গেটে বাতের ঘরোয়া চিকিৎসা
গেটে বাতের ঘরোয়া চিকিৎসা সম্পর্কে জানতে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সঠিক তথ্য পাচ্ছেন না তাহলে আমাদের আর্টিকেলটি আপনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খুব মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেমন বাতের ব্যথার আয়ুর্বেদিক ওষুধ সম্পর্কে জানানোর চেষ্টা করেছি। আপনি যদি গেটে বাতের সমস্যায় ভুগে থাকেন তাহলে আমাদের আর্টিকেলটির সঙ্গেই থাকুন শেষ পর্যন্ত।
পেজ সূচিপএ
গেটে বাতের ঘরোয়া চিকিৎসা
গেটে বাতের ঘরোয়া চিকিৎসা সম্পর্কে জানার আগে গেটে বাত কি সে সম্পর্কে আগে জানব। সহজ ভাবে বলতে গেলে গেটে বাদ হল এক ধরনের প্রদাহ জনিত আর্থাইটিস। আপনার শরীরের রক্তে যদি ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে যায় তাহলে হাড়ের জয়েন্টে খুব ছোট ছোট হয়ে ইউরিক অ্যাসিড জমা হতে থাকে এবং জয়েন্টের মধ্যে প্রদাহ সৃষ্টি করে আর সেটিকে সাধারণত গেটে বাত কিংবা গাউট হিসেবে ধরা হয়। গেটে বাত কিংবা গাউটের ব্যথা সাধারণত হঠাৎ করেই দেখা দেয়। গাউটের ব্যথা খুব প্রচন্ড আকারে হয়।
গাউটের ব্যথা হলে পা ফুলে যায়, লাল হয়ে যায়, এমনকি স্পর্শ করলে গরম অনুভব হয়, কিছু কিছু ক্ষেত্রে গাউটের ব্যাথা এত বেশি হয় যে আমাদের প্রচন্ড জ্বরও আসতে পারে। গেটে বাতের ব্যথা সাধারণত আমাদের পায়ের বুড়ো আঙ্গুলেই হয়ে থাকে। তবে হাতের আঙ্গুলের হাড়ে,কিংবা আরো যেগুলো জয়েন্ট রয়েছে সেগুলোতেও হতে পারে।
গেটে ব্যথা বিভিন্ন ওষুধের মাধ্যমেও সারিয়ে তোলা সম্ভব। কিন্তু কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি রয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে আপনি গেটে ব্যথা সারিয়ে তুলতে পারেন। আসুন তাহলে জেনে নেই গেটে বাতের ঘরোয়া চিকিৎসা সম্পর্কে।
গেটে বাতের ঘরোয়া চিকিৎসা
- আদাও হলুদ: গরম পানির সাথে আদা ও হলুদ ভালোভাবে ফুটিয়ে দিনে দুইবার এটি খেতে পারেন এতে সাময়িকভাবে ব্যথা থেকে রেহায় পাবেন
- আদা ও চা: আদা ও চা একসাথে ফুটিয়ে পান করতে পারেন এতেও ব্যথা অনেকটা কমে আসে।
- শাকসবজি খাওয়া: বিভিন্ন ধরনের ভাজাভুজি কিংবা জাঙ্ক ফুড খাবার ও প্যাকেটজাত খাবার খাওয়া বন্ধ করুন। বেশি মসলা জাতীয় খাবার না খেয়ে টাটকা সবজি, ফলমূল, ছোট মাছ এবং অলিভ অয়েল তেল খান এতে গেটে বাতের ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে।
- আপেল সিডার ভিনেগার: আপেল সিডার ভিনেগার সাথে এক চামচ মধু মিশিয়ে গেটে বাতের ব্যথার জন্য খেতে পারেন। এই উপকরণ দুটি দেহের পিএইচ মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে এবং জয়েন্টের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
- এলোভেরা: এলোভেরার রস গেটে বাতের জন্য খুব উপকারী। দিনে একবার এলোভেরা জেল আক্রান্ত স্থানে লাগালে ব্যথা ও ফোলা ভাব অনেকটাই কমে আসে।
- তেল মালিশ: খাঁটি সরিষার তেল বা খাঁটি নারিকেল তেল কিংবা অলিভ অয়েল হালকা গরম করে ব্যথাযুক্ত স্থানে মালিশ করলে ব্যথা কমবে এবং হাড়ের ভেতরের রক্ত চলাচল সচল হবে।
