গর্ভাবস্থায় চানাচুর খেলে কি হয়
গর্ভাবস্থায় চানাচুর খেলে কি হয় সে সম্পর্কে আমরা ভালোভাবে না জেনেই গর্ভাবস্থায় চানাচুর খেয়ে থাকি। গর্ভাবস্থায় চানাচুর আপনার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী না ক্ষতিকর সে বিষয়ে সঠিকভাবে জানার জন্য আর্টিকেলটি পড়া শুরু করুন।
আমরা এই আর্টিকেলে আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। আর আপনি যদি একজন গর্ভবতী মা হয়ে থাকেন এবং এই বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে অনেক বেশি আগ্রহী হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আমাদের এই আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খুব মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
পেজ সূচিপএ
গর্ভাবস্থায় চানাচুর খেলে কি হয়
গর্ভাবস্থায় চানাচুর খেলে কি হয় এমন প্রশ্ন অনেকেই করে থাকে। আপনি যদি গর্ভাবস্থায় চানাচুর খেতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে কিছু বিষয় মাথায় রেখে গর্ভাবস্থায় চানাচুর খেতে হবে কারণ চানাচুর একটি তেলে ভাজা, অতিরিক্ত মসলাদার, উচ্চমাত্রার লবণ ইত্যাদি উপাদান নিয়ে তৈরি। আর অতিরিক্ত তেলেভাজা জিনিস, অতিরিক্ত মসলাযুক্ত কোন খাবার কিংবা অতিরিক্ত লবণ যুক্ত কোন খাবার গর্ভাবস্থায় খাওয়া মোটে উচিত নয়।
চানাচুর একটি মুখরোচক খাবার। প্রায় ছোট থেকে বড় সকলেই এই খাবারটি খেতে পছন্দ করে। তবে গর্ভাবস্থায় মুখের স্বাদ ফেরানোর জন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের খাবার খেয়ে থাকি।সেইসব খাবারের মধ্যে চানাচুর অন্যতম একটি খাবার। তবে চানাচুর এমন কিছু উপাদান দিয়ে তৈরি যা গর্ভাবস্থায় খেলে আপনার ক্ষতি হতে পারে।
চানাচুরার মধ্যে থাকা উচ্চ লবণ আপনার গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা তৈরি করতে পারে। চানাচুর ভাজার সময় প্রচুর পরিমাণে তেল ব্যবহার করা হয়। আর এই তেল খাওয়ার ফলে আমাদের গর্ভাবস্থায় হজমের সমস্যা, পেটব্যথা এমনকি ডায়রিয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। চানাচুরের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের মসলা দেওয়া থাকে তাই আপনি গর্ভাবস্থায় এটি খেলে আপনার বদহজম হতে পারে এমনকি গর্ভের সন্তানেরও ক্ষতি হতে পারে।
আরো পড়ুন: গর্ভাবস্থায় বেগুন খাওয়ার উপকারিতা
আপনার যদি গর্ব অবস্থায় চানাচুর খেতে খুব বেশি ইচ্ছে করে তাহলে আপনি বিভিন্ন খাবারের সাথে চানাচুর মিশিয়ে খেতে পারেন এতে আপনার গর্ভাবস্থায় চানাচুর খাওয়ার ফলে কোন ক্ষতি হবে না এবং চানাচুর খাওয়ার মজা উপভোগ করতে পারবেন।
গর্ভাবস্থায় ডান পাশে ঘুমালে কি হয়
গর্ভাবস্থায় ডান পাশে ঘুমালে কি হয় সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। গর্ভের সময় আমরা কোন পাশে ঘুমালে সবচেয়ে বেশি ভালো হয় সে সম্পর্কে অবশ্যই জানা উচিত কারণ গর্ভের সময় ঘুমানোর ভঙ্গির ওপর অনেকটা নির্ভর করে মায়ের আরাম এবং গর্ভের শিশুর সঠিক বিকাশের। গর্ভাবস্থায় ডান পাশে ঘুমানোর কিছু বিশেষ অসুবিধা রয়েছে। নিম্নে সেই অসুবিধাগুলো আলোচনা করা হলো। গর্ভাবস্থায় ডান পাশে ঘুমালে রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।
