদি ঠান্ডা জনিত কোন সমস্যা থাকে তাহলে বেলপাতার রস খেতে পারেন। বিশেষ করে যারা অনেক বেশি কাশি নিয়ে সমস্যায় রয়েছেন তারা বেল পাতার রস প্রতিদিন খেতে পারেন। বেল পাতার রস কাশি নিরাময়ে খুব ভালো কাজ করে।
  • এলার্জির সমস্যা: আপনার শরীরে যদি ঘামাচি, ফুসকুড়ি, লালচে ভাব ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয় তাহলে বেলপাতার বেটে আক্রান্ত স্থানে লাগাতে পারেন। বেল পাতা এন্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে। এছাড়া গোসলের সময় পানিতে বেল পাতা দিয়ে গোসল করতে পারেন।
  • কোষ্ঠকাঠিন্যর সমস্যা: কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর করতে বেলপাতা খুব ভালো কাজ করে। আপনার যদি কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা থাকে কিংবা হজমের সমস্যা থাকে তাহলে বেলপাতার রস খেতে পারেন।
  • চোখের দৃষ্টি শক্তি বাড়ায়: বেল পাতার রস চোখের দৃষ্টি শক্তি বাড়াতে সহায়তা করে। আপনার যদি চোখে ছানি পড়া, চোখে জ্বালা পোড়া কিংবা রাতকানা রোগের সমস্যা থাকে তাহলে বেলপাতার রস খেতে পারেন।
  • রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: বেল পাতার রস রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে। আপনি যদি উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগেন তাহলে প্রতিদিন সকালে কিংবা বিকেলবেলা বেল পাতার রস খেতে পারেন।
  • চুলের যত্নে: বেল পাতার রস কিংবা বেল পাতা দিয়ে পেস্ট তৈরি করে আপনি চুলের গোড়ায় লাগাতে পারেন। বেল পাতা চুল পড়া বন্ধ করে এবং চুলের গোড়া মজবুত করে ও চুলের ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। বিভিন্ন ধরনের ফাংগাল ইনফেকশন থেকে চুলের ত্বককে রক্ষা করে।
  • স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি: বেল পাতার রস স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। আপনার যদি স্মৃতিশক্তি কম থাকে খুব অল্পতেই কোন কিছু ভুলে যান তাহলে বেল পাতার রস খেতে পারেন। প্রতিদিন সকালে বেল পাতার রস খেলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায় এবং স্মৃতিশক্তি বাড়ে।
  • পিরিয়ডের সমস্যা: বেল পাতার রস মেয়েদের পিরিয়ডের সমস্যা দূর করতেও সহায়তা করে। আপনার যদি পিরিয়ডের সময় অতিরিক্ত রক্তপাত হয় কিংবা অনিয়মিত পিরিয়ড হয় তাহলে বেলপাতার রস খেতে পারেন। বেলপাতার রস পিরিয়ডের সময় খেলে অধিক রক্ত বের হওয়ার সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়। আপনার যদি অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যা থাকে তাহলে প্রতিদিন সকালে দুই থেকে তিনটি বেলপাতা কাচাঁ চিবিয়ে কিংবা রস করে খেতে পারেন। এতে খুব দ্রুত অনিয়মিত পিরিয়ড নিয়মিত হয়ে যাবে।

বেল পাতা খাওয়ার অপকারিতা

উপরে আমরা বেল পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আপনাদের বিস্তারিত জানিয়েছি। এখন আমরা বেল পাতা খাওয়ার অপকারিতা সম্পর্কে জানব। বেল পাতা খেলে যেমন আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের উপকার হয় তেমন অতিরিক্ত পরিমাণে বেলপাতা খেলে আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি হয়। 

বেলপাতা একটি ভেষধ ঔষধ তাই অবশ্যই বেল পাতা খাওয়ার সময় পরিমাণ ঠিক রাখা জরুরী। চলুন তাহলে দেরি না করে বেল পাতা খাওয়ার অপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেই।