উপরের এই ঘরোয়া চিকিৎসা গুলো আপনি বাড়িতে বসেই খুব সাধারন জিনিস দিয়েই বাতের ব্যথার উপশমে চেষ্টা করতে পারেন। তবে ব্যথা যদি অতিরিক্ত পরিমাণে বেড়ে যায় তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
বাতের ব্যথার আয়ুর্বেদিক ওষুধ
বাতের ব্যথার আয়ুর্বেদিক ওষুধ বিভিন্ন রকম দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। আয়ুর্বেদিক ওষুধ বা গাছ-গাছলা দিয়েও বাতের ব্যথা কমানো সম্ভব। আসুন তাহলে জেনে নেই বাতের ব্যথা কমানোর জন্য বিভিন্ন আয়ুর্বেদিক ওষুধ সম্পর্কে।
- অশ্বগন্ধা: দিনে দুইবার কুসুম গরম পানির সাথে অশ্বগন্ধা গুঁড়া মিশিয়ে খেলে হাড়ের ভেতরের প্রদাহ কমবে, হাড়ের শক্তি বৃদ্ধি পাবে এবং হাড়ের বিভিন্ন ধরনের ব্যাথা নিরাময় হবে।
- মহারাস নদী কাসা আম: এই আয়ুর্বেদিক ঔষধটি বাজারের বিভিন্ন ফার্মেসিতে পাওয়া যায় তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করতে হবে।
- গোকুল: গোকুল একটি আয়ুর্বেদিক ট্যাবলেট। এটি বাতের ব্যাথার জন্য বিশেষ উপকারী। বাতের এবং হাড়ের প্রদাহ কমে। তবে গোকুল ট্যাবলেট ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।
- টালি শালি চূর্ণ: দিনে দুইবার টালি শালি চূর্ণ গরম পানির সাথে খাওয়া যেতে পারে এতে বাতের ব্যথা অনেকটা কমে আসে।
- মহানারায়ন তেল: মহানারায়ণ একটি আয়ুর্বেদিক তেল এবং এই তেলটি ব্যথার স্থানে মালিশ করলে ব্যথা অনেকটাই কমে।
- শালাকি: শালাকি সাধারণত ট্যাবলেট হিসেবে আয়ুর্বেদিক দোকানে পাওয়া যায়। শালাকি ট্যাবলেট চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খেলে হাড়ের প্রদাহ কমে ও ব্যথা নিরাময় হয়।
- দশমুলারিষ্ট: সাধারণত খাবারের পরে দিনে দুইবার খেতে পারেন। দশমুলারিষ্ট গাছ ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এটি দিনে দুইবার গ্রহণ করলে রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয় এবং বেশি শক্তি বৃদ্ধি পায়।
- নিশিন্দা: নিশিন্দা একটি আয়ুর্বেদিক গাছ আর এই গাছ পাতা গরম করে কিংবা পাতা থেকে পেস্ট তৈরি করে আক্রান্ত স্থানে ব্যবহার করলে অনেকটা আরাম মিলে। তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
সতর্কতা
উপরের এই গাছগুলো সব আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এক এক রকম ব্যক্তির চিকিৎসার ক্ষেত্রে একেকরকম ভাবে ব্যবহার করা হয়। তাই অবশ্যই একজন আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে উপরের এই পদ্ধতি গুলো ব্যবহার করবেন।
বাতের ব্যথা থেকে মুক্তির উপায়
বাতের ব্যথা থেকে মুক্তির উপায় সম্পর্কে আমরা আজকে আলোচনা করব। বাতের ব্যথা খুব সাধারণ একটি সমস্যা। বিশেষ করে বাতের ব্যথা বেশি হয় শীতকালে। বাতের ব্যথার সমস্যা এক একজনের ক্ষেত্রে এক এক রকম। অনেক সময় বাতের ব্যথা এত তীব্র হয় যে বিছানা থেকে উঠতে পারেনা কিংবা কাজকর্ম করায় দুষ্কর হয়ে যায়। তবে কয়েকটি বিষয় মেনে চললে এবং কিছু খাবার নিয়ম করে খেলে বাতের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