গর্ভাবস্থায় গর্ভের বাচ্চা ধীরে ধীরে বড় হয় এবং রক্তনালী গুলোর উপরে চাপ সৃষ্টি করে তাই আপনি যদি গর্ভাবস্থায় ডানপাশে ঘুমান তাহলে ইনফেরিয়র ভেনা কাভা রক্তনালীর ওপর চাপ সৃষ্টি করে ফলে আমাদের হৃৎপিণ্ডের ভেতরে রক্ত প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয় এবং এবং শরীর থেকে রক্তচাপ অনেকটাই কমিয়ে দেয়। অনেক সময় ডান পাশে ঘুমানোর ফলে শিশু তার প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ ঠিক মতন পায় না।
গর্ভাবস্থায় অনেকক্ষণ ডান পাশে ঘুমালে আপনার বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরার সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া গর্ভাবস্থায় আপনার যদি উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকে তাহলে ডান পাশে ঘুমানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। গর্ভাবস্থায় বাম পাশে ঘুমানো একজন গর্ভবতী মায়ের জন্য খুবই ভালো বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। আপনি যদি গর্ভাবস্থায় বাম পাশে দীর্ঘ সময় ধরে ঘুমিয়ে থাকেন তাহলে আপনার শরীরে রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া বৃদ্ধি পায়, কিডনির কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং গর্ভাবস্থায় শরীরে কিংবা পায়ে পানি জমার সমস্যা দূর হয়।
তবে গর্ভাবস্থায় ডান পাশে ঘুমানো যাবে না এমন কথা কখনোই চিকিৎসকরা বলেন নাই। আপনি গর্ভাবস্থায় ডান পাশে ঘুমাতে পারবেন তবে দীর্ঘস্থায়ী ঘুমের জন্য বাম পাশে ঘুমানো উত্তম। তবে আপনি যদি গর্ভাবস্থায় কোন পাশে ঘুমালে ভালো হয় সে সম্পর্কে আরো ভালোভাবে জানতে চান তাহলে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
গর্ভাবস্থায় মুড়ি খেলে কি হয়
গর্ভাবস্থায় মুড়ি খেলে কি হয় সে সম্পর্কে প্রতিটি গর্ভবতী মায়েরই জানা উচিত কারণ মুড়ি একটি সহজলভ্য খাবার। যেকোনো সময় এবং যেকোনো পরিবেশে আমরা মুড়ি খুব সহজভাবে খাদ্য হিসেবে খেতে পারি। অনেকেই ভাতের পরিবর্তে ক্ষুধা কমাতে মুড়ি খেয়ে থাকে। মুড়ি আমরা বিভিন্ন খাবারের সাথে কিংবা এমনি খেতে পারে। তবে গর্ভাবস্থায় মুড়ি খাওয়ার ব্যাপারে অবশ্যই ভালোভাবে নিশ্চিত হতে হবে যে মুড়ি গর্ভাবস্থায় খাওয়া নিরাপদ কিনা।
গর্ভাবস্থায় প্রতিটি খাবারের বিষয়ে আমাদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। শুধু একজন গর্ভবতী মা খাবারের ব্যাপারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করে বিষয়টা কিন্তু এমন না বাড়ির প্রতিটি সদস্য একজন গর্ভবতী মায়ের খাবারের ব্যাপারে সতর্ক থাকে। কারণ একজন গর্ভবতী মায়ের খাবারের ওপরে নির্ভর করছে বাচ্চার সঠিক গঠন এবং মায়ের স্বাস্থ্যগত উন্নতি।
গর্ভের সময় একটু ভুলের কারণে কিংবা কোন খাবারের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় আপনার ভ্রুনের অনেক বড় ক্ষতি হতে পারে এমনকি গর্ভপাতের ঝুঁকি থাকে। তাই অবশ্যই গর্ভাবস্থায় প্রতিটি খাবার খাওয়ার আগে একজন ভালো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কোন খাবার খেলে আপনার স্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে না আর কোন খাবার খেলে আপনার স্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে সে সম্পর্কে চিকিৎসকরা একটি ভালো ধারণা দিতে পারবে। গর্ভাবস্থায় আপনার শরীরে ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, আয়রন ইত্যাদির ঘাটতি প্রচুর পরিমাণে দেখা দেয়।