  • বেল পাতা খেলে যেমন আমাদের পেটের বিভিন্ন সমস্যা দূর হয় তেমন অতিরিক্ত পরিমাণে বেলপাতা খেলে আমাদের পেটের বিভিন্ন ক্ষতি হতে পারে।
  • বেল পাতার রস রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের সহায়তা করে তাই আপনি যদি নিম্ন রক্তচাপের সমস্যায় ভুবেন তাহলে বেলপাতার রস খেলে সমস্যায় পড়তে পারেন।
  • গর্ভাবস্থায় বেল পাতা খেতে চাইলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন কারণ বেল পাতার রস জরায়ু সংকোচন করতে সাহায্য করে।
  • পরিমাণের বেল পাতার রস খেলে আপনার শারীরিক শক্তি কমে যেতে পারে। ফলে আপনি শরীরে দুর্বলতা অনুভব করতে পারেন।
  • আপনি যদি শারীরিক সমস্যার জন্য কোন ওষুধ খেয়ে থাকেন তাহলে বেলপাতা খাওয়ার সময় অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কারণ ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় আপনার শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে।
  • কারো কারো ক্ষেত্রে বেলপাতার রস খাওয়ার পরে শরীরে এলার্জি সমস্যা দেখা দিতে পারে। যদি বেলপাতার রস খাওয়ার পরে কিংবা ব্যবহারের পরে আপনার শরীরে এলার্জির সমস্যা দেখা দেয় তাহলে অবশ্যই ব্যবহার বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
আমি আশা করি উপরের আলোচনা থেকে আপনি এতক্ষণে বুঝতে পেরেছেন বেল পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে। বেলপাতা আমাদের শরীরের জন্য উপকারী এবং বিভিন্ন ধরনের রোগ নিরাময় করতে সহায়তা করে তবে অবশ্যই অতিরিক্ত পরিমাণে খাবেন না।

ছেলেদের বেল পাতার রস খেলে কি হয়

ছেলেদের বেলপাতার রস খেলে কি হয় এমন প্রশ্ন অনেকেই করে থাকেন। বেল পাতার রস আমাদের জন্য উপকারী। বেল পাতার রস ছেলে কিংবা মেয়ে সবার জন্য উপকারী। লুকোমুখে কিছু কথা প্রচলিত আছে যে বেল পাতার রস খেলে ছেলেদের শরীলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়। 

এইটা একেবারেই ভুল ধারণা। বেল পাতার রস খেলে মেয়েদের যেমন শরীরে বিভিন্ন ধরনের উপকার হয় তেমন ছেলেদের ক্ষেত্রেও বেল পাতার রস খেলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের উপকার হয়। 
ছেলেদের বেল পাতার রস খেলে কি হয়
অনেকের ধারণা রয়েছে যে বেল পাতার রস খেলে ছেলেদের শারীর দুর্বলতা বৃদ্ধি পায়। তবে বৈজ্ঞানিকভাবে এটার কোন প্রমাণ নেই। বেল পাতার রস ছেলে কিংবা মেয়ে যদি নিয়ম এবং পরিমাণ ঠিক রেখে খায় তাহলে অবশ্যই বেল পাতার রস থেকে সঠিক উপকার পাবে এবং ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা কম। 

কিন্তু যদি অতিরিক্ত পরিমাণে বেল পাতার রস খায় তাহলে ছেলে কিংবা মেয়ে উভয় শরীরের জন্যই ক্ষতিকর। আশা করি আপনি বুঝতে পেরেছেন ছেলেদের বেল পাতার রস খেলে কি হয় সে সম্পর্কে।

বেল পাতা খাওয়ার নিয়ম

বেল পাতা খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে আমাদের জানা অত্যন্ত জরুরী কারণ বেলপাতা একটি উপকারী পাতা। বেল পাতা খাওয়া উপকারী তবে অবশ্যই নিয়ম অনুযায়ী বেলপাতা খাওয়া উচিত। আপনি যদি নিয়ম অনুযায়ী বেল পাতা খান তাহলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের উপকার হবে আর যদি নিয়ম না মেনে অতিরিক্ত পরিমাণে বেল পাতা খান তাহলে আপনার শরীরে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি হবে। তাহলে চলুন বেলপাতা খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জেনে নেই।

