মেহগনি গাছের অপকারিতা । মেহগনি গাছের বীজের উপকারিতা
মেহগনি গাছের অপকারিতা সম্পর্কে আপনি কি জানতে চান? যদি আপনি এই বিষয়টি সম্পর্কে না জেনে থাকেন তাহলে এই আর্টিকেল থেকে জেনে নিতে পারেন।
এই আর্টিকেলে মেহগনি গাছের বীজের উপকারিতা এবং মেহগনি গাছের উপকারিতা সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়েছে। তাই আসুন আর কথা না বাড়িয়ে মূল আলোচনায় যাওয়া যাক।
পেজ সূচিপএ
মেহগনি গাছের অপকারিতা
মেহেগুনি গাছের অপকারিতা সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই তেমন কোন ধারণা নেই। অনেকেই রয়েছেন যারা মেহগনি গাছের অপকারিতা সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। মেহগনি গাছের কিছু ক্ষতিকর দিক রয়েছে যা আপনাদের অনেকেরই অজানা। যেহেতু আপনারা জানেন না সেহেতু আজকে আমরা আপনাদেরকে সঠিকভাবে জানিয়ে দেব কি কি ক্ষতিকর দিক রয়েছে মেহগনি গাছের। তাহলে চলুন আর দেরি না করে জেনে নেওয়া যাক।
- পতঙ্গ ও রোগঃ মেহগনি গাছের উপর নির্দিষ্ট কিছু পতঙ্গ ও রোগ রয়েছে যেগুলো আক্রান্ত করতে পারে। আর এই পতঙ্গ ও রোগগুলো অন্য কোন গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
- জলসম্পদ ব্যবহারঃ মেহগনি গাছ প্রচুর পরিমাণে পানি শোষণ করে এটি অন্যান্য যে স্থানীয় গাছগুলো রয়েছে একটি লোক ফসলগুলো রয়েছে সেগুলোর সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
- জলবায়ু পরিবর্তনঃ মেহগনি গাছ পরিবর্তনশীল হলেও এটি অন্যান্য যে স্থানে উদ্ভিদগুলো রয়েছে সেগুলোর পরিবেশে হুমকি হতে পারে এবং স্থানীয় যে প্রজাপতিগুলো রয়েছে সেগুলো প্রতিযোগিতা করে সংখ্যা অনেকটা কমিয়ে দিতে পারে।
- জমির ক্ষয়ঃ মেহগনি গাছের শিকড় মাটির গভীরে প্রবেশ করো না এতে করে জমির ক্ষয় এবং ভূমিক্ষয় হতে পারে।
মেহগনি গাছের বীজের উপকারিতা
মেহগনি গাছের বীজের উপকারিতা সম্পর্কে এখন আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব পূর্বে আমরা আলোচনা করেছি মেহগনি গাছের অপকারিতা সম্পর্কে। এখন আমরা আপনাদের জানিয়ে দেবো গাছের বীজের উপকারিতা সম্পর্কে। যদি আপনার এই বিষয়টি না জানা থাকে তাহলে চিন্তার কোন কারণ নেই। আজকে আমি এই আর্টিকেলে আপনাদের এই বিষয়টি বিস্তারিত জানিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব।
আরো পড়ুন: পেয়ারা পাতার তেল বানানোর নিয়ম
এই মেহগনি গাছের আদি নিবাস হচ্ছে উত্তর আমেরিকার ক্রান্তীয় অঞ্চলে। বিশেষ করে এই মেহগনি গাছ পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জকেই চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। এই মেহগনি গাছের বীজ অত্যন্ত উপকারী বলে ধরা যায়। সাধারণত এই মেহগনি গাছের বীজ প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে। এটি আমাদের শরীরের রক্ত সঞ্চালন করার পাশাপাশি ডায়াবেটিসের চিকিৎসা সহ আরো বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
বর্তমান সময়ে মেহগনি গাছের কি কি উপকারিতা রয়েছে অনেকেরই অজানা। তাই আজকে আমি এ বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করব। তাই আসুন আর দেরি না করে কি কি উপকরণ রয়েছে জেনে নিন।
ক্ষুধা বৃদ্ধিতেঃ মেহগনি গাছের বীজ ক্ষুধা বৃদ্ধিতে অনেক বেশি সাহায্য করে। যদি পারেন তাহলে একটি মেয়েগুলি গাছের বীজ সংগ্রহ করে আপনার ক্ষুধা নিবারণের জন্য খেতে পারেন। যদি আপনি প্রতিদিন একটি করে মেহগনি গাছের বীজ খেতে পারেন তাহলে আশা করা যায় আপনার ক্ষুধা বৃদ্ধিতে খুব ভালো কাজ করবে।