তাই গর্ভাবস্থায় আপনি যদি মুড়ি খান তাহলে মুড়ির মধ্যে থাকা ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, আয়রন আপনার শরীরের প্রয়োজনীয় ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করবে। এছাড়া প্রতিদিন গর্ভাবস্থায় মুড়ি খেলে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। মুড়ির মধ্যে থাকা আয়রন আপনার শরীরে রক্তশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করবে। গর্ভাবস্থায় বমি ভাব একটি সাধারন সমস্যা। মুড়ির মধ্যে রয়েছে এসিড জাতীয় উপাদান। তাই গর্ভাবস্থায় মুড়ি খেলে আপনার অ্যাসিডিটির সমস্যা দূর হয় এবং বমি বমি ভাব অনেকটাই কমে আসে।
এছাড়া মুড়ি গর্ভাবস্থায় ভিটামিন ও মিনারেল জাতীয় খাদ্যের ঘাটতি আপনার শরীরে পূরণ করতে সক্ষম। মুড়ির মধ্যে রয়েছে শর্করা তাই গর্ভাবস্থায় প্রতিটি মায়ের শর্করার ঘাটতি পূরণ করার জন্য অবশ্যই মুড়ি খাওয়া উচিত। মুড়িতে থাকা শর্করা আপনার সারাদিনের এনার্জি ধরে রাখতে সাহায্য করে। গর্ভাবস্থায় যারা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন তারা মুড়ি খেলে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দূর হয়।
মুড়ির মধ্যে রয়েছে ভিটামিন বি। তাই গর্ব অবস্থায় আপনার শরীরে যদি ভিটামিন বি এর ঘাটতি দেখা দেয় তাহলে অবশ্যই মুড়ি খাওয়া শুরু করুন। তবে অবশ্যই গর্ব অবস্থায় অতিরিক্ত পরিমাণে মুড়ি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে তারা গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত পরিমাণে মুড়ি খাবেন না। মুড়ির মধ্যে থাকা শর্করা আপনার রক্তে সুগারের মাত্রা বাড়াতে পারে।
এছাড়া গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত মুড়ি খেলে আপনার ওজন বাড়বে। আপনার যদি গর্ভাবস্থায় ইউরিক এসিডের সমস্যা থাকে তাহলে মুড়ি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। তবে মুড়ি যদি আপনার প্রিয় খাবার হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই গর্ভাবস্থায় পরিমাণ মতন মুড়ি ভিজিয়ে খেতে পারেন এতে আপনার গ্যাসের সমস্যা, এসিডিটি এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
গর্ভাবস্থায় কি খেলে বাচ্চা ফর্সা হয়
গর্ভাবস্থায় কি খেলে বাচ্চা ফর্সা হয় সে সম্পর্কে অনেক গর্ভবতী মায়েরা জানতে চাই। আজকের এই আর্টিকেলে গর্ভাবস্থায় কি খেলে বাচ্চা ফর্সা হয় সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করব। আমরা সবাই চাই আমাদের গর্ভের বাচ্চা যেন সুস্থ সবল ও সুন্দর চেহারার হয়ে থাকে আর সেজন্যই আমরা গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন ধরনের খাবার খেয়ে থাকি।
অনেকেই মনে করেন গর্ভাবস্থায় যদি সাদা খাবার খাওয়া হয় তাহলে গর্ভের সন্তান ফর্সা হয়ে থাকে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে শুধু খাদ্যের ওপর গর্ভের সন্তানের ফর্সা হওয়া নির্ভর করে না। ফর্সা হওয়া কিছুটা বাবা-মায়ের কাছ থেকে কি ধরনের জিন পেয়েছে তার ওপরও নির্ভর করে। তবে বহু যুগ আগে থেকে কিছু পুরনো ধারণা রয়েছে যে কিছু কিছু খাদ্য আপনার গর্ভের সন্তানের ফর্সা হওয়া নিশ্চিত করে। তাহলে চলুন কিছু কিছু খাদ্য সম্পর্কে জানি যেগুলো গর্ভাবস্থায় খেলে আপনার বাচ্চা ফর্সা হতে পারে।