  • কচি বেলপাতা, খুব ভালোভাবে ধুয়ে চিবিয়ে খেতে পারেন।
  • বেল পাতার রস করে পানির সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন। স্বাদ বাড়ানোর জন্য মধু কিংবা চিনি মিশাতে পারেন।
  • বেল পাতা দিয়ে চা বানিয়ে খেতে পারেন।
  • বেল পাতা শুকিয়ে গুড়া করে বিভিন্ন ধরনের খাবারের সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন কিংবা এক গ্লাস পানির ভেতরে এক চামচ বেল পাতার গুড়া মিশিয়ে খেতে পারেন।
উপরের নিয়ম গুলো মেনে আপনি প্রতিদিন বেলপাতা খেতে পারেন তবে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যে অতিরিক্ত পরিমাণে বেলপাতা খেলে শরীরের ক্ষতি হবে। আপনি যদি কাঁচা বেলপাতা চিবিয়ে সকালে খালি পেটে খেতে পারেন তাহলে সবচাইতে বেশি উপকার পাওয়া যায়।

বেল পাতা খাওয়ার সঠিক সময়

বেল পাতা খাওয়ার সঠিক সময় সম্পর্কে আমাদের প্রত্যেকের জেনে নেওয়া উচিত উপরে আমরা বেল পাতা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জেনেছি। কিন্তু বেলপাতা যদি আপনি সঠিক নিয়মে কিংবা সঠিক সময় না খান তাহলে কখনোই বেলপাতা থেকে সঠিকভাবে উপকার পাবেন না। বেলপাতা খাওয়ার সঠিক সময় হল সকাল বেলা খালি পেটে কিংবা রাতের বেলা খাবারের আগে। 
সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে কচি বেলপাতা, খুব ভালোভাবে ধুয়ে চিবিয়ে খেলে পেটের বিভিন্ন সমস্যা দূর হয়, হজম শক্তি বাড়ে, গ্যাস্টিকের সমস্যা দূর হয় এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। সকাল বেলা খালি পেটে আপনি চায়ের পরিবর্তে বেল পাতা দিয়ে চা বানিয়ে খেতে পারেন। 

রাতের বেলা খাবারের আগে বেল পাতা খেলে ঘুম ভালো হয়, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে, ঠান্ডা জনিত বিভিন্ন সমস্যা দূর হয়। তাই আপনি যদি বেলপাতা খেয়ে উপকৃত হতে চান তাহলে অবশ্যই সঠিক নিয়মে এবং সঠিক সময় খান।

বেল পাতার পুষ্টিগুণ

বেল পাতার পুষ্টিগুণ সম্পর্কে আমাদের অবশ্যই জানতে হবে। বেল পাতার মধ্যে কি ধরনের পুষ্টিগুণ রয়েছে সে সম্পর্কে যদি আমাদের জানা না থাকে তাহলে আমরা বুঝতে পারব না যে বেলপাতা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী। 

বেল আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এ বিষয়টা প্রায় সকলেই জানেন কিন্তু বেল পাতাও যে আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী এ বিষয়টা অনেকেরই অজানা রয়েছে। তাহলে চলুন বেলপাতার ভেতরে কি কি পুষ্টিগুণ উপাদান রয়েছে সে সম্পর্কে জানি এবং এই উপাদান গুলো আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী সে সম্পর্কে জানি।

  • বেল পাতার মধ্যে অল্প পরিমাণে ভিটামিন এ রয়েছে। আর ভিটামিন এ আমাদের চোখের স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী।
  • বেল পাতার মধ্যে ফাইবার রয়েছে। ফাইবার আমাদের খাদ্য হজম করতে সহায়তা করে।
  • বেল পাতার মধ্যে রয়েছে ভিটামিন সি। আর ভিটামিন সি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
  • বেল পাতার মধ্যে রয়েছে আয়রন। আয়রন আমাদের শরীরের রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ায়।
  • বেল পাতার মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। আর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের ত্বক ভালো রাখতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
  • বেল পাতার মধ্যে থাকার ট্যানিন আমাদের শরীরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ক্ষতিকর এন্টিফাঙ্গাল ইত্যাদি ধ্বংস করে।
  • বেল পাতার মধ্যে থাকা ক্যালসিয়াম আমাদের দাত ও হাড় গঠনে সহায়তা করে।
এছাড়া বেল পাতার বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে, শরীরে এক্সট্রা শক্তি যোগায় এবং দেহের কার্যকারিতা বাড়ায়। বেল পাতার মধ্যে এত সব পুষ্টিগুণ উপাদান রয়েছে তাহলে আপনি কেন বেল পাতার পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। যদি বেলপাতা আপনি এখনো খাওয়া শুরু করে না থাকেন তাহলে অবশ্যই আজ থেকে বেল পাতা খাওয়া শুরু করুন।

