দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ
দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ সম্পর্কে জানতে চান? তাহলে আমাদের আজকের আর্টিকেলটি আপনাকে পড়ে নিতে হবে। তাহলে চলুন জেনে নেই বিস্তারিত তথ্য।
আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যেমন ডেঙ্গু মশা চেনার উপায়, ডেঙ্গু মশা কোথায় কামড়ায়, শিশুদের ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ও প্রতিকার ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে পুরো আর্টিকেল জুরে আমাদের সঙ্গে থাকুন।
পেজ সূচিপএ
দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ
দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ কিংবা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে ডেঙ্গু জ্বর থেকে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা ১৫ গুন বেড়ে যায়। এডিস মশাবাহিত রোগ হিসেবে আমরা ডেঙ্গুকে চিনি। বর্তমানে আমাদের দেশে সবচেয়ে ভয়াবহ আতঙ্ক হচ্ছে এই ডেঙ্গু জ্বর।
সারাবিশ্বে প্রতিনিয়ত আক্রান্ত হচ্ছে হাজারেরও বেশি মানুষ এবং মারা যাচ্ছে অনেকেই। আর এবার তো আরো শক্তিশালী এবং প্রাণঘাতী হয়ে এসেছে এই ডেঙ্গুজ্বর। আগে কোন রোগীর ডেঙ্গু জ্বর হলে জ্বর শুরু হওয়ার ৬-৭ দিন পর রোগীর অবস্থা খারাপের দিকে যেত কিন্তু বর্তমান সময়ে দেখা যাচ্ছে যে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রুগী ২/১দিনের ভেতরেই অবস্থার অবনতি ঘটছে।
আর এতে করে মানুষ আরো আতঙ্কিত হয়ে উঠছে। ডেঙ্গু রোগ সাধারণত গ্রীষ্মকালে বেশি দেখা দেয়। সাধারণত এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমেই এই রোগ মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে আর ভাইরাস শরীরের সংক্রমণের ৫ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গগুলো আমাদের শরীরে দেখা দেয়। যেমন জ্বর, মাথাব্যথা, পেশিতে ব্যথা, বমি এবং এবং সারা শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেয়।
ডেঙ্গু সাধারণভাবে চারটি ধরন রয়েছে একজন ব্যক্তি দুইবার কিংবা বহুবার বিভিন্ন ধরনের ডেঙ্গু দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। আসলে ডেঙ্গু মশাতে কামড়ানোর ফলে একজন ব্যক্তি একাধিকবার আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। চিকিৎসকের তথ্যমতে জানা যায় আমাদের দেশে চলতি বছরে আক্রান্তের বেশি ভাগই দ্বিতীয় বার করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগী সংখ্যা বেশি। যদি কোন ব্যক্তি দ্বিতীয়বার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয় তাহলে তার বিপদ অনেকটাই বেড়ে যায়।
যদি কোন ব্যক্তি দ্বিতীয়বার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে থাকে তাহলে ডেঙ্গু পাশাপাশি রক্তক্ষরণ এবং লিভারের ক্ষতি হতে পারে। প্রথমবার ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে একজন ব্যক্তি সে ডেঙ্গু জ্বরের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে কিন্তু দ্বিতীয় বার ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে বারবার ভাইরাসের সাথে লড়াই করতে গিয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটাই কমে যায়।
