ধনিয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানুন
ধনিয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানতে আপনি কি অনেক বেশি আগ্রহী? তাহলে দেরি না করে আমাদের আজকের আর্টিকেলটি খুব মনোযোগ সহকারে আপনাকে পড়ে নিতে হবে।
আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেমন বিলেতি ধনেপাতার অপকারিতা সম্পর্কে জানতে পারবেন। আপনি যদি ধনিয়া সম্পর্কে পুরোপুরিভাবে জানতে চান তাহলে অবশ্যই আমাদের এই আর্টিকেলটি খুব মনোযোগ সহকারে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ুন।
পেজ সূচিপএ
ধনিয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
ধনিয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আমাদের জানা উচিত কারণ রান্নাঘরের নিত্যদিনের বিভিন্ন মসলার সাথে আমরা ধনিয়া গুড়া খেয়ে থাকি। রান্নার স্বাদ ও গন্ধ বাড়াতে বিভিন্ন তরকারিতে ধনিয়া গুড়া ব্যবহার করা হয়ে থাকে তবে শুধু রান্নার কাজেই ধনিয়া গুড়া আমাদের উপকার করে না আমাদের শরীরে অনেক অসুখ দূরে রাখতেও ধনিয়া গুড়ার গুরুত্ব অনেক।
বর্তমান সময়ে আমরা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হাই কোলেস্টেরলের মত নানান রকম সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে থাকি। আর এসব অসুখ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে হলে আমাদের খেতে হবে প্রতিদিন উপকারী সব খাদ্য। তাই শরীরকে সুস্থ রাখতে আমরা প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ধনিয়া রাখতে পারি। তাহলে চলুন জেনে নেই ধনিয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে।
ধনিয়া খাওয়ার উপকারিতা
ধনিয়ার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন যেমন ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন, ভিটামিন এ, ভিটামিন কে, ভিটামিন বি, খনিজ ইত্যাদি আরো অনেক পুষ্টিগুণ উপাদান। প্রতিটা খাবারে যেমন উপকারিতা রয়েছে তেমন কিছু কিছু অপকারিতা রয়েছে। আগে আমরা ধনিয়া খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জানব।
রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ
ধনিয়া রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি হলে আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের অসুখ দেখা দেয় আর রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি হলে কিডনি, স্নায়ু, চোখের সমস্যা হতে পারে। তাই রক্তের শর্করার মাথা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরী, ধনিয়ার মধ্যে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা আমাদের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে তাই আমরা আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ধনিয়া রাখতে পারি। বিশেষ করে যারা ডায়াবেটিসের রোগী রয়েছে তারা অবশ্যই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ধনিয়া রাখার চেষ্টা করুন।
হজম শক্তি বাড়ায়
ধনিয়ার বীজ হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। বদ হজম, গ্যাস ও পেটের ফাঁপা সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে। এছাড়া ধনিয়ার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমানে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ফ্রি রেডিকেল হ্রাস করে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।
হার্টের সমস্যা কমায়
