আখের গুড়ের উপকারিতা ও অপকারিতা

আখের গুড়ের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সঠিক তথ্য পাচ্ছেন না। তাহলে আমাদের আজকের আর্টিকেল থেকে আপনি আখের গুড় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে নিতে পারেন।
আখের গুড়ের উপকারিতা ও অপকারিতা
আখের গুড়ের শরবত খাওয়ার উপকারিতা এবং আখের গুড় চেনার উপায় সম্পর্কে ও আমরা আজকে আর্টিকেলে বিস্তারিত আলোচনা করব। তাই অবশ্যই এ বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে  শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের সঙ্গেই থাকুন।
পেজ সূচিপএ

আখের গুড়ের উপকারিতা ও অপকারিতা

আখের গুড়ের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আমরা এখন আলোচনা করব। আখের গুড় শুধু খাবারের মিষ্টির চাহিদায় পূরণ করে না বরং আখের গুড় আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ উপকারী একটি খাদ্য। আখের গুড় সাধারণভাবে আখের রস থেকে তৈরি করা হয়। আখেরগুড় একটি প্রাকৃতিক মিষ্টি হিসেবে পরিচিত। আখের গুড় সাধারণভাবে সারা বছরই পাওয়া যায়। তবে শীতকালে আখের গুড়ের বেশি চাহিদা হয়ে থাকে বিভিন্ন ধরনের পিঠাপুরি খাওয়ার জন্য। 

তাহলে চলুন জেনে আসি আখের গুড়ের উপকারিতা অপকারিতা সম্পর্কে। আখের গুড় ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন, ক্যালোরি ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, সোডিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, জিংক, কপার ও ক্লোরাইড ইত্যাদি পুষ্টিগুণে ভরপুর। যাদের রক্তস্বল্পতা সমস্যা রয়েছে তারা প্রতিদিন আখের গুড় খেলে রক্তশূন্যতা সমস্যা দূর হয়। আখের গুড় হাড় ও দাঁতের জন্য বিশেষ উপকারী। হাড়ের ভিতরে বিভিন্ন ধরনের প্রদাহ কমাতে এবং হাড়ের বিভিন্ন জয়েন্টের ব্যথা দূর করতে বিশেষ করে বাতের ব্যথা কমাতে আখের গুড় খুব উপকারী। 

যাদের দাঁতের সমস্যা রয়েছে, দাঁত দিয়ে রক্ত পড়ে, দাঁতের মাড়ি ফুলে যায় তারা প্রতিদিন আখের গুড় খেতে পারেন। এতে দাঁতের বিভিন্ন সমস্যা দূর হবে এবং দাঁতের গোড়া মজবুত হবে। আখের গুড় চুল ও ত্বকের জন্য বিশেষ উপকারী। প্রতিদিন নিয়ম করে আখের গুড় খেলে চুলের গোড়া মজবুত হয় ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে। আখের গুড় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমায় এবং শক্তি সরবরাহ করে। 

নিয়মিত আখের গুড় খেলে আমাদের হজমে সহায়তা করে এবং হজম শক্তি বাড়ে। বিশেষ করে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর হয়।আখের গুড় অনেক সময় সর্দি কাশি কমাতেও সাহায্য করে। যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে তারা প্রতিদিন আখের গুড় খেলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ থাকে। এছাড়া আখের গুড় লিভার এবং কোষ্ঠকাঠিন্যর সমস্যা দূর করতেও কার্যকরী।

আখের গুড়ের অপকারিতা

আখের গুড় আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য যে কতটা উপকারী তা আমরা উপরে আলোচনা করেছি এখন আমরা আখের গুড়ের অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানব। প্রতিটি খাবারের যেমন উপকার আছে তেমন কিছু কিছু ক্ষতিও হতে পারে আমাদের শরীরে। তাই অবশ্যই সে সম্পর্কে জেনে আগে থেকে সতর্কতা অবলম্বন করে খাদ্য খাওয়া উচিত। চলুন তাহলে জানি আখের গুড় খাওয়ার ফলে উপকারের পাশাপাশি আমাদের শরীরে কি কি ক্ষতি হতে পারে। 