তখন শরীরের বিভিন্ন সমস্যা যেমন রক্তক্ষরণ, লিভার, কিডনি, ফুসফুস কিংবা হাড়ের সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রথমবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে যেমন লক্ষণ দেখা দেয় তেমন দ্বিতীয়বার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলেও একই রকম লক্ষণই দেখা দেয়।
আমাদের শরীরে যেমন বমি হওয়া, বারবার দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, দ্রুত শ্বাস- প্রশ্বাস নেওয়া, মলের সাথে রক্ত যাওয়া, শরীর ফেকাসে হয়ে যায় এবং শরীর খুব দুর্বল লাগে, পেটে তীব্র ব্যথা হয়, সময় সময় মাথাব্যথা হতে পারে। আপনার শরীরটা যদি এমন কোন লক্ষণ দেখা দেয় তাহলে অবশ্যই তাড়াতাড়ি চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে এবং পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি, ভিটামিন সি যুক্ত ফল ও প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি খেতে হবে।
ডেঙ্গু মশা কামড়ানোর কত দিন পর জ্বর আসে
ডেঙ্গু মশা কামড়ানোর কত সময় পর জ্বর হয় সে সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই হয়তো অজানা। আপনি যদি ডেঙ্গু মশা কামানোর কত সময় পর জ্বর হয় সে সম্পর্কে সঠিকভাবে আগে থেকেই ধারণা নিয়ে থাকেন তাহলে খুব সহজেই জ্বর আসার সময় বুঝতে পারবেন আপনার ডেঙ্গু জ্বর হয়েছে কিনা এবং খুব তাড়াতাড়ি ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে সুস্থ হতে পারবেন। তাছাড়া অনেক সময় আমাদের জ্বর আসে তখন আমরা সাধারণ জ্বর এবং ডেঙ্গু জ্বরের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারি না।
আর এর ফলেই অনেক বড় বিপদের সম্মুখীন হয়। ডেঙ্গু মশা কামড়ানোর পরে কখনো কখনো তিন দিনের মধ্যেও জ্বর আসতে পারে আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে ৮ থেকে ১০ দিন পরে জ্বর আসতে পারে। তবে অতিরিক্ত জ্বরের সাথে যদি প্রচন্ড মাথা ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, সমস্ত শরীরে ব্যথা এবং ত্বকে ফুসকুড়ি দেখা দেয় তাহলে অবশ্যই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ডেঙ্গু মশা চেনার উপায়
ডেঙ্গু মশা চেনার উপায় সম্পর্কে জেনে নেওয়া ভালো। কারণ চারিদিকে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে অনেক মানুষই মারা যাচ্ছে। আমাদের যে কোন মশা কামড়ালেই আমরা ভেবে নিই এই বুঝি ডেঙ্গু মশা কামড়ালো। কিন্তু সব মশাই ডেঙ্গু মশা না। ডেঙ্গু মশা দেখতে অন্যান্য সাধারণ মশার চেয়ে আলাদা। আসলেই স্ত্রী এডিস মশার মাধ্যমেই ডেঙ্গু ভাইরাস আমাদের শরীরে প্রবেশ করে।
এ মশাগুলো সাধারণভাবে আফ্রিকা থেকে উৎপন্ন। ডেঙ্গু মশা দেখতে খুব ছোট আকৃতির হয় এবং ডেঙ্গু মশার পিঠে বেনার মত চিহ্ন থাকে। ডেঙ্গু মশার শরীরের উপরে সাদা কালো ডোরাকাটা দাগ দেখতে পাওয়া যায়। বাঘের শরীরের মতো ডোরাকাটা দাগের মিল রয়েছে বলে অনেকেই একে টাইগার মশা বলেও ডেকে থাকে। ডেঙ্গু মশা আমাদের সব সময় কামড়ায় না। সাধারণত সন্ধ্যার আগে এবং সকাল বেলার দিকে ডেঙ্গু মশা আমাদের শরীরে ডেঙ্গু ভাইরাস প্রবেশ করায়।
ডেঙ্গু মশা কোথায় কামড়ায়
