মসুর ডাল খাওয়ার ১০টি উপকারিতা
মসুর ডাল খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে আপনার যদি জানা না থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের এই আর্টিকেলটি খুব মনোযোগ সহকারে পড়ুন। আমরা এই আর্টিকেলে মসুর ডাল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেমন মসুর ডাল দিয়ে কিভাবে ফর্সা হবেন সে সম্পর্কেও জানানোর চেষ্টা করেছি। আর আপনি যদি এই বিষয় সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে থাকুন।
পেজ সূচিপএ
মসুর ডাল খাওয়ার উপকারিতা
মসুর ডাল খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে এখন আমরা জানবো। মসুর ডাল একটি পুষ্টিকর খাবার এবং আমাদের সকলেরই উচিত প্রতিদিন মসুর ডাল খাওয়া। মসুর ডালের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে খনিজ, ভিটামিন, প্রোটিন, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ফাইবার, আয়রন, কার্বোহাইড্রেট ইত্যাদি প্রয়োজনীয় সব উপাদান। তাই মসুর ডাল খেলে আমাদের শরীরে প্রয়োজনীয় সব ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। চলুন তাহলে জেনে নেই মসুর ডাল খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে।
- প্রতিদিন মসুর ডাল খেলে আমাদের রক্ত চলাচল সচল হয় এবং পেশী গঠনে সহায়তা করে।
- মসুর ডালের মধ্যে রয়েছে উচ্চমাত্রার ফাইবার। তাই প্রতিদিন মসুর ডাল খেলে আপনার হজম শক্তি বাড়ে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমে এবং অন্তের বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
- মসুর ডাল হার্টের সমস্যা দূর করতেও খুব কার্যকরী। মসুর ডালের মধ্যে থাকা ফাইবার, ম্যাগনেসিয়াম পটাশিয়াম, প্রোটিন ইত্যাদি উপাদান রক্তের কোলেস্টের মাত্রা কমিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেয়।
- মসুর ডালের মধ্যে রয়েছে ফাইবার। আর ফাইবার আমাদের পেট অনেকক্ষণ পর্যন্ত ভরা রাখে। ফলে বারবার খাদ্য গ্রহণের প্রয়োজন হয় না এবং খুব দ্রুত ওজন কমে আসে।
- মসুর ডালের মধ্যে থাকা পটাশিয়াম রক্তের শর্করার মাত্রা কমিয়ে স্টোকের ঝুঁকি কমায়।
- মসুর ডাল সুগার নিয়ন্ত্রণেও খুব ভালো কাজ করে। মসুর ডালের মধ্যে থাকা উপাদান রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমিয়ে সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখে।
- মসুর ডালের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। আর এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের ত্বকের মৃত কোষগুলিকে সচল করতে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে।
- মসুর ডাল দাঁত এবং হাড়ের জন্য বিশেষ কার্যকরী। কারণ মসুর ডালের মধ্যে রয়েছে ক্যালসিয়াম। আর আমরা সবাই জানি ক্যালসিয়াম আমাদের দাঁত ও হাড় মজবুত করতে সহায়তা করে।
মসুর ডাল দিয়ে ফর্সা হওয়ার উপায়
মসুর ডাল দিয়ে ফর্সা হওয়ার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা। মসুর ডাল আমাদের রান্নাঘরের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে পরিচিত। মসুর ডাল খেলে যেমন আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের উপকার হয় তেমন মসুর ডাল ত্বকে ব্যবহার করলেও আমাদের ত্বকের বিভিন্ন ধরনের উপকার হয়। আগের যুগে মসুরির ডাল দিয়ে রূপচর্চা করা হতো আর এখনকার দিনে আমরা রূপচর্চার জন্য বিভিন্ন কেমিক্যালের ওপরে নির্ভর করি।
বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল ছাড়াও মুসুরির ডাল ব্যবহার করে আমরা আমাদের ত্বককে উজ্জ্বল, টানটান এবং বয়স্ক ছাপ থেকে রক্ষা করতে পারি। মসুরের ডাল দিয়ে এমন কিছু ফেসপ্যাক তৈরি করা যায় যেগুলো ব্যবহার করে আপনি আপনার ত্বককে উজ্জ্বল, টানটান এবং ত্বকের অবাঞ্ছিত লোম ইত্যাদি দূর করতে পারবেন। তাহলে চলুন মসুর ডাল দিয়ে ফর্সা হওয়ার উপায় সম্পর্কে জেনে আসি।
- মসুর ডাল ভালোভাবে বেটে এক চামচ মধু মিশিয়ে আপনি ত্বকে খুব ভালোভাবে লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন এবং ১৫ মিনিট পর পরিষ্কার পানি দিয়ে সমস্ত মন্ডল ধুয়ে ফেলুন। এই ফেসপ্যাকটি আপনার ত্বকের মৃত কোষগুলো দূর করবে এবং ত্বকের ভেতরে নতুন কোষ গজাতে সহায়তা করবে তাছাড়া এই ফেসপ্যাকটি আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে।
- মসুর ডাল খুব ভালোভাবে বেটে তার ভিতর টক দই ও বেসন মিশিয়ে খুব ভালোভাবে মুখে মেসেজ করুন। এবং যতক্ষণ না শুকিয়ে যায় ততক্ষণ পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। আপনি এই ফেসপ্যাকটি আপনার পুরো শরীরেই ব্যবহার করতে পারেন। এই ফেসপ্যাকটি আপনার ত্বকে টানটান ভাব আনবে এবং ত্বকে নরম ও কোমল রাখবে। এছাড়া এই ফেসপ্যাকটি আপনার ত্বকের উপরে অবাঞ্ছিত লোমগুলো দূর করবে খুব সহজে।
- দুধের সাথে আপনি মসুর ডাল ব্যবহার করতে পারেন। মসুর ডাল খুব ভালোভাবে বেটে কাঁচা দুধের সাথে মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করুন। হাতের দুই আঙ্গুলের সাহায্যে খুব ভালোভাবে ত্বকে মেসেজ করুন। এবং পরিষ্কার পানি দিয়ে ত্বক ধুয়ে নিন। এই ফেসপ্যাকটি আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে ও ত্বকের মৃত কোষগুলো সচল করতে সাহায্য করে।
- মসুর ডাল ভালোভাবে বেটে তার সাথে চালের গুঁড়ো ও এক চামচ বেসন এবং আমন্ড তেল এক চামচ নিয়ে খুব ভালোভাবে মুখে মেসেজ করতে হবে এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না শুকিয়ে যায় ততক্ষণ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এই ফেসপ্যাকটি আপনার ত্বকে অবাঞ্ছিত লোম গজাতে রোধ করবে এবং ত্বকের উপর থেকে রোদে পোড়া দাগ দূর করবে।
- কিছু মসুর ডাল নিয়ে খুব ভালোভাবে বেটে তাতে এক ফোটা লেবুর রস দিয়ে ত্বকে লাগিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট এবং ১৫ মিনিট পর খুব ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। আপনার ত্বকে যদি এলার্জির সমস্যা থাকে তাহলে আপনি লেবুর রসের পরিবর্তে গোলাপজল ব্যবহার করতে পারেন। এই ফেসপ্যাকটি আপনার ত্বককে ফর্সা এবং আকর্ষণীয় করে তুলে।
- এই ফেসপ্যাকটি তৈরি করার জন্য কিছু মসুর ডাল এবং কমলার খোসা একসাথে বেটে নিয়ে তার ভেতরে কাঁচা দুধ মিশাতে হবে। ত্বকে খুব ভালোভাবে ম্যাসেজ করতে হবে। আপনি এই ফেসপ্যাকটি অনেকদিন পর্যন্ত তৈরি করে সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন। এই ফেসপ্যাকটি আপনার ত্বককে উজ্জ্বল, কোমল, মসৃণ ও দাগহীন করবে এবং ত্বককে গভীর থেকে ফর্সা করে তুলবে।
উপরের এই পদ্ধতি গুলো অবলম্বন করে আপনি আপনার ত্বককে খুব সহজেই মসুর ডালের মাধ্যমে ফর্সা করতে পারেন। আর প্রতিদিন ব্যবহার করার কোন প্রয়োজন নেই সপ্তাহে দুই দিন ব্যবহার করলেই আপনার ত্বক অনেক বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। সপ্তাহে দুই দিন ব্যবহার করে দেখুন নিজেই এর পার্থক্য বুঝতে পারবেন।