আমাদের দেশে বর্তমানে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে অনেক মানুষ। আপনি যদি প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় ধনিয়া রাখেন তাহলে আপনার শরীর থেকে উচ্চ রক্তচাপ ও ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টোরল কমবে। তাছাড়া হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য অবশ্যই প্রতিদিন ধনিয়া খাওয়া উচিত।
ব্যথার জন্য ভালো
প্রতিদিন নিয়ম করে ধনিয়া খেলে শরীরের যেকোনো ব্যথা এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া ধনিয়ার মধ্যে রয়েছে এন্টি ইনফ্লেমেটরি গুণ যা আমাদের মস্তিষ্কের জন্য খুব উপকারী।
ত্বকের যত্নে
ত্বকের যত্নে ধনিয়া গুরুত্ব অনেক। ধনিয়ার রস বা পেস্ট করে সপ্তাহে একদিন ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বকের ব্রণ ও চুলকানিতে উপকার পাওয়া যায়।
ধনিয়া খাওয়ার অপকারিতা
এলার্জি
অনেকেই ধনিয়া ব্যবহারের ফলে এলার্জি হতে পারে। ত্বকে রেশ কিংবা ফুসকুড়ির মত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
রক্তচাপ
ধনিয়া উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে তাই যারা নিম্ন রক্তচাপে সমস্যায় ভুগেন তারা অবশ্যই অতিরিক্ত ধনিয়া খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
প্রসবকালীন ঝুঁকি
গর্ভকালীন সময় অতিরিক্ত পরিমাণে ধনিয়া খাওয়া উচিত না এতে প্রসবকালীন সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।
লিভারের জন্য খারাপ
যাদের লিভারের সমস্যা আছে তারা অতিরিক্ত পরিমাণে ধনে খাবেন না এটি বেশি খেলে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে আপনার স্বাস্থ্যের জন্য।
বিলাতি ধনেপাতার উপকারিতা
বিলাতি ধনেপাতার উপকারিতা জানলে অবাক হয়ে যাবেন। আমরা সবাই মনে করি দেশি ধনেপাতার উপকারিতা অনেক কিন্তু বিলাতি ধনে পাতার উপকারিতা সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই ধারণা নেই। চলুন তাহলে জেনে নেই বিলাতি ধনে পাতার উপকারিতা সম্পর্কে।
ধনে পাতার মধ্যে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ফলেট, আয়রন, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফাইবার, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ম্যাগনেসিয়াম উপাদান। বিলাতি ধনে পাতার মধ্যে রয়েছে বেশ কিছু পুষ্টিগুণ ও ওষুধি উপাদান। যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী। এছাড়া বিলাতি ধনে পাতার মধ্যে রয়েছে অন্যান্য অনেক খনিজ।
বিলাতি ধনেপাতার উপকারিতা
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
বিলাতি ধনেপাতার মধ্যে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ভিটামিন এ আমাদের চোখে দৃষ্টি শক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে। ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ভিটামিন কে রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে।
হজম শক্তি বাড়ায়
ধনে পাতার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ফাইবার আর ফাইবার আমাদের পাচনতন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়িয়ে হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এবং বদহজম ও গ্যাসের সমস্যা কমায়।
ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়
ধনিয়া পাতা হলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ একটি উপাদান যা আমাদের শরীরের ফ্রি রেডিকেল দূর করে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
হাড় মজবুত করে
ধনে পাতার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম রয়েছে যা আমাদের হাড় মজবুত করতে এবং হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে সহায়তা করে।