হাইপার টেনশনঃ অনেকেই হাইপার টেনশনে ভুগেন। বিভিন্ন চিন্তাভাবনার কারণে অতিরিক্ত টেনশন মনে হয় কমতেই চাইনা। তবে আপনি চাইলে এই ধরনের হাইপার টেনশন কমাতে মেহগনি বীজ সংগ্রহ করে খেতে পারেন। প্রথমত আপনাকে ৪ গ্রাম মেহগনি বীজ সংগ্রহ করতে হবে এবং ভালোভাবে পরিষ্কার করে দুই গ্লাস পানি গরম করে ভিজিয়ে ঠান্ডা হওয়ার পর সকালে এবং বিকালে অর্ধেক অর্ধেক করে মেহগনি বীজ সহ খেলে আপনার হাইপার টেনশন দ্রুত কমে যাবে।
পোকা দমন কারিঃ আপনারা হয়তো শুনেছেন পোকার দমনকারী প্রতিষেধক হিসেবে মেহগনি গাছের বীজ অনেক বেশি কার্যকর। প্রাচীনকাল থেকেই এই মেহগনি গাছের বীজের পাউডার বিভিন্ন পোকামাকড়ের স্প্রে হিসেবে তৈরি করা হয় এবং এটি অত্যন্ত ভালো কাজ করে। গ্রীষ্মকালে গাছের পোকামাকড়ের আক্রমণ অনেকটা বেশি দেখা যায়।
তবে এই প্রকার আক্রমণ থেকে বাঁচতে চাইলে আপনি মেহগনি গাছের বীজ স্প্রে করে ব্যবহার করতে পারেন। এটি যেমন রোগ বালাই দূর করতে সাহায্য করে ঠিক তেমনি ফসলের ক্ষেত্রেও অনেকটা কাজ করে।
জ্বর ও ঠান্ডা নিরাময়েঃ মেহগনি বীজের পুষ্টি উপাদান অনেক রয়েছে। তবে কিছু পুষ্টির উপাদান সর্দি এবং জ্বর ভালো করতে অনেক বেশি সাহায্য করে। তাই যাদের সর্দি এবং জ্বর হয়ে থাকে তারা চাইলে এক থেকে দুই চামচ মেহগনির বীজের গুঁড়া এবং সামান্য মধু ও হাফ কাপ পানি একসঙ্গে মিশ্রণ করে হালকা কুসুম গরম করে খেতে পারলে অনেকটা আরাম পাওয়া যায়। যাদের ঠান্ডা জ্বর রয়েছে তারা দিনে দুই থেকে তিনবার খেলে জ্বরও দূর হয়ে যায়।
ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়ঃ মেহগনি বীজে থাকা কিছু পুষ্টি উপাদান আমাদের শরীরের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে অনেক বেশি সাহায্য করে। যদি নিয়মিত মেহেগনি বীজের গুড়া খাওয়া যায় তাহলে ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ করেঃ মেহগনি বীজ রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষভাবে ভূমিকা রাখে। যদি আপনারা খাবারের কিছুক্ষণ আগে দুই চামচ মেহগনির বীজের পাউডার ও হালকা কুসুম গরম পানি একসঙ্গে মিশ্রণ করে খেতে পারেন তাহলে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করেঃ আপনাদের যাদের ডায়াবেটিসের সমস্যা রয়েছে তারা চাইলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখতে মেহেগুনি বীজের গুঁড়া খেতে পারেন। এটা আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখতে অনেক বেশি সাহায্য করবে।
কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য উপকারীঃ প্রাচীনকাল থেকে মেহগনি বীজ বিভিন্ন উপকারে আসে। তবে অনেকেই জানেন না কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে মেয়েগুনি বীজের পাউডার কতটা উপকারী। যদি আপনি মেহগনি বীজের পাউডার এবং হালকা কুসুম গরম পানি একসঙ্গে মিশ্রন করে খেতে পারেন তাহলে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা খুব সহজেই দূর হয়ে যাবে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করেঃ মেহেগুনি বীজে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি রয়েছে যা শরীরের ইমিউনিটি সিস্টেমকে অনেক বেশি শক্তিশালী করে তুলতে সাহায্য করে ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটাই বৃদ্ধি পায়। আশা করি মেহগনি গাছের অপকারিতা সম্পর্কে জানার পাশাপাশি আপনারা মেহগনি গাছের বীজের উপকারিতা সম্পর্কেও বিস্তারিত জানতে পেরেছেন।