মসুর ডাল খেলে কি এলার্জি হয়
মসুর ডাল খেলে কি অ্যালার্জি হয় এমন প্রশ্ন আমাদের অনেকের মনে আসে কারণ অনেকের ক্ষেত্রে মসুর ডাল খেলে এলার্জি সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে কিংবা শরীর ফোলা ভাব, শরীরের লাল লাল ফুসকুড়ি ও চুলকানি দেখা দেয়। মুসুরির ডাল খেলে আমাদের এলার্জি হতে পারে এই কথাটা ঠিক।
তবে সবার ক্ষেত্রে একই রকম হয় না। অনেকের মুসুরির ডাল খাওয়ার ফলে শরীরে এলার্জির প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় না আবার কারো কারো ক্ষেত্রে মসুরির ডাল খাওয়ার ফলে শরীরে এলার্জি সৃষ্টি হয়। তারা অবশ্যই মসুরের ডাল খাওয়া থেকে বিরত থাকুন আর অন্যান্য ডাল যেমন বুটের ডাল, খেসারির ডাল, মুগের ডাল ইত্যাদি ডাল খেতে পারেন।
আরো পড়ুন: বাধাকপির জুসের উপকারিতা
অনেকের এলার্জির সমস্যা থাকে ফলে মসুর ডাল খাওয়ার ফলে অ্যালার্জি আরো বেশি বেড়ে যেতে পারে। মসুরের ডালের মধ্যে রয়েছে এ্যালার্জেন। আর এই এ্যালার্জেন সিদ্ধ করার পরও মসুরের ডালের মধ্যে থাকে। ফলে আমাদের যাদের এলার্জি সমস্যা রয়েছে তারা মসুরের ডাল খাওয়ার পরে এলার্জি দেখা দেয়। আপনার যদি মুসুর ডাল অনেক বেশি প্রিয় হয়ে থাকে এবং মসুর ডাল খাওয়ার ফলে এলার্জি তৈরি হয় তাহলে অবশ্যই একজন ভালো চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আশা করি মসুর ডাল খেলে কি এলার্জি হয় এবং মসুর ডাল খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে আমরা আপনাদের বিস্তারিত জানাতে পেরেছি।
মসুর ডালের ক্ষতিকর দিক
মসুর ডালের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কেও আমাদের সচেতন থাকতে হবে মসুর ডাল উপকারী বলে আমরা আমাদের খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন মসুর ডাল রাখার ব্যাপারে অবশ্যই সতর্ক থাকব। কারণ প্রতিটি খাবারের কিছু ক্ষতিকারক দিক রয়েছে।
আগে আপনার শারীরিক বিভিন্ন সমস্যার বিবেচনা করে মসুর ডাল খাওয়ার অভ্যাস করুন। কারো কারো ক্ষেত্রে মসুর ডাল খাওয়ার ফলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি হতে পারে। চলুন তাহলে মসুর ডালের কিছু ক্ষতিকারক দিক নিয়ে আলোচনা করি।
- মসুর ডালের মধ্যে রয়েছে পিউরিন। এই পিউরিন আমাদের শরীরে ইউরিক এসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।
- যাদের গাঁটে ব্যথা সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য মসুর ডাল ক্ষতিকর হতে পারে। মসুরের ডাল খাওয়ার ফলে গাঁটে ব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে এবং হাড়ে প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে।
- যাদের কিডনির সমস্যা রয়েছে তারা মসুর ডাল খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। এছাড়া যাদের কিডনিতে পাথর রয়েছে তারা মসুরের ডাল খাবেন না। এতে কিডনির পাথরের সমস্যা আরো বেশি বেড়ে যাবে।
- যাদের হজম শক্তি কম তারা মসুর ডাল কম পরিমাণে খাবেন। মসুর ডালের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে লেকটিন। আর এই উপাদানটি আমাদের হজম শক্তি দুর্বল করতে ভূমিকা রাখে।
- যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রয়েছে তারা মসুর ডাল খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। কারণ মসুরের ডাল পেটে গ্যাসের সমস্যা সৃষ্টি করে। এছাড়া মসুরের ডাল খেলে প্রচুর পরিমাণে এসিডিটি ও বদহজম সমস্যা তৈরি হয়।
মসুর ডাল খেলে কি গ্যাস হয়
মসুর ডাল খেলে কি গ্যাস হয় এমন প্রশ্ন অনেকের মনেই আসে। মসুর ডালের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকা সতের মসুর ডাল খেলে আমাদের গ্যাস হয়, মসুর ডাল খেলে অনেকের প্রচুর পরিমাণে গ্যাসের সমস্যা বাড়তে পারে। কারো কারো মসুর ডাল খাওয়ার পরে পেটব্যথা, পেট ফুলে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। মসুর ডালের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ফাইবার, খনিজ, কার্বোহাইড্রেট ইত্যাদি।
আর এই উপাদান গুলি আমাদের পেটের সমস্যা সৃষ্টি করে পেটে গ্যাস হয়। যাদের মসুর ডাল খাওয়ার পর ফলে পেটে গ্যাস হয় তাদের মসুর ডাল খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। তবে আপনার যদি মসুরের ডাল অনেক বেশি প্রিয় হয়ে থাকে এবং গ্যাসের সমস্যার জন্য খেতে না পারেন তাহলে মসুরের ডাল খুব ভালোভাবে সিদ্ধ করে রান্না করুন এতে মসুরের ডাল খেলে খুব সহজে হজম হয়ে যাবে।
অল্প মসলা ব্যবহার করে মসুরের ডাল রান্না করুন তাছাড়া আপনি যদি ডাল ভেজে রান্না করেন তাহলে পেটে গ্যাসের পরিমাণ কম হয়। আপনার যদি মসুর ডাল বেশি পরিমাণে খেলে পেটে গ্যাসের সমস্যা হয় তাহলে আপনি আপনার খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন অল্প অল্প করে ডাল রাখতে পারেন।
প্রতিদিন মসুর ডাল খেলে কি হয়
প্রতিদিন মসুর ডাল খেলে কি হয় সে সম্পর্কে আমাদের সকলেরই জানা উচিত। প্রতিদিন ভাতের সাথে ডাল প্রতিটি বাঙালির একটি প্রিয় খাবার। তবে আমরা অন্যান্য ডালের চেয়ে বেশিরভাগ মসুর ডাল প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় রাখি। কারণ মসুর ডাল ছোট থেকে বড় সকলেরই একটি প্রিয় খাবার। মসুর ডাল প্রোটিনের একটি ভালো উৎস।
মসুর ডাল এর মধ্যে থাকা এন্টি এজিং উপাদান আমাদের বয়সের ছাপ দূর করে এবং বিভিন্ন ধরনের বাধ্যক্য জনিত রোগ নিরাময় করে। যাদের শরীরে ভিটামিন সি এর ঘাটতি রয়েছে তারা প্রতিদিন মসুর ডাল খেতে পারেন। মসুর ডালের মধ্যে থাকা ভিটামিন সি আপনার ত্বকের যত্নে বিশেষ কার্যকরী। প্রতিদিন মসুর ডাল খেলে আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।
এছাড়া মসুর ডালের মধ্যে রয়েছে ভিটামিন এ। তাই প্রতিদিন মসুর ডাল খেলে আমাদের চোখের দৃষ্টি শক্তি ভালো থাকে এবং চোখের ছানি পড়া রোধ হয়। মসুর ডাল হাড় মজবুত করতেও সহায়তা করে এছাড়া যাদের আর্থ্রাইটিসের সমস্যা রয়েছে তারা প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় মসুর ডাল রাখতে পারেন। এছাড়া যাদের ব্লাড সুগার রয়েছে তারা ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণের জন্য মসুর ডাল খেতে পারেন এবং যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে তারা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য মসুরের ডাল প্রতিদিন খেতে পারেন।
মসুর ডাল খেলে কি মোটা হয়