- নারিকেল বাচ্চা ফর্সা হতে সাহায্য করে। আপনি যদি ফর্সা বাচ্চা চান তাহলে অবশ্যই নারিকেলের পানির সঙ্গে নারিকেলের সাদা অংশটা খাওয়ার অভ্যাস করুন। কারণ নারিকেলের সাদা অংশ আপনার গর্ভের বাচ্চার ফর্সা হওয়ার ব্যাপারে কিছুটা ভূমিকা রাখে।
- গর্ভাবস্থায় আপনি দুধ জাতীয় খাবার বেশি পরিমাণে খেতে পারেন। দুধ জাতীয় খাবার গর্ভের বাচ্চা ফর্সা হওয়ার ব্যাপারে সহায়তা করে।
- গর্ভাবস্থায় আপনি আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় কমলা রাখতে পারেন। কমলার মধ্যে রয়েছে ভিটামিন সি নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। তাই প্রতিদিন কমলা খেলে গর্ভের বাচ্চা ত্বক ভালো থাকে এবং উজ্জ্বলতা বাড়ায়।
- গর্ভের বাচ্চা ফর্সা করার অন্যতম একটি উৎস হলো টমেটো। টমেটোর মধ্যে থাকা লাইকোপেন ক্ষতিকর আল্ট্রা ভায়োলেট এর বিরুদ্ধে লড়াই করে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে। তাই প্রতিদিন পরিমাণ মতো বাচ্চার ফর্সা হওয়ার জন্য টমেটো খাওয়া উচিত।
- গর্ভের বাচ্চা ফর্সা করার জন্য আপনি চেরি, স্ট্রবেরি, ব্ল্যাকবেরি, ব্লু বেরি ইত্যাদি ফল প্রচুর পরিমাণে খেতে পারেন। এই জাতীয় ফলগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। তাই প্রতিদিন এ ফলগুলো খেলে আপনার গর্ভের বাচ্চার ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে।
- জাফরান দুধ গর্ভের বাচ্চা ফর্সা করতে সাহায্য করে। কোন গর্ভবতী নারী যদি প্রতিদিন পরিমাণ মতন জাফরান দুধ পান করে তাহলে গর্ভের বাচ্চার উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।
- ডিম গর্ভের বাচ্চার ফর্সা হওয়ার জন্য কিছুটা ভূমিকা রাখে। আপনি যদি ডিমের সাদা অংশ গর্ভকালীন সময় খেয়ে থাকেন তাহলে এটি আপনার বাচ্চার উজ্জ্বলতা বাড়াতে সহায়তা করবে। এছাড়া ডিম গর্ভাবস্থায় খাওয়া একজন গর্ভবতী মায়ের জন্য খুব জরুরী। কারণ ডিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন।
- আপনি যদি আপনার গর্ভের বাচ্চার উজ্জ্বলতা বাড়াতে চান তাহলে অবশ্যই খাদ্য তালিকায় বাদাম রাখুন। বিশেষ করে আমন্ড বাদাম গর্ভাবস্থায় খেলে বাচ্চার গায়ের রং ফর্সা হয়।
- এছাড়া গর্ভের বাচ্চার উজ্জ্বলতা বাড়ানোর জন্য আপনি প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে পারেন। পানি আপনার গর্ভের বাচ্চার উজ্জ্বলতা বাড়াতে সহায়তা করবে।
উপরের এই খাবারগুলো ছাড়াও আপনি প্রচুর পরিমাণে ফল ও সবজি, বিভিন্ন ধরনের প্রোটিন ও আয়রন যুক্ত খাবার এবং ভিটামিন খেতে পারেন। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় আপনি যদি বিভিন্ন ধরনের প্রোটিন ও আয়রন এবং ভিটামিনযুক্ত খাবার রাখেন তাহলে অবশ্যই গর্ভের বাচ্চার উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে।
গর্ভাবস্থায় বেশি ঝাল খেলে কি হয়
গর্ভাবস্থায় বেশি ঝাল খেলে কি হয় সে সম্পর্কে হয়তো আমরা অনেকেই একটু হলেও ধারণা রাখি তবে আজকে এই আর্টিকেলে আপনাকে গর্ভাবস্থায় বেশি ঝাল খেলে কি হয় সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানানোর চেষ্টা করব।
চিকিৎসকরা বলে থাকেন গর্ভাবস্থায় শরীরের কিংবা ভ্রুনের ক্ষতি হয় এমন কোন খাবার খাওয়া কখনোই উচিত নয়। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় প্রতিটি খাবারের ব্যাপারে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। ঝাল খাবার বাচ্চা থেকে বয়স্ক প্রতিটি মানুষের জন্যই অস্বস্তি নিয়ে আসে।