আখের গুড় বিশেষ করে যারা ডায়াবেটিসের রোগী রয়েছেন তাদের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। আখের গুড় অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে ডায়াবেটিস রোগীর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তাই অবশ্যই ডায়াবেটিসের রোগীরা আখের গুড় খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন। যারা শরীরের বাড়তি ওজন নিয়ে চিন্তিত তারা আখের গুড় অতিরিক্ত পরিমাণে খাবেন না। 

আখের গুড়ের ক্যালোরির পরিমাণ বেশি থাকে তাই আপনার ওজন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গুড যেমন দাঁতের জন্য উপকারী তেমন অতিরিক্ত গুড খেলে আপনার দাঁতের গোড়ায় ক্ষত হতে পারে কিংবা দাঁতের গোড়া ক্ষয় হয়ে যেতে পারে এবং ক্যাভিটি সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। কারো কারো ক্ষেত্রে আখের গুড় খাওয়ার ফলে অ্যালার্জি সমস্যা দেখা দিতে পারে। 

তাই অবশ্যই অল্প করে খেয়ে এলার্জি পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। অনেক সময় আমরা বাজার থেকে আখের গুড় কেনার সময় খাঁটি গুড় চিনতে পারি না তাই রাসায়নিক যুক্ত গুড় কিনে নিয়ে আসি। সেই গুড় খাওয়ার ফলে আমাদের শরীরে ক্ষতি হতে পারে। তাই অবশ্যই ভালোভাবে খাটি গুড় দেখে গুড় কেনা উচিত। আশা করি আখের গুড়ের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আমরা আপনাদের বিস্তারিত জানাতে পেরেছি।

আখের গুড়ের শরবত খাওয়ার উপকারিতা

আখের গুড়ের শরবত খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে অবশ্যই বিশেষ করে তাদের জানা উচিত যাদের প্রস্রাবে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা রয়েছে। যাদের শরীরে প্রচুর পরিমাণে পানির ঘাটতি রয়েছে এবং প্রসাবে ইনফেকশন কিংবা অন্যান্য অনেক সমস্যা রয়েছে তাদের অবশ্যই এসব সমস্যার সমাধানের জন্য আখের গুড় শরবত একটি ভালো উৎস হতে পারে। 

তাছাড়া প্রচন্ড গরমে একটু স্বস্তি দিতে পারে একমাত্র আখের গুড়ের শরবত। প্রতিদিন আখের গুড়ের শরবত আপনার শরীরে প্রয়োজনীয় পানির ঘাটতি পূরণ করে শরীর থেকে ক্লান্তি ভাব দূর করে। আখের গুড় হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি খাদ্য। আখের গুড়ের মধ্যে থাকা ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, আয়রন, ভিটামিন, মিনারেল ইত্যাদি উপাদান শরীরকে এনার্জি দেয়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে এবং শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। 

গরমের দিনে শারীরিক পরিশ্রম করার ফলে আমাদের শরীর থেকে অতিরিক্ত পরিমাণে ঘাম বের হয়ে যায়। যার ফলে আমাদের শরীর অনেক বেশি ক্লান্ত ও দুর্বল হয়ে যায়। আর এই ক্লান্ত ও দুর্বলতা কমিয়ে শরীরে এক্সট্রা এনার্জি আনার জন্য আপনি আখের গুড়ের শরবত খেতে পারেন। আপনার যদি ঠান্ডা জনিত কোন সমস্যা থাকে তাহলে আখের গুড়ের শরবত সর্দি কাশি ও ঠান্ডা জনিত সমস্যা দূর করতে খুবই কার্যকরী। এছাড়া প্রতিদিন আখের গুড়ের শরবত আপনার হজমের সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমিয়ে শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। 