শীতকালে তাপমাত্রা যখন কমে যায় তখন বাতের ব্যথা সমস্যা আরো বেশি বেড়ে যায়। যাদের আগে থেকে বাতের ব্যথা রয়েছে তারা শীতের দিনে আরো বেশি অস্বস্তিতে পড়ে যান। বাতের ব্যথা সাধারণত হাড়ের জয়েন্টে প্রদাহ থেকে শুরু হয়। বয়স্করা বেশি এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। তবে এখন ২০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে যুবকরাও এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তবে কয়েকটি নিয়ম মেনে চললে এবং কিছু খাবার নিয়ম করে খেলে বাতের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আসুন তাহলে জেনে নেই কিভাবে বাতের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
হাইড্রেশন
আমাদের দেশের সব রকম আবহাওয়ার জন্য বিশেষ করে হাইড্রেশন আমাদের শরীরে অনেক বেশি দরকার। আর শরীরকে হাইড্রেশন রাখার জন্য আমাদের প্রচুর পরিমাণে পানি খাওয়া দরকার। শরীরে পর্যাপ্ত পরিমানে পানি থাকলে যেমন বাতের ব্যথার সমস্যা কমে আসে তেমন শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। আপনার যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খেতে অসুবিধা হয় তবে তরল জাতীয় অন্য খাবার দিয়েও আপনি শরীরের হাইড্রেশনের ঘাটতি পূরণ করতে পারেন। যেমন-সুপ, জুস ইত্যাদি।
পুষ্টিকর খাবার
অনেক সময় শরীরে পুষ্টির অভাব হলে বাতের ব্যথা বাড়তে পারে। যদি আপনি প্রতিদিন আপনার খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ খাবার রাখেন তাহলে জয়েন্টের ব্যথা অনেকটাই আরাম হয়। এছাড়া প্রতিদিন সূর্যের আলো আপনার শরীরে ভিটামিন ডি এর ঘাটতি পূরণ করবে।
প্রতিদিন খাবার তালিকায় ওমেগা থ্রি ফাটি এসিড এবং ভিটামিন ডি যুক্ত খাবার স্যালমন, সোয়াবিন, মাশরুম, দুগ্ধ জাতীয় খাবার, আখরোট ইত্যাদি রাখার চেষ্টা করুন।
ব্যায়ামের অভ্যাস
প্রতিদিন নিয়ম করে সকাল এবং বিকেলে হাঁটার চেষ্টা করুন। তাছাড়া বাড়িতে প্রতিদিন নিয়ম করে ব্যায়াম করতে হবে এতে শরীরের নড়াচড়া হবে ফলে জয়েন্টে গুলো শক্ত হবে এবং ব্যথা দূর হবে। এছাড়া প্রতিদিন ব্যায়াম কিংবা হাঁটা চলাফেরা স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ উপকারী এতে আপনার রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া ভালো থাকে।
ঠান্ডা না লাগানো
শীতকালে অবশ্যই চেষ্টা করবেন যেন ঠান্ডা শরীরে না লাগে। গরম কাপড় পড়ুন এবং প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকুন কারণ শীতকালে প্রচন্ড ঠান্ডার কারণে বাতের ব্যথা বেড়ে যেতে পারে।
উপরের এই নিয়মগুলো মেনে চলার পরও যদি আপনার বাতের ব্যথা কম না লাগে এবং প্রচন্ড ব্যথা করে তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এখন চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেক উন্নত হয়েছে। তাই অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে আপনি বাতের ব্যথা থেকে মুক্তি পাবেন।
সচার আচার প্রশ্নাবলি ও উত্তর
১. বাতের ব্যথার জন্য কোন ডাক্তার দেখানো উচিত ?
আপনার যদি বাতের ব্যথা হয়ে থাকে এবং অতিরিক্ত ব্যথা অনুভব করেন তবে অবশ্যই একজন অথোপেডিক বিশেষজ্ঞর সাথে পরামর্শ করুন।
২. বাত কত ধরনের হয় ?
বাত বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে যেমন অস্তি ও আর্থাইটিস, রিউমাটয়েড আথাইটিস, গাউট, সারি আর্থাইটিস, লুপাস, লোম্বার স্পন্ডাইলোসিস।
৩. গেটে বাদ কেন হয় ?
