আসল এ্যালোভেরা জেল চেনার ৬টি উপায়

আসল এ্যালোভেরা জেল চেনার উপায় সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন? তাহলে আমাদের আজকের আর্টিকেলটি আপনাকে মনোযোগ সহকারে পড়ে নিতে হবে।
আসল এ্যালোভেরা জেল
আপনি যদি অ্যালোভেরা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান তাহলে আজকের সম্পূর্ণ আর্টিকেল জুড়ে আমাদের সঙ্গেই থাকুন।
পেজ সূচিপএ

আসল এ্যালোভেরা জেল চেনার উপায়

আসল এ্যালোভেরা জেল চেনার উপায় সম্পর্কে এখন আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব। আসল এ্যালোভেরা জেল চেনার জন্য কিছু বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করতে হয়। বাজারে যেসব অ্যালোভেরা জেল পাওয়া যায় সেসব অ্যালোভেরা জেল আসল কিংবা নকল চেনা আমাদের আমাদের অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে যায়। এখানে কিছু আসল এ্যালোভেরা জেল চেনার উপায় সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

রং
আসল এ্যালোভেরা জেলের প্রাকৃতিকভাবে যে রং হয় সেটা কিছুটা হালকা ঘোলাটে সাদা কিংবা সামান্য সবুজ বর্ণের হয়ে থাকে। এটি গাঢ় সবুজ রঙের হয় না কারণ অতিরিক্ত গাঢ় কিংবা সবুজ রং যদি হয়ে থাকে তাহলে সেই জেলে কেমিক্যাল যুক্ত হতে পারে।

গন্ধ
যেসব এ্যালোভেরা জেল প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হয় সেগুলোতে সাধারণত প্রাকৃতিক গন্ধ এবং খুব হালকা এ্যালোভেরা জেলের গন্ধ থাকে আর যেসব এ্যালোভেরা জেল কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি করা হয় সেগুলো প্রচুর সুগন্ধ হয়।

টেক্সচার
আসল এ্যালোভেরা জেল চেনার উপায় হল এটি সাধারণত আঠালো এবং ঘন হয়। যদি এ্যালোভেরা জেল খুব বেশি পাতলা কিংবা খুব বেশি ঘন হয় তাহলে বুঝে নিতে হবে অ্যালোভেরা জেলটির মধ্যে ভেজাল আছে।

উপাদান তালিকা
এ্যালোভেরা কেনার সময় অবশ্যই উপাদান তালিকা পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। প্রাকৃতিক এ্যালোভেরা জেল গুলোতে সাধারণত এ্যালোভেরা এক্সট্র্যাক্টের পরিমাণ বেশি হয়ে থাকে তবে যদি এ্যালোভেরা জেল এর মধ্যে দীর্ঘ তালিকার কেমিক্যাল বা প্রিজারভেটিভস থাকে তবে সেটা খাঁটি নাও হতে পারে।

লেভেল ও ব্যান্ড
অবশ্যয় নির্ভরযোগ্য ও পরিচিত ব্যান্ড থেকে এ্যালোভেরা জেল কিনার চেষ্টা করুন। কারণ নির্ভরযোগ্য ব্যান্ডগুলোতে খাঁটি এ্যালোভেরা জেল বিক্রি করা হয় এবং তাদের লেভেলের প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী দেওয়া থাকে।

ব্যবহারের পর অনুভূতি
এ্যালোভেরা জেল যদি আসল হয়ে থাকে তবে অবশ্যই ত্বকে ব্যবহারের পর ত্বক ঠান্ডা, আরামদায়ক হবে এবং এ্যালোভেরা জেল ত্বকে দেওয়ার পর জেলগুলো খুব দ্রুত ত্বকে শুকিয়ে যাবে।

এ্যালোভেরা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

অ্যালোভেরা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আজকে আপনাদের জানানোর চেষ্টা করব। আর্টিকেলের ওপরের অংশে আমরা আপনাদের আসল এ্যালোভেরা জেল চেনার উপায়  সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছি। 
অ্যালোভেরার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ উপাদান এবং এটি ওষুধি গুণসম্পূর্ণ গাছ। বিভিন্ন আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরি করতেও অ্যালোভেরা ব্যবহার করা হয়। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং চুল ও ত্বকের যত্নেও অ্যালোভেরা জেলের কোন জুড়ি নেই। চলুন তাহলে জেনে নেই অ্যালোভেরা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে।