আখের গুড়ের শরবত পাকস্থলী ভালো রাখতে সাহায্য করে, কিডনির বিভিন্ন সমস্যা দূর করে কিডনি সুস্থতা নিশ্চিত করে এবং শরীরে পানি শূন্যতা রোধ করতে সাহায্য করে। তাই অবশ্যই শরীরকে সুস্থ এবং সবল রাখার জন্য এক গ্লাস আখের শরবত প্রতিদিন খাওয়া উচিত। ঘরোয়া পদ্ধতিতে খুব সহজে আখের শরবত বাড়ানো যায়। চলুন তাহলে জেনে নেই আখের শরবত বাড়ানোর নিয়ম।

আখের শরবত বানানোর নিয়ম

আখের শরবত বাড়ানোর জন্য প্রথমে এক গ্লাস পরিষ্কার ঠান্ডা পানি নিয়ে নিন। তার ভেতরে দুই থেকে তিন চামচ আখের গুড় দিয়ে খুব ভালোভাবে নাড়াচাড়া করুন। শরবতের স্বাদ বাড়ানোর জন্য আপনি কয়েক ফোটা লেবুর রস কিংবা পুদিনা পাতা ও এলাচ গুঁড়ো করে দিতে পারেন। এতে শরবতের স্বাদের ভিন্নতা আসবে এবং খেতে অনেক মজা হবে।

আখের গুড় চেনার উপায়

আখের গুড় চেনার উপায় সম্পর্কে অবশ্যই আমাদের ভালোভাবে জানা উচিত কারণ বাজারে এখন বেশিরভাগই রাসায়নিক যুক্ত গুড় বিক্রি হয়। আর এই রাসায়নিক যুক্ত গুড় আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য মোটেও ভালো না। 
আখের গুড় চেনার উপায়
তাছাড়া রাসায়নিক যুক্ত গুড় দিয়ে কোন খাবার তৈরি করলে সে খাবারও তেমন খেতে ভালো হয় না। তাই অবশ্যই বাজারে ভালো মানের গুড় দেখে এবং কিছু গুড় চেনার পদ্ধতি অবলম্বন করে আমাদের সকলের গুড় কেনা উচিত। তাহলে চলুন আখের গুড় চেনার উপায় সম্পর্কে কিছু ধারনা নেই।

  • গুড় কেনার সময় অবশ্যই গুড় অল্প করে মুখে নিয়ে চেখে দেখা উচিত। যদি যদি মুখে দেওয়ার পরে গুড় নোনতা মনে হয় তাহলে অবশ্যই সে গুড় না কেনাই ভালো। কারন গুড় যদি অনেক বেশি নোনতা হয় তাহলে সে গুড় পুরনো গুড় হিসেবে ধরা হয়।
  • গুড় কেনার আগে অবশ্যই গুড়ের একটি ধার আঙ্গুল দিয়ে ভেঙ্গে দেখবেন যদি নরম মনে হয় তাহলে বুঝবেন সেই গুড় ভালো সেই গুড়ে কোন ভেজাল নেই। আর যদি শক্ত মনে হয় তাহলে সেই গুড় রাসায়নিক যুক্ত।
  • গুড় কেনার আগে মুখে নিয়ে যদি তেতো স্বাদ অনুভব হয় তাহলে বুঝবেন সেই গুড় অনেকক্ষণ পর্যন্ত জ্বাল দেওয়া হয়েছে। সেই গুড় দিয়ে আপনার কোন খাবারই ভালো লাগবে না। তাই অবশ্যই সেই গুড় কেনা থেকে বিরত থাকুন।
  • এছাড়া সর্বশেষে যে বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ তা হল গুড়ের রং। গুড়ের রং সাধারণভাবে গারো বাদামী রং এর হয়ে থাকে। তাই গুড়ের রং যদি হলুদ কিংবা কালো রঙের হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই বুঝবেন সে ঘুরে ভেজাল আছে।
আশা করি উপরের এ পদ্ধতি গুলো অবলম্বন করে আপনি বাজার থেকে খুব সহজেই রাসায়নিক মুক্ত এবং ভেজাল মুক্ত গুড় কিনতে পারবেন।