আমাদের মধ্যে অনেকে রয়েছে যারা প্রচুর পরিমাণে ঝাল খাবার একেবারে খেতে পছন্দ করে না বিশেষ করে বাচ্চারা ঝাল খাবার থেকে দূরে থাকে। অতিরিক্ত পরিমাণে ঝাল খাবার উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়। অতিরিক্ত ঝাল খাবার খেলে গ্যাস্টিকের সমস্যা, বমি বমি ভাব, বদ হজম, পেটব্যথা, ডায়রিয়া সমস্যা এমনকি গ্যাস্টিকের সমস্যা থেকে আলসারের মতো মারাত্মক সমস্যায় ও পড়তে পারেন।
তাই আপনি যদি গর্ভবতী হয়ে থাকেন আর আপনার যদি উচ্চ রক্তচাপ এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকে তাহলে অবশ্যই ঝাল খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। চিকিৎসকরা বলে থাকেন গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত পরিমাণে মসলা জাতীয় কোন খাবার খাওয়াই উচিত না। এছাড়া গর্ভাবস্থায় আপনার যদি উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকে তাহলে অবশ্যই লবণাক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
গর্ভাবস্থায় খেজুর খেলে কি হয়
গর্ভাবস্থায় খেজুর খেলে কি হয় সে সম্পর্কে আমরা এখন বিস্তারিতভাবে আলোচনা করার চেষ্টা করব। গর্ভাবস্থায় খেজুর খেলে আমাদের শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা খুব সহজেই পূরণ হয়। খেজুর খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং হজম ক্ষমতার উন্নত করে। খেজুর একটি আঁশযুক্ত খাবার তাই গর্ভাবস্থায় খেলে আমাদের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়, পেট পরিষ্কার থাকে এবং বিভিন্ন ধরনের দূষিত টক্সিন গুলো পেটের ভিতর থেকে খুব সহজেই বাইরে বের হয়ে আসে।
গর্ভাবস্থায় আমাদের শরীর কিছুটা দুর্বলতা অনুভব করে আর এই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে আপনি প্রতিদিন গর্ভাবস্থায় খেজুর খেতে পারেন। খেজুরের মধ্যে রয়েছে পটাশিয়াম। আর এই পটাশিয়াম আমাদের শরীরে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের সহায়তা করে। খেজুর আয়রনের একটি ভালো উৎস হিসেবে পরিচিত। আপনার যদি গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতার সমস্যা দেখা দেয় তাহলে অবশ্যই খেজুর খাওয়া শুরু করুন।
খেজুর রক্তের স্বল্পতা কমাতে সহায়তা করে। এছাড়া খেজুরের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের ত্বক ভালো রাখতে সহায়তা করে এবং ত্বকের ভিতরে বিভিন্ন ধরনের কোষের ক্ষয় রোধ করতে সাহায্য করে। বিভিন্ন ধরনের গবেষণায় দেখা গেছে আপনি যদি গর্ভাবস্থায় খেজুর খান তাহলে আপনার প্রসব ব্যথা কমাতে এবং সন্তান প্রসবের সময় দ্রুত জন্মদানের সহায়তা করে।
তবে আপনার যদি গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস থাকে তাহলে অবশ্যই খেজুর কম পরিমাণে খাওয়া উচিত। কারণ খেজুরের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে শর্করা। আর এই শর্করা আপনার রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং সুগার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
গর্ভাবস্থায় পানি কম খেলে কি হয়
