কাঁচা ডুমুরের উপকারিতা । দেশি ডুমুরের উপকারিতা
কাঁচা ডুমুরের উপকারিতা সম্পর্কে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সঠিক তথ্য পাচ্ছেন না তাহলে আমি বলব আমাদের এই আর্টিকেলটি শুধুমাত্র আপনার জন্য। কারণ আমরা আর্টিকেলে ডুমুর সম্পর্কে বিস্তারিত জানানোর চেষ্টা করেছি।
এছাড়া আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেমন ডুমুরের অপকারিতা সম্পর্কে জানানোর চেষ্টা করেছি। আর ডুমুর সম্পর্কে আপনি যদি সঠিক তথ্য পেতে চান তাহলে অবশ্যই আমাদের আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খুব মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
পেজ সূচিপএ
কাঁচা ডুমুরের উপকারিতা
কাঁচা ডুমুরের উপকারিতা সম্পর্কে আমাদের তেমন কোন ধারণা নেই কারন আমরা বেশিভাগই ডুমুর রান্না করে খাই। কাঁচা অবস্থাতে ডুমুর আমরা খুব কমই খেয়ে থাকি। কিন্তু কাঁচা ডুমুরের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিগুণ। বিভিন্ন রোগের ভেষজ ঔষধ হিসেবে ডুমুর খুবই উপকারী।
আরো পড়ুন: খালি পেটে আদা খাওয়ার অপকারিতা
ডুমুর গাছের প্রায় সব জিনিসই আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী যেমন ডুমুরের পাতা বহু আদিকাল থেকে স্বাস্থ্য চিকিৎসার কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এছাড়া কাচা ও পাকা ডুমুর, ডুমুরের নির্যাস, মূল বাকল ইত্যাদি। ডুমুর কাঁচা অবস্থায় খেলে আমাদের স্বাস্থ্যের বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি সরবরাহ হয়। চলুন তাহলে জেনে নেই কাঁচা ডুমুর খেলে আমাদের কি কি উপকার হয়।
কাঁচা ডুমুরের উপকারিতা
- হজম শক্তি বৃদ্ধিতে ডুমুর ফল খুবই কার্যকরী। ডুমুর ফলের মধ্যে রয়েছে ফাইবার। আর ফাইবার আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধি করে খাদ্য হজমে সহায়তা করে।
- ডুমুরের মধ্যে রয়েছে সোডিয়াম ও পটাশিয়াম। আর এ উপাদান গুলো উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ওজন কমাতে ডুমুর খুবই কার্যকরী। ডুমুরের মধ্যে ফাইবার থাকার কারণে অনেকক্ষণ পর্যন্ত পেট ভরা থাকে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।
- ডুমুরের মধ্যে থাকা ফাইবার রক্তের চর্বি কমিয়ে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে।
- ডুমুরের মধ্যে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম এবং ক্যালসিয়াম আর এই উপাদান দুটি আমাদের হাড় মজবুত রাখতে এবং এর ভিতর বিভিন্ন ধরনের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
- ডুমুরের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন আর আয়রন রক্ত হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়িয়ে রক্তস্বল্পতা দূর করতে সাহায্য করে।
- ডুমুর ত্বক ও চুলের জন্য বিশেষ উপকারী। ডুমুরের মধ্যে থাকা ভিটামিন সি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে আমাদের শরীরের ভেতরে কাজ করে এবং ত্বক উজ্জ্বল করতে চুলের গোড়া মজবুত করতে সহায়তা করে।
- ডুমুর ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করতেও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ডুমুরের মধ্যে এমন কিছু বিশেষ গুণ রয়েছে যেগুলো আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে এবং শরীরের বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার সাথে লড়াই করে।
কাঁচা ডুমুরের অপকারিতা