ডেঙ্গু মশা কোথায় কামড়ায় এই বিষয়টা নিয়ে আমরা সকলেই অনেক বেশি চিন্তিত থাকি। আসলেই কি ডেঙ্গু মশা আমাদের শরীরের নির্দিষ্ট কোন জায়গায় কামড়ায় না পুরো শরীর যে কোন জায়গায় কামড়াতে পারে এ ব্যাপারটা সম্পর্কে আমাদের অবশ্যই জানা উচিত। ডেঙ্গু মশা আমাদের ঘরের ভেতরে কিংবা আশেপাশের পরিষ্কার পানিতে বংশ বিস্তার করে থাকে।
তাই আপনি যদি ডেঙ্গু মশার কামড় থেকে বাঁচতে চান তাহলে অবশ্যই ফুলের টব, পানি জমে থাকা পাত্র এগুলো পরিষ্কার রাখুন। বাড়ির আশেপাশ পরিষ্কার রাখুন এবং দরজা জানালা বন্ধ রাখুন। মশারি ব্যবহার করুন।
ডেঙ্গু মশা সাধারণত ডেঙ্গু ভাইরাস ছড়ানোর জন্য দিনের বেলায় কামড়ায়। ডেঙ্গু মশা সাধারণত সকাল কিংবা বিকালের দিকে বেশি কামড়ায়। ডেঙ্গু মশা আমাদের শরীরের পায়ের পাতা, পায়ের গোড়ালি, হাঁটু আশেপাশের খোলা জায়গায় বেশি কামড়ে থাকে। তবে ডেঙ্গু মশা কামড়ানোর কোন নির্দিষ্ট জায়গা নেই। আপনার শরীরের যে জায়গায় খোলা পাবে সেখানে ডেঙ্গু মশা কামড়াতে পারে।
ডেঙ্গু জ্বর হলে কি গোসল করা যাবে
ডেঙ্গু জ্বর হলে কি গোসল করা যাবে এরকম অনেক প্রশ্নই ডেঙ্গুই আক্রান্ত ব্যক্তিরা করে থাকে। ডেঙ্গু জ্বর হলে সাধারণত শরীরের তাপমাত্রা অনেক বেশি বেড়ে যায়। আর গোসল করলে কিংবা গামছা দিলে তাপমাত্রা কমে আসে। তাই ডেঙ্গু জ্বর হলে অবশ্যই গোসল করা যাবে। এতে আপনার শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকবে।
আর যদি গোসলের সময় ঠান্ডা লাগে তাহলে হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করতে পারেন। তবে গোসলের পরে অতি দ্রুত চুল গুলো শুকিয়ে নিতে হবে। এছাড়া জ্বরের কারণে আপনার যদি তাপমাত্রা অনেক বেশি বেড়ে যায় তাহলে গা মোছা কিংবা মাথা ধুয়ে দিতে পারেন।
শিশুদের ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ও প্রতিকার
শিশুদের ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে আগে ভালোভাবে আমাদের জেনে নেওয়া উচিত। ডেঙ্গু জ্বর শিশুদের জন্য একটি গুরুতর ভাইরাস জনিত অসুখ যা সাধারণত এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। শিশুদের মধ্যে ডেঙ্গুর লক্ষণগুলো সাধারণত প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের চাইতে বেশি বিপদজনক হয়।
তাই এটি সঠিক সময় শনাক্ত করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরী। শিশুদের ডেঙ্গু জ্বর হলে উচ্চ তাপমাত্রা, জ্বর, মাথাব্যথা শরীরের বিভিন্ন জায়গা ব্যথা, বমি ভাব ও বমি হওয়া, চামরাই লালচে দাগ, পেটে তীব্র ব্যথা, নাক ও দাঁত দিয়ে রক্তক্ষরণ হতে পারে।
প্রতিকার ও চিকিৎসা
শিশু কিংবা বয়স্ক কোনো মানুষেরই ডেঙ্গু জ্বরের কোন নির্দিষ্ট ওষুধ নেই তবে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করলে ডেঙ্গু জ্বর থেকে স্বাস্থ্যের উন্নতি হতে পারে।
- ডেঙ্গু জ্বর হলে আপনাকে অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম নিতে হবে। এতে শরীরের দুর্বলতা কাটবে এবং ডেঙ্গু ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারবে।
- ডেঙ্গু জ্বর হলে অনেক সময় পানি শূন্যতা দেখা দেয়। তাই প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল খাবার খেতে হবে।
- ডেঙ্গু জ্বর হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যথা নিরাময়ের ওষুধ খেতে হবে।