গর্ভাবস্থায় পানি কম খেলে কি হয় সে সম্পর্কে অবশ্যই খুব ভালোভাবে একজন গর্ভবতী মায়ের এবং বাড়ির প্রতিটি সদস্যের জানা উচিত। কারণ গর্ভাবস্থায় পানি খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। গর্ভাবস্থায় আপনি যদি কম পরিমাণে পানি খান তাহলে আপনার গর্বের সন্তানের বিভিন্ন ধরনের জন্মগত ত্রুটি দেখা দিতে পারে। গর্ভের সন্তানের বিকাশ ঠিকমতো হয় না এবং গর্ভপাতের আশঙ্কা বেড়ে যায়।
আপনি যদি গর্ভাবস্থায় কম পরিমাণে পানি খান তাহলে আপনার গর্ভের বাচ্চার ওজন প্রয়োজনমতো বৃদ্ধি পায় না এছাড়া প্রসব বেদনার সময় অতিরিক্ত পরিমাণে ব্যথা হয়। গর্ভাবস্থায় পানি কম খেলে আপনার মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরা কিংবা উচ্চ রক্তচাপ কমে যেতে পারে। গর্ভাবস্থায় পানি কম খেলে আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দেখা দেয় এছাড়া গর্ভবতী মায়ের পেশী ঠিকমতো সংকুচিত হয় না ফলে পেশীগুলোতে স্ক্যাম্প হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়।
গর্ভাবস্থায় কম পানি খেলে আপনার বাচ্চার ডেট আসার আগেই বাচ্চা ডেলিভারি হয়ে যায় এবং তার ফলে বাচ্চার মৃত্যু হতে পারে তাই অবশ্যই গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন অন্তত ৮/১০ গ্লাস পানি খাওয়া উচিত। এছাড়া আপনি যদি গর্ভাবস্থায় বেশি পানি পান করতে না পারেন তাহলে বিভিন্ন ধরনের পানীয় খাবার দিয়ে শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করতে পারেন।
গর্ভাবস্থায় টক খেলে কি হয়
গর্ভাবস্থায় টক খেলে কি হয় সে সম্পর্কে আমাদের জানার তেমন কোন আগ্রহই থাকে না কারণ গর্ভাবস্থায় টক জাতীয় খাবারের উপরে প্রতিটি গর্ভবতী মায়েরই আকর্ষণ একটু বেশি থাকে। তাই গর্ভাবস্থায় টক খেলে কি হতে পারে কিংবা গর্ভাবস্থায় টক খাওয়া যাবে কিনা সে সম্পর্কে কোন চিন্তা ভাবনা না করেই গর্ভাবস্থায় প্রচুর পরিমাণে গর্ভবতী নারীরা টক খেয়ে থাকে।
গর্ভের সময় আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের হরমোন উঠানামা করে। আর এর ফলেই আমাদের টক জাতীয় খাবারের ওপরে বেশি আকর্ষণ হয়। আপনি যদি গর্ভবতী হয়ে থাকেন তাহলে গর্ভাবস্থায় টক খেতে পারবেন তবে অবশ্যই অতিরিক্ত পরিমাণে না। গর্ভাবস্থায় টক খেলে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, হজমের সহায়তা করে, মুখের স্বাদের পরিবর্তন হবে এবং ত্বকের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করবে।
তবে গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত পরিমাণে টক জাতীয় খাবার খাওয়া একজন গর্ভবতী মায়ের জন্য মোটেও ভালো হবে না। আপনি যদি গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত পরিমাণে টক খান তাহলে আপনার গ্যাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত পরিমাণে টক খেলে আপনার দাঁতের এনামেল নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় অবশ্যই টক জাতীয় খাবার পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। তবে টক জাতীয় খাবার খাওয়ার পরে আপনার যদি কোন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয় তাহলে অবশ্যই একজন ভালো চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
গর্ভাবস্থায় বেশি শুয়ে থাকলে কি হয়
