এলার্জির চিকিৎসায় নিম পাতার ব্যবহার
এলার্জির চিকিৎসায় নিম পাতার ব্যবহার সম্পর্কে আপনার যদি জানা না থাকে তাহলে আমাদের এই পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। আমরা আর্টিকেলে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি।
এই পোস্টে আমরা জানব নিম পাতার রস খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে। তাই আপনি যদি আমাদের আর্টিকেলটি সম্পন্নভাবে পড়েন তাহলে নিশ্চিতভাবে নিম পাতার ব্যবহার সম্পর্কে জানতে পারবেন।
পেজ সূচিপএ
এলার্জির চিকিৎসায় নিম পাতার ব্যবহার
এলার্জির চিকিৎসায় নিম পাতার ব্যবহার একটি প্রাচীন ও প্রাকৃতিক পদ্ধতি যা অনেক দেশেই প্রচলিত। নিম পাতা এলার্জি নিরাময়ের কার্যকরী ভূমিকা পালন করে বলে বিশ্বাস করা হয় কারণ এতে রয়েছে এন্টি ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল এবং এন্টি অক্সিডেন্ট উপাদান যা আমাদের শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে থাকে। এলার্জির চিকিৎসায় নিম পাতার ব্যবহারের কিছু পদ্ধতি নিচে উল্লেখ করা হলো।
নিম পাতার পেস্ট
এলার্জির কারণে যদি ত্বকে চুলকানি বা র্যাশ দেখা দেয় তাহলে নিম পাতার পেস্ট লাগালে ত্বক ঠান্ডা হয়। চুলকানি কমানো জন্য নিম পাতার পেস্ট তৈরি করে ত্বকে প্রয়োগ করতে হয়। ১০ থেকে ১৫ টি নিমপাতা নিন। পাতাগুলো ভালো করে ধুয়ে পেস্ট বানিয়ে নিন। এলার্জির জায়গায় পেট লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর ঠান্ডা কিংবা পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।
নিমপাতার জেল
নিম পাতার জেল ত্বকের জন্য খুব উপকারী। এটি ত্বকের ব্যাকটেরিয়া দূর করতে সাহায্য করে এবং প্রদাহ কমায়। এলার্জি থেকে ত্বকে চুলকানি হলে নিম তেল ত্বকে মেখে রাখতে পারেন।
নিমপাতা দিয়ে স্নান
নিমপাতা পানি দিয়ে স্নান করলে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা যেমন চুলকানি কমে। কিছু নিমপাতা পানিতে ফুটিয়ে নিন। পানি ঠান্ডা হলে পানি দিয়ে স্নান করুন।
নিম পাতার রস খাওয়ার নিয়ম
নিম পাতার রস খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন পাতার রস খেলে নিমপাতার রস থেকে সঠিক উপকার পাওয়া যায়। নিম পাতা থেকে ভালো ফলাফল পেতে সকাল বেলা খালি পেটে কচি নিমপাতার রস খেতে পারেন। তাছাড়া আপনার যদি খালি পেটে নিম পাতার রস খেতে অসুবিধা হয় তাহলে অবশ্যই দিনে যেকোনো সময় নিম পাতার রস খেতে পারে।
নিম পাতার রস খাওয়ার তেমন কোন নিয়ম নেই। তবে সকালে খালি পেটে নিমপাতার রস খেলে অনেক বেশি উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া নিমপাতা গোল-মরিচ ও সামান্য পরিমাণ লবণ মিশিয়ে খেতে পারেন। যারা ডায়াবেটিসের রোগী রয়েছেন তাদের সকাল বেলা খালি পেটে নিমপাতা খেলে অনেক উপকার হয়। নিম পাতার রস পান করা এলার্জির জন্য উপকারী হতে পারে কারণ এটি শরীর থেকে টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে।
আরো পড়ুন: পেয়ারা পাতার তেল বানানোর নিয়ম
প্রতিদিন সকালে খালি পেটে নিমপাতার রস খেলে আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, এবং শরীরের বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। তবে নিম পাতার রস পান করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ এটি শক্তিশালী প্রবাহ ফেলতে পারে আপনার শরীরে। এবং সবার জন্য নিম পাতার রস পান করা উপযুক্ত নাও হতে পারে।
