গর্ভাবস্থায় চিয়া সিড খাওয়া যাবে কি
গর্ভাবস্থায় চিয়া সিড খাওয়া যাবে কি সে সম্পর্কে যদি আপনার জানা না থাকে তাহলে চিন্তার কোন কারণ নেই। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা গর্ভাবস্থায় চিয়া সিড খাওয়া যাবে কি এই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।
গর্ভাবস্থায় চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম এবং চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কেও একটি সঠিক ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব। তাই আর্টিকেলটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য অনুরোধ রইল।
পেজ সূচিপএ
গর্ভাবস্থায় চিয়া সিড খাওয়া যাবে কি
গর্ভাবস্থায় চিয়া সিড খাওয়া যাবে কি এমন প্রশ্ন অনেক গর্ভবতী মায়েরাই করে থাকে। কারণ গর্ভাবস্থায় প্রতিটি খাবারের বিষয়েই একজন গর্ভবতী মায়ের বিশেষ সর্তকতা অবলম্বন করা উচিত। একটু অসাবধানতার জন্য গর্ভবতী মায়ের এবং ভ্রুনের ক্ষতি হতে পারে। চলুন তাহলে জেনে নেই গর্ভাবস্থায় চিয়া সিড খাওয়া যাবে কিনা সে সম্পর্কে।
একজন গর্ভবতী মায়ের শরীরের যথেষ্ট পুষ্টির জন্য প্রতিদিন ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড প্রয়োজন। আর চিয়া সিডের মধ্যে রয়েছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। তাই একজন গর্ভবতী মায়ের চেয়ে এসিড খাওয়া নিরাপদ। এছাড়া ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড গর্ভের বাচ্চার জন্মগত ত্রুটি এবং বাচ্চার ওজন ঠিক রাখতে সাহায্য করে। যেসব গর্ভবতী মায়েরা সামুদ্রিক মাছ খেতে পারে না তারা চিয়া সিডকে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিডের একমাত্র উৎস হিসেবে খেতে পারে।
চিয়া সিডের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম। তাই প্রতিদিন চিয়া সিড খেলে আমাদের গর্ভাবস্থায় দাঁত ও হাড় ভালো থাকে এবং গর্ভের বাচ্চার হাড়ের সঠিক বিকাশ হয়। চিয়া সিডের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। আর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের ত্বক ভালো রাখতে সাহায্য করে। তাই গর্ভাবস্থায় চিয়া সিড খাওয়া ত্বকের জন্য অত্যন্ত জরুরী।
এছাড়া গর্ভাবস্থায় চিয়া সিড খেলে আমাদের একজিমার সমস্যা, ক্যান্সারের ঝুঁকি, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়া ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। চিয়া সিডের মধ্যে রয়েছে ফাইবার ও প্রোটিন। আর এই ফাইবার একজন গর্ভবতী মায়ের পেট অনেকক্ষণ পর্যন্ত ভরা রাখে এবং প্রোটিন শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি যোগান দেয়। চিয়া সিড এর ভেতরে ফাইবার থাকার কারণে আমাদের অপ্রয়োজনীয় ক্যালরি বেশি পরিমাণে গ্রহণ করতে হয় না।
এছাড়া আমাদের হরমোনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের সহায়তা করে। প্রতিদিন চেয়ার সিড খেলে আমাদের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ থাকে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়। একজন গর্ভবতী মায়ের সবচাইতে বড় যে সমস্যা হয় তা হল কোষ্ঠকাঠিন্য। । চিয়া সিডের মধ্যে রয়েছে উচ্চমাত্রার ফাইবার। তাই প্রতিদিন চিয়া সিড খেলে আমাদের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়, পেটের বিভিন্ন সমস্যা দূর হয় এবং শরীর থেকে দূষিত পদার্থগুলো খুব সহজেই বের হয়ে যায়।
সতর্কতা
- অতিরিক্ত পরিমাণে চিয়া সিড খাওয়া গর্ভাবস্থায় মোটে উচিত না। এতে ডিহাইড্রেশন বেড়ে যেতে পারে।
- অতিরিক্ত পরিমাণে চিয়ার সিড খেলে ডায়রিয়ার সমস্যা হতে পারে।
- অতিরিক্ত পরিমাণে চিয়া সিড একজন গর্ভবতী মায়ের রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমিয়ে দিতে পারে।
