গর্ভাবস্থায় থানকুনি পাতা খাওয়ার ১০টি উপকারিতা

গর্ভাবস্থায় থানকুনি পাতা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে আমরা আজকে বিস্তারিত আলোচনা করব। তাই অবশ্যই আমাদের আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়া শুরু করুন।
গর্ভাবস্থায় থানকুনি পাতা খাওয়ার উপকারিতা
থানকুনি পাতার দারুণ সব উপকারিতা এবং থানকুনি পাতার অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানোর চেষ্টা করব। চলুন তাহলে দেরি না করে মূল আলোচনা শুরু করি।
পেজ সূচিপএ

গর্ভাবস্থায় থানকুনি পাতা খাওয়ার উপকারিতা

গর্ভাবস্থায় থানকুনি পাতা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই অজানা। থানকুনি পাতা আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে খেয়ে থাকি কিন্তু গর্ভাবস্থায় থানকুনি পাতা খাওয়ারও যে বিশেষ কিছু উপকারিতা রয়েছে সে সম্পর্কে আমরা হয়তো তেমন কোন ধারণা রাখি না। 

চিকিৎসকরা যদিও গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন ধরনের ভেষজ উদ্ভিদ ব্যবহারের ব্যাপারে বিশেষ ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছেন। তাই থানকুনি পাতা গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা যাবে কিনা সে সম্পর্কে আজকে আমরা আলোচনা করব। গর্ভাবস্থায় থানকুনি পাতা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে চলুন জেনে আসি।

  • স্মৃতিশক্তি বাড়ায়: গর্ভাবস্থায় থানকুনি পাতা খাওয়ার একটি বিশেষ উপকারিতা হলো এই চিঠি শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। থানকুনি পাতার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি আর ভিটামিন সি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা আমাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায় এবং গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন ধরনের মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেয়।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: থানকুনি পাতার মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের শরীরে ভিটামিন সি এর কাজ করে। আর ভিটামিন সি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও গর্ব অবস্থায় বিভিন্ন ধরনের কঠিন রোগের ঝুঁকি কমায়। তাছাড়া শরীরে বিভিন্ন ধরনের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে থানকুনি পাতা।
  • ক্ষত নিরাময়: থানকুনি পাতার মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও এন্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান যা আমাদের শরীরের বিভিন্ন ধরনের ক্ষত নিরাময় করতে সাহায্য করে। শরীরে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া ও অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে থানকুনি পাতা কাজ করে। আপনার শরীরে যদি কোন দীর্ঘস্থায়ী ঘা থাকে কিংবা কেটে যায় তাহলে থানকুনি পাতা বেটে আপনি ওষুধ হিসেবে লাগাতে পারেন এতেও বেশ উপকার পাবেন।
  • ব্যথা কমাতে: গর্ভাবস্থায় শরীরে বিভিন্ন ধরনের ব্যথা কমাতে থানকুনি পাতার অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য কাজ করে থাকে। গর্ভাবস্থায় আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের ব্যথা হয়ে থাকে যেমন পিঠের ব্যথা, কোমর ব্যথা কিংবা পায়ের ব্যথা। আর এ ব্যথাগুলো উপশম করতে আপনি প্রতিদিন থানকুনি পাতা গর্ভাবস্থায় খেতে পারেন।
  • ঘুমের সমস্যা দূর করে: গর্ভাবস্থায় যাদের ঘুমের সমস্যা রয়েছে। রাতে তাড়াতাড়ি ঘুম আসে না তারা থানকুনি পাতা খেতে পারেন। যদি বেশি ঘুমের সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে থানকুনি পাতার সাথে মধু মিশিয়ে খেলে ঘুমের উপকার পাওয়া যায়।
  • ঠান্ডা জনিত সমস্যা: গর্ভাবস্থায় যাদের ঠান্ডা জনিত সমস্যা রয়েছে। খুব অল্পতেই ঠান্ডা লেগে যায় তারা অবশ্যই থানকুনি পাতা খাওয়া শুরু করুন। থানকুনি পাতা ঠান্ডা কমাতে, কাশি কমাতে কিংবা হালকা জ্বর নিরাময় করতে খুবই কার্যকর।
  • হজমের সমস্যা: গর্ভাবস্থায় হজমের সমস্যা খুবই সাধারণ একটি ব্যাপার। প্রায় কম বেশি প্রতিটি গর্ভবতী মায়েরই এমন সমস্যা হয়ে থাকে। তাই প্রতিদিন গর্ভাবস্থায় থানকুনি পাতা সেদ্ধ করে পানি নিয়মিত পান করুন। এতে হজম শক্তি বৃদ্ধি পাবে।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়: নিয়মিত থানকুনি পাতা খেলে গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হবে এবং পেটের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা ও মূত্রনালীর বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে থানকুনি পাতা।
  • ত্বকের যত্ন: গর্ভাবস্থায় নিয়মিত থানকুনি পাতা রস খেলে আপনার ক ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে।
তবে অবশ্যই গর্ভাবস্থায় থানকুনি পাতা খাওয়ার ব্যাপারে একজন ভালো চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিবেন। কারণ অনেকের খেতে থানকুনি পাতা খেলে ক্ষতি হতে পারে গর্ভাবস্থায়।