গেটে বাত সাধারণত ইউরিক অ্যাসিড নামের একটি পদার্থের অতিরিক্ত উপস্থিতির কারণে হয়ে থাকে।
বাতের ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায়
বাতের ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানুন। বাতের ব্যথা এমন একটি রোগ যা আমাদের হাড় এবং জয়েন্টে প্রচুর পরিমাণে ব্যথা সৃষ্টি করে। যদিও এ সমস্যাটি ৫০ থেকে তারও বেশি বয়সের ব্যক্তিদের হয়ে থাকে।
তবে এখন ২৫ থেকে ৪০ বছরের যুবকদের মধ্যে এই সমস্যাটি দেখা দিচ্ছে। বাতের ব্যথার ফলে জয়েন্টের হাড়ের ভিতরে প্রচুর ব্যথা হয় এবং সামান্য নাড়াচাড়া দিলেও তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। তাহলে চলুন আজকে এমন কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক যেগুলো বাতের ব্যথা দ্রুত কমাতে আমাদের অনেকটাই সাহায্য করবে।
আদা
আদার সাথে কিছু কালোজিরার গুঁড়ো এবং কিছু গোলমরিচের গুঁড়ো জলে মিশিয়ে দিনে তিনবার আক্রান্ত স্থানে যদি মালিশ করেন তাহলে ব্যথা অনেকটাই কমে আসে। এছাড়া আদা চিবিয়ে খেলেও উপকারী। তাই বাতের ব্যথা কমানোর জন্য প্রতিদিন খেতে পারেন। এতে আপনার শরীরের রক্ত চলাচল অনেকটাই সচল হবে।
আপেল ভিনেগার
বাতের ব্যথা দূর করার জন্য আমাদের কিছু ভিটামিনযুক্ত খাবার খাওয়া প্রয়োজন। কারণ বিভিন্ন ভিটামিনের ঘাটতির কারণেও বাতের ব্যথা সমস্যা দেখা দেয়। আপেল ভিনেগারের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস ও খনিজ পদার্থ। আর এই উপাদান গুলো আমাদের হাড়ের ভিতরের প্রদাহ কমিয়ে বাতের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। আপনি যদি প্রতিদিন সকালে নিয়ম করে এক গ্লাস হালকা গরম পানির সাথে আপেল সিডার ভিনেগার এবং এক চামচ মধু মিশিয়ে পান করেন তবে উপকার পাবেন।
তেল মালিশ
খাঁটি সরষার তেল জয়েন্টের ব্যথার উপরে হালকা গরম করে মালিশ করতে পারেন। এতে জয়েন্টের রক্তের প্রবাহ বেড়ে যায় এবং ব্যথা অনেকটা কমে আসে।
ব্যায়াম
এছাড়া বাতের ব্যথা থেকে মুক্তির জন্য প্রতিদিন নিয়ম করে ব্যায়াম করুন কিংবা হাঁটা চলাফেরা করুন ব্যায়াম করলে শরীলে এবং হাড়ের ভেতরে রক্ত চলাচল বেড়ে যায় এবং হার অনেক মজবুত হয়।
গরম ও ঠান্ডা পানি সেঁক
যে জায়গাতে ব্যথা করে সেখানে হালকা গরম পানি করে একটি পরিষ্কার কাপড় দিয়ে প্রথমে গরম পানি সেঁক দিন এবং পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে সেঁক দিন এতে রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করবে।
রস বাতের লক্ষণ
রস বাতের লক্ষণ সম্পর্কে আমাদের যদি আগে থেকেই ভালোভাবে জানা থাকে তাহলে উন্নত চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব কিংবা বাতের ব্যথা করলে আমরা বুঝতে পারবো এটা কি ধরনের বাত। রস বাদ একটি দীর্ঘ মেয়াদী বাত এবং এই বাত হাত, পা, কব্জি এবং হাটু হাড়ের প্রদাহ সৃষ্টি করে ও প্রচন্ড ব্যথা তৈরি করে। রস বাত একটি অটো ইমিউন্স রোগ যার ফলে দেহের ইমিউন সিস্টেম নিজের হাড়ের জয়েন্টে আক্রমণ করে। চলুন তাহলে রস বাতের কিছু লক্ষণ সম্পর্কে আলোচনা করা যাক।
- আপনার যদি রস বাতের সমস্যা দেখা দেয় তাহলে হাতের পায়ের আঙ্গুল, কব্জি, হাঁটু, ঘাড়ে, জয়েন্টের ভিতরে ব্যথা করে এবং উপরে ফোলা ভাব দেখা দেয়।