গর্ভাবস্থায় বেশি শুয়ে থাকলে কি হয় সে সম্পর্কে অবশ্যই ভালোভাবে জেনে নেওয়া উচিত। গর্ব অবস্থায় আমাদের বেশিরভাগ সময় রাতের বেলা খুব ভালোভাবে ঘুম হয় না তাই আমরা দিনের বেলায় পর্যন্ত পরিমাণে ঘুমিয়ে রাতের ঘুম পূরণ করার চেষ্টা করি কিন্তু গর্ভাবস্থায় বেশি শুয়ে থাকা একজন গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্যের জন্য মোটেও ভালো না। আপনি যদি গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত পরিমাণে বিশ্রাম নিন কিংবা ঘুমিয়ে থাকেন তাহলে আপনার পাকস্থলীর ওপরে অতিরিক্ত পরিমাণে চাপ পড়ে এবং বদ হজম হয়।
গর্ভাবস্থায় বেশি শুয়ে থাকলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং রক্তনালীর ভেতরে রক্ত গুলো সহজে চলাচল করতে পারে না। গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত পরিমাণে শুয়ে থাকলে আপনার শরীরের পেশিগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে এবং প্রসবের সময় অতিরিক্ত পরিমাণে ব্যথা অনুভব হয়। গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত পরিমাণে শুয়ে থাকলে আপনার অতিরিক্ত ওজন বেড়ে যেতে পারে বিশেষ করে আপনি যদি ডায়াবেটিসে রোগী হয়ে থাকেন তাহলে আপনার ডায়াবেটিসের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
তাই গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত পরিমাণে শুয়ে না থেকে কিছুটা হাটা চলাফেরা এবং হালকা ব্যায়ামগুলো করা উচিত এতে আপনার মানসিক স্বাস্থ্য সুস্থ থাকবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। তবে আপনি যদি গর্ভাবস্থায় কি করলে বেশি ভালো হয় সে সম্পর্কে একজন ভালো চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নেন তাহলে সবচাইতে বেশি ভালো হয়।
শেষ মন্তব্য - গর্ভাবস্থায় চানাচুর খেলে কি হয়
প্রিয় পাঠক, গর্ভাবস্থায় চানাচুর খেলে কি হয় সে সম্পর্কে হয়তো আপনি এতক্ষণে বিস্তারিত জেনে গেছেন। কিছু কিছু গর্ভবতী মা রয়েছে যাদের গর্ভাবস্থায় ঝাল জাতীয় খাবারের ওপরে বেশি আকর্ষণ থাকে আবার কিছু কিছু গর্ভবতী মা রয়েছে যারা গর্ভাবস্থায় টক জাতীয় ও মিষ্টি জাতীয় খাবারের উপরে বেশি আকর্ষণ থাকে।
আপনার যদি চানাচুর অনেক বেশি প্রিয় হয়ে থাকে কিংবা গর্ভাবস্থায় বারবার খেতে মন চায় তাহলে অবশ্যই পরিমাণ মতন চানাচুর খাদ্য তালিকায় রাখুন। তাছাড়া গর্ভাবস্থায় চানাচুর খাওয়ার আরেকটি বিশেষ উপায় হল আপনি চানাচুর বিভিন্ন খাবারের সাথে মিশিয়ে গর্ভাবস্থায় খেতে পারেন এতে চানাচুর থেকে আপনার শরীরের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কম।
গর্ভাবস্থায় চানাচুর খেলে কি হয় সে সম্পর্কে আলোচনা করার সাথে সাথে উপরে আমরা আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করেছি। আমি আশা করি এতক্ষনে আপনি হয়তো গর্ভাবস্থায় কি কি খাবার খেলে আপনার গর্ভের বাচ্চার বিভিন্ন উপকার হবে এবং গর্ভাবস্থায় কিভাবে শুয়ে থাকলে আপনার গর্ভের বাচ্চা সঠিকভাবে বিকশিত হবে সে সম্পর্কে একটি সঠিক ধারণা পেয়েছেন।
গর্ভাবস্থায় চানাচুর খেলে কি হয় সম্পর্কিত আর্টিকেলটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের ওয়েবসাইটটি ফলো দিয়ে রাখুন। কারন আমরা আমাদের ওয়েবসাইটে এরকম স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য প্রতিনিয়ত প্রকাশ করে থাকি। আজকে তাহলে এ পর্যন্তই। আর এতক্ষন আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
বিডি অনলাইন আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url