ডুমুরের অপকারিতা সম্পর্কে এখন আমরা জানবো। উপরে আমরা জেনেছি কাঁচা ডুমুরের উপকারিতা ও দেশি ডুমুরের উপকারিতা সম্পর্কে এখন আমরা জানবো ডুমুর খেলে আমাদের কি কি ক্ষতি হতে পারে। ডুমুর একটি পুষ্টিকর ফল এবং স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ উপকারী।
এটি যেমন খাওয়ার কাজে ব্যবহার করা হয় তেমন বিভিন্ন ভেষজ ওষুধ হিসেবেও চিকিৎসকরা ব্যবহার করে থাকে। ডুমুরের এত উপকারিতা থাকা সঙ্গেও ডুমুর খেলে আমাদের বিশেষ কিছু ক্ষতিও হতে পারে চলুন তাহলে জেনে নেই ডুমুর খেলে আমাদের কি কি ক্ষতি হতে পারে।
- যাদের এলার্জিজনিত সমস্যা রয়েছে তাদের খুব কম পরিমাণে ডুমুর খাওয়া উচিত। কারণ যদি আপনার অ্যালার্জি আগে থেকে থেকে থাকে তাহলে ডুমুর খেলে এলার্জির ঝুঁকি আরো বেড়ে যায়।
- ডুমুরের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক শর্করা। তাই এটি প্রচুর পরিমাণে খেলে আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।
- ডুমুরের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। তাই আপনি যদি প্রতিদিন অতিরিক্ত পরিমাণে ডুমুর খান তাহলে আপনার ডায়রিয়ার মত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- যারা শরীর ফুলে যাওয়া কিংবা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভুগছেন তাদের অল্প পরিমাণে ডুমুর খাওয়া উচিত।
- আপনার যদি লিভারের বিভিন্ন সমস্যা থাকে তাহলে অবশ্যই ডুমুর খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। কারণ ডুমুর খেলে লিভারের ক্ষতি হতে পারে।
- অনেক সময় বিভিন্ন ধরনের ওষুধ খাওয়ার ফলে ওষুধের সঙ্গে ডুমুরের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে।
- এছাড়া যাদের শরীরের রক্ত কম কিংবা রক্ত অনেক পাতলা। তারা কম পরিমাণে ডুমুর খাবেন। কারণ ডুমুর রক্ত পাতলা করতে সহায়তা করে। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের অপারেশনের আগে ডুমুর না খাওয়াই উচিত।
দেশি ডুমুরের উপকারিতা
দেশি ডুমুরের উপকারিতা সম্পর্কে এখন আমরা জানবো। আমাদের দেশে দুই ধরনের ডুমুর পাওয়া যায় দেশী এবং বিদেশি। বিদেশি ডুমুরের চাইতে দেশি ডুমুরের স্বাদ অনেকটাই বেশি হয় এবং পুষ্টিগুণেও ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। দেশি ডুমুর আমাদের বিভিন্ন রোগের জন্য বিশেষ উপকার। দেশী ডুমুরের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার আর এই ফাইবার আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে এবং পেটের বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
দেশি ডুমুরের মধ্যে থাকা শর্করা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের সহায়তা করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। দেশী ডুমুর ওজন কমাতে খুবই কার্যকরী। যারা ওজন নিয়ে অনেক বেশি চিন্তিত তারা প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় দেশি ডুমুর রাখতে পারেন। ডুমুরের মধ্যে রয়েছে ক্যালসিয়াম ম্যাগনেসিয়াম ফসফরাস আরে উপাদান গুলো আমাদের ত্বক ও চুলের জন্য বিশেষ উপকারী।
ত্বকের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে এবং ত্বকে উজ্জ্বল করতে দেশি ডুমুর সাহায্য করে এবং চুল পড়া কমাতে ও চুলের গোড়া মজবুত করতে সাহায্য করে। দেশি ডুমুর রক্তে কোলেস্টেরল মাত্রা কমিয়ে হৃদরোগ ও স্টোকের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেয়। প্রতিদিন দেশি ডুমুর খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেয়।
যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে তারা প্রতিদিন দেশি ডুমুর খেলে তাদের রক্তে কোলেস্টেরল মাত্রা কমিয়ে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। দেশি ডুমুর যৌন স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও সহায়তা করে। বহু প্রাচীনকাল থেকে যৌন ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আয়ুর্বেদিক ওষুধ হিসেবে চিকিৎসকরা দেশি ডুমুর ব্যবহৃত করে আসছে। এছাড়া প্রতিদিন দেশি ডুমুর খেলে আমাদের লিভারের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং শরীরের ভিতরে ক্ষতিকর টক্সিন গুলো সহজেই বের হয়ে যায়।
ডুমুর ফল খেলে কি মাসিক নিয়মিত হয়
ডুমুর ফল খেলে কি মাসিক নিয়মিত হয় এমন প্রশ্ন অনেকেই করে থাকে। যাদের নিয়মিত মাসিকের সমস্যা রয়েছে তারা ডুমুর ফল মাসিকের পথ্য হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। ডুমুর ফলের মধ্যে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যেগুলো আমাদের মাসিক হতে সাহায্য করে এবং মাসিকের সময় চাপ চাপ রক্ত ভাঙ্গা দূর করে তরল রক্ত আস্তে সহায়তা করে।
প্রতিদিন ডুমুর ফল সেদ্ধ করে সেই পানি খেলে অনিয়মিত মাসিক নিয়মিত হয়ে যায়। আর ডুমুর ফল একটি জান্নাতি ফল। তাই এই ফলের ওপরে আল্লাহর নেয়ামত রয়েছে। আপনার যদি অনিয়মিত মাসিক থাকে তাহলে অবশ্যই ডুমুর ফল রাতে ভিজিয়ে সকালে পানি খেতে পারেন কিংবা ডুমুর ফল ভালো করে সেদ্ধ করে ডুমুর সেদ্ধ পানি সকালে খালি পেটে খেতে পারেন। এছাড়া ডুমুরের নির্যাস মাসিক নিয়মিত হতেও সাহায্য করে।
প্রতিদিন ডুমুরের নির্যাস খেলে আপনার সাদা স্রাব নিয়ন্ত্রণে থাকে। যাদের অতিরিক্ত সাদা স্রাব সমস্যা রয়েছে তারা ডুমুরের নির্যাস খেতে পারেন। তবে আপনার যদি মাসিক অনিয়মিত ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ দেখা দেয় তাহলে অবশ্যই একজন ভালো চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিন। আর নিয়মিত করার জন্য ডুমুরের ফল কিংবা নির্যাস ব্যবহারের আগে অবশ্যই একজন আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিবেন। এতে আপনি সঠিক উপকার পাবেন।
গর্ভাবস্থায় ডুমুর ফল খাওয়ার উপকারিতা
গর্ভাবস্থায় ডুমুর ফল খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে আমাদের সকলের জানা উচিত। কারণ গর্ভাবস্থায় আমরা একজন গর্ভবতী মায়ের কোন খাবারে উপকার বেশি আর কোন খাবারে ক্ষতি হবে সে বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করি। আগে আমাদের ভালো করে জানতে হবে গর্ভাবস্থায় ডুমুর খাওয়া যাবে কিনা এবং গর্ভাবস্থায় ডুমুর খেলে আমাদের কি কি উপকার হবে এবং কি কি ক্ষতি হতে পারে।
গর্ভের সময় একজন গর্ভবতী মায়ের নিজের কথা চিন্তা করতে হয় এবং গর্ভের ভ্রুণের কথা চিন্তা করে বিভিন্ন ধরনের উপকারী খাদ্য গ্রহণ করতে হয়। গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন ডুমুর খেলে আপনার বমি ভাব, হজমে সহায়তা, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। এছাড়া ডুমুরের মধ্যে থাকা ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়াম আপনার গর্ভের সন্তানের হাড় গঠনে সাহায্য করে।