প্রতিদিন আখের রস খেলে কি হয়

প্রতিদিন আখের রস খেলে কি হয় সে সম্পর্কে জানব। আখের রসের মধ্যে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ এবং আরো অন্যান্য অনেক পুষ্টিগুণ উপাদানে ভরপুর। তাই অবশ্যই আখের রস আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ উপকারী একটি পানীয়। আপনার যদি প্রস্রাবের কোন সমস্যা থাকে কিংবা অনেক পরিশ্রম করার পরে শরীর থেকে প্রয়োজনীয় পানির ঘামের সাথে বের হয়ে যায় তাহলে অবশ্যই প্রতিদিন আখের রস খাওয়ার অভ্যাস করুন। 

কারণ আখের রস শরীরে প্রয়োজনীয় পানির ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম। আখের রসের মধ্যে কোলেস্টেরল ও সোডিয়াম এর পরিমাণ খুবই কম তাই আখের রস আপনার কিডনির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আখের রস প্রতিদিন খেলে আমাদের ইমিউন সিস্টেম ভালো থাকে। কোন কঠিন পরিশ্রম করার ফলে আমাদের শরীরে অনেক শক্তি নষ্ট হয় সে শক্তি আবার ফিরিয়ে আনার জন্য আখের রস একটি ভালো উৎস। 

যাদের জন্ডিসের সমস্যা রয়েছে তারা প্রতিদিন আখের রস খাওয়া উচিত। আখের রস লিভারের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে লিভার থেকে দূষিত পথ গুলো বের করে দিতে সাহায্য করে। এ ছাড়া ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে আখের রসের ভূমিকা রয়েছে। তাই অবশ্যই প্রতিদিন নিজের শরীরকে সুস্থ রাখতে খাদ্য তালিকায় আখের রস যোগ করুন।

আখের গুড় খেলে কি ওজন বাড়ে

আখের গুড় খেলে কি ওজন বাড়ে এমন প্রশ্ন অনেকের মনে আসে। গুড়ের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি। অতিরিক্ত পরিমাণে গুড় খেলে আপনার ওজন বাড়বে। আখের গুড়ের মধ্যে থাকা শর্করা আমাদের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ায় এবং শর্করা শরীরের ভেতরে খারাপ চর্বি হিসেবে জমা হয়। 

তাই অবশ্যই যারা ওজন কমানোর কথা ভাবছেন তারা আখের গুড় খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। তবে আপনার যদি শারীরিক কোন সমস্যার জন্য আখের গুড় খাওয়ার দরকার হয় তাহলে আখের গুড় হালকা করে দিয়ে শরবত বানিয়ে লেবুর রস দিয়ে খেতে পারেন এতে ওজন বাড়ার সম্ভাবনা নেই। 

এছাড়া বিভিন্ন উপকরণের সাথে খুব হালকা করে আখের গুড় মিশিয়ে খেলে ওজন বাড়বে না। তবে সবচাইতে বেশি ভাল হয় আপনি যদি একজন ভালো চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে আখের গুড় প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখেন। তাহলে আখের গুড় থেকে আপনার ওজনও বাড়বে না এবং সঠিক উপকারিতা পাবেন।

গুড় খেলে কি সুগার হয়

গুড় খেলে কি সুগার হয় এমন প্রশ্ন বেশিরভাগ ডায়াবেটিস রোগী রাই করে থাকে। অনেক ডায়াবেটিস রোগী রয়েছেন যারা বিভিন্ন খাবারের সাথে গুড় খেতে অনেক বেশি পছন্দ করেন। কিন্তু সুগার বেড়ে যাওয়ার ভয়ে গুড় খেতে পারে না। প্রাকৃতিকভাবে গুড় এক ধরনের মিষ্টি। খেজুরের রস এবং আখের রস জ্বাল দিয়ে সাধারণভাবে গুড় তৈরি করা হয়। 
গুড়ের মধ্যে রয়েছে আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ইত্যাদি উপাদান। তাই একজন ডায়াবেটিস রোগীর জন্য গুড় খাওয়া মোটে উচিত না। গুড়ের মধ্যে থাকা শর্করা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে ডায়াবেটিস বাড়ায়। চিনি যেমন ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ক্ষতি করে তেমন গুড়ও ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ক্ষতিকর। একজন ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকায় এমন খাদ্য রাখা উচিত যে খাদ্যে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম থাকে। 