সতর্কতা
- নিমের তিক্ত স্বাদের কারণে সবার কাছে এটি প্রিয় নাও হতে পারে।
- গর্ভবতী মহিলা শিশু এবং কিছু চিকিৎসা অবস্থায় নিমপাতা ব্যবহার করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
- নিম পাতার অতিরিক্ত ব্যবহার কিছু ক্ষেত্রে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ঘটতে পারে যেমন বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া ইত্যাদি।
এভাবে নিমপাতা একটি প্রাকৃতিক উপায়ে হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে তবে সব সময় মনে রাখা উচিত যে প্রাকৃতিক উপাদানগুলো চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করা ভালো।
চুলের যত্নে নিম পাতার ব্যবহার
চুলের যত্নে নিম পাতার ব্যবহার একটি প্রাচীন ও প্রাকৃতিক পদ্ধতি যা চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং চুলের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের সাহায্য করে। নিম পাতায় এন্টি ব্যাকটেরিয়াল, এন্টিফাঙ্গাল এবং এন্টি ইনফ্লেমেটরি গুণ রয়েছে যা খুশি দূর করা, চুল পড়া কমানো, চুলের বৃদ্ধি এবং চুলের শুষ্কতা ও সংক্রমণ রোধ করতে সাহায্য করে।
চুলের যত্নে নিমপাতা ব্যবহারের পদ্ধতি
নিম পাতার পেস্ট নিম পাতার পেস্ট চুলের বিভিন্ন সমস্যায় কার্যকরী হতে পারে যেমন খুশকি এবং মাথার ত্বকের ব্যাকটেরিয়া রোধ করে।
পদ্ধতি
- ১৫/২০ টি তাজা নিমপাতা সংগ্রহ করুন।
- পাতাগুলো ভালোভাবে ধুয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন।
- এ পেস্টটি মাথার ত্বকে লাগান এবং ৩০ মিনিট রেখে দিন।
- ৩০ মিনিট পর হালকা গরম পানি দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলুন।
নিম পাতার তেল
নিম পাতার তেল চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং চুল পড়া কমায়। এটি মাথার ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে এবং ত্বকের গোঁড়া মজবুত করে।
পদ্ধতি
- নিম তেল গরম করে মাথার ত্বকে মেসেজ করুন।
- মাথার ত্বকে লাগানোর পর কমপক্ষে এক ঘন্টা রেখে দিন।
- রাতে লাগিয়ে সকালে ধুয়ে ফেলুন।
- সপ্তাহে ২/৩ বার এই পদ্ধতিতে নিমপাতা ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পেতে পারেন।
নিম পাতার পানি
নিম পাতার পানি খুশকি এবং মাথার ত্বকের সংক্রমণ দূর করতে সাহায্য করে।
পদ্ধতি
- ২০ থেকে ৩০ টি নিমপাতা ২ লিটার পানিতে ১৫ থেকে ২০ মিনিট ফুটিয়ে নিন।
- পানি ঠান্ডা হতে দিন এবং শ্যাম্পু করার পরে নিম পাতার ফুটানো পানি দিয়ে চুল ধুয়ে নিন।
- এটি চুলের শুষ্কতা কমায় এবং খুশকি প্রতিরোধ করে।
নিম ও মেহেদী প্যাক
নিম ও মেহেদী প্যাক চুলের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। এটি চুলকে প্রাকৃতিকভাবে কন্ডিশন করে এবং চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে।
পদ্ধতি
- ১০ থেকে ১৫ টি নিমপাতা এবং ৫ থেকে ৬ টি মেহেদী পাতা একসাথে পেস্ট করে নিন।
- এই পেস্ট চুলের গোড়ায় এবং পুরো চুলে লাগিয়ে এক ঘন্টা রেখে দিন।
- তারপর সাধারণ শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিন।
নিম পাতার রস ও অ্যালোভেরা জেল
