প্রতিদিন কয়টা আমলকি খাওয়া উচিত

প্রতিদিন কয়টা আমলকি খাওয়া উচিত সে সম্পর্কে আপনার যদি ভালোভাবে জানা না থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়তে পারেন কারণ আমরা এই আর্টিকেলে আমলকি সম্পর্কে বিস্তারিত আপনাদের জানানোর চেষ্টা করেছি।
প্রতিদিন কয়টা আমলকি খাওয়া উচিত
আমলকির ক্ষতিকর দিক, আমলকি চুলে ব্যবহারের নিয়ম, আমলকি খাওয়ার নিয়ম, রাতে আমলকি খেলে কি হয় ইত্যাদি বিষয়ে আপনি যদি জানতে চান তাহলে পুরো আর্টিকেলটি খুব মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
পেজ সূচিপএ

প্রতিদিন কয়টা আমলকি খাওয়া উচিত

প্রতিদিন কয়টা আমলকি খাওয়া উচিত সে সম্পর্কে আমরা তেমন কোন ধারণা রাখি না কারণ আমলকি একটি টক জাতীয় ফল। আমলকি ছোট বড় সকলের খুব প্রিয় একটি ফল তাই আমলকি খাওয়ার সময় কখনই পরিমাপ করে কেউ খায় না। কিন্তু আমলকি খাওয়ার সময় অবশ্যই আপনাকে জেনে রাখা ভালো যে প্রতিদিন কয়টা আমলকি খাওয়া উচিত এবং প্রতিদিন কয়টা আমলকি খেলে আপনার শরীরের জন্য উপকার হবে সে সম্পর্কে। 
আমলকি একটি স্বাস্থ্যকর ও উপকারী ফল। আমলকির মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। আপনার শরীরের যদি ভিটামিন সি এর ঘাটতি পরে তাহলে আমলকি ফল শরীরে ভিটামিন সি এর ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করে। 

আপনি যদি আমলকি খেতে খুব বেশি পছন্দ করেন তাহলে অবশ্যই পরিমাপের চাইতে একটু বেশি আমলকি খেতে পারেন যদি আপনার শরীরে কোন শারীরিক সমস্যা না থাকে তাহলে। চলুন তাহলে জেনে নেই প্রতিদিন কয়টা আমলকি খাওয়া উচিত আপনার স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য এবং শরীরে ভিটামিনের ঘাটি পূরণ করার জন্য।

  • প্রতিদিন আপনি কাঁচা আমলকি ১/২টি এবং শুকনো আমলকি ১/২টি খেতে পারেন।
  • আপনার শরীরে যদি ভিটামিন সি এর ঘাটতি থাকে তাহলে ১/৪টি আমলকি খেতে পারেন।
  • এছাড়া শরীরে অন্যান্য রোগের জন্য যদি আপনি আমলকি খেতে চান তাহলে অবশ্যই একজন ভালো ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
  • প্রতিদিন কয়টা আমলকি খাওয়া উচিত তা নির্ভর করে আপনার শারীরিক অবস্থার ওপরে। আপনার শরীরে যদি আমলকি খাওয়ার পরে কোন সমস্যা দেখা না দেয় তাহলে অবশ্যই আপনি ২ এর অধিক আমলকি খেতে পারেন। আর যদি দেখেন যে অতিরিক্ত আমলকি খাওয়ার পরে আপনার শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হচ্ছে তাহলে অবশ্যই প্রতিদিন আমলকির খাওয়ার পরিমাণ ঠিক রাখা উচিত।

আমলকির ক্ষতিকর দিক

আমলকির ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে আমাদের সকলেরই অবশ্যই জেনে রাখা উচিত। আমলকি একটি উপকারী ফল কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমাদের শরীরের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার জন্য আমলকি ক্ষতি করতে পারে। প্রয়োজনের চাইতে অতিরিক্ত আমলকি খেলে আপনার শরীরে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। চলুন তাহলে জেনে নেই আমলকি খেলে আপনার শরীলে কি কি ক্ষতি হতে পারে।