অ্যালোভেরা খাওয়ার উপকারিতা
প্রথমে আমরা অ্যালোভেরা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জানব। এ্যালোভেরা মধ্যে রয়েছে নানান ধরনের ভিটামিন ও পুষ্টিগুণ যেমন ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই এবং ভিটামিন ১, ভিটামিন বি ২, ভিটামিন বি ৩, ভিটামিন বি ৬ ও ভিটামিন বি ১২। 

এছাড়া আরো রয়েছে আয়রন, পটাশিয়াম অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাগানিজ, সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, জিংক ইত্যাদি ভিটামিন। আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় সব অ্যামাইনো এসিড রয়েছে এ্যালোভেরা মধ্যে। প্রায় ১৮ থেকে ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিড এ্যালোভেরা জেলের মধ্যে রয়েছে।

  • এ্যালোভেরার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের উপাদান যা আমাদের হজম শক্তি বাড়ায় শরীরের সারাদিনের ক্লান্তি দূর করে। সকালে এক গ্লাস এ্যালোভেরা জেল পেট পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।
  • যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে প্রতিদিন এ্যালোভেরা জেল খেলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং উচ্চ রক্তচাপ কমায়। এছাড়া ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে এ্যালোভেরার গুরুত্ব অনেক।
  • নিত্য দিনের খাবারের ফলে আমাদের শরীরে অনেক ধরনের দূষিত কিংবা ক্ষতিকর পদার্থ প্রবেশ করে আর এ ক্ষতিকর পদার্থ গুলোকে খারাপ টক্সিন হিসেবে বের করে দেয় এ্যালোভেরা রস।
  • অ্যালোভেরা জেল এর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে জল আর অতিরিক্ত পরিমাণে জল থাকার ফলে এটি শরীরকে হাইড্রেশন রাখে। তাছাড়া এ্যালোভেরা জেলের মধ্যে থাকা ১৮ পদার্থ আমাদের পাকস্থলী ও খাদ্যনালী পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।
  • এ্যালোভেরা জেল যদি আপনি আপনার শরীরের কোন প্রদাহ কিংবা ক্ষতস্থানে ব্যবহার করেন তাহলে খুব ভালো উপকার পাওয়া যায় এবং খুব তাড়াতাড়ি ক্ষত সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে।
  • এ্যালোভেরা জেল আমাদের শরীরের সাদা ব্লাড সেল গঠন করতে সাহায্য করে যা আমাদের শরীরের ক্ষতিকর ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে।
  • এ্যালোভেরার মধ্যে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা আমাদের হাড় ও মাংসপেশীকে শক্তিশালী করে তোলে এছাড়া হৃৎপিণ্ডের বিভিন্ন সমস্যাও দূর করে।
  • প্রতিদিন অ্যালোভেরা জুস খাওয়ার ফলে আমাদের শরীরের অতিরিক্ত বাড়তি ওজন দূর হয় এবং খুব দ্রুত ওজন কমে আসে। কারণ এ্যালোভেরা জুসের মধ্যে রয়েছে এন্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান
  • এছাড়া এ্যালোভেরা জেল আমাদের ত্বক ও চুলের জন্য বিশেষ উপকারী। প্রতিদিন অ্যালোভেরা জেল সরাসরি কিংবা ফেসপ্যাক বানিয়ে আপনি আপনার ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন এতে ত্বকের ব্রনের দাগ, চুলকানি, রোদে পোড়া দাগ ও বিভিন্ন ধরনের দাগ দূর করতে সাহায্য করে এবং ত্বককে উজ্জ্বল ও মসৃন করে তুলে। এছাড়া প্রতিদিন এ্যালোভেরা জেল চুলে ব্যবহার করলে চুলের গোড়া মজবুত হবে, চুল দ্রুত বৃদ্ধি পাবে, চুলের খুশকি দূর হবে এবং চুল পড়া অনেকটাই কমে যাবে।