মসুর ডাল খেলে কি মোটা হয় সে সম্পর্কে চলুন জানি। মসুর ডাল একটি পুষ্টিকর খাবার মসুর ডালের মধ্যে রয়েছে প্রোটিন, কার্বোহাইডেট, ফাইবার এবং অন্যান্য আরো অনেক পুষ্টিগুণ উপাদান। এতসব প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট উপাদান থাকার পরেও মসুর ডাল খেলে আমাদের মোটা হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। কারণ মসুর ডালের মধ্যে থাকা ফাইবার আমাদের পেট অনেকক্ষণ পর্যন্ত ভরা রাখে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে।
তাছাড়া মসুর ডালের মধ্যে রয়েছে ভালো প্রোটিন, কম চর্বি ও ভাল কার্বোহাইড্রেট আর এগুলো ওজন নিয়ন্ত্রণে খুবই কার্যকরী। আজ যারা নিজের ওজন নিয়ে চিন্তিত এবং ওজন নিয়ন্ত্রণের কথা ভাবছেন তারা মসুর ডাল খেতে পারেন। কারণ মসুর ডালের মধ্যে থাকা প্রোটিন আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
তাই আপনি অবশ্যই প্রতিদিন মসুর ডাল খেতে পারেন তবে পরিমাণ মতন কারণ মসুর ডাল ওজন নিয়ন্ত্রণ না করলেও আপনার শরীরে অন্যান্য অনেক ক্ষতির কারণ হতে পারে। পরিমাণ মতন মসুর ডাল খান শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং মসুর ডাল থেকে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। মসুর ডাল খাওয়ার উপকারিতা রয়েছে অনেক তবে অবশ্যই পরিমাণ অনুযায়ী খাওয়া উচিত।
রাতে ডাল খেলে কি হয়
রাতে ডাল খেলে কি হয় সে সম্পর্কে বিস্তারিত এখন আলোচনা করব। ডাল একটি পুষ্টিকর খাবার। আমরা প্রতিদিন খাবারের সাথে ডাল খেতে পারি। এতে আমাদের শরীরের কোন সমস্যা হবে না তবে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে অতিরিক্ত পরিমাণে ডাল খাওয়া যাবে না। ডাল দুপুরে ভাতের সাথে খাওয়াই উত্তম। রাতের ডাল না খাওয়াই ভালো।
রাতে ডাল খেলে আপনার হজম শক্তি ব্যাহত হতে পারে। ডালের মধ্যে উচ্চ ফাইবার থাকার ফলে আপনার গ্যাসের সমস্যা, পেট ফাঁপা, এসিডিটি এমনকি বদহজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে রাতে ডাল খেলে সকালে ডায়রিয়ার সমস্যা দেখা দেয়। যাদের গাটেঁ ব্যথার সমস্যা রয়েছে তারা রাতে ডাল না খাওয়াই ভালো। এতে গাঁটে ব্যথা আরো বেড়ে যেতে পারে।
লেখকের শেষ কথা - মসুর ডাল খাওয়ার উপকারিতা
মসুর ডাল খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে আপনাদের বিস্তারিত জানানোর চেষ্টা করেছি। আশা করি আপনি মসুর ডাল খাওয়ার ১০টি উপকারিতা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। মসুর ডাল আমাদের শরীরের জন্য বিশেষ উপকারী একটি খাদ্য। তবে অবশ্যই মসুর ডাল খাওয়ার ব্যাপারে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
আরো পড়ুন: কাঁচা ডুমুরের উপকারিতা
কারণ অনেকের ক্ষেত্রে মসুর ডাল খাওয়ার ফলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। তাই মসুর ডাল খাওয়ার পরে আপনার যদি শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয় তাহলে অবশ্যই একজন ভালো চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় মসুর ডাল রাখুন।
প্রিয় পাঠক আমার আর্টিকেলটি পড়ে যদি আপনি উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আর্টিকেলটি আপনার প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। কারণ তাদেরও জানা উচিত মসুর ডালের উপকারিতা ও ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে। আজকে তাহলে এ পর্যন্তই আবার দেখা হবে অন্য কোন আর্টিকেলে। আর এতক্ষণ মনোযোগ সহকারে আমাদের আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
বিডি অনলাইন আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url