দৈনিক কত লিটার পানি পান করা উচিত

দৈনিক কত লিটার পানি পান করা উচিত সে সম্পর্কে জানতে আপনি কি অনেক বেশি আগ্রহী ? তাহলে আমি বলব এ আর্টিকেলটি শুধু আপনার জন্য। চলুন তাহলে জেনে নেই আপনার জন্য দৈনিক কত লিটার পানি প্রয়োজন।
দৈনিক কত লিটার পানি পান করা উচিত
তাছাড়া তেজপাতা পানি খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জানানোর পাশাপাশি আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানানোর চেষ্টা করব। তাই অবশ্যই আর্টিকেলটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের সঙ্গেই থাকুন।
পেজ সূচিপএ

দৈনিক কত লিটার পানি পান করা উচিত

দৈনিক কত লিটার পানি পান করা উচিত সে সম্পর্কে অনেক গবেষণা করার পরে বিজ্ঞানীরা বলেন যে, একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের দৈনিক ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত। পানি আমাদের শরীরের আদ্রতা ধরে রাখে, কিডনি ভালো রাখে, লিভার ভালো রাখে, বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। 

আপনি যদি আপনার শরীরকে সুস্থ ও সঠিকভাবে পরিচালনা করতে চান তাহলে অবশ্যই শরীরের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনমতো পানি পান করুন। একজন সুস্থ এবং প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক তিন লিটার পানি খাওয়া উচিত। তবে আবহাওয়া ও শরীরের উপরে নির্ভর করে পানির পরিমাণ কম বেশি হতে পারে। 
পানির পরিমাণ একেকজনের শরীরে এক এক রকম হতে পারে। কেউ কেউ কঠোর পরিশ্রম করে আবার কেউ কেউ বিশ্রাম নেয়। যাই কঠোর পরিশ্রম করে তার শরীরে পানির চাহিদা তিন লিটারেরও বেশি হতে পারে। আবার যায় বিশ্রাম করে তার শরীরে পানির চাহিদা ৩ লিটারের কমও হতে পারে। পানির অপর নাম জীবন। তাই সুস্থ দেহ ও সারাদিন মনকে সতেজ রাখার জন্য শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পানি পান করুন।

তেজপাতার পানি খাওয়ার উপকারিতা

তেজপাতার পানি খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে হয়তো অনেকেরই জানা নেই। আপনি হয়তো জানলে অবাক হবেন তেজপাতা পানি ওজন কমানোর জন্য যাদুর মত কাজ করে। তেজপাতা আমাদের খাবারের শুধু স্বাদই বাড়ায় না তেজপাতা ভেজানো পানি কিংবা ফুটানো পানি আমাদের শরীরের জন্য বেশ উপকারী। 

তেজপাতা পানি আমাদের শরীরের বিভিন্ন সংক্রমনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে গরম পানিতে তেজপাতা দিয়ে ভালো করে সিদ্ধ করে ছেঁকে নিয়ে সেই পানি পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমে এবং শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন গুলো খুব সহজে বের হয়ে যায়। তেজপাতার মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে দারুন ভাবে কাজ করে। 

এছাড়া সকালে তেজপাতা ভেজানো পানি খেলে সারা দিনের শরীরের ক্লান্তি দূর করতে, শরীরকে সতেজ করতে এবং শরীরের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের রোগ জীবাণু ধ্বংস করতে সাহায্য করে। এছাড়া তেজপাতা ভেজানো জল খেলে আমাদের ত্বক ও চুলের নানান সমস্যার সমাধান হয়। ফাইবারের অন্যতম উৎস হিসেবে পরিচিত তেজপাতা। তাই প্রতিদিন তেজপাতা ভেজানো জল খেলে আমাদের অন্তের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং বিপাক হার উন্নত হয়।