গর্ভাবস্থায় চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম
গর্ভাবস্থায় চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে এখন আমরা জানবো। চিয়া সিড আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য প্রচুর উপকারী একটি খাদ্য কিন্তু অবশ্যই চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে তারপর চিয়া সিড খাওয়া উচিত এতে আপনি চিয়া সিড থেকে সঠিক উপকারিতা পাবেন।
পরিমাণ মতন চিয়া সিড খাওয়া গর্ভাবস্থায় উপকারী। অতিরিক্ত পরিমাণের চিয়া সিড খাওয়া গর্ভাবস্থায় মোটেও উপকারী না। এতে আপনার গ্যাসের সমস্যা, হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। চিয়া সিড খাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে চিয়া সিড জলে ভিজিয়ে রেখে খাওয়া উচিত এতে চিয়া সিড ফুলে নরম হয়ে যাবে এবং হজম করতে সাহায্য করবে। এছাড়া আপনি চিয়া সিড বিভিন্ন ধরনের খাবারের সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন যেমন দুধ, দই, সালাদ, ওটমিল অথবা ভাতের সাথে। চিয়া সিড খাওয়ার পরে পরিমাণ মতন পানি খাওয়া উচিত।
চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আগে ভালোভাবে জেনে তারপর চিয়া সিড খাওয়া উচিত। চিয়া সিডের মধ্যে কি কি ভিটামিন রয়েছে এবং সিয়া সিড খেলে আমাদের কি কি উপকার হতে পারে তাছাড়া চিয়া সিড খাওয়ার ফলে আমাদের শরীরে কি কি ক্ষতি হতে পারে সে সম্পর্কে অবশ্যই চিয়া সিড খাওয়ার আগে ভালোভাবে জানতে হবে।
চিয়া সিডের মধ্যে রয়েছে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস, ফাইবার, ক্যালোরি, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ও আরো অনেক পুষ্টিগুণ উপাদান। প্রতিদিন চিয়া সিড আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য যেমন উপকারী তেমন আমাদের ত্বকের জন্য বিশেষ উপকারী।
প্রতিদিন খালি পেটে চিয়া সিড ভেজানো পানি ও চিয়া সিড খেলে আমাদের পেটের যেমন সকল সমস্যা দূর হয় তেমন সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে যাদুর মত কাজ করে। চিয়া সিডের এত উপকারিতা থাকার পরও চিয়া সিড খেলে আমাদের শরীরে কিছু অপকারিতা হতে পারে। আর সেগুলো জেনে রাখা ভালো আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য। চলুন তাহলে জেনে নেই চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে।
চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা
- চিয়া সিডের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। তাই প্রতিদিন চিয়া সিড খেলে আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, সারাদিনের ক্লান্তি দূর হয় এবং কাজের কর্ম ক্ষমতা বাড়ে।
- চিয়া সিডের মধ্যে থাকা এন্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের ত্বক ভালো রাখতে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে।
- চিয়া সিডের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। তাই চিয়া সিড খেলে আমাদের পেট অনেকক্ষণ পর্যন্ত ভরা থাকে এবং বাড়তি খাবার গ্রহণের প্রয়োজন হয় না। যার ফলে ওজন খুব দ্রুত কমে আসে।
- চিয়া সিড একটি আঁশযুক্ত খাবার তাই প্রতিদিন চিয়া সিড খেলে আমাদের কোষ্ঠকাঠিন্য কমে যায়, গ্যাসের সমস্যা দূর হয়, পেটের ভিতর বিভিন্ন ধরনের প্রদাহ জনিত সমস্যা দূর করে এবং শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন গুলো খুব দ্রুত বের হয়ে আসে।
- চিয়া সিড আমাদের ঘুমের জন্য বিশেষ উপকারী একটি খাদ্য। প্রতিদিন নিয়ম করে চিয়া সিড খেলে আমাদের ঘুম ভালো হয়।