- আপনি যদি অনেকক্ষণ ধরে এক জায়গায় বসে থাকেন কিংবা শুয়ে বিশ্রাম নিয়ে থাকেন তাহলে জয়েন্টগুলো শক্ত মনে হয় এবং কিছুক্ষণ পরে আস্তে আস্তে নরম হয়।
- হাড়ের জয়েন্টের প্রদাহ গুলো যদি খুব বেশি হয় তাহলে হালকা জ্বর জ্বর ভাব হতে পারে।
- প্রদাহ গুলো যদি অনেকদিন ধরে ঘাড়ের ভেতরে থাকে তাহলে জয়েন্টের আকৃতি পরিবর্তন হয়ে বিকৃত রূপ ধারণ করে।
- রস বাতের ফলে আপনার হাড়ের ভিতর যদি অনেকদিন ধরে প্রদাহ থাকে তাহলে শরীর দুর্বল ও ক্লান্ত অনুভব হয়।
- এছাড়া আপনি যদি আক্রান্ত স্থানে হাতে স্পর্শ করেন তাহলে অনেক গরম অনুভব হয়।
কি খেলে বাতের ব্যথা বাড়ে
কি খেলে বাতের ব্যথা বাড়ে যারা বাতের সমস্যায় ভুগছেন তাদের অবশ্যই এ বিষয়টি জেনে রাখা উচিত কারণ বাতের ব্যথা এত কষ্টকর যে প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় দুষ্কর হয়ে ওঠে। বিভিন্ন ঠান্ডা জনিত কারণে বাতের ব্যথা হয়ে থাকে কিংবা ভিটামিনের অভাবে কিন্তু কিছু কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন কাঁচা লবণের মধ্যে রয়েছে সোডিয়াম, ক্লোরাইড যা বাতের ব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাবার বাতের ব্যথার রোগীদের না খাওয়াই ভালো।
যেমন বার্গার, চিপস, পপকন, নোনতা খাবার ও বাতের ব্যথার রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত চিনি জাতীয় খাবার ও বাতের ব্যথা বাড়াতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন ঠান্ডা জাতীয় খাবার যেমন আইসক্রিম, ঠান্ডা পানীয়, বাতের সমস্যা বৃদ্ধি করতে পারে। অতিরিক্ত মদ্যপান করলে বাতের ব্যথা বাড়ে। এছাড়া টমেটো, লেবু, আমরা ফল ও শিকড় জাতীয় ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
বাতের ব্যথার ব্যায়াম
বাতের ব্যথার ব্যায়াম সম্পর্কে অনেকেরই অজানা রয়েছে। বাতের ব্যথায় আরোগ্য লাভ করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ব্যায়াম। আগে মনে করা হতো বাতের ব্যথা শুধু বয়স্কদের হয় কিন্তু এখন ইদানিং কম বয়সীরা বাতের ব্যথার সমস্যায় ভুগছেন।
অফিসে দীর্ঘক্ষণ কাজ করার পরে যখন শরীরচর্চার জন্য কোন সময় বের করতে পারেন না এবং শরীরে প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়ামের অভাব, ভিটামিন ডি এর অভাবে বাতের ব্যথা বাড়ছে। তবে শরীরকে নিয়মিত সুস্থ রাখার জন্য এবং বাতের ব্যথা থেকে মুক্ত করার জন্য অবশ্যই ব্যায়াম জরুরী। চলুন তাহলে জেনে নেই বাতের ব্যথা সারাতে কিভাবে ব্যায়াম করবেন।
পুশ আপ স
পুশ আপস এমন একটি বায়াম যা আমাদের মাংসপেশিগুলো মজবুত ও শক্ত করতে সাহায্য করে। প্রথমে আপনি উবুর হয়ে মাটির দিকে মুখ করে শুয়ে পড়ুন তারপর মাটিতে হাত এবং পায়ের আঙ্গুলে ভর করে পুরো শরীর সমান্তরালভাবে উঠিয়ে রাখুন এবং বারবার হাত ভাজ করে দেহ নিচের দিকে আনুন এবং আবার ওপরের দিকে নিয়ে যান। তবে যদি প্রথম অবস্থায় এভাবে ব্যায়াম করতে আপনার অসুবিধা হয় তবে দাঁড়িয়ে থেকেও এ ব্যায়ামটা করতে পারেন।
লেগ রেজ