থানকুনি পাতার দারুন সব উপকারিতা

থানকুনি পাতার দারুণ সব উপকারিতা রয়েছে। আমাদের স্বাস্থ্যের প্রতি সবারই বিশেষ নজর দেওয়া উচিত আর সুস্থ থাকার জন্য ওষুধ ছাড়াও কিছু উদ্ভিদের ওপর নির্ভর করা উচিত। প্রাকৃতিক কিছু উপায় রয়েছে যেগুলো অবলম্বন করেও আপনি আপনার শরীরকে সুস্থ রাখতে পারেন আর তার মধ্যে থানকুনি পাতা অন্যতম একটি উৎস। 

থানকুনি পাতার মধ্যে রয়েছে ভিটামিন সি নামক এক্সিডেন্ট, ফাইবার, ভিটামিন বি, প্রাকৃতিক এন্টিসেপটিক যৌগ্ ইত্যাদি উপাদান। থানকুনি পাতার মধ্যে থাকায় উপাদান গুলো আমাদের শরীরে কি কি উপকার করে থাকে আসুন এবার জেনে নেওয়া যাক।

  • থানকুনি পাতার মধ্যে ভিটামিন সি নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকার ফলে আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের প্রদাহ, ক্ষত কিংবা বিভিন্ন ধরনের বাতের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
  • থানকুনি পাতার মধ্যে রয়েছে ফাইবার। আর ফাইবার আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধি করে কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে।
  • থানকুনি পাতার মধ্যে রয়েছে এন্টি ব্যাকটেরিয়াল ও আন্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান। এই উপাদানগুলো শরীরের বিভিন্ন ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করতে ও ত্বকের ভিতরে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া দূর করতে খুবই কার্যকর।
  • থানকুনি পাতার মধ্যে রয়েছে হাড়কে সুস্থ মজবুত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম।
  • যাদের রক্তস্বল্পতার সমস্যা রয়েছে তারা প্রতিদিন থানকুনি পাতার রস খেতে পারে এতে রক্ত হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে এবং রক্তস্বল্পতা দূর হবে।
  • থানকুনি পাতার মধ্যে থাকা ম্যাগনেসিয়াম আমাদের স্নায়ু ও পেশিগুলোকে সচল করতে সাহায্য করে।
  • প্রতিদিন সকালে থানকুনি পাতা খেলে পেটের জন্য যেমন উপকারী তেমন লিভারের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
  • থানকুনি পাতা মধুর সাথে মিশিয়ে খেলে ঠান্ডা জনিত বিভিন্ন ধরনের সমস্যা যেমন হাঁচি, কাশি ও জ্বর নিরাময় করতে সাহায্য করে।
  • থানকুনি পাতা দূর করতে একটি কার্যকরী উপাদান হিসেবে পরিচিত। যাদের রাতে ভালো ঘুম হয় না কিংবা অনেক রাত পর্যন্ত জেগে থাকে তারা মধুর সাথে থানকুনি পাতার রস নিয়মিত খেতে পারেন। এতে ঘুমের সমস্যা দূর হবে খুব দ্রুত।
  • থানকুনি পাতার আরেকটি বিশেষ গুণ রয়েছে এটি আপনার চুল খুব দ্রুত লম্বা করতে এবং চুল পড়া কমাতে, চুলের গোড়া মজবুত করতে ও চুলের খুশকি দূর করতে সাহায্য করে।

থানকুনি পাতার অপকারিতা

থানকুনি পাতার অপকারিতা ও রয়েছে কিছু। উপরে আমরা থানকুনি পাতার উপকারিতা সম্পর্কে এবং গর্ভাবস্থায় থানকুনি পাতার খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি এখন আমরা থানকুনি পাতার অপকারিতা সম্পর্কে জানব। 