রক্ত পরিষ্কার রাখে
বিলাতি ধনিয়া পাতা আমাদের রক্ত পরিষ্কারের কাজেও সাহায্য করে। ধনিয়া পাতার মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক ডাইবেটিক বৈশিষ্ট্য যা আমাদের শরীর থেকে অতিরিক্ত টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে এবং কিডনির কার্যক্ষমতা বাড়ায়।
প্রদাহ কমায়
বিলাতি ধনিয়া পাতার মধ্যে রয়েছে এমন কিছু উপাদান যা আমাদের শরীরের যেকোনো ধরনের প্রদাহ এবং ক্ষত কমাতে সাহায্য করে।
ত্বকের যত্নে
বিলাতি ধনিয়া পাতা ত্বকের যত্নে উপকারী। কারণ বিলাতি ধনে পাতার মধ্যে রয়েছে অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টিব্যাকটোরিয়াল উপাদান। আর এই উপাদান গুলি আমাদের ত্বকের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের দাগ দূর করতে এবং চুল বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
সতর্কতা
বিলাতী ধনেপাতা নিয়মিত খাওয়া যাবে তবে অবশ্যই পরিমাণমতো অতিরিক্ত পরিমাণে এই ধনিয়া পাতা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য মোটেও ভালো না। তবে আপনার শরীরে যদি কোন বিশেষ শারীরিক সমস্যা থাকে তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে বিলাতি ধনেপাতা খাওয়া শুরু করুন।
বিলাতি ধনেপাতার অপকারিতা
ধনেপাতার অপকারিতা সম্পর্কে আমাদের অবশ্যই আগে থেকে জেনে নেওয়া উচিত কারণ ধনেপাতা খাওয়ার পরে যদি আপনার শরীরে কোন সমস্যা দেখা দেয় তখন আপনার স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে। আগে থেকে ধনেপাতার অপকারিতা সম্পর্কে জানা থাকলে অবশ্যই সে ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতে পারবেন। আসুন তাহলে জেনে নেই ধনেপাতা খাওয়ার অপকারিতা সম্পর্কে।
লিভারের সমস্যা
অতিরিক্ত ধনে পাতা খাওয়ার ফলে আমাদের লিভারের কাজের ক্ষমতা কমে যায়। ধনেপাতাতে থাকা এক ধরনের উদ্ভিদ তেল রয়েছে যা আমাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে আক্রান্ত করে থাকে। ধনে পাতার মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের উপকার করে কিন্তু অতিরিক্ত পরিমাণে এন্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের লিভারের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
শ্বাসকষ্টের সমস্যা
যাদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে কিংবা ফুসফুসে এজমা রয়েছে তারা অবশ্যই ধনেপাতা খাওয়া থেকে বিরত থাকুন কারণ অতিরিক্ত পরিমাণে ধনেপাতা খেলে আপনার শ্বাসকষ্টের কিংবা ফুসফুসের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা
ধনেপাতা খেলে গ্যাস্টিকের সমস্যা দূর হয় কিন্তু অতিরিক্ত পরিমাণে ধনেপাতা খেলে পাকস্থলীতে হজম ক্রিয়ার সমস্যা তৈরি হতে পারে এর ফলে পেটে ব্যথা, পেট ফুলে যাওয়া, গ্যাসের ব্যথা এমন কি পাতলা পায়খানা ও হতে পারে।
নিম্ন রক্তচাপ
যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে তারা ধনেপাতা খেতে পারে এতে ভালো উপকার পায়। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে ধনেপাতা খাওয়া ঠিক না এতে যাদের নিম্ন রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য ক্ষতি হতে পারে।
ডায়রিয়া
ধনেপাতা অল্প পরিমাণে খেলে পেটের কোন সমস্যা দেখা দেয় না কিন্তু অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে এমনকি ডায়রিয়া ও হতে পারে।
বুকে ব্যথা
অতিরিক্ত পরিমাণে ধনেপাতা খেলে কারো কারো ক্ষেত্রে বুকে ব্যথা দেখা দিতে পারে এমন কি এ ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে তাই অতিরিক্ত পরিমাণে ধনিয়া খাওয়া থেকে অবশ্যই বিরত থাকুন।