পানি খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

পানি খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। আমাদের শরীরে তরলের পরিমাণ ঠিক রাখতে পানি আমাদের শরীরের জন্য খুব উপকারী। আমরা যদি বেঁচে থাকতে চাই তাহলে পানি পান করা আবশ্যক। শরীরের তারতম্য রক্ষা করার জন্য এবং শরীরের ক্ষতিকর পদার্থ বের করে দেওয়ার জন্য পানি আমাদের শরীরের জন্য অপরিসীম। 
পানি খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন
সাধারণত আমাদের শরীরে পানির ঘাটতি হলে আমরা পানি পান করি কিন্তু এ বিষয়টা একেবারেই ঠিক না। তৃষ্ণা না থাকার সত্ত্বেও আমাদের দিনে অন্তত ৩ লিটার পানি পান করা উচিত। এছাড়া যারা কঠোর পরিশ্রম করে তারা শরীরে পানির অনুভব করলে ৩ লিটারের বেশিও পানি পান করতে পারে। আসুন তাহলে জেনে নিই পানি খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে।
পানি খাওয়ার উপকারিতা
  • পানি শরীরকে হাইড্রেট রাখে এবং শরীরের কোষের ভিতরে পুষ্টি ও অক্সিজেন সরবরাহ করে।
  • পানি আমাদের শরীরের হজম শক্তি বাড়িয়ে পরিপাক তন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়ায়।
  • শরীরের ভেতরে জমে থাকা বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর জীবাণু বের করে দিতে পানির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
  • ত্বকের যত্নেও পানি বিশেষ উপকারী। ত্বক ভালো রাখতে এবং ত্বকে শুষ্কতা দূর করে ত্বকে উজ্জ্বল করতে পানির গুরুত্ব অনেক।
  • শরীরে পর্যাপ্ত পানি না থাকলে শরীর খুব সহজে ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং দুর্বলতা অনুভব হয়। তাই শরীরের ক্লান্তি দূর করতে এবং কাজের কর্মক্ষমতা বাড়াতে পানি গুরুত্বপূর্ণ।
  • পানি শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়।
  • হৃদরোগের সমস্যা, স্টোকের সমস্যা এবং কিডনির বিভিন্ন সমস্যার জন্য প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খাওয়া উচিত।
  • এছাড়া হাড়ের বিভিন্ন জয়েন্টের ব্যথা কিংবা বাতের ব্যথা কমাতে পানি আমাদের শরীরের জন্য অপরিহার্য।
পানি খাওয়ার অপকারিতা
পানি খাওয়া উপকারী কিন্তু অতিরিক্ত পরিমাণে পানি খাওয়া মোটেও ঠিক না এতে আমাদের কিছু কিছু ক্ষতি হতে পারে নিচে তা নিম্নে আলোচনা করা হলো।

  • অতিরিক্ত পানি খেলে আমাদের কিডনির উপরে অতিরিক্ত পরিমাণে চাপ পড়ে।
  • অতিরিক্ত পানি খেলে আমাদের বমি বমি ভাব, শরীরে ক্লান্তি এবং মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
  • অতিরিক্ত পানি খাওয়ার ফলে ইলেকট্রোলাইট গুলো পাতলা হয়ে শরীরের সোডিয়ামের পরিমাণ কমে যায়। আর শরীরে সোডিয়ামের পরিমাণ কমে গেলে জ্ঞান হারানোর মতো সমস্যাও সৃষ্টি হতে পারে।
  • অতিরিক্ত পানি খেলে আমাদের হজম প্রক্রিয়ায় সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
  • অতিরিক্ত পানি খাওয়ার ফলে প্রস্রাব অতিরিক্ত পরিমাণে বেড়ে যেতে পারে। কিংবা রাতে অতিরিক্ত পানি খাওয়ার ফলে প্রস্রাবের কারণে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
  • পানি ওজন কমাতে সাহায্য করে ঠিকই কিন্তু অতিরিক্ত পানি সেবন করলে ওজন বেড়ে যায়।
  • অতিরিক্ত পানি পান করার ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যায় এবং মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সচার আচার জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী ও উত্তর

১. ২৪ ঘন্টায় কত লিটার পানি খাওয়া উচিত ?
২৪ ঘন্টায় একজন মানুষের শরীরের জন্য কত লিটার পানি প্রয়োজন সে সম্পর্কে গবেষকরা বলেন ২৪ ঘন্টায় একজন মানুষের শরীরে ২/৩ লিটার পানির প্রয়োজন। এছাড়া শারীরিক অবস্থা ও আবহাওয়ার পরিবর্তনে পানি কম বেশি হতে পারে।

২. গরম পানি খেলে এক মাসে কতটুকু ওজন কমে ?
শুধুমাত্র গরম পানি খেলে আমাদের চর্বি কিছুটা গলতে সাহায্য করে এবং ওজন কমে। কিন্তু এক মাসে কতটুকু ওজন কমবে এটা পরিমাপ করা কখনোই সম্ভব না। তবে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক পরিশ্রম এবং খাবার নিয়ন্ত্রণে রেখে গরম পানি খেলে ওজন কিছুটা কমতে পারে।