এ্যালোভেরা খাওয়ার অপকারিতা
এ্যালোভেরা খাওয়ার উপকারিতা ও আসল এ্যালোভেরা জেল চেনার উপায় সম্পর্কে আমরা উপরে জেনেছি এখন আমরা জানব এ্যালোভেরা খাওয়ার অপকারিতা সম্পর্কে প্রত্যেকটি খাবারই যেমন উপকারিতা রয়েছে তেমন কিছু কিছু ক্ষতিও হতে পারে। আসুন তাহলে জেনে নেই অ্যালোভেরা খেলে আপনার শরীরে কি কি ক্ষতি হতে পারে।

  • যাদের এলার্জি সমস্যা রয়েছে তাদের এ্যালোভেরা খাওয়ার পরে এলার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি ত্বকে চুলকানি হতে পারে। টক লালচে হয়ে যেতে পারে কিংবা পেটের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • গর্ভাবস্থায় অবশ্যই এ্যালোভেরা জেল কিংবা জুস খাওয়ার ব্যাপারে সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে ভালো একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে এ্যালোভেরা রস খাওয়া উচিত। কারণ গর্ভাবস্থায় এ্যালোভেরা খাওয়ার ব্যাপারে ডাক্তাররা বিশেষ সতর্কতা দিয়েছেন।

খালি পেটে এ্যালোভেরা খেলে কি হয়

খালি পেটে এ্যালোভেরা খেলে কি হয় সে সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই অজানা রয়েছে। খালি পেটে এ্যালোভেরা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য যে কতটা উপকারী তা হয়তো আমরা অনেকেই জানিনা। এমনকি অনেকেই রয়েছেন যারা এ্যালোভেরা খাবার হিসেবে খাওয়া যায় সে সম্পর্কেই ধারণা নেই। অ্যালোভেরা একটি পুষ্টি সম্পন্ন উপকারী খাবার তবে এ্যালোভেরা খালি পেটে খেলে আরো বেশি উপকার হয়। 

সকালে ঘুম থেকে উঠে সর্বপ্রথম আপনি কি খাচ্ছেন এ বিষয়টি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ কারন সারারাত আমাদের পেট খালি থাকার পর আমাদের সকালে এমন কিছু খাওয়া উচিত যাতে আমাদের শরীর যথেষ্ট পরিমাণে পুষ্টিগুণ পায় এবং সারাদিন শরীর সুস্থ থাকে। সে ক্ষেত্রে আপনি সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা করার আগে এক গ্লাস এ্যালোভেরা শরবত খেতে পারেন। এ্যালোভেরায় রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, মিনারেল, ভিটামিন।

হজম শক্তি বৃদ্ধি করে
এ্যালোভেরা জেল আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। যারা কোষ্ঠকাঠিন্য মত সমস্যায় ভুগছেন তারা প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস খালি পেটে এ্যালোভেরার শরবত খেতে পারেন।

হাইড্রেশন
পুষ্টিবিদরা বলেন অ্যালোভেরার মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণে পানি রয়েছে। সকালে এক গ্লাস এ্যালোভেরার রস খেলে সারাদিনের পানির চাহিদা পূরণ হয় এবং শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের হয়ে যায় এছাড়া ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করে। অ্যালোভেরা শরবত শরীরের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান
এ্যালোভেরা মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পুষ্টি উপাদান যা আমাদের শরীর সুস্থ রাখতে যথেষ্ট এ ছাড়া এ্যালোভেরাতে রয়েছে খুব অল্প পরিমাণে ক্যালরি। তাই নিয়মিত অ্যালোভেরা খেলে আমাদের প্রয়োজনীয় সব পুষ্টির ঘাটতি পূরণ হয়।

ত্বকের যত্ন
ত্বকের যত্নে এ্যালোভেরা জেলের কোন তুলনা হয় না। আমাদের ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে প্রতিদিন নিয়ম করে এ্যালোভেরা পেস্ট মাখা যায়। অ্যালোভেরার মধ্যে রয়েছে ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা আমাদের ত্বক ভালো রাখতে অতি গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া ত্বকের বিভিন্ন দাগ এবং ব্রণের সমস্যা দূর করতে এ্যালোভেরা ব্যবহার করুন।

শুধু এ্যালোভেরা মাখলে কি হয়

শুধু এ্যালোভেরা মাখলে কি হয় সে সম্পর্কে আপনি যদি জানতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে এ্যালোভেরা মধ্যে ত্বকের জন্য কি কি পুষ্টিগুণ রয়েছে সে সম্পর্কে আগে জানতে হবে। অ্যালোভেরার মধ্যে রয়েছে এন্টি ইনফ্লেমেটরি ও এন্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান। 