- চিয়া সিডের মধ্যে থাকা ক্যালসিয়াম আমাদের হাড় ও দাঁতের জন্য বিশেষ উপকারী। হাড়ের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের প্রদাহ কমাতে এবং হাড় মজবুত করতে ও দাঁতের গোড়া মজবুত করতে চিয়া সিডের ভূমিকা অনেক।
- এছাড়া চিয়া সিড আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় চিয়া সিড।
চিয়া সিড খাওয়ার অপকারিতা
চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা যেমন রয়েছে তেমন চিয়া সিড খাওয়ার অপকারিতা ও রয়েছে অনেক। অনেকের বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যার জন্য চিয়া সিড খেলে ক্ষতি হতে পারে। চলুন তাহলে চিয়া সেড খেলে আমাদের শরীরে কি কি ক্ষতি হতে পারে সে সম্পর্কে জেনে নেই।
- চিয়া সিড একটি ফাইবার যুক্ত খাবার তাই অতিরিক্ত পরিমাণে চিয়া সিড খাওয়া মোটে উচিত না। এতে আপনার ডায়রিয়ার কিংবা পেটব্যথা সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- যাদের এলার্জি সমস্যা রয়েছে তাদের চিয়া সিড খাওয়া থেকে সতর্ক থাকা উচিত কারণ কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে চিয়া সিড এলার্জির কারণ হতে পারে।
- চিয়া সিডের মধ্যে ফাইবার থাকার কারণে চিয়া সিড আমাদের শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি শোষণ করে। তাই চিয়া সিড খাওয়ার পরে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা জরুরী। না হলে আপনি ডিহাইড্রেশন সমস্যায় পড়তে পারেন।
- অতিরিক্ত চিয়া সিড খাওয়ার ফলে আমাদের ওজন অস্বাভাবিকভাবে কমে যেতে পারে। আর ওজন অস্বাভাবিক ভাবে কমে যাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য মোটেও ভালো না।
- চিয়া সিড বেশি পরিমাণে খেলে স্তন ক্যান্সার ও পোস্টেড ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
- অনেকের ক্ষেত্রে চিয়া সিড অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে।
এছাড়া আপনি যদি কোন ওষুধ সেবন করেন তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে চিয়া সিড গ্রহণ করুন। কারণ অনেক সময় ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় চিয়া সিড খাওয়ার ফলে আপনার ক্ষতি হতে পারে।
সকালে খালি পেটে চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা
সকালে খালি পেটে চিয়া সীড খাওয়ার উপকারিতা রয়েছে অনেক। চিয়া সিডের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন, খনিজ, প্রোটিন, ফাইবার ইত্যাদি। তাই প্রতিদিন সকালে খালি পেটে চিয়া সিড খেলে আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, পেটের বিভিন্ন সমস্যা দূর হয়, গ্যাস কমাতে সাহায্য করে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমে, ওজন কমাতে সাহায্য করে, হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে, সারাদিনের এনার্জি ধরে রাখে, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমিয়ে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।
এছাড়া প্রতিদিন সকালে খালি পেটে চিয়া সিড খেলে আমাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায় এবং চিয়া সিডের মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চুলের গোড়া মজবুত করতে সাহায্য করে। তাছাড়া চিয়া সিডের মধ্যে রয়েছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। আর এই ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড আমাদের রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হৃদরোগের ঝুকি কমাতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন সকালে খালি পেটে চিয়া সিড খাওয়ার অভ্যাস করুন।
সচার আচার জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী ও উত্তর
১. প্রতিদিন কত চিয়া বীজ খেলে ওজন কমে ?