প্রতিটি খাবারই যেমন কিছু উপকারিতা নিয়ে আসে তেমন প্রতিটি খাবারের কিছু অপকারিতা রয়েছে থানকুনি পাতাও ব্যতিক্রম নয়। থানকুনি পাতা খেলে আমাদের কিছু কিছু শারীরিক সমস্যার জন্য বিভিন্ন ধরনের অপকার হয়ে থাকে। তাহলে চলুন থানকুনি পাতা খেলে আমাদের শরীরে কি কি ধরনের অপকার হয়ে থাকে সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করি।

  • থানকুনি পাতা আমাদের শরীরের বিভিন্ন ধরনের ব্যথা দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত খেলে আমাদের পেটের ব্যথা দূর হয় কিন্তু অতিরিক্ত পরিমাণে থানকুনি পাতা খেলে আমাদের পেটের ব্যথা আরো বেশি বেড়ে যেতে পারে।
  • অনেক সময় থানকুনি পাতা খেলে আমাদের এলার্জি সমস্যা দেখা দিতে পারে। যদি থানকুনি পাতা খাওয়ার পরে এমন কোন সমস্যা আপনার দেখা দেয় তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • অতিরিক্ত থানকুনি পাতা সেবন করলে আমাদের মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব এমনকি বমিও হতে পারে।
  • যারা সদ্য অপারেশনের রোগী তারা অবশ্যই থানকুনি পাতা খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। কিংবা ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে সেবন করুন।
  • যাদের লিভারে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা রয়েছে তারা থানকুনি পাতা খাওয়া থেকে সতর্ক থাকুন। এতে লিভারের সমস্যা আরো বেশি বেড়ে যেতে পারে।

চুলের জন্য থানকুনি পাতার উপকারিতা

চুলের জন্য থানকুনি পাতার উপকারিতা সম্পর্কে জানলে আপনি অবাক হবেন। চুলের বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে থানকুনি পাতা জাদুর মত কাজ করে। আমরা প্রায় কম-বেশি সবাই চুল পড়ার সমস্যায় ভুগি আর থানকুনি পাতা আপনার চুল পড়া কমাতে এবং চুলের গোড়া মজবুত করতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। থানকুনি পাতা নিয়মিত ব্যবহার করলে মাথার ত্বকের রক্ত চলাচল সতেজ হয় এবং মাথার ত্বকের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। 
আর থানকুনি পাতার রস চুলে ব্যবহার করা খুবই সহজ। থানকুনি পাতা থেকে রস বের করে হাতে আঙ্গুলের সাহায্যে মাথার তালুতে আলতোভাবে লাগাতে হবে গোসলের এক ঘন্টা আগে। এবং এক ঘন্টা পরে খুব ভালোভাবে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলতে হবে। এতে চুলের গোড়া মজবুত হবে, চুলের খুশকি দূর হবে, চুলের তৈলাক্ত ভাব দূর হবে, চুল পড়া কমবে ও চুল ঝলমলে হবে। 
চুলের জন্য থানকুনি পাতার উপকারিতা
এছাড়া মাথার ভেতরে যদি বিভিন্ন ধরনের প্রদাহ কিংবা ক্ষত থাকে সেগুলো নিরাময় করতেও থানকুনি পাতা মাথার ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন। তবে হ্যাঁ যাদের অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে তারা থানকুনি পাতা চুলের ত্বকে ব্যবহার করার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। 

কারণ অতিরিক্ত থানকুনি পাতা চুলে ব্যবহার করার ফলে আপনার এলার্জির সমস্যা মাথার ত্বকে দেখা দিতে পারে। সবচাইতে ভালো হয় যদি আপনি একটি ভাল চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে থানকুনি পাতার রস চুলে ব্যবহার করেন। এতে উপকার পাবেন এবং ক্ষতি হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই।

পেটের সমস্যায় থানকুনি পাতা

পেটের সমস্যায় থানকুনি পাতা বহু যুগ আগে থেকেই ভেষজ উদ্ভিদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।পেটের বিভিন্ন রোগ নিরাময় করতে থানকুনি পাতার কোন তুলনা হয় না। থানকুনি পাতার মধ্যে রয়েছে ফাইবার। আর এই ফাইবার আমাদের হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন নিয়মিত থানকুনি পাতা খেলে আমাদের গ্যাসের সমস্যা দূর হয় এবং আলসারের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। 

থানকুনি পাতা ডায়রিয়া ও পেট খারাপ কমাতেও কার্যকরী। প্রতিদিন নিয়মিত থানকুনি পাতা খেলে আমাদের পাকস্থলীর প্রদাহ কমে ও অম্বলজনিত সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া যারা ঘন ঘন কৃমি সমস্যায় পড়েন তারা থানকুনি পাতার রস খেতে পারেন। থানকুনি পাতার রস কৃমি দূর করতে সহায়ক।