- নিয়মিত রক্তের প্লেটলেট কাউন্ট পরীক্ষা করা উচিত ডেঙ্গু জ্বর হলে।
- ডেঙ্গু জ্বর থাকা অবস্থায় যদি শিশুর রক্তক্ষরণে ভাব অনুভব করে তবে অবশ্যই হাসপাতালে নিতে হবে।
ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ও চিকিৎসা
ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে যদি আপনার জানা থাকে তাহলে ডেঙ্গু জ্বরের মতো ভয়াবহ ভাইরাস থেকে আপনি রক্ষা পেতে পারেন। ডেঙ্গু মশা কামড়ানোর ৩ থেকে ১৪ দিনের মধ্যেই সাধারণত ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ গুলো দেখা দেয়।
আর ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ গুলো হল মাথাব্যথা, শরীরে অতিরিক্ত তাপ, বমি বমি ভাব, পেশীতে ব্যথা এবং শরীরের ত্বকে ফুসকুড়ি। সঠিক চিকিৎসা এবং নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খেলে এক সপ্তাহের ভেতরেই ডেঙ্গু রোগী আরোগ্য লাভ করে। আসুন তাহলে ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা
ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসার জন্য অবশ্যই একজন ভাল ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নিতে হবে। এছাড়া ঘরোয়া পদ্ধতিতেও আপনি ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা করতে পারেন। পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল জাতীয় খাবার ও পানি খেতে হবে। কারণ ডেঙ্গু জ্বর হলে আমাদের শরীরে পানি শূন্যতা রোগ দেখা দেয়।
এছাড়া ঘরোয়া পদ্ধতিতে চিকিৎসার জন্য পেঁপে পাতার রস, ডাবের পানি, গিলয় পাতার রস, মেথি পাতার রস, গোলমরিচ ও তুলসী পাতা দিয়ে গরম পানি খেতে হবে ও পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম নিতে হবে।
ডেঙ্গু জ্বর হলে কি খেতে হবে
ডেঙ্গু জ্বর হলে কি খেতে হবে সে সম্পর্কে আপনার জানা না থাকলে এই আর্টিকেলের মাধ্যমে জেনে নিন। ডেঙ্গু জ্বর হলে রোগীকে এমন খাবার খাওয়ানো উচিত নয় যা তার হজম করতে কষ্ট হয় এবং খাবার হওয়া উচিত পুষ্টিকর এবং দেহের পানির মাত্রা যেন ঠিক থাকে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে দেহে পানির ঘাটতি দেখা দেয় তাই তরল পানি খাওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত।
- ডেঙ্গু জ্বর হলে সাধারণত পানি ও তরল জাতীয় খাবার যেমন ডাবের পানি, ফলের রস, সুপ খেতে হবে। আর এই উপাদান গুলো আপনাদের শরীরে পানি শূন্যতা দূর করবে।
- এছাড়া শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের ফলের রস যেমন কমলা রস, আপেলের রস, পেয়ারা ডালিমের মতো ফলের রস প্রচুর পরিমাণে খেতে হবে।
- ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে আপনাকে অবশ্যই পেপে পাতার রস দিনে দুইবার করে খেতে হবে। কিছু গবেষণায় দেখে দেখা গেছে পেঁপে পাতার রস প্লেটলেটের সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করে।
- ডেঙ্গু জ্বর হলে অবশ্যই সবুজ শাকসবজি এবং সুপ জাতীয় খাবার বেশি করে খেতে হবে।
- ডেঙ্গু জ্বর হলে সহজে হজম হয় এমন খাবার খেতে হবে।
ডেঙ্গু জ্বরের ঘরোয়া চিকিৎসা