প্রতিদিন আপনি ওজন কমানোর জন্য ২ টেবিল চামচ চিয়া বীজ সকালে খালি পেটে খেতে পারেন। নিয়মিত এটি সেবন করলে আপনার ওজন অনেক দ্রুত কমে আসবে।
২. চিয়া সিড কত সময় ভিজিয়ে রাখতে হয় ?
চিয়া সিড খাবার আগে অন্তত ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখা উচিত। এতে চিয়া সিড ফুলে অনেকটাই নরম হয়ে যাবে এবং খেতে সুবিধা হবে।
৩. চিয়া বীজ কি লিভারের জন্য ভালো ?
চিয়া বীজের মধ্যে রয়েছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। আর ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড আমাদের লিভারের প্রদাহ কমাতে এবং লিভারের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। তাই অবশ্যই চিয়া বীজ লিভারের জন্য ভালো।
৪. চিয়া সিড খেলে কি পেট খারাপ হয় ?
চিয়া সিডের মধ্যে রয়েছে ফাইবার। আর ফাইবার আমাদের পেটের বিভিন্ন সমস্যা যেমন পেট ব্যথা, গ্যাস, পেট ফাঁপা ইত্যাদি সমস্যা দূর করে। তবে আপনি যদি চিয়া সিড অতিরিক্ত পরিমাণে খান তাহলে গ্যাসের সমস্যা, পেট ফাঁপা ইত্যাদি সমস্যা আরো বেশি বেড়ে যেতে পারে। তাই চিয়া সিড থেকে সঠিক উপকারিতা পেতে অবশ্যই চিয়া সিডের পরিমাণ ঠিক রাখা জরুরি। কারণ চিয়া সীড একটি আশযুক্ত খাবার তাই অতিরিক্ত গ্রহনে আপনার ডায়রিয়ার সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
চিয়া সিড খেলে কি ওজন বাড়ে
চিয়া সিড খেলে কি ওজন বাড়ে এমন প্রশ্ন অনেকেই করে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে ফাইবার। আর ফাইবার আমাদের পেট অনেকক্ষণ পর্যন্ত ভরে রাখে। তাই বাড়তি খাবার গ্রহণের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু অতিরিক্ত পরিমাণে চিয়া সিড খেলে আমাদের ওজন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে কারণ চিয়া সিডের মধ্যে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, প্রোটিন, ফাইবার, ক্যালোরি এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি।
আর উপাদানগুলো যদি আমাদের শরীরে বেশি পরিমাণে যায় তাহলে অবশ্যই আমাদের ওজন বাড়বে। তবে ওজন বাড়া নির্ভর করে আপনি চিয়া সিড কি পরিমাণে খাচ্ছেন তার ওপর। অতিরিক্ত পরিমাণে চিয়া সিড খেলে আমাদের শরীরে অতিরিক্ত চর্বি হিসেবে জমা হয় এবং ওজন বাড়াতে সাহায্য করে তাই চিয়া সিড থেকে আপনি যদি ওজন বাড়াতে চান তাহলেও চিয়া সিড একটু বেশি পরিমাণে খাদ্য তালিকায় রাখার চেষ্টা করুন।
আর যদি মনে করেন চিয়া সিড খাওয়ার মাধ্যমে ওজন কমাবো তাহলে প্রতিদিন নিয়ম করে চিয়া সিড খান। চিয়া সিড আপনার শরীরের ওজন কমাতে এবং বাড়াতে দুই কাজেই সাহায্য করে। তাই ওজন বাড়ানো এবং কমানো এইটা আপনার চিয়া সিড খাওয়ার খাদ্যভ্যাসের উপর নির্ভর করছে।
চিয়া সিড খেলে কি কোষ্ঠকাঠিন্য হয়
চিয়া সিড খেলে কি কোষ্ঠকাঠিন্য হয় সে সম্পর্কে অনেকেরই অজানা রয়েছে। চিয়া সীড আমাদের পেটের বিভিন্ন সমস্যা, গ্যাসের সমস্যা, পেটব্যথা কমাতে সাহায্য করে। চিয়া সিডের মধ্যে রয়েছে ফাইবার। আর এ ফাইবার আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধি করে খাদ্য হজমের সহায়তা করে।
প্রতিদিন সকালে আপনি যদি চিয়া সিড ভেজানো পানি এবং চিয়া সিড খান তাহলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয় এবং মল নরম করতে সহায়তা করে। তাই চিয়া সিড খেলে আমাদের কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা হয় না বরং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। আপনি যদি কোষ্ঠকাঠিন্যর সমস্যায় ভুগেন তাহলে অবশ্যই প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় চিয়া সিড রাখুন।