নিম পাতার রস এবং এলোভেরা জেল চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং চুলের শুষ্কতা কমাতে সাহায্য করে।
পদ্ধতি
- কিছু তাজা নিমপাতা পেস্ট করে রস বের করে নিন।
- সমপরিমাণ অ্যালোভেরা জেলের সাথে নিম পাতার রস মিশিয়ে চুলে লাগান।
- ৩০ মিনিট রেখে চুল ধুয়ে নিন।
চুলের যত্নে নিম পাতার ব্যবহারে কিছু সতর্কতা
- নিম পাতার তিক্ত স্বাদের কারণে সবার কাছে এটি ভালো নাও লাগতে পারে।
- দীর্ঘদিন ব্যবহারে কারো চুলের রং ফ্যাকাসে হয়ে যেতে পারে।
- যদি নিম ব্যবহারে ত্বকের কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় তাহলে ব্যবহার বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ত্বকে নিম পাতার ব্যবহার
ত্বকে নিম পাতার ব্যবহার সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই অজানা রয়েছে। ত্বক ভালো রাখতে নিম পাতার ব্যবহার হয়ে আসছে বহু যুগ আগে থেকে। প্রতিদিন নিমপাতা ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং ত্বকের ভিতর বিভিন্ন ধরনের জীবাণু দূর করতে সাহায্য করে ও ত্বকের হারানো উজ্জ্বলতা ফিরে আসতে সাহায্য করে।
নিম পাতা মুখের যত্নে একটি প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। নিম পাতা মুখের ত্বকের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া এবং ত্বককে সুস্থ ও পরিস্কার রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু ত্বকে নিম পাতা শুধু ব্যবহার করলেই হবে না নিম পাতা ব্যবহারের সঠিক নিয়ম সম্পর্কে জানতে হবে। আসুন তাহলে জেনে নেই কিভাবে ত্বকে নিমপাতা ব্যবহার করলে নিম পাতা থেকে উপকৃত হতে পারবেন।
ত্বকে নিম পাতা ব্যবহারের পদ্ধতি
নিম পাতার পেস্ট
নিম পাতার পেস্ট ব্রণ এবং ত্বকের অন্যান্য সমস্যার জন্য খুব কার্যকরী। এটি ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে এবং জীবাণু ধ্বংস করে ত্বকের ক্ষত কমায়।
পদ্ধতি
- ১০ থেকে ১৫ টি তাজা নিমপাতা সংগ্রহ করুন।
- পাতাগুলো ভালোভাবে ধুয়ে বিলিন্ডারের সাহায্যে মিশ্রণ করে একটি পেস্ট তৈরি করুন।
- এই পেস্টটি মুখের ব্রণ, দাগ কিংবা সংক্রমিত স্থানে লাগান।
- ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
- সপ্তাহে দুই তিনবার ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।
নিমের ফেসপ্যাক
নিমের ফেসপ্যাক মুখের ত্বক সুস্থ রাখতে সাহায্য করে এবং ত্বককে পরিষ্কার ও উজ্জ্বল করে।
পদ্ধতি
- ২ টেবিল চামচ নিম পাতার গুড়া কিংবা পেস্ট নিন।
- এর সাথে এক টেবিল চামচ মুলতানি মাটি এবং গোলাপজল মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন।
- মুখের সমানভাবে লাগান এবং ২০ মিনিট রেখে দিন।
- শুকিয়ে গেলে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
নিমের স্কাপ
ত্বকের মৃত কোষ দূর করে এবং ত্বককে মসৃণ ও কোমল করে।
পদ্ধতি
- ১ টেবিল চামচ নিম পাতার গুঁড়া, ১ টেবিল চামচ চালের গুড়া এবং ১ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে একটি স্কাপ তৈরি করুন।
- এবং ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
- এটি ত্বকের ব্ল্যাকহেডস এবং ডেড স্কিন সেলস দূর করতে সাহায্য করে।
নিম পাতার টোনার
নিম পাতার টোনার মুখে ত্বকের জন্য কার্যকরী। ছিদ্র পরিষ্কার করে এবং ত্বকের অতিরিক্ত তেল কমাতে সাহায্য করে।