  • কিডনিতে পাথর: অতিরিক্ত পরিমাণে আমলকি খেলে আপনার কিডনিতে পাথরের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারণ আমলকির মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অক্সালেট।
  • হজমের সমস্যা: আমলকির মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। তাই অতিরিক্ত পরিমাণে আমলকি খেলে আপনার জন্য বিপদজনক হতে পারে। পেট ফাঁপা বদহজম পেটব্যথা গ্যাস্ট্রিক এবং ডায়রিয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া আমলকির মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। তাই প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি খেলে আপনার শরীরে উপকারের পরিবর্তে ক্ষতি হতে পারে।
  • রক্তচাপ সমস্যা: উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে আপনার শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে এমনকি হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। যারা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন তাদের আমলকি না খাওয়াই ভালো। আমলকি উচ্চ রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে সাহায্য করে তাই অবশ্যই উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা আমলকি থেকে দূরে থাকুন।
  • দাঁতের সমস্যা: আমলকি একটি টক জাতীয় ফল এবং আমলকির উচ্চ অম্ল ভাব আপনার দাঁতের এনামেলের ক্ষয় ঘটাতে পারে। এছাড়া ক্যাভিটি এবং টুথসেনসিটিভিটির মত সমস্যা তৈরি হতে পারে। আপনি আমলকি কাঁচা অবস্থায় খেয়ে থাকেন তাহলে আপনার দাঁতের সমস্যা হয় কিন্তু শুকনো অবস্থায় আমলকি খেলে আপনার দাঁতের সমস্যা কম পরিমাণে হবে। কারণ আমলকি শুকিয়ে গেলে তার ভেতরে অম্লভাব কম পরিমাণে থাকে।
  • রক্ত পাতলা: যাদের শরীরের রক্ত পাতলা সমস্যা রয়েছে তারা প্রচুর পরিমাণে আমলকি খাবেন না কারণ আমলকি রক্ত পাতলা হতে সাহায্য করে। আমলকি শরীরের রক্ত গুলোকে জমাট বাধতে বাধা দেয় তাই আপনার যদি রক্ত পাতলা হওয়ার সমস্যা থাকে তাহলে অবশ্যই আমলকি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন না হলে আপনার শরীরে কোথাও কেটে গেলে এত পাতলা হওয়ার কারণে সহজে রক্ত বন্ধ হতে চাইবে না।
  • হাইপোগ্লাইসেমিয়া: রক্তে শর্করার মাত্রা কিংবা ব্লাড সুগার বেড়ে যাওয়া যেমন খারাপ তেমন কমে যাওয়ায়ও খারাপ। রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গেলে হাইপোগ্লাইসেমিয়া সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে যারা ডায়াবেটিসের রোগী রয়েছেন তারা কখনোই অতিরিক্ত পরিমাণে আমলকি খাবেন না। আমলকি অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে তাই যাদের রক্তের শর্করা কম তারা আমলকি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

আমলকি খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা 

আমলকি খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আজকের এই আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করেছি তাই আর্টিকেলটি খুব মনোযোগ সহকারে পড়ুন। আমলকি ফলের মধ্যে রয়েছে অসংখ্য পুষ্টিগুণ উপাদান। ত্বক ও চুল ভালো রাখতে ও আমলকির গুরুত্ব অনেক। আমলকি বিভিন্ন ধরনের আয়ুর্বেদিক ওষুধ হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। 
আমলকি খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন
আমলকি আমরা বিভিন্ন ভাবে খেতে পারি যেমন কাঁচা অবস্থায় চিবিয়ে, শুকনো আমলকি গুড়ো করে ও আমলকির রস তৈরি করে। আমলকির মধ্যে রয়েছে ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফাইবার, প্রোটিন। চলুন তাহলে আমলকি খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেই।