আর গুড়ে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স প্রচুর পরিমাণে থাকে। তাই একজন ডায়াবেটিসের রোগী যদি প্রতিদিন তার খাদ্য তালিকায় রাখে তাহলে হার্টের সমস্যা, স্টোক এর সমস্যা, লিভারের সমস্যা, পেটের বিভিন্ন সমস্যা, কিডনির সমস্যা এমনকি শরীরের অন্যান্য অঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়া সম্ভাবনা রয়েছে। তাই একজন ডায়াবেটিসের রোগী অবশ্যই গুড় খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন।

আখের গুড় খাওয়ার নিয়ম

আখের গুড় খাওয়ার নিয়ম

আখের গুড় খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে এখন আমরা জানবো। উপরে আমরা আখের গুড় খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জেনেছি। এখন আমরা কিভাবে সঠিক নিয়মে আখের গুড় খেলে উপকার পাবেন সে সম্পর্কে একটি ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব।

  • আখের গুড় আপনি প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেতে পারেন। এতে আপনার হজম শক্তি বৃদ্ধি পাবে, শরীরের ক্ষতিকর পদার্থ গুলো বের হয়ে যাবে এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।
  • প্রতিদিন রাতে গরম দুধের সাথে আপনি আখের গুড় খেতে পারেন। এভাবে দুধের সাথে আখের গুড় খেলে আপনার শরীর গরম থাকে।
  • খাবার খাবার পরে আপনি আখের গুড় খেতে পারেন এতে আপনার হজম শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং খাবার খুব সহজেই হজম হয়ে যায়।
  • যাদের জন্ডিস, কিডনি এবং প্রস্রাবের সমস্যা রয়েছে তারা আখের গুড়ের শরবত বানিয়ে খেতে পারেন। এছাড়া চায়ের সাথেও আখের গুড় খাওয়া যায়।
  • যাদের শরীরে আয়রনের ঘাটতি রয়েছে তারা আখের গুড় এমনি খেতে পারেন। এতে শরীরের প্রয়োজনীয় আয়রনের ঘাটতি পূরণ হবে।
  • এছাড়া আপনি বিভিন্ন খাবারের সাথে আখের গুড় মিশিয়ে খেতে পারেন এতেও বেশ উপকার পাওয়া যায়।

সচার আচার জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী ও উত্তর

১. সকালে খালি পেটে আখের গুড় খেলে কি হয় ?
আখের গুড়ের মধ্যে রয়েছে ভিটামিন, খনিজ, আয়রন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ সব উপাদান। তাই সকাল বেলা খালি পেটে আখের গুড় খেলে আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধি পায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত হয় এবং শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তির সরবরাহ হয়।

২. সকালের নাস্তায় কি আখের রস খাওয়া যাবে ?
হ্যাঁ, অবশ্যই আপনি সকালে খালি পেটে খাবারের আগে আখের রস খেতে পারেন।

৩. প্রতিদিন কত গ্রাম গুড় খাওয়া উচিত ?
গুড় একটি প্রাকৃতিক মিষ্টি জাতীয় খাবার। তাই অবশ্যই পরিমাণমতো গুড় খাওয়া উচিত। একজন সুস্থ মানুষের জন্য প্রতিদিন ১৫/২০ গ্রাম গুড় যথেষ্ট। প্রতিদিন অতিরিক্ত পরিমাণে গুড় খেলে ওজন বৃদ্ধি পাওয়া থেকে শুরু করে আরও বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা হতে পারে।