পদ্ধতি
- নিম পাতা পানিতে ফুটিয়ে নিন যতক্ষণ না পানি অর্ধেক কমে যায়।
- ঠান্ডা হলে একটি স্প্রে বোতলে ঢেলে নিন।
- প্রতিদিন মুখ পরিষ্কার করার জন্য স্প্রে করুন।
নিম ও হলুদ প্যাক
নিম ও হলুদের ফেসপ্যাক ত্বকের জীবাণু দূর করে এবং উজ্জ্বল করে।
পদ্ধতি
- এক টেবিল চামচ নিম পাতার পেস্ট এর সাথে এক চা চামচ হলুদের গুঁড়া মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন।
- মুখে লাগিয়ে ১৫/২০ মিনিট রেখে দিন এবং ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
সতর্কতা
- নিম পাতার ব্যবহারে ত্বকে যদি কোন প্রতিক্রিয়া বা এলার্জি দেখা দেয় তাহলে সাথে সাথে ব্যবহার বন্ধ করে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
- ত্বক সুস্থ রাখতে নিম পাতার পেস্ট ব্যবহারের পর মশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
- নিম পাতার ব্যবহারের আগে মুখ পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত যাতে ত্বকের সমস্ত ময়লা দূর হয়ে যায়।
ত্বকের নিম পাতা ও কাঁচা হলুদের ব্যবহার
ত্বকে নিম পাতা ও কাঁচা হলুদের ব্যবহার সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই অজানা। ত্বকে আমরা নিমপাতা ব্যবহার করি এবং কাঁচা হলুদ ও ব্যবহার করি। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না যে নিমপাতা ও কাঁচা হলুদ একসাথে ব্যবহার করলে আমাদের ত্বকের কি কি সমস্যা দূর হতে পারে এবং এই দুইটি উপকরণ একসাথে ব্যবহার করার ফলে আমরা কি কি উপকার পেতে পারি।
আরো পড়ুন: ড্রাগন ফলের খোসা দিয়ে রূপচর্চা
নিমপাতা এবং কাঁচা হলুদ উভয়ে মুখের দুধ ত্বকের যত্নে অত্যন্ত কার্যকরী প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই দুটি উপাদান মিশিয়ে মুখে ব্যবহার করলে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা যেমন ব্রণের দাগ, কালো দাগ এবং ত্বকের সংক্রমণ কমানোর যেতে পারে। এছাড়া এই দুটি উপাদান ত্বককে উজ্জ্বল ও মসৃণ করতে সাহায্য করে।
নিম পাতা ও কাঁচা হলুদের গুনাগুন
নিম পাতা
- এন্টি ব্যাকটেরিয়াল ও এন্টি ফাঙ্গাস প্রভাব: নিম পাতায় এন্টি ব্যাকটেরিয়াল এবং এন্টি ফাঙ্গাস প্রভাব রয়েছে যা ত্বকের সংক্রমণ প্রতিরোধ করে এবং ব্রণ ও ফুসকুড়ি কমাতে সাহায্য করে।
- এন্টি ইনফ্লেমেটরি: নিম পাতা ত্বকের ক্ষত কমায় এবং ত্বকের লালচে ভাব, চুলকানি কমাতে সাহায্য।
- অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: নিমপাতা ত্বকের বয়স্ক লক্ষণ দূর করতে সাহায্য করে।
কাঁচা হলুদ
- এন্টি ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টিসেপটিক: হলুদের এন্টিফ্লেমেটরি ও এন্টিসেপটিক গুনাগুন ত্বকের প্রদাহ কমায় এবং ত্বকের সংক্রমন দূর করতে সাহায্য করে।
- স্কিন মেকআপ ট্রেনিং: হলুদ ত্বকের কালচে দাগ ও মলিনতা কমিয়ে ত্বককে উজ্জ্বল করে তুলে।
- এন্টিঅক্সিডেন্ট: হলুদ ত্বকের কোষের ক্ষতি প্রতিরোধ করে এবং ত্বকের বয়সজনিত সমস্যা গুলি কমায়।
মুখে নিম পাতাও কাঁচা হলুদ ব্যবহারের পদ্ধতি
উপকরণ
- ১০ থেকে ১৫ টি নিমপাতা
- এক ইঞ্চি কাঁচা হলুদ বা হলুদের গুঁড়া ব্যবহার করলেও হবে।
- এক থেকে দুই টেবিল চামচ গোলাপ জল বা সাদামাটা পানি।
- প্রস্তুত প্রণালী
- নিমপাতা এবং কাঁচা হলুদ ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