মেহগনি গাছের উপকারিতা
মেহগনি গাছের উপকারিতা রয়েছে অনেক। মেহগনি গাছ (Mahogany Tree) একটি পরিচিত ঔষধি গাছ, যা তার কাঠের গুণাগুণ এবং বহুবিধ উপকারিতার জন্য সুপরিচিত। এটি শুধু পরিবেশের জন্য উপকারী নয়, বরং স্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকে আমি মেহগনি গাছের উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। যা আপনাদের জানা অত্যন্ত জরুরী। তাই আসুন আর দেরি না করে জেনে নিন।
পরিবেশ রক্ষায়ঃ মেহগনি গাছের পাতা ও ডালপালা বায়ুদূষণ কমাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এই গাছ দ্রুত বর্ধনশীল হওয়ায় এটি কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করতে এবং অক্সিজেন ছাড়তে সাহায্য করে। ফলে এটি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্যকর একটি উদ্ভিদ।
কাঠের ব্যবহারঃ মেহগনি কাঠ অত্যন্ত মজবুত ও টেকসই হওয়ায় এটি আসবাবপত্র, নৌকা নির্মাণ এবং ঘর সাজানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। এর কাঠে পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হয়, যা দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহারের জন্য এটি আদর্শ।
ঔষধি গুণাগুণঃ মেহগনি গাছের বীজ, পাতা এবং ছাল বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। এর বীজ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়। এছাড়া, এর ছাল ও পাতা দিয়ে তৈরি ওষুধ পেটের পীড়া, সর্দি-কাশি এবং চর্মরোগ নিরাময়ে কার্যকর।
অর্থনৈতিক উপকারিতাঃ মেহগনি গাছ বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক। এটি কাঠ এবং ঔষধি উপাদান হিসেবে বাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়। ফলে কৃষক ও উদ্যোক্তাদের জন্য এটি আয়ের একটি ভালো উৎস।
মেহগনি গাছের পাতার উপকারিতা
মেহগনি গাছের পাতার উপকারিতা ও কোন অংশে কম না। অনেকেই রয়েছেন যারা মেহগনি গাছের পাতার উপকারিতা সম্পর্কে জানেন না। যেহেতু আপনারা জানেন না সেহেতু এই আর্টিকেল এর অংশটুকু থেকে জেনে নিতে পারেন।
কারণ মেহগনি গাছের পাতার উপকারিতা কি কি রয়েছে যদি আপনারা না জানেন তাহলে অনেক কিছুই অজানা থেকে যাবে। তাই আর দেরি না করে চলুন মেহগনি গাছের পাতার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতার সম্পর্কে জেনে নেই।
হজমের উন্নতি করেঃ অনেকে রয়েছে যারা হজমের সমস্যা নিয়ে খুবই বিপাকের মধ্যে রয়েছে। তবে মেহগনি গাছের পাতা যদি আপনি খেতে পারেন তাহলে পেটের বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে সাহায্য করবে ফলে হজম শক্তি বৃদ্ধি হবে। সেইসঙ্গে পেটের পাচনতন্ত্রের সমস্যাও দূর করতে সাহায্য করবে।
ত্বকের যত্নেঃ মেহগনি গাছের পাতা থেকে তৈরি করা পেস্ট আপনার ত্বকের বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া সংক্রমনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে ফলে আপনার ত্বক অনেকটা ভালো রাখতে সাহায্য করে।