৩. আমাদের দেহে পানির ভূমিকা কোনটি ?
প্রতিদিন পরিমাণ মতো পানি পান করলে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে, খাদ্য হজম করতে সাহায্য করে, অক্সিজেন ও শরীর থেকে খারাপ টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে।

৪. শীতে ঠান্ডা পানি খেলে কি হয় ?
শীতে ঠান্ডা পানি খেলে হজম শক্তি দুর্বল হয়ে যায়, মাথাব্যথা সমস্যা হতে পারে, গলা ব্যথা হতে পারে কিংবা শ্বাসকষ্টের সমস্যা হতে পারে, শীতে ঠান্ডা পানি পান করা হার্টের জন্য মোটেও ভালো না। তাই অবশ্যই শীতে হালকা কুসুম গরম পানি পান করার অভ্যাস করুন।

৫. শীতকালে দিনে ১ লিটার পানি খাওয়া কি যথেষ্ট ?
শীতকালের দিনে ১ লিটার পানি খাওয়া যথেষ্ট না। দিনে অন্তত ছয় থেকে আট গ্লাস পানি খাওয়া শরীর সুস্থ রাখার জন্য যথেষ্ট। তবে শীতকালে পানির খাওয়ার পরিমাণ একটু কমতে পারে। তবে মোটেও এক লিটার পানি খাওয়া উচিত না।

শীতকালে কতটুকু পানি খাওয়া উচিত

শীতকালে কতটুকু পানি খাওয়া উচিত এ বিষয়টা নিয়ে অনেকেরই বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন থাকে। কারণ শীতের সময় আমরা ঠান্ডা জনিত কারণে পানি খাওয়া থেকে বিরত থাকি কিংবা অনেকের ঠান্ডা জনিত সমস্যা থাকে বলে পানি কম খায়। কিন্তু আসলে শীতকালে কতটুক পানি খাওয়া উচিত কিংবা শরীরের জন্য কতটুকু পানি প্রয়োজন সে সম্পর্কে অবশ্যই আমাদের জানা উচিত। 

কারন আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য এবং কিডনি ভালো রাখার জন্য প্রতিদিন প্রয়োজন মতো পানি গ্রহণ করা প্রয়োজন। তবে গরম কালে তুলনায় শীতকালে আমাদের শরীর কম পরিমাণে ঘামে তাই জলও খুব কম পরিমাণে খেতে হয়। তবে অবশ্যই ১ লিটারের নিচে জল খাওয়া উচিত না। শরীরের তাপমাত্রা ও হাইড্রেটেড ধরে রাখতে শীতকালে দিনে অন্তত ২ লিটার জল খাওয়া আবশ্যক। 

শীতকালে আপনার যদি ঠান্ডা পানি খেতে মন না চায় তাহলে অবশ্যই হালকা কুসুম গরম পানি খেতে পারেন। কিংবা বিভিন্ন ধরনের পানীয় খাবার দিয়ে শরীরের জলের চাহিদা পূরণ করতে পারেন। কিন্তু কোন ভাবেই জল খাওয়া কমানো যাবে না। এতে প্রসাবের বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে, ত্বকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়, কোষ্ঠকাঠিন্য বেড়ে যেতে পারে এমনকি কিডনি সমস্যার ভুগতে পারেন। তাই শীতকালেও পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খান।

কতক্ষণ পর পর পানি খাওয়া উচিত

কতক্ষন পরপর পানি খাওয়া উচিত এই বিষয়টি আমরা অনেকেই খেয়াল করি না। আমাদের যখনই পানি পিপাসা লাগে আমরা তখনই পানি পান করি। কিছু নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী পানি পান করলে শরীরে প্রয়োজনীয় সকল পানির ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। পানি আমাদের শরীরের জন্য অপরিহার্য।