- নিমপাতা এবং হলুদ একসাথে পেস্ট তৈরি করে নিন।
- পেস্টটিতে একটু হালকা করে গোলাপজল বা সাদামাটা পানি মিশান।
ব্যবহার পদ্ধতি
- পেস্টটি মুখে ও গলায় সমানভাবে লাগান ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। যতক্ষণ না পেস্টটি শুকিয়ে যায়।
- হালকা গরম পানি দিয়ে আলতো করে মুখ ধুয়ে নিন।
ত্বকে নিমপাতা হলুদ ও মধু ব্যবহারের উপকারিতা
ত্বকে নিমপাতা হলুদ ও মধু ব্যবহারের উপকারিতা রয়েছে অনেক। ত্বকে প্রতিদিন নিমপাতা মধু ও হলুদ একসাথে ব্যবহার করলে ত্বকের ভেতরের বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণু খুব সহজে ধ্বংস হয়ে যায় এবং ত্বক উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে।
আপনি প্রতিদিন গোসলের আগে কিংবা সপ্তাহে দুই দিন ত্বকে নিম পাতা, হলুদ ও মধু একসাথে ব্যবহার করতে পারেন। এতে বেশ উপকার পাবেন। আসুন তাহলে জেনে নেই ত্বকের নিমপাতা, হলুদ ও মধুর জাদুকরি উপকারিতা সম্পর্কে।
- নিম পাতা ও হলুদের মধ্যে থাকা অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল এবং এন্টি ইনফ্লেমেটরি গুনাগুন জীবাণু ধ্বংস করে এবং ব্রনের দাগ কমায়।
- ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে এবং উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে নিম পাতার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুন। ত্বককে উজ্জ্বল ও তরুণ রাখে।
- দাগ ও কালো দাগ কমানো, পিগমেন্টেশন কমাতে সাহায্য করে।
- ত্বকের সংক্রমণ প্রতিরোধ, নিম হলুদ ও মধু ত্বকের ব্যাকটেরিয়া ও ফাংগাস সংক্রমণ প্রতিরোধ করে এবং ত্বকে সুস্থ রাখে।
- প্রদাহ ও চুলকানি কমানো, চুলকানি কমাতে সাহায্য করে। যা একজিমা বা ত্বকের অন্যান্য সমস্যার জন্য উপকারী।
সতর্কতা
- কিছু মানুষের ত্বক নিম পাতা মধু ও হলুদের সাথে প্রতিক্রিয়া করতে পারে। প্রথমবার ব্যবহারের আগে একটি পেস্ট টেস্ট করে নিন।
- শুষ্ক ত্বক যদি ত্বক শুষ্ক হয় তাহলে নিম, মধু ও হলুদ ব্যবহারের পর একটি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। যদি আপনার ত্বকের কোন বিশেষ সমস্যা থাকে তাহলে ব্যবহারের আগে চিকিৎসার পরামর্শ নেওয়া ভালো।
নিম পাতা দিয়ে গোসল করার উপকারিতা
নিম পাতা দিয়ে গোসল করার উপকারিতা রয়েছে অনেক। নিম পাতার পানি দিয়ে গোসল করা একটি প্রাচীন প্রাকৃতিক পদ্ধতি যা ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষা এবং ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ব্যবহার করা হয়। নিম পাতায় অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল, এন্টি ফাংগাস, এন্টি ইনফ্লেমেটরি এবং এন্টিঅক্সিডেন্ট গুনাগুন রয়েছে।
যা ত্বককে সুস্থ, জীবাণু মুক্ত রাখতে সাহায্য করে। এটি ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা যেমন ফুসকুড়ি, চুলকানি, র্যাশ এবং ত্বকের সংক্রমণ দূর করতে সহায়ক। চলুন তাহলে নিমপাতা দিয়ে গোসল করার উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই।
- নিম পাতায় থাকায় এন্টি ব্যাকটেরিয়াল, এন্টি ফাঙ্গাস উপাদান ত্বকের সংক্রমণ প্রতিরোধ করে।এটি ত্বকের ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাক দূর করতে সহায়ক যা সাধারণত ফুসকুড়ি এবং অন্যান্য ত্বকের সমস্যার সৃষ্টি করে।