মৌসুমী জ্বরে উপকারীঃ মেহগনি গাছের যে পাতা রয়েছে এটি মৌসুমী জ্বর কমাতে অনেক বেশি সাহায্য করে। শুধু তাই নয় সিজিনাল জ্বর এবং ইনফ্লুয়েঞ্জার উপসর্গ কমাতেও বিশেষভাবে ভূমিকা রাখে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেঃ অনেকেই ডাইবেটিসের সমস্যায় ভোগেন। কিন্তু আপনি কি জানেন এই ডাইবেটিস নিয়ন্ত্রণে মেহগনি গাছের পাতা কতটা উপকারী? হয়তো অনেকেই জানেন না। ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তের গ্লুকোজের স্তর কমাতে বিশেষভাবে ভূমিকা রাখে মেহগনি গাছের পাতা।
ঔষধি গুণঃ মেহগনি গাছের পাতায় রয়েছে অনেক ঔষধি গুনাগুন। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান যা মানব দেহের বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে অনেক বেশি সাহায্য করে। ফলে শরীর সুস্থ রাখে এবং শরীরের শক্তি যোগাতে সহায়তা করে।
ত্বকের যত্নেঃ মেহগনি গাছের পাতা থেকে তৈরি করা পেস্ট আপনার ত্বকের বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া সংক্রমনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে ফলে আপনার ত্বক অনেকটা ভালো রাখতে সাহায্য করে।
মৌসুমী জ্বরে উপকারীঃ মেহগনি গাছের যে পাতা রয়েছে এটি মৌসুমী জ্বর কমাতে অনেক বেশি সাহায্য করে। শুধু তাই নয় সিজিনাল জ্বর এবং ইনফ্লুয়েঞ্জার উপসর্গ কমাতেও বিশেষভাবে ভূমিকা রাখে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেঃ অনেকেই ডাইবেটিসের সমস্যায় ভোগেন। কিন্তু আপনি কি জানেন এই ডাইবেটিস নিয়ন্ত্রণে মেহগনি গাছের পাতা কতটা উপকারী? হয়তো অনেকেই জানেন না। ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তের গ্লুকোজের স্তর কমাতে বিশেষভাবে ভূমিকা রাখে মেহগনি গাছের পাতা।
ঔষধি গুণঃ মেহগনি গাছের পাতায় রয়েছে অনেক ঔষধি গুনাগুন। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান যা মানব দেহের বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে অনেক বেশি সাহায্য করে। ফলে শরীর সুস্থ রাখে এবং শরীরের শক্তি যোগাতে সহায়তা করে।
মেহগনি গাছের ফল খেলে কি হয়
মেহেগুনি গাছের ফল খেলে কি হয় সে সম্পর্কে আমরা আপনাদের এখন বিস্তারিত জানাবো। অনেকেই মেহগনি গাছের ফল খেতে চান কিন্তু আপনি কি জানেন মেহগনি গাছের ফল খেলে কি হয়? মেহগনি গাছের ফল হলো খুবই উপকারী একটি উপাদান।
মেহগনি গাছের ফল, যা প্রকৃতিতে সহজলভ্য এবং ঔষধি গুণসম্পন্ন, আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এই গাছের ফল বিভিন্ন ধরনের রোগ নিরাময়ে ব্যবহৃত হয় এবং এটি ভেষজ চিকিৎসায় একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। আসুন জেনে নিই মেহগনি গাছের ফল খাওয়ার উপকারিতা।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেঃ মেহগনি গাছের ফলে উপস্থিত প্রাকৃতিক উপাদান রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য একটি প্রাকৃতিক চিকিৎসা হিসেবে কাজ করে।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণঃ মেহগনি ফল উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। এর মধ্যে থাকা বিশেষ উপাদান রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।
ত্বকের সমস্যার সমাধানঃ মেহগনি ফলের পেস্ট ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে ব্যবহার করা হয়। এটি ব্রণ এবং ত্বকের ফুসকুড়ি দূর করতে সহায়ক।
শুধু তাই নয় এই মেহগনি গাছের ফল ও মূলের গুঁড়ো খেলে ক্যান্সার প্রতিরোধ হয় পাশাপাশি আরব বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দূর হয়। তাই আপনারা চাইলে মেহগনি গাছের ফল খেয়ে নিজের শরীর সুস্থ রাখতে পারেন। আশা করি আপনারা যারা এই বিষয়টুকু পড়েছেন তারা সকলেই মেহগনি গাছের ফল খেলে কি হয় তা সঠিকভাবে জানতে পেরেছেন।