প্রতিদিন চিয়া সিড খেলে কি হয়
প্রতিদিন চিয়া সিড খেলে কি হয় সে সম্পর্কে আমাদের সকলেরই জানা উচিত কারন চিয়া সিড একটি পুষ্টিকর খাবার আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য। এর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, প্রোটিন, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, কম ক্যালরি এবং ভিটামিন।
তাই প্রতিদিন সকালে চিয়া সিড খেলে আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়, কোষ্ঠকাঠিন্য কমে, শরীরের ক্ষতিকর টক্সিন গুলো দূর করতে সাহায্য করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, সারা দিনের শক্তির যোগান দেয়, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি দূর করে। ক্যান্সার রোধ করে। প্রতিদিন চিয়া সিড খেলে চিয়া সিডের মধ্যে থাকা ফাইবার আমাদের অনেকক্ষণ পেট ভরা রাখে এবং অতিরিক্ত ওজন কমাতে সাহায্য করে।
চিয়া সিড খাওয়ার সময়
চিয়া সিড খাওয়ার সময় নির্ভর করে আপনি কি উদ্দেশ্যে চিয়া সিড খাচ্ছেন তার ওপরে। আপনি দিনের যেকোনো সময় খেতে পারেন কিন্তু যদি কোন বিশেষ উদ্দেশ্যে কিংবা বিশেষ কোনো সমস্যার জন্য চিয়া সিড খেয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই চিয়া সিড খাওয়ার সময় নির্ধারণ করে চিয়া সিড খাওয়া উচিত। আপনার যদি পেটের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা থাকে কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যায় ভুগেন তাহলে অবশ্যই সকালবেলা খালি পেটে চিয়া সিড ভিজিয়ে খেতে পারেন।
এতে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে বেশ উপকার পাবেন। আপনার যদি হজমের সমস্যা থাকে তাহলে দুপুরে খাবারের সাথে চিয়া সিড খান। এতে খুব দ্রুত খাবার হজম হবে এবং খাবারের সমস্যা দূর হবে। এছাড়া চিয়া সিডের মধ্যে থাকা ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড আপনার শরীরে পুষ্টিগুণ বজায় রাখবে। আপনার যদি রাতে ভালো ঘুম না হয় তাহলে রাতে ঘুমাতে যাবার আগে চিয়া সিড খান এতে রাতে ভালো ঘুম হবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
মন্তব্য - গর্ভাবস্থায় চিয়া সিড খাওয়া যাবে কি
চিয়া সিড একটি উপকারী খাদ্য নিঃসন্দেহে তবে অবশ্যই অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। চিয়া সিড যে কোন বয়সের মানুষের জন্য উপকারী তবে চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম এবং সময় ঠিক রাখতে হবে। গর্ভাবস্থায় চিয়া সিড খাওয়া যাবে কি না সে সম্পর্কে অবশ্যই আপনি এতক্ষণে একটি ভাল ধারণা পেয়ে গেছেন এবং গর্ভাবস্থায় চিয়া সিড খেলে আপনার কি কি অপকারিতা হতে পারে সে সম্পর্কে জেনে গেছেন।
প্রিয় পাঠক আপনার যদি আর্টিকেলটি ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনার প্রিয় প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করুন এবং এই আর্টিকেল সম্পর্কে আপনার যদি কোন মন্তব্য থেকে থাকে আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাবেন। আপনাদের মন্তব্যের অপেক্ষায় রইলাম।
বিডি অনলাইন আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url