এন্টি ইনফ্লেমেটরি ও এন্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান আমাদের ত্বক থেকে ব্রণের দাগ কমাতে এবং ত্বকের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের জীবাণু নষ্ট করে ত্বকের ভেতর থেকে ব্রণ বের হতে বাধা দেয়। আপনি যদি এ্যালোভেরা জেল দিয়ে ত্বকের যত্ন নিতে চান তাহলে অবশ্যয় আসল এ্যালোভেরা জেল চেনার উপায় সম্পর্কে আগে ভালো জেনে নিবেন।
আসল এ্যালোভেরা জেল চেনার ৬টি উপায়
এছাড়া আপনার মুখে যদি কুঁচকে যাওয়া চামড়া থাকে তাহলে এ্যালোভেরা জেল বের করে আইস বানিয়ে তা মুখে মালিশ করতে পারেন। অ্যালোভেরার মধ্যে রয়েছে ভিটামিন ই, বিটা ক্যারোটিনযুক্ত ও ভিটামিন সি ত্বকের মধ্য থেকে বয়সের ছাপ দূর করতে এবং ত্বকের কালো ভাব দূর করে। ত্বককে লাবণ্য করতে এ্যালোভেরা জেল সাথে ভিটামিন ই ক্যাপসুল মিশিয়ে ত্বকে আলতোভাবে লাগাতে পারেন।

এ্যালোভেরা জেল চুলে মাখার নিয়ম

এ্যালোভেরা জেল চুলে মাখার নিয়ম রয়েছে অনেকগুলো। এ্যালোভেরা জেল চুলের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এ্যালোভেরা জেল চুলে মাখলে চুল স্বাস্থ্যকর ও মজবুত হয়। এ্যালোভেরা জেল প্রতিনিয়ত চুলে মাখলে চুলের ভেতরে থাকা খুশকি গুলো দূর হয় এবং ত্বকের সংক্রমণ রোধ করে ও মাথার ত্বক পরিষ্কার হয়। প্রতিদিন এ্যালোভেরা জেল ব্যবহারের ফলে চুল চকচকে ও মসৃণ হয়। 

এ্যালোভেরা জেল এর মধ্যে থাকা এনজাইম এবং এ্যালোভেরার মধ্যে থাকা ভিটামিন গুলো চুল পড়া কমাতে ও চুলের গোড়া শক্তিশালী করে চুল ভাঙ্গা কমায়। আসলেই এক কথায় বলতে গেলে এ্যালোভেরা জেল আমাদের চুলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সমাধান দিয়ে থাকে এবং চুলের কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে। আসুন তাহলে জেনে নেই অ্যালোভেরা জেল চুলে মাখার নিয়ম সম্পর্কে।

  • এ্যালোভেরা ডাল থেকে সরাসরি জেল বের করে চুলের ত্বকে খুব ভালোভাবে মেসেজ করে ত্রিশ মিনিট রেখে দিন এবং চুল খুব ভালোভাবে শ্যাম্পু করে নিন। এই জেল ব্যবহারের ফলে আপনার চুলে ত্বকে পুষ্টি আসবে এবং চুলের খুশকি কমাবে।
  • এ্যালোভেরা জেলের সাথে নারিকেল তেল মিশিয়ে চুলে মেসেজ করুন এবং খুব ভালোভাবে যেন জেলগুলো চুলের ত্বকে প্রবেশ করে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন এবং ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করার পর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন এভাবে এ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করলে আপনার চুল দ্রুত বৃদ্ধি হবে এবং চুলের গোড়া অনেক মজবুত হবে
  • এ্যালোভেরা জেল এর সাথে লেবুর রস মিশিয়ে মাথার ত্বকে গোসলের এক ঘন্টা আগে খুব ভালোভাবে মেসেজ করুন এবং শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলুন এতে আপনার চুল ঝরঝরে ও খুশকি দূর হবে।
  • অ্যালোভেরা জেল চুলের ত্বকে মেসেজ করে ৩০ মিনিট পর। শ্যাম্পু দিয়ে খুব ভালোভাবে চুল ধুয়ে ফেলুন। তারপর দই এবং এক টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন এবং পুরো চুলে ৩০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। এভাবে এ্যালোভেরা জেল চুলে ব্যবহারের করলে চুল ঝরে পড়া, চুল মসৃণ ও উজ্জ্বল করবে।