ডেঙ্গু জ্বরের ঘরোয়া চিকিৎসা বিভিন্নভাবে দেওয়া যায় তবে ডেঙ্গু জ্বরের আক্রান্ত হলে আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তবে কিছু কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি রয়েছে যেগুলো থেকে খুব অল্প হলেও স্বস্তি দিয়ে থাকে এবং দ্রুত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আসুন জেনে নেই তাহলে ডেঙ্গু জ্বরের ঘরোয়া চিকিৎসার সম্পর্কে।
পেঁপে পাতার রস
পেঁপে পাতার রসের মধ্যে রয়েছে প্লেটলেট আর আমাদের ডেঙ্গু জ্বর হলে আমাদের শরীরে প্লেটলেট অনেকটাই কমে যায়। তাই কয়েকটি কচি পেঁপে পাতা পরিস্কার করে রস করে প্রতিদিন এক থেকে দুই চামচ আমরা খেতে পারি। তবে অবশ্যই ডাক্তারের অনুমতি নেওয়া উচিত।
ডাবের পানি
ডেঙ্গু জ্বর হলে আমাদের শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানির অভাব দেখা দেয়। আর ডাবের পানি আমাদের শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করতে সহায়তা করে। তাই অবশ্যই প্রতিদিন ডাব খাওয়া উচিত।
গিলয়
গিলয়ের কান্ড থেকে রস সংগ্রহ করে তা পান করলে ডেঙ্গুর সময় আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নিতে হবে।
মেথি পাতার চা
মেথি পাতার চা আমাদের শরীরে তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে। তাই ডেঙ্গু জ্বরের সময় অতিরিক্ত তাপমাত্রা কমাতে আমরা মেথি পাতার চা খেতে পারি।
গোলমরিচ ও তুলসী পাতা
গোল মরিচ ও তুলসী পাতা দিয়ে পানি গরম করে সে গরম পানি যদি পান করা হয় তাহলে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
বিশ্রাম
ডেঙ্গু জ্বরের সময় আমাদের শরীর অনেকটাই দুর্বল থাকে। তাই অবশ্যই প্রচুর পরিমাণে বিশ্রাম নিতে হবে। যেন শরীর নিজে থেকেই ভাইরাসের ভেতরে লড়াই করতে পারে।
আমাদের শেষ কথা - দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ
প্রিয় পাঠক, আপনারা হয়তোবা এতক্ষণে দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ও ডেঙ্গু মশা চেনার উপায় সম্পর্কে জেনে গেছেন। আমরা আপনাকে দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ও ডেঙ্গু জ্বর হলে ঘরোয়া ভাবে কিভাবে প্রতিকার করতে পারবেন সে সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। ডেঙ্গু জ্বর একটি মারাত্মক সমস্যা আর যদি দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু জ্বর হয় তাহলে তো এটি আরো মারাত্মক ভাবে আমাদের শরীরের উপরে প্রভাব পড়ে।
আরো পড়ুন: কাঁচা পেঁপের উপকারিতা ও অপকারিতা
আপনি যদি এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণভাবে পড়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ, ডেঙ্গু জ্বর হলে কি কি করতে হবে এবং কি কি খেতে হবে সে সম্পর্কে একটি ধারণা পেয়ে গেছেন। আপনার যদি আমাদের এই আর্টিকেলটি ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের ওয়েবসাইটটি নিয়মিত ভিজিট করুন। কারণ আমরা আমাদের ওয়েবসাইটে প্রতিদিন নতুন নতুন স্বাস্থ্য বিষয়ক আর্টিকেল প্রকাশ করে থাকি।
আর এই আর্টিকেল সম্পর্কে আপনার যদি কোন মন্তব্য থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে জানিয়ে দিবেন। আজকে তাহলে পর্যন্তই। আবার দেখা হবে অন্য কোন আর্টিকেলের মাধ্যমে। আর এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
বিডি অনলাইন আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url