আমলকি খাওয়ার উপকারিতা

  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: আমলকির মধ্যে রয়েছে ভিটামিন সি। তাই প্রতিদিন আমলকি খেলে আমাদের শরীরে ভিটামিন সি এর ঘাটতি পূরণ হয় এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
  • ঠান্ডার জন্য ভালো: যাদের ঘন ঘন ঠান্ডা লাগে কিংবা সর্দি ও কাশি রয়েছে তারা আমলকি খেলে ভালো উপকার পাবেন।
  • হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়: আমলকির মধ্যে থাকা ফাইবার আপনার হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়।
  • ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়: আমলকি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সহায়তা করে। আমলকির মধ্যে থাকা ভিটামিন সি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে ত্বকের ভেতরে কাজ করে।
  • চুল মজবুত করে: আমলকি চুল মজবুত করতেও সহায়তা করে এবং চুল ঝলমলে করতে ও খুশকি দূর করতে সহায়তা করে।
  • কোলেস্টরল নিয়ন্ত্রণে রাখে: আপনার যদি হৃদরোগের সমস্যা থাকে তাহলে প্রতিদিন আমলকি খেলে আপনার কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে।
  • ওজন: আমলকির মধ্যে থাকা ফাইবার আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে এবং অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে সহায়তা করে।
  • ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে: আমলকি ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে সহায়তা করে। আমলকির মধ্যে থাকা ভিটামিন সি শরীরে বিভিন্ন ধরনের প্রদাহ কমিয়ে ক্ষতিকর জীবাণুগুলো ধ্বংস করে।
  • ক্যান্সার প্রতিরোধ করে: আমলকি ক্যান্সারের কোষ বৃদ্ধিতে বাধা দেয় এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে।
  • চোখের জন্য ভালো: আমলকি চোখ ভালো রাখতে সহায়তা করে। আমলকির চোখের দৃষ্টি শক্তি বাড়ায় এবং রাতকানা রোগ থেকে মুক্তি দেয়।
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে: আমলকি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। আমলকি রক্তে শর্করার মাত্রা কমিয়ে শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ায়।

আমলকি খাওয়ার অপকারিতা

প্রতিটি খাবারের যেমন কিছু উপকার রয়েছে তেমন কিছু কিছু অপকারিতাও রয়েছে। চলুন তাহলে আমলকি খাওয়ার অপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেই। তাহলে আমলকি খাওয়ার আগে আমরা সে সম্পর্কে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করতে পারব।

  • অতিরিক্ত পরিমাণে আমলকি খেলে আপনার বদহজম, পেটব্যথা, বমি বমি ভাব এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • যারা ডায়াবেটিসের রোগী রয়েছেন তারা অবশ্যই আমলকি পরিমাণ মতন খাবেন কারণ অতিরিক্ত আমলকি খাওয়ার ফলে আপনার সুগার লেভেল কমে যেতে পারে।
  • কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে আমলকি এলার্জির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই যদি আমলকি খাওয়ার পরে আপনার শরীরে চুলকানি, ফোলা ভাব লক্ষ্য করেন তাহলে অবশ্যই আমলকি খাওয়া থেকে এড়িয়ে চলুন।
  • অনেক সময় রাতের বেলা আমলকি খেলে যাদের ঠান্ডা ও কাশি রয়েছে তাদের ঠান্ডা ও কাশি বেড়ে যেতে পারে। কিংবা অতিরিক্ত পরিমাণে আমলকি খেলে ঠান্ডা ও কাশির সমস্যা আরো বেড়ে যেতে পারে।
  • অতিরিক্ত আমলকি রক্তচাপ কমিয়ে দিতে পারে। আমলকি রক্তচাপ কমানোর জন্য অত্যন্ত কার্যকরী একটি ফল। তাই যাদের নিম্ন রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে তারা অবশ্যই আমলকি খাওয়ার আগে সতর্ক থাকুন।
  • সঠিক পরিমাণ মতো এবং সঠিক নিয়মে আমলকি খেলে আপনি অবশ্যই আমলকি থেকে পুষ্টি পাবেন। আর যারা অসুস্থ রয়েছেন কিংবা বিভিন্ন ধরনের ওষুধ খান তারা অবশ্যই একজন ভালো চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে আমলকি খাবেন।