অ্যালোভেরা জুস তৈরির নিয়ম

এ্যালোভেরা জুস তৈরির নিয়ম সম্পর্কে যদি আপনার জানা থাকে তাহলে খুব সহজে বাড়িতে এ্যালোভেরা গাছ লাগিয়ে প্রতিদিন জুস বানিয়ে নিজে খেতে পারেন এবং অন্যকে বানিয়ে দিতে পারেন। অ্যালোভেরার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ উপাদান ও ভিটামিন। তাই আমাদের প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস খালি পেটে খাওয়া এ্যালোভেরা জুস অবশ্যই খাওয়া উচিত। আসুন তাহলে জেনে নেই এ্যালোভেরা জুস তৈরির নিয়ম সম্পর্কে।

  • একটি ছোট পাত্রে পানি নিয়ে এক চা চামচ তোকমা দানা ভিজিয়ে রাখতে হবে।
  • একটি এ্যালোভেরা পাতা নিন এবং খুব ভালোভাবে ধুয়ে পাতার দুই সাইড একটি ছুরি সাহায্যে কেটে নিন তারপর উপর থেকে উপরের চামড়াটা ছুড়ির সাহায্যে আস্তে আস্তে তুলে নিন। লক্ষ্য রাখবেন নিচের এ্যালোভেরা জেল যেন চামড়ার সাথে উঠেনা আসে।
  • এবার একটি কাটা চামচের সাহায্যে জেলগুলো আস্তে আস্তে কেটে নিতে হবে।
  • তারপর জেলটা পাঁচ থেকে ছয় মিনিট একটি চামচের সাহায্যে খুব ভালোভাবে এ্যালোভেরা জেল গুলিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে নিতে হবে।
  • তারপর আগে থেকে ভিজিয়ে রাখা তোকমা দানা গুলো এবং এক চামচ লেবুর রস দিয়ে সামান্য পরিমাণ বিট লবণ দিয়ে সবটি উপকরণ খুব ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে।
আপনি যদি এভাবে জুস খেতে অপছন্দ করেন তবে এতে একটু চিনি মিশিয়ে নিতে পারেন তবে চিনি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক তাই চিনি ছাড়াই খাওয়ার অভ্যাস করুন। এতে বেশি উপকার পাবেন আর বিশেষ করে যারা ডায়াবেটিসের রোগী রয়েছেন তাদের জন্য সকালে খালি পেটে অ্যালোভেরার জুস ঔষধি হিসেবে কাজ করে।

রূপচর্চায় এ্যালোভেরা জেল

রূপচর্চায় এ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করা হয় এই কথাটা আমরা প্রায় সবাই জানি। যারা বিশেষ করে নিজের ত্বক নিয়ে অনেক বেশি উৎসাহিত তাদের রূপচর্চায় এ্যালোভেরা জেল সম্পর্কে কোন কোন ধারণা অবশ্যই রয়েছে। তবে কিভাবে সঠিক নিয়মে এ্যালোভেরা জেল মুখে ব্যবহার করতে হয় সে সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই ধারণা নেই। 
এ্যালোভেরা জেল আমাদের ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে এবং এর ভিটামিন এ, বি, সি উপাদান ত্বকের পুষ্টি যোগায়। এ্যালোভেরা জেল রূপচর্চায় প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয়। ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে এবং ত্বককে উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যকর রাখতে এ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করা উচিত। নিচে রূপচর্চায় এ্যালোভেরা জেল এর কিছু ব্যবহার উল্লেখ করা হলো।