ডুমুরের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন। তাই গর্ভাবস্থায় আমাদের অবশ্যই ডুমুর খাওয়া উচিত। এতে একজন গর্ভবতী মায়ের যদি আয়রনের সমস্যা থাকে কিংবা রক্তস্বল্পতা দেখা দেয় তাহলে ডুমুরের মাধ্যমে ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। গর্ভাবস্থায় ডুমুর খাওয়া উপকারী কিন্তু অবশ্যই সীমিত পরিসরে খাওয়া উচিত। ডুমুর রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয় তাই অতিরিক্ত খেলে গর্ভাবস্থায় রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে।
ত্বীন ফল কি ডুমুর
ত্বীন ফল কি ডুমুর এমন প্রশ্ন আমাদের অনেকের মনেই আসে। হ্যাঁ অবশ্যই ত্বীন ফলই ডুমুর ফল হিসেবে পরিচিত। ত্বীন ফল ও ডুমুর একই প্রজাতির ফল। কিন্তু নামের ভিন্নতা রয়েছে। একেক জায়গায় একেক রকম নামে এর ফল পরিচিত। আমাদের দেশে বিভিন্ন জায়গায় ডুমুর ফলের গাছ দেখতে পাওয়া যায়।
ডুমুর ফল আমাদের জন্য যেমন উপকারী তেমন ডুমুর ফলের গাছও আমাদের জন্য বিশেষ উপকারী। আমরা প্রতিদিন ডুমুর খেলে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং শরীরের বিভিন্ন ধরনের শক্তি সরবরাহ হয়। ডুমুর কিংবা ত্বীন ফল শুধু খেলে উপকার হয় এমন না এটি বিভিন্ন আয়ুর্বেদিক ওষুধ হিসেবেও চিকিৎসকরা ব্যবহার করে থাকে।
সচার আচার জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী ও উত্তর
১. ডুমুর ফল খেলে কি হয় ?
ডুমুর ফল খেলে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, হাড় মজবুত করে, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে, ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখে, ফ্রি র্যাডিক্যালের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং ত্বক ও চুলের জন্য বিশেষ উপকারী।
২. ডুমুর খেলে কি গ্যাস হয় ?
হ্যাঁ অবশ্যই, আপনি যদি অতিরিক্ত পরিমাণে ডুমুর খান তাহলে ডায়রিয়া, বদহজম এবং গ্যাসের সমস্যা হতে পারে।
৩. ডুমুর কাদের খাওয়া উচিত নয় ?
যাদের কিডনি ও পিত্তথলিতে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা রয়েছে তাদের ডুমুর খাওয়া উচিত না কিংবা কম পরিমাণে খাওয়া উচিত। এছাড়া যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খাচ্ছেন তারা ডুমুর এড়িয়ে চলুন। কারণ ডুমুর রক্ত পাতলা করতে সাহায্য করে। তাই একই কাজের জন্য দুই রকম উপাদান খেলে আপনি সমস্যায় পড়তে পারেন।
৪. ডুমুর খেলে কি কোষ্ঠকাঠিন্য হয় ?
ডুমুরের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। আর ফাইবার আমাদের অন্ত ভালো রাখতে সাহায্য করে। তাই আপনি যদি কোষ্ঠকাঠিন্যর মত সমস্যায় পড়েন তাহলে ডুমুর ভিজিয়ে রেখে কিংবা সিদ্ধ করে ডুমুর ভেজানো পানি খেতে পারেন। এতে আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হবে।
ডুমুর গাছের শিকড় খেলে কি হয়।
ডুমুর গাছের শিকড় খেলে কি হয় সে সম্পর্কে এখন বিস্তারিত আলোচনা করব। ডুমুর একটি আঠালো ফল। এবং এই ফল আমরা অনেকেই খেতে পছন্দ করি আবার অনেকেই খেতে পছন্দ করি না। ডুমুর আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ উপকারী এই আলোচনা আমরা উপরেই জেনেছি। এখন আমরা জানবো ডুমুর গাছের শিকড় খেলে কি হয় সে সম্পর্কে।