ত্বকের সমস্যা
অতিরিক্ত ধনেপাতা খাওয়ার ফলে আপনার ত্বকে এলার্জি সমস্যা হতে পারে। ধনিয়া পাতার মধ্যে রয়েছে এসিডিক উপাদান যা আমাদের ত্বককে সূর্যের অতিবেগুনি রশমি থেকে বাঁচিয়ে রাখে। কিন্তু অতিরিক্ত পরিমাণে ধনেপাতা খেলে সূর্য রশ্মি ত্বকের ভেতরে একেবারে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে ত্বক ভিটামিন কে থেকে বঞ্চিত হয়। তাই অতিরিক্ত পরিমাণে ধনেপাতা ত্বকের জন্য ভালো না।
ভ্রনের ক্ষতি
অতিরিক্ত ধনেপাতা খাওয়া বয়স্ক কিংবা শিশু কারো জন্যই ভালো না বিশেষ করে যারা গর্ভবতী নারী রয়েছে তাদের জন্য অতিরিক্ত ধনেপাতা মোটেও ভালো না। কারণ ধনে পাতার মধ্যে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা মহিলাদের প্রজনন গ্রন্থির কর্মক্ষমতাকে নষ্ট করে ফেলে যার ফলে মহিলারা বাচ্চা ধারণক্ষমতা হারিয়ে ফেলে কিংবা গর্ভধারণ করলেও ভ্রুনের বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি হয়ে থাকে। তাই গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ধনেপাতা খাওয়া থেকে অবশ্যই বিরত থাকা উচিত।
ধনিয়া ভেজানো জলের উপকারিতা
ধনিয়া ভেজানো জলের উপকারিতা আগে কি জানতেন ? যদি জেনে না থাকেন তাহলে আসুন ধনিয়া ভেজানো পানির উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। ধনিয়াতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিগুণ উপাদান তাছাড়া ধনিয়া ওষুধ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ধনিয়া আমরা বিভিন্ন রান্নার কাজে ব্যবহার করে থাকি।
এছাড়া কাঁচা অবস্থাতেও ধনিয়া খাওয়া যায়। ধনিয়া ভেজানো জল প্রতিদিন নিয়মিত খেলে আপনার শরীরে ভিটামিন সি, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ক্যালসিয়াম ম্যাগনেসিয়াম পটাশিয়াম আয়রন ভিটামিন, ভিটামিন এ, ভিটামিন কে, আমিষ ইত্যাদি সকল উপাদান পূরণ হয়।
আপনি যদি প্রতিদিন সকালে ধনিয়া ভিজানো পানি খেতে পারেন তাহলে আপনার হৃদরোগ, পেট ব্যথা, ক্যান্সারের কোষ, রক্তের শর্করতার মাত্রা, এমনকি লিভারের বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। এছাড়া আপনার যদি প্রসাবের ইনফেকশন জনিত কোন সমস্যা থাকে কিংবা প্রসাবে জ্বালাপোড়া করে তাহলে অবশ্যই প্রতিদিন সকালে নিয়ম করে ধনিয়া ভেজানো পানি খান। যারা ডায়াবেটিসের রোগী রয়েছেন তারা অবশ্যই প্রতিদিন সকালে ধনিয়া ভেজানো পানি খাবেন। আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে থাকবে এবং প্রদাহ দূর হবে।
এছাড়া প্রতিদিন সকালে ধনিয়া ভেজানো পানি খেলে আপনার হাড় মজবুত হয়। ফ্রি রেডিকেলের বিরুদ্ধে লড়াই করে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। রক্তের শর্করতার মাত্রা কমায় চোখের দৃষ্টি শক্তি ভালো হয়। ইমিউন সিস্টেম ভালো রাখে, স্মৃতিশক্তি বাড়ায়, মস্তিষ্ক স্বাস্থ্য রক্ষা করে, হজমের সমস্যা দূর করে এবং বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে থাকে। তাই প্রতিদিন সকালে উপকারিতা পেতে অবশ্যই এক গ্লাস ধনিয়া ভেজানো পানি খাওয়ার অভ্যাস করুন।
সচার আচার জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী ও উত্তর
১. ধনিয়া বীজের পানি কিভাবে তৈরি করতে হয় ?
এক গ্লাস পানি নিয়ে তার ভেতরে এক চামচ ধনিয়া বীজ দিয়ে সারারাত ভিজিয়ে রাখুন এবং সকালে ছেকে ধনিয়া ভিজানো পানি পান করুন।
২. প্রতিদিন ধনিয়া পানি খাওয়া যাবে কি ?
হ্যাঁ আপনি প্রতিদিন ধনিয়া পানি খেতে পারেন তবে অবশ্যই পরিমান মত অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া যাবে না।
৩. ধনিয়া জল না জিরা জল কোনটা ভালো ?