মেহগনি বীজ খাওয়ার নিয়ম
মেহগনি বীজ খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে যদি আপনাদের না জানা থাকে তাহলে এই অংশটুকু থেকে জেনে নিতে পারেন। পূর্বে আমরা মেহগনি গাছের অপকারিতা এবং মেহগনি গাছের বীজের উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করেছি। আশা করি এ বিষয়গুলো জেনে আপনারা অনেক উপকৃত হয়েছেন। তবে অনেকেই মেহগনি বীজ খাওয়ার সঠিক নিয়ম সম্পর্কে জানেন না তবে চলুন আর দেরি না করে জেনে নিন।
যদি আপনার সর্দি কাশি কিংবা জ্বর হয়ে থাকে তাহলে মেহগনি বীজের গুঁড়া হাফ চামচ এবং তার সাথে এক চামচ মধু ও এক কাপ পানি হালকা কুসুম গরম করে খেলে আপনার সর্দি কাশি এবং জ্বর খুব সহজেই ভালো করা সম্ভব।
এছাড়াও আপনার যদি মুখের রুচি হারিয়ে যায়, তাহলে সেটি ফিরিয়ে নিয়ে আসতে এবং ক্ষুধা বৃদ্ধি করতে মেহগনি বীজ অত্যন্ত উপকারী। যদি আপনারা প্রতিদিন সকালে খালি পেটে মেহগনি বীজের গুড়া খেতে পারেন, তাহলে আশা করা যায় আপনার মুখের রুচি ফিরে আসবে এবং ক্ষুধা বৃদ্ধি পাবে।
মেহগনি গাছের দাম কত
মেহগনি গাছের দাম কত? এ সম্পর্কে আপনাদের যাদের অজানা রয়েছে তারা চাইলে এই আর্টিকেলের অংশটুকু পড়ে জেনে নিতে পারেন। আমাদের দেশে অনেক ধরনের সৌখিন মানুষ রয়েছে যারা মেহগনি গাছের তৈরি বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র ব্যবহার করে থাকেন। বিশেষ করে মেহগনি গাছের বিভিন্ন আসবারপত্র ব্যবহার করার মূল কারণ হলো খুবই ভালো একটি কাঠ।
আরো পড়ুন: দেশি মুরগির ডিমে এলার্জি
মেহগনি গাছের কাঠ দিয়ে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের সুন্দর সুন্দর আসবাবপত্র প্রতিনিয়ত তৈরি করছেন। তার কারণ হলো অন্যান্য কাঠের তুলনায় মেহগনি গাছের কাঠ অনেক মজবুত এবং টেকসই। যেহেতু অন্যান্য কাঠের তুলনায় মেহগনি গাট অনেকটা বেশি টেকসই সেহেতু এই গাছের কাঠের দাম প্রতি কেবিতে সর্বনিম্ন প্রায় ৭০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত ধার্য করা হয়ে থাকে।
তবে এই কাঠের চাহিদার উপর ভিত্তি করে এবং কাঠের যোগানের উপর ভিত্তি করে দাম কম বেশি হয়ে থাকে। শুধু তাই নয় জায়গা ভেদে এই মেহগনি গাছের দাম কিছুটা কম বেশি হয়ে থাকে। তবে গুণগত মান দিক দিয়ে মেহগনি গাছের কাঠের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে তাই এর দাম আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা যায়।
শেষ কথা
প্রিয় বন্ধুরা আপনারা ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ে মেহগনি গাছের অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। হয়তো অনেকেই মেহগনি গাছের অপকারিতা জেনে ভয় পেয়ে গেছেন কিন্তু এই আর্টিকেলে ভালো এবং খারাপ দুটো দিকই আলোচনা করা হয়েছে।
এছাড়াও মেহগনি গাছের বীজের উপকারিতা কি কি রয়েছে এই সম্পর্কেও আপনারা হয়তো জেনে উপকৃত হয়েছেন। তাই আর দেরি না করে এই আর্টিকেলে অবশ্যই আপনার মতামত প্রকাশ করুন। পাশাপাশি আপনার বন্ধু-বান্ধবের মাঝে আর্টিকেলটি শেয়ার করুন। আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাদের অনেক ধন্যবাদ।
বিডি অনলাইন আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url