৪. গুড় কি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো ?
হ্যাঁ, অবশ্যই গুড় স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। গুড় খেলে আমাদের বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। গুড়ের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে। তবে অবশ্যই পরিমাণ মতন গুড় খেতে হবে এবং যাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা রয়েছে এবং গুড় খেলে আরো বেশি সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে তারা অবশ্যই গুড় খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

চিনি ও গুড়ের পার্থক্য

চিনি ও গুড়ের মধ্যে পার্থক্য আমরা সকলেই জানতে চাই কারণ চিনি এবং গুড় দুটোই মিষ্টি জাতীয় খাবার কিন্তু কোনটা খেলে আমাদের বেশি উপকার হয় এবং কোনটা খেলে আমাদের ক্ষতি বেশি হয় সে সম্পর্কে আমাদের সকলেরই জানা উচিত।

  • চিনি সাধারণত আখ থেকে তৈরি করা হয় আর গুড় সাধারণভাবে আখ, খেজুর রস কিংবা তালের রস থেকে তৈরি করা হয়।
  • চিনি সাধারণভাবে বিভিন্ন রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি করা হয় কিন্তু আখ সরাসরি চুলায় জ্বাল দিয়ে তৈরি করা হয়।
  • চিনির মধ্যে কোন ভিটামিন কিংবা খনিজ পদার্থ নেই। এটির মধ্যে শুধু বিশুদ্ধ কার্বোহাইড্রেট রয়েছে আর গুড়ের মধ্যে রয়েছে আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস, শর্করা, ভিটামিন ইত্যাদি।
  • চিনিতে সাধারণভাবে কোন গন্ধ নেই কিন্তু গুড়ের মধ্যে কিছুটা রসের গন্ধ রয়েছে।
  • চিনি আমাদের শরীরের জন্য বেশি ক্ষতি করে বিশেষ করে যারা ডায়াবেটিসের রোগী রয়েছেন তাদের একদমই চিনি খাওয়া নিষেধ। অপরপক্ষে গুড় আমাদের শরীরে কম পরিমাণে ক্ষতি করে। আপনি যদি একজন ডায়াবেটিসের রোগী হয়ে থাকেন এবং রক্তশূন্যতার রোগে ভুগেন তাহলে রক্তস্বল্পতা দূর করার জন্য অল্প পরিমাণে গুড় খেতে পারেন। এতে ক্ষতি হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই।
  • চিনি অনেকদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা সম্ভব হয় কিন্তু গুড় অনেকদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা সম্ভব হয় না।
  • চিনি আমরা সাধারণভাবে বিভিন্ন ধরনের পানীয় খাবার জন্য বেশি ব্যবহার করে থাকি কিন্তু অপরপক্ষে গুড় আমরা বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি জাতীয় খাবার তৈরি করার জন্য ব্যবহার করে থাকি।
তবে চিনি কিংবা গুড় দুটোই অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে আমাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে। চিনি এবং গুড় এই দুইটি উপাদানই আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী তবে অবশ্যই পরিমাণ মতন খাদ্য তালিকায় রাখা উচিত।

আমাদের শেষ কথা - আখের গুড়ের উপকারিতা ও অপকারিতা

আখের গুড়ের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কিত আর্টিকেলটি পড়ে এতক্ষণে আপনি হয়তো আখের গুড় সম্পর্কে এবং আখের গুড়ের শরবত সম্পর্কে কিংবা আখের গুড় খেলে কি কি ক্ষতি হয় সে সম্পর্কে একটি সঠিক ধারণা পেয়ে গেছেন। আর এতক্ষণে অবশ্যই জানতে পেরেছেন আখের গুড় আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী। এবং কি কি অসুবিধা থাকলে আপনি আখের গুড় খেতে পারবেন না। 
আপনার যদি আখের গুড়ের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আর্টিকেলটি ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের ওয়েবসাইটটি ফলো দিয়ে রাখুন কারণ আমরা আমাদের ওয়েবসাইটে প্রতিনিয়ত এরকম স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য প্রকাশ করে থাকি। এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

বিডি অনলাইন আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url