বেল পাতার দিয়ে রূপচর্চা

বেল পাতা দিয়ে রূপচর্চা এ কথাটি শুনে হয়তো আপনি অনেক বেশি আশ্চর্য হচ্ছেন। কিন্তু হ্যাঁ বেল পাতা দিয়েও রূপচর্চা করা যায়। বেল পাতা খেলে যেমন আমাদের স্বাস্থ্যের বিভিন্ন ধরনের উপকার হয় তেমন ত্বকের উপরে ব্যবহার করলেও ত্বকের বিভিন্ন ধরনের উপকার হয়। 

বেল পাতার মধ্যে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যেগুলো আপনার ত্বক ভালো রাখতে। আপনার ত্বক যদি অনেক বেশি রুক্ষ হয়ে থাকে তাহলে আপনি বেলপাতা ব্যবহার করতে পারেন। 
বেল পাতার দিয়ে রূপচর্চা
বেলপাতা ত্বকের রুক্ষতা ভাব কমিয়ে ত্বককে নরম করতে সহায়তা করে। আপনার মুখে যদি অনেক বেশি দাগ থাকে সে দাগ দূর করার জন্য আপনি বেল পাতা ব্যবহার করতে পারেন। বেলপাতা ত্বকের দাগ দূর করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। এছাড়া ব্রণ ভালো করতে বেল পাতার খুবই কার্যকরী। আপনার মুখে যদি অতিরিক্ত ব্রনের সমস্যা থাকে তাহলে অবশ্যই বেলপাতা ব্যবহার করতে পারেন। 
উপরের এই সমস্যাগুলো ছাড়াও বেলপাতা মেসতা দাগ, রোদে পোড়া দাগ, বয়সের ছাপ ইত্যাদি দূর করতেও সাহায্য করে। বেলপাতা এত উপকারী আপনার ত্বকের জন্য তাহলে অবশ্যই আপনার ত্বকে বেলপাতা কিভাবে ব্যবহার করবেন সে সম্পর্কে জানতে এখন আপনি অনেক বেশি আগ্রহী বলে আমি মনে করি। তাহলে চলুন বেলপাতা ত্বকে কিভাবে ব্যবহার করবেন সে সম্পর্কে জানি।

  • বেল পাতার, পেস্ট তৈরি করে আপনি ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন।
  • বেল পাতা দিয়ে রস বের করে ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন।
  • বেল পাতার সাথে কাঁচা হলুদ মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন।
  • বেল পাতার পেস্ট এর সাথে মধু ও গোলাপজল মিশিয়ে মুখে ব্যবহার করতে পারেন।
  • বেল পাতার পেস্ট এর সাথে লেবুর রস মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন।
  • এছাড়া বেল পাতার পেস্টের সাথে গুড়ো হলুদ ও কাঁচা দুধ মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন।
এই ফেসপ্যাক গুলো আপনি সপ্তাহে দুই দিন কিংবা প্রতিদিনই ব্যবহার করতে পারেন। এই ফেসপ্যাক গুলো ব্যবহার করার পরে মুখ খুব ভালোভাবে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এই ফেসপ্যাক গুলো ব্যবহার করলে আপনার মুখ হবে উজ্জ্বল, দাগ মুক্ত এবং অনেক বেশি মসৃন।

মন্তব্য - বেল পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা

প্রিয় পাঠক উপরে আলোচনা থেকে আপনি হয়তো এতক্ষণে বুঝতে পেরেছেন বেলপাতা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী এবং অতিরিক্ত পরিমাণে বেলপাতা খেলে আপনার সাথে কি কি ক্ষতি হতে পারে। বেলপাতা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী তবে আপনার যদি কোন শারীরিক সমস্যা থাকে তাহলে বেল পাতা খাওয়ার আগে একজন ভালো চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
বেল পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কিত আর্টিকেলটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনার প্রিয়জনদের সাথে আমাদের এই আর্টিকেলটি শেয়ার করুন। আর আমাদের আর্টিকেল সম্পর্কে আপনার যদি কোন মন্তব্য থেকে থাকে তাহলে আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাবেন। আমরা সব সময় আপনাদের মন্তব্যের অপেক্ষা করি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

বিডি অনলাইন আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url