- নিম পাতায় থাকায় এন্টি ব্যাকটেরিয়াল এন্টিফাঙ্গাস উপাদান ত্বকের সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। ব্যাকটেরিয়া এবং রোগ জীবাণু দূর করতে সহায়তা করে এবং ফুসকুড়ি এবং অন্যান্য ত্বকের সমস্যা দূর করে।
- চুলকানি কমাতে সাহায্য করে। এটি বিশেষ করে গরমে পোকামাকড়ের কামড় এবং একজিমার কারণে হওয়া চুলকানি কমাতে কার্যকর।
- নিম পাতা দিয়ে গোসল করলে মুখে এবং শরীরের ব্রন ও ফুসকুড়ি প্রতিরোধে সাহায্য করে।
- নিমপাতা ত্বকের শুষ্কতা কমাতে এবং মাথার ত্বকের খুশকি দূর করতে সাহায্যকারী। এটি মাথার ত্বকে ময়শ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে এবং খুশকি প্রতিরোধ করে
- নিমপাতা দিয়ে গোসল করলে ত্বকের রং উজ্জ্বল হয় এবং ত্বক মসৃন কোমল থাকে। এটি ত্বকের মলিনতা দূর করতে এবং ত্বককে তরুণ ও সতেজ রাখতে সাহায্য করে।
- নিমপাতা দিয়ে গোসল ছত্রাক সংক্রমণ প্রতিরোধে বিশেষভাবে কার্যকর। এটি দাউদ এবং অন্যান্য ছত্রাক সংক্রমণ প্রতিরোধের সাহায্য করে।
নিম পাতা দিয়ে গোসল করার পদ্ধতি
- নিমপাতা নিন এবং ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
- একটি বড় পাত্রে দুই তিন লিটার পানি দিয়ে নিমপাতা দিয়ে ফুটিয়ে নিন। পানি ১০ থেকে ১৫ মিনিট ফুটিয়ে গাঢ় সবুজ হয়ে গেলে চুলা বন্ধ করে দিন।
- পানি ঠান্ডা হতে দিন এবং নিম পাতা গুলো ছেঁকে ফেলে দিন।
- গোসল করার সময় ব্যবহার
- গোসল করার সময় প্রস্তুত করার নিমপাতা পানি ব্যবহার করুন।
- এটি সরাসরি শরীরের ঢেলে বা কাপড়ের সাহায্যে ত্বকে লাগান।
- ১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন শরীর ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
সতর্কতা
- নিম পাতার ব্যবহারে কারো যদি এলার্জি বা ত্বকের সমস্যা দেখা দেয় তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
- গর্ভবতী নারী এবং শিশুরা নিম পাতা দিয়ে গোসল করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।
- নিমপাতা দিয়ে গোসল করার পর মশ্চারাইজার ব্যবহার উচিত।
লেখক এর শেষ কথা - এলার্জির চিকিৎসায় নিম পাতার ব্যবহার
এলার্জির চিকিৎসায় নিম পাতার ব্যবহার সম্পর্কে হয়তো আপনি এতক্ষণে জেনে গেছেন। আর যদি এলার্জির সমস্যা নিম পাতার ব্যবহার সম্পর্কে আপনার ভালোভাবে জানা না থাকে তাহলে পুরো আর্টিকেলটি আবার খুব মনোযোগ সহকারে পড়ুন। নিম পাতা রস যেমন আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ উপকারী তেমন নিমপাতা ত্বকের যত্ন বিশেষ উপকারী। তাই প্রতিদিন অবশ্যই নিমপাতা ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।
সকালে খালি পেটে খুব স্বল্প পরিমাণে হলেও নিমপাতার রস খাওয়ার অভ্যাস করুন। তবে অবশ্যই নিমপাতা খাওয়ার আগে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নেবেন। কারণ নিম পাতা অতিরিক্ত গ্রহনের ফলে আপনার উপকারের চাইতে অপকার হতে পারে বেশি।
তাই নিম পাতা খাওয়ার আগে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করুন। আর এলার্জির চিকিৎসায় নিম পাতার ব্যবহার সম্পর্কিত আর্টিকেলটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের ওয়েবসাইটটি প্রতিদিন ভিজিট করুন।
বিডি অনলাইন আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url