খালি পেটে আমলকি খাওয়ার উপকারিতা

খালি পেটে আমলকি খাওয়ার উপকারিতা রয়েছে অনেক। আমলকি ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ক্যালরি, প্রোটিন ইত্যাদি পুষ্টগুণে ভরপুর একটি ফল। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে আমলকি খেলে আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য কিছু বিশেষ উপকার হয়। আমলকি সাধারণভাবে জন্ডিস, ডায়রিয়া, ও বিভিন্ন ধরনের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে আমলকি কাঁচা কিংবা শুকনো যে কোন অবস্থানে আপনি খেতে পারেন। আমলকি ভিটামিন সি এর একমাত্র উৎস হিসেবে পরিচিত। 
এ ছাড়া আমলকির মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। আমলকি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে এবং বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে। খালি পেটে আমলকি খেলে বেশ কিছু রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। খালি পেটে আমলকি সর্দি কাশি প্রতিরোধে সহায়তা করে। খালি পেটে আমলকি খেলে চোখের দৃষ্টি শক্তি বাড়ে এবং চোখের ফোলা ভাব ও ছানি পড়া রোধ করে। চুলকানি ও চোখ দিয়ে পানি পড়া সমস্যাও দূর হয়। 

প্রতিদিন সকালে খালি পেটে আমলকি খেলে আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। খালি পেটে আমলকি খেলে আমলকির মধ্যে থাকা ফাইবার আপনার হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়তা করে। খালি পেটে আমলকি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে জাদুর মত কাজ করে আপনার যদি দীর্ঘমেয়াদি কোন রোগ থাকে সে রোগ নিরাময় করতেও আমলকির কোন জুড়ি নেই। 

খালি পেটে আমলকি খেলে আপনার ত্বকের রক্ত চলাচল সচল হয়। খালি পেটে আমলকি শুধু আপনার শরীরের ভেতরের সমস্যা দূর করে না আপনার ত্বকের সমস্যা দূর করতেও যথেষ্ট ভূমিকা রাখে। তাই প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে একটি আমলকি খেতে পারেন।

খালি পেটে আমলকি খাওয়ার নিয়ম

  • প্রতিদিন সকালে খালি পেটে সর্দি ও কাশির জন্য শুকনো আমলকির গুঁড়ো সামান্য পরিমাণ মধুর সঙ্গে মিশিয়ে দিনে তিনবার পান করুন। দেখবেন খুব তাড়াতাড়ি স্বস্তি মিলছে।
  • আপনি যদি ওজন কমাতে চান তাহলে খালি পেটে শুকনো আমলকি গুড়ো কিংবা রসের সাথে পানি মিশিয়ে খেতে পারেন। প্রতিদিন নিয়ম করে এভাবে খেলে আপনার অতিরিক্ত মেদ খুব সহজেই কমে আসবে।
  • আপনার যদি হজমের সমস্যা থাকে তাহলে কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা থাকে তাহলে প্রতিদিন সকালে কাচাঁ আমলকি চিবিয়ে খেতে পারেন। এতে পেটের বিভিন্ন সমস্যা দূর হবে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমবে।
  • এছাড়া প্রতিদিন সকালে আমলকি পানিতে ফুটিয়ে চা হিসেবে খালি পেটে খেতে পারেন এতে আপনার শরীর সতেজ থাকবে এবং শরীরে বাড়তি শক্তি সরবরাহ হবে।

সতর্কতা

  • অতিরিক্ত আমলকি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
  • যাদের গ্যাসের সমস্যা রয়েছে তারা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খালি পেটে আমলকি খাবেন।
  • এছাড়া যারা বিভিন্ন ধরনের ওষুধ খাচ্ছেন তারা খালি পেটে আমলকি খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কারণ ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় আমলকি খাওয়ার ফলে আপনার ক্ষতি হতে পারে।

শুকনো আমলকি খেলে কি হয়

শুকনো আমলকি খেলে কি হয় সে সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই ধারণা নেই। কারণ আমরা বেশিভাগ আমলকি কাঁচা অবস্থায় খেয়ে থাকি। কিন্তু আপনি যদি আমলকির গুড়ো খেতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে শুকনো আমলকি খেতে হবে কারণ কাঁচা অবস্থায় আমলকি গুড়ো করা খুব কঠিন। আমলকি আমাদের শরীরের জন্য খুব উপকারী একটি ফল। 