  • ত্বক প্রথমে ভালো করে পরিষ্কার করে সরাসরি এ্যালোভেরা জেল মুখে লাগিয়ে হালকাভাবে মেসেজ করতে হবে। এটি ত্বকের ওপরে ময়শ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে। এটি আপনি সপ্তাহে সাত দিনই গোসলের আগে মেসেজ করতে পারেন।
  • এ্যালোভেরা এবং মধু খুব ভালোভাবে একসাথে মিশিয়ে নিয়ে মুখের ত্বকে ও গলায় লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। বিশ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই ফেসপ্যাকটি আপনার ত্বককে নরম ও কোমল করবে। এটি আপনি সপ্তাহে তিন দিন ব্যবহার করতে পারেন এতে বেশ উপকার পাবেন।
  • এ্যালোভেরা জেল ও হলুদ খুব ভালোভাবে মিশিয়ে ত্বকে ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন এবং হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এই ফেসপ্যাকটি আপনার ত্বকে উজ্জ্বল ও মসৃন করবে। এই ফেসপ্যাকটি আপনি সপ্তাহে একদিন ব্যবহার করতে পারেন।
  • এ্যালোভেরা জেল এর সাথে এক চামচ লেবুর রস মিশিয়ে ১০মিনিট আপনার ত্বকে লাগিয়ে অপেক্ষা করুন এবং তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই ফেসপ্যাকটি আপনার মুখের দাগ দূর করতে সাহায্য করবে এবং ত্বক উজ্জ্বল হবে। এই ফেসপ্যাকটি আপনি সপ্তাহে তিন দিন ব্যবহার করতে পারেন এতে বেশ উপকার পাবেন।
  • অ্যালোভেরা জেল এর সাথে গোলাপজল মিশিয়েও আপনি ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন এতেও বেশ উপকার পাবেন। দুটি মিশ্রন একসাথে করে খুব ভালোভাবে মুখের ত্বকে লাগিয়ে বিশ মিনিট অপেক্ষা করার পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এ ফেস প্যাকটি নিয়মিত মুখে ব্যবহার করলে মুখ ময়শ্চারাইজার হবে, অনেক বেশি ফর্সা হবে। এই ফেসপ্যাকটি আপনি সপ্তাহে দুই দিন ব্যবহার করতে পারেন।

পুরুষদের জন্য এ্যালোভেরার উপকারিতা

পুরুষদের জন্য এ্যালোভেরার উপকারিতা ও রয়েছে অনেক। শরীরকে শক্তিশালী এবং সুস্থ রাখতে চাইলে অবশ্যই পুরুষদের প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস এ্যালোভেরা জুস খাওয়া উচিত। এ্যালোভেরা জুস পুরুষদের শরীরের যৌবন ধরে রাখতে সাহায্য করে এছাড়া পুরুষদের ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দূর করতেও অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করতে পারে। অ্যালোভেরার মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন, মিনারেল, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই ও ভিটামিন বি। 

এছাড়া এ্যালোভেরার মধ্যে রয়েছে ফলেট (ভিটামিন বি নাইন)। এ্যালোভেরার মধ্যে রয়েছে এন্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান যা পুরুষদের ত্বকের প্রদাহ কমাতে এবং ব্রণের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের সাহায্য করে। এ্যালোভেরা জেল ত্বককে মশ্চারাইজ করে যার ফলে ত্বক নরম ও মসৃণ থাকে। এছাড়া এ্যালোভেরার মধ্যে কুলিং প্রপার্টিজ উপাদান রয়েছে যা সূর্যের পোড়া ভাব থেকে ত্বককে রক্ষা করে। অ্যালোভেরা জেল শুধু পুরুষদের ত্বকের জন্য উপকারী না অ্যালোভেরা জেল চুলের যত্ন ব্যবহার করা যেতে পারে। 

এ্যালোভেরা জেল প্রতিদিন ব্যবহার করলে চুলের গোড়া প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ হয়। চুলের গোড়া মজবুত হয় এবং চুলের ত্বকের বিভিন্ন ধরনের এন্টিফাঙ্গাল কিংবা খুশকি কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন খালি পেটে এক গ্লাস এ্যালোভেরা জুস খেলে আমাদের পুরুষদের হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। কোষ্ঠকাঠিন্যের মত কঠিন সমস্যা থেকেও সমাধান দিয়ে থাকে এ্যালোভেরা।

গর্ভাবস্থায় এ্যালোভেরা রস খাওয়ার উপকারিতা

গর্ভাবস্থায় অ্যালোভেরা রস খাওয়ার উপকারিতার বিষয়ে অবশ্যই কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। যদি এ্যালোভেরা রসের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে অনেক পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে তবে গর্ভাবস্থায় এটি খাওয়ার বিষয় অনেক মতবিরোধ রয়েছে। 
গর্ভাবস্থায় এ্যালোভেরা রস খাওয়ার উপকারিতা
এ্যালোভেরা জেল আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী অবশ্যই তবে একজন গর্ভবতী নারীর জন্য অ্যালোভেরা জেল খাওয়া নিরাপদ কিনা এ সম্পর্কে আমাদের আগে চিন্তা ভাবনা করা দরকার। এ্যালোভেরা রসের মধ্যে থাকা কিছু শক্তির যৌগ আমাদের গর্ভকালীন সময় গর্ভপাতের সম্ভাবনা অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়।