থানকুনি পাতা খেলে ফর্সা হয়

থানকুনি পাতা খেলে ফর্সা হয় এমন প্রশ্ন অনেকের মনেই আসে। আপনি যদি আপনার যৌবন ধরে রাখতে চান এবং চেহারার লাবণ্য ঠিক রাখতে চান তাহলে অবশ্যই প্রতিদিন থানকুনি পাতা খাওয়ার অভ্যাস করুন। কারন থানকুনি পাতা চেহারার লাবণ্য ধরে রাখতে এবং বয়সের ছাপ কমাতে খুবই কার্যকর। প্রতিদিন এক গ্লাস দুধের সাথে থানকুনি পাতার রস খেলে চেহারায় বয়স্কের ছাপ কমে এবং চেহারায় আদ্রতা বাড়ে। 

প্রতিদিন কাঁচা থানকুনি পাতা খেলে সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি থেকে আপনার ত্বককে রক্ষা করবে এবং ত্বকের রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া বৃদ্ধি করবে। প্রতিদিন থানকুনি পাতা খাওয়ার ফলে ত্বকের ভেতরের কোষগুলো সক্রিয় করে এবং ত্বককে ভেতর থেকে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন নিয়মিত থানকুনি পাতা খেলে ত্বককে ভেতর থেকে ফর্সা করতে সাহায্য করে। 

এছাড়া আপনি থানকুনি পাতা ত্বকের উপরেও ব্যবহার করতে পারেন এতেও ত্বক ফর্সা হয়। ত্বকের ব্রণ, মেস্তা, ফুসকুড়ি ইত্যাদি দূর করে এবং ত্বকের লাবণ্য ধরে রাখে। ত্বকের উপরে থানকুনি পাতার পেস্ট এবং মধু ব্যবহার করলে ত্বকের জ্বালাপোড়া ভাব, ত্বকের উপরে বিভিন্ন ধরনের ক্ষত নিয়ন্ত্রণ করে ও ত্বককে ঠান্ডা ও প্রশান্ত রাখে। 

সপ্তাহে আপনি দুইদিন থানকুনি পাতা ত্বকের উপরে ব্যবহার করতে পারেন ভালো ফলাফলের জন্য আর ভেতর থেকে ত্বকে ফর্সা করার জন্য প্রতিদিন ২টা করে থানকুনি পাতা কাচা কিংবা রস খেতে পারেন।

থানকুনি পাতা খাওয়ার নিয়ম

থানকুনি পাতা খাওয়ার নিয়ম মেনে আপনি যদি থানকুনি পাতা খান তাহলে থানকুনি পাতা থেকে সঠিক পরিমাণে উপকার পেতে পারেন। থানকুনি পাতা আপনি সবসময়ই খেতে পারেন তবে কিছু নিয়ম মেনে খেলে থানকুনি পাতা বিশেষ কিছু উপকার পাবেন। 

যেমন প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক গ্লাস থানকুনি পাতার রস খেতে পারেন। সকালে খালি পেটে থানকুনি পাতা দুই তিনটা ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিয়ে কাঁচা চিবিয়ে খেতে পারেন। 
থানকুনি পাতা খাওয়ার নিয়ম
থানকুনি পাতার জুস বানিয়ে খেতে পারেন। শাট বাড়ানোর জন্য লবণ ও মধু মেশাতে পারেন। থানকুনি পাতা গুঁড়ো করে রেখে অনেকদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করে পানির সাথে গুলিয়ে প্রতিদিন খেতে পারেন। থানকুনি পাতা সেদ্ধ করে ভর্তা বানিয়ে গরম ভাতের সাথে খেতে পারেন। এছাড়া থানকুনি পাতা দিয়ে মজাদার চা বানিয়ে খেতে পারেন। 

আপনার যেভাবে খেতে ভালো লাগে আপনি সেই নিয়মে থানকুনি পাতা খেতে পারেন। থানকুনি পাতা খাওয়ার তেমন কোন নিয়ম নেই যে কোন সময় যে কোন কিছুর সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন। যেভাবে খান না কেন থানকুনি পাতা থেকে আপনি সঠিক উপকার পাবেন।