মাটির ওপরে সোজা হয়ে শুয়ে আপনার দুই হাতের তালু সোজা করে মেঝেতে রাখুন এরপর পা আস্তে আস্তে উপরের দিকে তুলুন মাটি থেকে অন্তত ৪৫ ডিগ্রি উপরে পা তুলে রাখা ভালো। এভাবে পাঁচ সেকেন্ড কিংবা আপনি যতক্ষণ পারেন ততক্ষণ পা রাখতে পারেন তারপর আস্তে আস্তে আবার নামিয়ে দিন এভাবেই দুই পায়ে একটু একটি করে ব্যায়াম করতে পারেন তবে শুরুর দিকে অল্প সময় নিয়ে ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন আস্তে আস্তে সময় বাড়াতে পারেন।
হাফ স্কোয়ারড
এই ব্যায়ামটি করার জন্য হাত দুটো সামনের দিকে তুলে রাখুন আপনি যদি চান তবে হাত মোটা অবস্থায় রাখতে পারেন। এবার আস্তে আস্তে বসার চেষ্টা করুন তবে পুরোটা বসবেন না অর্ধেক বসার পরে আবার উঠে দাঁড়ান। এভাবে পাঁচ বার প্রথমে চেষ্টা করুন এবং প্রতিদিন একটু একটু করে সময় বাড়ান ব্যায়মটি করার ফলে আপনার শরীরে ব্যথা হতে পারে তবে প্রথম প্রথম ব্যথা হলেও অভ্যাস হয়ে গেলে তখন আর ব্যথা অনুভব হবে না।
বাতের ব্যথা কোথায় কোথায় হয়
বাতের ব্যথা কোথায় কোথায় হয় সে সম্পর্কে যদি আপনার আগে থেকে জানা থাকে তাহলে শরীরের কোন স্থান ব্যথা করলে কিংবা কোন জয়েন্টে ব্যথা করলে আপনি বুঝতে পারবেন এটা বাতের ব্যথা না অন্য কারণে ব্যথা করছে। বাতের ব্যথা খুব তীব্র হয়ে থাকে। বাতের ব্যথা সাধারণত হাড়ের জয়েন্টে প্রদাহ সৃষ্টির করে। বাতের ব্যথা কোথায় কোথায় হয় সে সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।
- বাতের ব্যথা সবচাইতে বেশি আক্রান্ত হয় পায়ের হাঁটু, হাড়ের বিভিন্ন জয়েন্টে বাতের ব্যথা হয়। আর বাতের ব্যথা হলে হাঁটা, বসা কিংবা ওঠার সময় হাঁটুর জয়েন্টে প্রচুর চাপ পড়ে।
- হাতের কনুইতে বাতের ব্যথা হতে পারে এর ফলে হাতের কনুই সোজা বা বাঁকা করতে কষ্ট হয়।
- সময় সময় ঘাড়ের উপরে, কাঁধে, বাতের ব্যথা হতে পারে। এতে ঘাড় ঘোরাতে কষ্ট হয়।
- অনেক সময় অনেক জনের কোমরে বাতের ব্যথা হতে পারে।
- এছাড়া পায়ের গোড়ালি ও হাতের কব্জিতেও বাতের ব্যথা সমস্যা দেখা দিতে পারে এর ফলে হাতের কব্জি ও পায়ের গোড়ালি প্রচন্ড ব্যথা করে ও চলাফেরা কষ্ট হয়ে যায়।
আমাদের শেষ কথা - গেটে বাতের ঘরোয়া চিকিৎসা
প্রিয় পাঠক, আপনি যদি আমাদের আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খুব মনোযোগ সহকারে পড়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই গেটে বাতের ঘরোয়া চিকিৎসা সহ আরো অনেক বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। বাত একটি খুবই কষ্টদায়ক সমস্যা। যার বাতের ব্যথা আছে সেই বুঝে বাতের ব্যথার কষ্ট কি।
আরো পড়ুন: পায়ের মাংসপেশী কামড়ানোর কারণ
আপনি যদি বাতের ব্যথার সমস্যায় ভুগে থাকেন তাহলে উপরের পদ্ধতি গুলো মেনে চলতে পারেন। এতে বাতের ব্যথা থেকে আরাম পাবেন। আর আপনার যদি এমন স্বাস্থ্য বিষয়ক আরো তথ্য সম্পর্কে জানার থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের ওয়েবসাইটটি ফলো দিয়ে রাখুন। কারণ আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের ওয়েবসাইটে এরকম স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য প্রকাশ করে থাকি।
বিডি অনলাইন আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url