ধনিয়া জল আমাদের শরীরে একরকম কাজ করে আর জিরা জল আমাদের শরীরে আরেকরকম কাজ করে। ধনিয়া জল হজমে সাহায্য করে, ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দূর করে এবং ত্বকের ফলা ভাব কমায় আর জিরা জল ও আমাদের হজমে সাহায্য করে, পেটের গ্যাস কমায় এবং ওজন কমায়।
৪. রাতে ধনিয়া পানি খাওয়া যাবে কি ?
আপনি দিনে যেকোনো সময় ধনিয়া পানি খেতে পারেন তবে সকালে ধনিয়া পানি খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়।
৫. ধনিয়া ও লেবু খেলে কি ওজন কমে ?
আপনি যদি প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস ধনিয়া ভেজানো জল খেতে পারেন তাহলে আপনার শরীরের টক্সিন গুলো বের হয়ে যায়। আর এই পানীয়টি যদি লেবুর সাথে ও মধুর সাথে মিশিয়ে খান তাহলে তা ওজন কমাতে সাহায্য করে।
ধনেপাতার জুস বানানোর নিয়ম
ধনেপাতা জুস বানানোর নিয়ম সম্পর্কে এখন আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব। ধনেপাতার জুস আমাদের শরীরের জন্য খুব উপকারী এবং খেতে অনেক সুস্বাদু। ধনেপাতার জুস প্রাকৃতিকভাবে আমাদের শরীর থেকে টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে এবং গ্যাস্ট্রিকের বিভিন্ন সমস্যা থেকে সমাধান দেয়। ধনেপাতার জুস পেটের বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়। আপনার শরীরে যদি অতিরিক্ত পরিমাণে ক্যালরি থাকে তাহলে ধনেপাতা জুস খেলে অতিরিক্ত ক্যালরি কমে যায়।
এছাড়া ধনেপাতায় রয়েছে পটাশিয়াম আর পটাশিয়াম থাকার জন্য প্রতিদিন এক গ্লাস ধনেপাতা জুস খেলে হার্টের সমস্যা থেকে রক্ষা হয়। ধনেপাতার জুসে এত উপকারিতা শুনে আপনি হয়তো ধনে পাতার জুস বানানোর নিয়ম সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হচ্ছেন। তাহলে চলুন ধনেপাতার জুস বানানোর নিয়ম সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
প্রস্তুত প্রণালী
- ধনে পাতার জুস বানানোর জন্য প্রথমে ধনেপাতাগুলো খুব ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।
- এর পর একটি বিলিন্ডারে ধনেপাতা পানি এবং এক চামচ লেবুর রস দিয়ে দিতে হবে।
- ভালো করে বিলিন্ডারে সেগুলো মিশ্রিন করতে হবে।
- মিশ্রিন হয়ে গেলে মধু ও কিছু পরিমাণ লবণ যোগ করে ভালোভাবে আবার বিলিন্ডারের মিশ্রিন করুন।সর্বশেষে একটি ছাকঁনি দিয়ে ছেকে গ্লাস করে খাবার জন্য পরিবেশন করুন।
আশা করি ধনিয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা এবং ধনেপাতার জুস বানানোর নিয়ম সম্পর্কে আমরা আপনাদের বিস্তারিতভাবে জানাবে সক্ষম হয়েছি।
ধনিয়া ভাজা খাওয়ার উপকারিতা
ধনিয়া ভাজা খাওয়ার উপকারিতা রয়েছে অনেক। ধনিয়া যেমন আমরা রান্না করে খেতে পারি, কাঁচা খেতে পারি তেমন ধনিয়া ভাজা ও খাওয়া যায়। ধনিয়া ভেজে খেলে আমাদের খাবার খুব দ্রুত হজম হয় কোলেস্টোরল নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর হয়। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। রক্তের শর্করতার মাত্রা কমিয়ে ডায়াবেটিস রোগীর শরীরে ইনসুলিনের উপাদান বাড়ায়।