খালি পেটে থানকুনি পাতার রস খাওয়ার উপকারিতা

খালি পেটে থানকুনি পাতার রস খাওয়ার উপকারিতা আমরা তখনই জানতে পারবো যখন প্রতিদিন খালি পেটে থানকুনি পাতার রস খাওয়ার অভ্যাস করব। থানকুনি পাতা কাঁচা কিংবা যেকোনো ভাবে খেতে পারেন এতে কোন সমস্যা নেই কিন্তু খালি পেটে থানকুনি পাতা খেলে আপনি বিশেষ কিছু উপকার পাবেন। খালি পেটে প্রতিদিন থানকুনি পাতা খেলে আপনার হজম শক্তি উন্নত হবে, পেট ফাঁপা, গ্যাস্টিকের সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করবে। 

প্রতিদিন খালি পেটে থানকুনি পাতার রস লিভারের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং লিভারের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থগুলো বের করে দিতে সাহায্য করে। খালি পেটে তার থানকুনি পাতা খেলে থানকুনি পাতার ভেতরে থাকা এন্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং ত্বকের ব্রণ, দাগ, ফুসকুড়ি ও এলার্জি কমাতে সাহায্য করে। 

খালি পেটে প্রতিদিন সকালে পরিমাণ মতো থানকুনি পাতার রস খেলে রক্ত পরিষ্কার হয় এবং পেটের ভিতর জমে থাকা ক্ষতিকর টক্সিন গুলো সহজেই বের হয়ে যায়। আর সর্বশেষে যে উপকারটি পাওয়া যায় খালি পেটে তানকুনি পাতার রস খেলে তা হল আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং শরীরকে সতেজ ও চাঙ্গা করতে সাহায্য করে।

সচার আচার জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী ও উত্তর

১. থানকুনি পাতা কখন খাওয়া উচিত ?
থানকুনি পাতা আপনি যেকোনো সময় খেতে পারেন। তবে বিশেষ বিশেষজ্ঞদের মতে সকালে থানকুনি পাতা খেলে ভালো উপকার পাওয়া যায়।

২. থানকুনি পাতার রস কি কাজ করে ?
থানকুনি পাতার রস আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ত্বকের সমস্যা দূর করে, আমাশা ও ডায়রিয়ার সমস্যা দূর করে, ঠান্ডা জনিত বিভিন্ন সমস্যা দূর করে ও আমাদের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে।

৩. থানকুনি পাতা খেলে কি ঘুম হয় ?
যাদের ঘুমের সমস্যা রয়েছে তারা নিয়মিত থানকুনি পাতা খাওয়া শুরু করুন। থানকুনি পাতা শরীরে প্রশান্তি এনে দেয় এবং রাতে ভালো ঘুম হতে সাহায্য করে।

৪. থানকুনি পাতায় কি ভিটামিন আছে ?
থানকুনি পাতার মধ্যে রয়েছে ভিটামিন সি। আর এই ভিটামিন সি আমাদের শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে ফলে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দূর হয়, ও বিভিন্ন ধরনের ক্ষত সারাতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

৫. থানকুনি কিভাবে খেতে হয় ?
থানকুনি আপনি বিভিন্ন ভাবে খেতে পারেন কাঁচা খেতে পারেন, ভর্তা করে খেতে পারেন, থানকুনির রস কিংবা জুস হিসেবে খেতে পারেন, স্বাদ বানানোর জন্য চিনি কিংবা লবণ মিশাতে পারেন। এছাড়া থানকুনি ভর্তাও খুব মজাদার। গরম ভাতের সাথে খেতে পারেন।

পরিশেষে - গর্ভাবস্থায় থানকুনি পাতা খাওয়ার উপকারিতা

গর্ভাবস্থায় থানকুনি পাতা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে হয়তো আপনি এতক্ষণে জেনে গেছেন। গর্ভাবস্থায় থানকুনি পাতা খাওয়ার উপকারিতা অনেক। তবে গর্ভাবস্থায় সব খাবারের ব্যাপারে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। 

তাই আপনি যদি গর্ভাবস্থায় আপনার খাদ্য তালিকায় থানকুনি পাতা রাখতে চান তাহলে অবশ্যই একজন ভালো চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিন। কারণ আপনার আগে থেকে যদি কোন শারীরিক সমস্যা থাকে তাহলে থানকুনি পাতা খাওয়ার ফলে গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় পড়তে পারেন।
গর্ভাবস্থায় থানকুনি পাতা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কিত আর্টিকেলটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের ওয়েবসাইটটি নিয়মিত ভিজিট করুন। কারণ আমরা আমাদের ওয়েবসাইটে প্রতিনিয়ত এরকম স্বাস্থ্য বিষয়ক টিপস প্রকাশ করে থাকি। আজকে তাহলে এ পর্যন্তই আবার দেখা হবে অন্য কোন আর্টিকেলে আর এতক্ষন আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

বিডি অনলাইন আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url