কাঁচা আমলকি খেলে আমাদের শরীরে কি কি উপকার হয় সে সম্পর্কে আমরা উপরে আলোচনা করেছি কিন্তু শুকনো আমলকি খেলেও আমাদের শরীরে বিশেষ কিছু উপকার হয় সে সম্পর্কে এখন আমরা জানবো। শুকনো আমলকি তৈরি করার জন্য আপনাকে তেমন কোন ঝামেলায় পড়তে হবে না কারণ আপনি আমলকি গুলো রোদে দিলেই সেটি শুকিয়ে শুকনো আমলকি তৈরি হয়ে যাবে। চলুন তাহলে জেনে নেই শুকনা আমলকি খেলে আপনার শরীরে কি কি উপকার হয়। 

শুকনো আমলকি স্বাদ ও পুষ্টিগুনে ভরপুর থাকে। শুকনা আমলকির মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি তাই আপনি সর্দি, কাশি কিংবা ভাইরাল ইনফেকশনের জন্য শুকনো আমলকি খেতে পারেন। প্রতিদিন শুকনো আমলকি খেলেই আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং ত্বকের ভিতরে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া খুব সহজেই দূর হবে। 

শুকনা আমলকি আপনার হজম ক্ষমতা ঠিক রাখতে সহায়তা করে। শুকনো আমলকি গরম পানিতে ফুটিয়ে চা হিসেবে খেলে আপনার পেটের ভেতর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন গুলো খুব সহজে বের হয়ে যায় এবং পেট পরিষ্কার থাকে। শুকনা আমলকি খেলে আপনার দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং রাতকানা রোগের ঝুঁকি কমে। শুকনো আমলকি মুখ ও দাঁতের দুর্গন্ধ দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

মুখের দুর্গন্ধ দূর করার জন্য আপনি প্রতিদিন শুকনা আমলকি চিবিয়ে খেতে পারেন। তাই অবশ্যই যারা কাঁচা আমলকি খেতে পারেন না তারা আমলকি শুকিয়ে খেতে পারেন কারণ শুকনা আমলকিতেও কাঁচা আমলকির মতন পুষ্টিগুণ সঠিক পরিমাণে থাকে।

আমলকি চুলে দেওয়ার নিয়ম

আমলকি চুলে দেওয়ার নিয়ম সম্পর্কে আমাদের সকলেরই জানা উচিত কারণ চুল নিয়ে আমরা কম বেশি সকলেই বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় ভুগি। আমলকির মধ্যে রয়েছে ভিটামিন, মিনারেল, ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ইত্যাদি জরুরী সব পুষ্টিগুণ উপাদান। আর এ উপাদান গুলো আমাদের ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সহায়তা করে। 

ফলে আপনি যদি চুলে আমলকি ব্যবহার করেন তাহলে চুল মজবুত হওয়ার পাশাপাশি চুলকে কন্ডিশনার করতেও সাহায্য করবে এছাড়া আমলকি চুলের মশ্চারাইজার হিসেবেও কাজ করে সে কারণে সে কারণে রুক্ষ ও শুষ্ক চুলের জন্য আমলকি বেশি কার্যকরী। আমলকি আপনি বিভিন্নভাবে চুলে ব্যবহার করতে পারেন। কাঁচা আমলকি থেতলে রস বের করে চুলের গোড়ায় ব্যবহার করতে পারেন।

আমলকি দিয়ে তেল তৈরি করে কিংবা বাজার থেকে আমলকির তেল কিনে এনে চুলে ব্যবহার করতে পারেন। অথবা শুকনো আমলকি গুড়ো করে মধু ও টক দই মিশিয়ে চুলে লাগাতে পারেন। কিভাবে আপনি যদি সপ্তাহে দুই দিন আমলকির চুলে ব্যবহার করেন তাহলে চুল হবে ঝলমলে ঘন ও মজবুত। এছাড়া যারা মাথায় খুশকির সমস্যায় ভুগছেন তারা আমলকি দিয়ে পানি ফুটিয়ে সেই পানি ঠান্ডা করে মাথার ত্বকে লাগাতে পারেন। এভাবে আপনি যদি সপ্তাহের সাত দিন ব্যবহার করেন তাহলে মাথার খুশকি দূর হয়ে যাবে।