গর্ভাবস্থায় অ্যালোভেরা রস খাওয়ার সম্ভাব্য উপকারিতা
  • গর্ভাবস্থায় খুব অল্প পরিমাণে এ্যালোভেরা রস খেতে পারেন। তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী গর্ভাবস্থায় অ্যালোভেরা রস খাওয়ার উচিত তাহলে এ্যালোভেরা রস থেকে গর্ভাবস্থায় কিছু সম্ভাব্য উপকারিতা পেতে পারেন।
  • গর্ভাবস্থায় অ্যালোভেরা রস খেলে পাচনতন্ত্রের সমস্যা কিছুটা কম হতে পারে যেমন কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। তবে হালকাভাবে এ্যালোভেরা রস খেতে হবে। এ্যালোভেরা রসের মধ্যে ল্যাক্সেটিভ থাকে। আর গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত পরিমাণে ল্যাক্সেটিভ খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।
  • এ্যালোভেরা রসের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে তবে এই বিষয়ে আরো অনেক গবেষণার প্রয়োজন।
  • এ্যালোভেরা রসের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পানি। তাই এ্যালোভেরা রস খেলে শরীর হাইড্রেট থাকে।
সতর্কতা
  • গর্ভাবস্থায় অ্যালোভেরা রস অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে পেটব্যথা, পেট খারাপ, ডায়রিয়া এমনকি ডিহাইড্রেশনও হতে পারে।
  • ইউটেরাইন বৃদ্ধিতে বাধা দিতে পারে এ্যালোভেরা রস যা আমাদের গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ায়।
  • কিছু কিছু ক্ষেত্রে এ্যালোভেরা রস আমাদের গর্ভাবস্থায় রক্তচাপের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
  • আপনি যদি গর্ভবতী হয়ে থাকেন এবং গর্ভাবস্থায় এ্যালোভেরা রস গ্রহন করতে চান তাহলে অবশ্যই একজন ভালো চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিবেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কখনোই গর্ভাবস্থায় এ্যালোভেরা জেল খাবেন না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গর্ভাবস্থায় অ্যালোভেরা রস পান না করার ব্যাপারে বিশেষ সতর্কতা দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। কারণ গর্ভাবস্থায় এ্যালোভেরা জেল খাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকি।

লেখকের শেষ কথা - 

প্রিয় পাঠক, আপনার হয়তো এতক্ষণে জানা হয়ে গেছে আসল এ্যালোভেরা জেল চেনার উপায় সম্পর্কে। এ্যালোভেরা খাবার উপকারিতা, খালি পেটে এ্যালোভেরা খেলে কি হয়, ইত্যাদি আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। এ্যালোভেরা জেল এর মধ্যে রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ উপাদান আপনি যদি প্রতিদিন আপনার খাদ্য তালিকায় এ্যালোভেরা জেল রাখতে পারেন তাহলে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিগুণ উপাদান পাবেন। 

আর্টিকেলটি পুরো পড়ার পরে হয়তো আপনি বুঝতে পেরেছেন অ্যালোভেরা জেল শুধু আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী নয় আমাদের ত্বকের জন্য এ্যালোভেরা জেল বিশেষ উপকারী। ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা আপনি অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করতে পারেন এতে বিশেষ উপকার পাবেন।
আপনি যদি আমাদের এই পুরো পোস্টটি পড়ে থাকেন তাহলে অনেক বেশি উপকৃত হবেন। আজকের লেখা আর্টিকেলটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে আমাদের ওয়েবসাইটটি থেকে নতুন নতুন তথ্য পেতে প্রতিদিন আমাদের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন। আর আর্টিকেল সম্পর্কে আপনার যদি কোন মন্তব্য থেকে থাকে তাহলে কমেন্ট বক্সে জানিয়ে দিবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

বিডি অনলাইন আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url