ধনিয়ার মধ্যে থাকা অ্যান্টি ইনফ্লামেন্টের উপাদান আমাদের শরীরের বিভিন্ন সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে। ধনীয়ার মধ্যে রয়েছে এন্টিঅক্সিডেন্ট যা আমাদের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং ত্বকের বিভিন্ন দাগ দূর করে। আপনারা ধনিয়া ভাজা বিভিন্নভাবে খেতে পারেন যেমন গুঁড়ো করে তরকারির সাথে খেতে পারেন কিংবা ভেজে কোনো খাবারের শেষে দাঁতে চিবিয়ে খেতে পারেন এতেও বেশ উপকার পাবেন।
টবে ধনিয়া চাষ পদ্ধতি
টবে ধনিয়া চাষ পদ্ধতি অনেক সহজ তবে ধনিয়া চাষ করার জন্য বেলে দোয়াশ মাটি নিতে হবে। এতে ভালো ফলন হবে। টবের মাটি ভালো করে তৈরি করার পর ধনিয়ার বীজগুলো ছিটিয়ে দিতে হবে এবং হালকা পরিমাণে পানি দিয়ে দিতে হবে। ছয় থেকে সাত দিন পরে আস্তে আস্তে ধনিয়ার বীজ থেকে ধনিয়া পাতা গজাতে শুরু করবে। এভাবে আপনি বিলাতি ধনিয়াও চাষ করতে পারবেন।
ধনিয়া পাতা খাওয়ার নিয়ম
ধনিয়া পাতা আমাদের শরীরের জন্য খুব উপকারী এবং ধনিয়া পাতা বিভিন্ন উপায়ে খাওয়া যেতে পারে তবে সঠিক নিয়মে দুনিয়া পাতা খেলের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা আরো ভালোভাবে পাওয়া যায়। নিচে ধনিয়া পাতা খাওয়ার কিছু নিয়ম আলোচনা করা হলো।
- ধনিয়া পাতা আপনি বিভিন্ন খাবারের সাথে মিশিয়ে সালাদ হিসেবে খেতে পারেন এতে আপনার হজম শক্তি বৃদ্ধি পাবে।
- ধনে পাতা দিয়ে জুস বানিয়ে লেবুর রস এবং হালকা লবণ যোগ করে সকাল বেলা খালি পেটে খেতে পারেন এতে আপনার ভেতরে জমে থাকা টক্সিন গুলো বের হয়ে যায়।
- ধনেপাতা তরকারিতে মসলা হিসেবে খেতে পারেন এতে তরকারি স্বাদ অনেকটা বেড়ে যায়।
- সরাসরি ধনেপাতা মুখে চিবিয়েও কাঁচা অবস্থায় খেতে পারেন এতে মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়।
- ধনেপাতা আপনি হত্যা করে খেতে পারেন ভাতের সাথে।
- ধনেপাতার আচার বানিয়ে খেতে পারেন।
- এছাড়া ধনেপাতার জুস বানিয়ে খাওয়া যায়।
লেখকের শেষ কথা - ধনিয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
প্রিয় পাঠক আমি আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়েছেন এবং ধনিয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে একটি সঠিক ধারণা পেয়েছেন। উপরের আলোচনা থেকে হয়তো আপনি বুঝতে পেরেছেন দুনিয়া শুধু আপনার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী নয় আপনার ত্বকের জন্য বিশেষ উপকারী। তাই ধনিয়া থেকে যদি আপনি সঠিক উপকার পেতে চান তাহলে অবশ্যই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ধনিয়া ও ধনেপাতা রাখার চেষ্টা করুন।
আরো পড়ুন: কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুম কম হয়
আর আপনার যদি আমাদের এই আর্টিকেলটি ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনার বন্ধু-বান্ধবদের সাথে শেয়ার করুন। আর্টিকেল সম্পর্কে আপনার যদি কোন মূল্যবান মন্তব্য থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাবেন। এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
বিডি অনলাইন আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url