বিশেষজ্ঞরা বলেন শরীর সুস্থ রাখার জন্য এবং শরীলের প্রয়োজনীয় পানির চাহিদা পূরণ করার জন্য ৩০ মিনিট পরপর পানি খাওয়া উচিত। আপনি যদি ৩০ মিনিট পর পর পানি খেতে না পারেন তাহলে কোন খাবারের সাথে পানি খাওয়ার অভ্যাস করুন। এতে পানি খেতে কোন সমস্যা হবে না। এছাড়া ৩০ মিনিট পরপর পানি পান করলে আমাদের প্রস্রাবের চাহিদা বৃদ্ধি পায় এবং প্রসাবের সাথে খারাপ ব্যাকটেরিয়া বের হয়ে যায়। যারা কঠোরও শারীরিক ব্যায়াম করেন তারা নিজের শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পানি পান করুন। 

তাছাড়া যাদের গ্যাসের সমস্যা রয়েছে তারা খাবারের অন্তত ২০ মিনিট পরে পানি পান করা উচিত। এতে খাদ্য হজম হতে সুবিধা হয় এবং পেটে গ্যাসের সমস্যা দূর হয়। তাছাড়া যারা ওজন কমাবেন বলে ভাবছেন তারা খাবারের ৩০ মিনিট আগে পানি পান করুন। এভাবে খাবারের আগে পানি পান করলে শরীলে বাড়তি ওজন অনেকটাই কমে আসে।

রাতে কতটুকু পানি খাওয়া উচিত

রাতে কতটুকু পানি খাওয়া উচিত সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হল। রাতে পানি খাওয়ার ব্যাপারে কোন নিয়ম কিংবা পরিমাপ নেই আপনি আপনার শারীর চাহিদার উপরে নির্ভর করে রাতে পানি পান করতে পারেন। 

সাধারণভাবে রাতে ঘুমানোর আগে ১/২ গ্লাস পানি পান করাই যথেষ্ট। তবে রাতে ঘুমানোর পরে যদি আপনার পানি পিপাসা অনুভব হয় তাহলে অবশ্যই শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করার জন্য পানি পান করা প্রয়োজন। তবে আমার মনে হয় রাতে অতিরিক্ত পানি পান না করাই ভালো কারণ অতিরিক্ত পানি পান করলে বারবার প্রসাবে ঘুমের ব্যঘাত ঘটতে পারে। 

তবে শীতকালের তুলনায় গরম কালে অতিরিক্ত গরমের কারণে শরীর ঘেমে যায় এবং রাতে বেশি পানি পান করার প্রয়োজন হতে পারে। যাদের কিডনি কিংবা হার্টের সমস্যা রয়েছে তারা অবশ্যই পানির পরিমাণ চিকিৎসকের কাছে জেনে পানি পান করুন। পানি খাওয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো শরীরকে হাইড্রেশন থেকে রক্ষা করা তাই অবশ্যই আপনার পরিমাণ অনুযায়ী পানি পান করুন।

সকালে বাসি মুখে পানি খেলে কি হয়

সকালে বাসি মুখে পানি খেলে কি হয় সে সম্পর্কে আপনি যদি সঠিকভাবে জানতে পারেন তাহলে অবশ্যই সকালে মুখ ধোয়ার আগে পানি পান করার অভ্যাস তৈরি করবেন। বিশেষজ্ঞরা সকালে বাসি পেটে এক গ্লাস পানি পান করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সকালে খালি পেটে পানি পান করা একটি দারুণ স্বাস্থ্যগত অভ্যাস বলে মনে করা হয়। 

পুষ্টিবিদরা প্রতিদিন সকালে ব্রাশ করার আগে এক গ্লাস পানি পান করার ওপরে গুরুত্ব দিয়েছেন কারণ সকালে বাসি মুখে পানি আপনার স্বাস্থ্যগত সুরক্ষা নিশ্চিত করে। চলুন তাহলে জেনে নেই সকালে বাসি মুখে পানি খেলে কি হয় আমাদের শরীরের ভেতরে।

  • সকালে বাসি মুখে পানি খেলে আমাদের হজমের সমস্যা দূর হয়, কোষ্ঠকাঠিন্য কমে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
  • সকালে বাসি মুখে এক গ্লাস পানি রক্ত কোষ তৈরি করতে সাহায্য করে এবং রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক রাখে। রক্তের মধ্যে জমে থাকা দূষিত পদার্থগুলো বের হয়ে করে দিতে সাহায্য করে। এবং শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমিয়ে ওজন কমিয়ে থাকে।
  • এছাড়া সকালে বাসি মুখে পানি খেলে কিডনি রোগ ও বাতের ব্যথার সমস্যা দূর হয়।
  • বমি বমি ভাব, গলা ব্যথা, বিভিন্ন জায়গায় ব্যথা এবং মাইগ্রেনের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে সকালে বাসি মুখে এক গ্লাস পানি।
  • সকালে বাসি মুখে এক গ্লাস পানি পান করলে মানসিক শান্তি ফিরে আসে এবং স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পায়।
  • এছাড়া সকালে বাসি মুখে এক গ্লাস পানি ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ও ত্বক থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রদাহ দূর করে ত্বকে উজ্জ্বল ও কোমল করে তুলে।