সচার আচার জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী ও উত্তর

১. কাদের আমলকি খাওয়া উচিত না?
যাদের লিভারের সমস্যা রয়েছে, কিডনির সমস্যা রয়েছে, যারা নিম্ন রক্তচাপ সমস্যায় ভুগছেন, এবং যারা গর্ভবতী তারা আমলকি খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

২. আমলকি খেলে কি ব্রন কমে?
আমলকির মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং এন্টি ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য। আর ভিটামিন সি আমাদের ত্বকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে তাই আমলকি খেলে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা যেমন ব্রন,মেছতার দাগ, চোখের নিচে কালো দাগ ইত্যাদি দূর করতে সাহায্য করে।

৩. আমলকি খেলে কি প্রেসার কমে?
আমলকির মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি। তাই আপনি যদি নিয়ম করে প্রতিদিন আমলকি খান তাহলে আপনার উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

৪. আমলকি রস কখন খাওয়া উচিত?
আমলকির রস আপনি দিনের যেকোনো সময় খেতে পারেন কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে সকালে খালি পেটে আমলকি রস খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং পেটের বিভিন্ন সমস্যা দূর হয়।

৫. আমলকি কি লিভারের জন্য ভালো?
আমলকি ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যারা লিভারের বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় ভুগছেন তারা প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় আমলকি রাখতে পারেন কারণ আমলকি লিভারের কার্যক্ষমতা আরো উন্নত করে।

৬. চুল পড়ার জন্য দিনে কয়টি আমলকি খাওয়া উচিত?
চুল পড়া রোধ করার জন্য আপনি দিনে দুইটি করে আমলকি খেতে পারেন। দিনে দুইটি করে আমলকি খেলে আপনার চুল পড়া রোধ করবে চুলের গোড়া মজবুত হবে এবং মাথার খুশকি দূর হবে।

আমলকি খাওয়ার নিয়ম

আমলকি খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে অবশ্যই ভালোভাবে আগে জেনে নিতে হবে। আমলকি শুধু ভিটামিন সি এর একমাত্র উৎস হিসেবে পরিচিত না বরং আমলকি আমাদের শরীরের বিভিন্ন পুষ্টিগুণ উপাদান সরবরাহ করে। প্রতিদিন আমাদের আমলকি খাওয়া উচিত তবে অবশ্যই আমলকি খাওয়ার নিয়ম মেনে। 
আমলকি খাওয়ার নিয়ম
আপনি যদি আমলকি থেকে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিগুণ উপাদান পেতে চান তাহলে অবশ্যই আমলকি খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে আগে ভালোভাবে জেনে নিন কারণ অতিরিক্ত পরিমাণে আমলকি খেলে কিংবা নিয়ম না মেনে খেলে আপনি আমলকি থেকে কখনো সঠিক পরিমাণে পুষ্টিগুণ উপাদান পাবেন না। চলুন তাহলে আমলকি খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জানি।

  • সকালে খালি পেটে কাঁচা আমলকি খেলে সারাদিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিক থাকে।
  • যারা ডায়াবেটিসের রোগী রয়েছেন তারা প্রতিদিন মধুর সাথে শুকনো আমলকির গুঁড়ো মিশিয়ে দিনে দুইবার খেতে পারেন।
  • আমলকি কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়তা করে তাই প্রতিদিন সকালে শুকনো আমলকির গুঁড়ো পানির সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন।
  • কাঁচা আমলকি রস করে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেতে পারেন। যদি স্বাদের ভিন্নতা আনতে চান তাহলে সামান্য পরিমাণ মধু মেশাতে পারেন।
  • প্রতিদিন সকালে কিংবা দিনে যে কোন সময় আমলকি ভিজিয়ে রেখে আমলকি ভেজানো জল খেতে পারেন। এতে আপনার পেটের ভেতরের ক্ষতিকর টক্সিন গুলো খুব সহজেই দূর হবে।
  • আমলকি দিয়ে চা বানিয়ে প্রতিদিন সকালে খেতে পারেন।
তবে আপনার যদি এসিডিটির সমস্যা থাকে তাহলে অবশ্যই খালি পেটে আমলকি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। সে ক্ষেত্রে আপনি সকালে নাস্তার পরে আমলকি খেতে পারেন। সারা শরীরের যদি অন্য কোন সমস্যা থাকে তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে আমলকি খাওয়া জরুরী।