ডুমুর ফল সবজি হিসেবে খাওয়া যায় সে সম্পর্কে আমরা সবাই জানি কিন্তু ডুমুর গাছের শিকড় যে খাওয়া যায় সে সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই ধারণা নেই। বিশেষ করে ডুমুর ফলের শিকড় আয়ুর্বেদিক ওষুধ হিসেবে বেশি ব্যবহৃত হয়। ডুমুর ফলে শিকড় খেলে আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়, গ্যাস্টিকের সমস্যা দূর হয় এবং বদহজম হলে সহজেই কমে যায়।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় ডুমুর ফলের শিকড় খেলে রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে তবে এটি তেমনভাবে প্রমাণিত হয়নি। ডুমুর গাছের শিকড় কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়তা করে এবং শরীরের ভেতরের ক্ষতিকর টক্সিন গুলো বের হয়ে যেতে সাহায্য করে। ডুমুর গাছের শিকড় কিংবা নির্যাস প্রস্রাবের বিভিন্ন সমস্যার জন্য বিশেষ উপকারী।
সতর্কতা
ডুমুর গাছের শিকড় আমাদের শরীরের জন্য বিশেষ উপকারী হলেও এটি খাওয়ার ব্যাপারে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। বিভিন্ন ধরনের ভেষজ উপাদান সেবন করার আগে একজন আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
ডুমুর ফল খাওয়ার নিয়ম
ডুমুর ফল খাওয়ার নিয়ম অনুযায়ী ডুমুর ফল খেলে আপনি আরো বেশি উপকার পেতে পারেন। ডুমুর ফলের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারী উপাদান। ডুমুর ফলের মধ্যে রয়েছে আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাগানিজ, ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন সি এবং খনিজ পদার্থ। ডুমুর আপনি যেভাবে খান না কেন পুষ্টিগুণ উপাদান পাবেন।
কিন্তু কিছু বিশেষ নিয়ম রয়েছে যেভাবে খেলে আপনি ডুমুর ফল থেকে সঠিক পরিমাণে এবং অতিরিক্ত পুষ্টিগুণ উপাদান পাবেন। আপনি যদি ডুমুর ফল থেকে সঠিক পুষ্টিগুণ উপাদান পেতে চান তাহলে প্রতিদিন রাতে দুই থেকে তিনটি ডুমুর এক কাপ পানিতে ভিজিয়ে রাখুন এবং সকালে খালি পেটে সেই ডুমুর ভেজানো পানি পান করুন।
এছাড়া আপনি কাচা ডুমুর চিবিয়ে এক গ্লাস পানি খেয়ে নিতে পারেন এতেও বেশ উপকার পাবেন। এছাড়া আপনি সকালের নাস্তার সাথে ডুমুর ফল খেতে পারেন। দুপুরে বিভিন্ন উপকরণের সাথে সালাত হিসেবে ডুমুর খেতে পারেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে চায়ের চায়ের সাথে ডুমুর ফল যোগ করে খেতে পারেন এতে উপকার পাবেন এবং চায়ের স্বাদও অনেকটা বেড়ে যাবে।
আমাদের মন্তব্য - কাঁচা ডুমুরের উপকারিতা
প্রিয় পাঠক আশা করি আমরা আপনাদের ডুমুর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পেরেছি এবং ডুমুর খেলে কি কি উপকার হয় সে সম্পর্কে একটি সঠিক ধারণা দিয়েছি। আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ উপকারী এটা নিঃসন্দেহে বিশ্বাসযোগ্য। তাই প্রতিদিন অবশ্যই পরিমাণ মতো খাদ্য তালিকায় ডুমুর রাখা শুরু করুন।
আরো পড়ুন: ডালিমের বিচির উপকারিতা
তবে অবশ্যই ডুমুরের পরিমাণ ঠিক রাখতে হবে কারণ অতিরিক্ত ডুমুর খেলে আমাদের ডায়রিয়া কিংবা গ্যাস্টিকের সমস্যা দেখা দিতে পারে। যদি আপনি সরাসরি খেতে চান তাহলে অবশ্যই খুব ভালোভাবে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। আর আপনার যদি কোন শারীরিক সমস্যা থাকে বিশেষ করে এলার্জির সমস্যা থাকে তাহলে অবশ্যই ডুমুর খাওয়ার আগে একজন ভালো চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
প্রিয় পাঠক, আপনার কি আমাদের এই আর্টিকেলটি ভালো লেগেছে? যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাবেন। আর এই আরডিকেল করে আপনি যদি উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে আর্টিকেলটি শেয়ার করুন। নিজে উপকৃত হন এবং অন্যকে উপকৃত হওয়ার সুযোগ করে দিন। আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
বিডি অনলাইন আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url