সকালে গরম পানি খাওয়ার উপকারিতা

সকালে গরম পানি খাওয়ার উপকারিতা তারাই বেশি বুঝতে পারবে যাদের ঠান্ডা জনিত সমস্যা রয়েছে। সকালে এক গ্লাস গরম পানি সারাদিনের কাজের কর্ম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। গরম পানি শরীরের স্থায়ী গুলোকে সচল করতে এবং হাড়ের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। বিভিন্ন ধরনের জয়েন্টের ব্যথাগুলো শরীর থেকে নিরাময় করতে সকালে গরম পানির খাওয়ার উপকারিতা অনেক। 
সকালে গরম পানি খাওয়ার উপকারিতা
তাছাড়া আপনি যদি আপনার অতিরিক্ত ওজন নিয়ে চিন্তিত থাকেন তাহলে অবশ্যই সকালে কুসুম গরম পানি সাথে লেবু খাওয়ার অভ্যাস করুন। এই পদ্ধতিটি আপনার ওজন খুব দ্রুত কমাতে সাহায্য করবে। যাদের অল্পতে ঠান্ডা লেগে যায়, কাশি ও নাক দিয়ে সব সময় জল পড়ে তারা অবশ্যই সকালে গরম পানি মধু দিয়ে খাওয়া শুরু করুন। খুব অল্প দিনের মধ্যেই উপকার মিলবে। 

যাদের সকালে কোষ্ঠকাঠিন্য মত সমস্যায় পড়তে হয় তারা অবশ্যই সপ্তাহে প্রতিদিন গরম পানি সকালে খাওয়ার অভ্যাস করুন। এতে আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হবে এবং পেটব্যথা ও পেটের বিভিন্ন সমস্যা দূর হবে। এছাড়া মেয়েরা পিরিয়ডের ব্যথার সময় কুসুম গরম পানি পান করতে পারে। 

এতে পিরিয়ডের ব্যথা থেকে অনেকটাই আরাম পাওয়া যায়। আপনার যদি সকালে ঘুম থেকে উঠে মাথা ব্যথার সমস্যা হয় কিংবা মাইগ্রেনের ব্যথা হয় তাহলে অবশ্যই হালকা কুসুম গরম পানি পান করুন। খুব দ্রুত ব্যথা কমবে এবং আরাম অনুভব করবেন।

মন্তব্য - দৈনিক কত লিটার পানি পান করা উচিত

দৈনিক কত লিটার পানি পান করা উচিত সে সম্পর্কে আপনার যদি ধারণা হয়ে থাকে তাহলে আর দেরি না কালকে থেকেই নিয়ম অনুযায়ী পানি পান করা শুরু করুন। প্রথমে সাত দিন একই নিয়মে পানি পান করুন তাহলে নিজেই নিজের শরীরের স্বাস্থ্যগত উপকার বুঝতে পারবেন। তাছাড়া প্রতিদিন সকালে বাসি মুখে পানি পান করার অভ্যাস করুন এবং যদি পারেন হালকা কুসুম গরম পানি পান করুন। স্বাস্থ্য সকল সুখের মূল তাই অবশ্যই নিজের স্বাস্থ্যর দিকে খেয়াল রাখুন।
আশা করি দৈনিক কত লিটার পানি পান করা উচিত সে সম্পর্কে জেনে আপনি অনেক বেশি উপকৃত হয়েছেন। আর একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক কত লিটার পানি পান করা উচিত এই বিষয়টি আপনার বন্ধু বান্ধবদের জানাতে পারেন এতে তারাও পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করে উপকৃত হতে পারবে। আমার যাবার সময় হয়ে গেছে আজকে তাহলে এ পর্যন্তই। আর হ্যাঁ সব সময় মনে রাখবেন পানির অপর নাম জীবন তাই অবশ্যই পরিমাণ মতন পানি গ্রহণ করুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

বিডি অনলাইন আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url