রাতে আমলকি খেলে কি হয়

রাতে আমলকি খেলে কি হয় সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। আমলকি বিভিন্ন পুষ্টিগুণ ভরপুর এবং আমাদের শরীরের জন্য বিশেষ উপকারী একটি ফল। আমরা দিনের যেকোনো সময় আমলকি খেতে পারি তবে নির্দিষ্ট কিছু কিছু সময় রয়েছে যে সময় আমলকি খেলে আপনার শরীরে বিভিন্ন ধরনের উপকার হবে এবং বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিও হতে পারে। আসুন তাহলে জেনে নেই রাতে আমলকি খেলে কি হয় সে সম্পর্কে।
আমলকি হল একটি আঁশ জাতীয় ফল। এবং আমলকির মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। তাই আপনি যদি প্রতিদিন রাতে আমলকি খান তাহলে আপনার হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। রাতে আমলকি খেলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায় কারণ আমলকির মধ্যে রয়েছে ভিটামিন সি। ফলে প্রতিদিন রাতে আমলকি খেলে ভিটামিন সি ত্বকের কোষ গুলোকে সচল রাখতে সাহায্য করে। 

আমলকির মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান আপনার মস্তিষ্ককে শান্ত রাখতে এবং রাতে ভালো ঘুম হতে সহায়তা করে। রাতে আমলকি খেলে আমলকির ভেতরে থাকা ফাইবার আপনার শরীরের ক্ষতিকর টক্সিন গুলো দূর করতে সারারাত কাজ করে থাকে।

সতর্কতা

তবে রাতে আমলকি খাওয়ার ব্যাপারে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে কারণ আমলকির মধ্যে রয়েছে ভিটামিন সি আর ভিটামিন সি আপনার গ্যাসের সমস্যা তৈরি করতে পারে তাই যাদের এসিডিটির সমস্যা রয়েছে তারা রাতে আমলকি না খাওয়াই ভালো। এছাড়া যাদের ঠান্ডা জনিত সমস্যা রয়েছে তারা শীতকালে রাতে আমলকি খেলে ঠান্ডার সমস্যা আরো বেশি বেড়ে যেতে পারে।

লেখকের শেষ কথা - প্রতিদিন কয়টা আমলকি খাওয়া উচিত 

প্রতিদিন কয়টা করে আমলকি খাওয়া যাবে এবং আমলকির উপকারিতা অপকারিতা সম্পর্কে এতক্ষণে আপনি হয়তো একটি সঠিক ধারণা পেয়ে গেছেন। আমলকি ফল যদি আপনার খুব বেশি প্রিয় হয়ে থাকে এবং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার জন্য খেতে না পারেন তাহলে অবশ্যই একজন ভালো চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিয়ম অনুযায়ী আমলকি খেতে পারেন।

আমলকি পুষ্টিগুণে ভরপুর তাই অবশ্যই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় আমলকি রাখা উচিত। আপনি যদি সঠিক উপায়ে প্রতিদিন নিয়ম করে আমলকি খান তাহলে আপনার শরীরের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দূর হয়ে শরীরের ভেতরে থেকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। ছোটদের জন্য আমলকি বিশেষ উপকারী তাই নিজেরা খাওয়ার সাথে সাথে ছোটদেরও খাওয়ানোর অভ্যাস করুন।

প্রিয় পাঠক আমাদের এই আর্টিকেলটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানাবেন। আরে আর্টিকেল সম্পর্কে আপনার যদি কোন মন্তব্য থেকে থাকে তাহলে আমাদের জানাতে ভুলবেন না। আর এতক্ষণ আমাদের আর্টিকেলটি খুব মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

বিডি অনলাইন আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url