হাত পা চাবানোর ঘরোয়া চিকিৎসা

হাত পা চাবানোর ঘরোয়া চিকিৎসা নিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সঠিক তথ্য পাচ্ছেন না? আপনি যদি হাত পা চাবানোর সমস্যায় ভুগে থাকেন এবং সঠিক তথ্য জানতে চান তাহলে অবশ্যই খুব মনোযোগ সহকারে আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ুন।
হাত পা চাবানোর ঘরোয়া চিকিৎসা
তাছাড়া আমরা আপনাকে আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেমন পায়ের মাংসপেশী কামড়ানোর কারণ, পা চাবানো কমানোর উপায়, পা কামড়ানো কমানোর ব্যায়াম ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে জানানোর চেষ্টা করব।
পেজ সূচিপএ

হাত পা চাবানোর ঘরোয়া চিকিৎসা

হাত পা চাবানোর ঘরোয়া চিকিৎসা সম্পর্কে আমাদের সকলেরই অল্প হলেও জেনে রাখা উচিত। কারণ আমাদের নিত্য দিনের পরিশ্রমের ফলে শরীর অনেক ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং হাত পা রাতের বেলা অনেক পরিমাণে ব্যথা কিংবা চাবায়। আমরা অনেকেই আছি হালকা শরীরের অস্বস্তির জন্য ওষুধ খেতে তেমন পছন্দ করি না তাদের জন্য হাত-পা চাবানোর ঘরোয়া চিকিৎসা। আসুন তাহলে জেনে নেই হাত পা চাবালে কি কি ঘরোয়া চিকিৎসা নিবেন সে সম্পর্কে।

  • এক বালতি কুসুম গরম পানির ভিতরে দুই চামচ লবণ মিশিয়ে কিছুক্ষণ পা ভিজিয়ে রাখুন এতে পায়ের রক্ত চলাচল ভালো হবে এবং অনেক আরাম পাবেন।
  • দুধের সাথে হলুদ মিশিয়ে খেতে পারেন ও হলুদের মধ্যে প্রদাহ বিরোধী গুন আছে আর এই গুণ হাত-পা চাবানো সমস্যা অনেকটাই কমিয়ে দেয়।
  • অতিরিক্ত পরিমাণে হাত পা চাবালে প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নিন। বিশেষ করে শোবার সময় পায়ের নিচে একটি বালিশ দিয়ে দিতে পারেন।
  • অনেকক্ষণ বসে কাজ করার সময় অবশ্যই পা উঁচু জায়গাতে রাখার চেষ্টা করুন।
  • আদা আমাদের শরীরের রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে থাকে তাই আদার সাথে সামান্য পরিমাণ মধু মিশিয়েও খেতে পারেন এতে অনেকটা আরাম পাবেন।
  • প্রতিদিন সকালে এক কোয়া রসুন খেতে পারেন রসুন রক্ত চলাচল করতে সাহায্য করে এতে আরাম পাবেন।
  • কুসুম গরম পানির সাথে মধু ও এক চামচ লেবুর রস মিশিয়ে খেলে আমাদের রক্ত পাতলা হয় ফলে শিরার ভেতরে রক্ত গুলো খুব দ্রুত চলাচল করতে পারে।
  • নিয়মিত ব্যায়াম হাঁটা চলাফেরা রক্ত চলাচল বাড়াতে সাহায্য করে এবং পা চাপানো থেকে অনেকটাই আরাম পাওয়া যায় তাই নিয়মিত ব্যায়াম করার অভ্যাস করুন।
  • এছাড়া ভিটামিন বি সমৃদ্ধ খাবার খেয়েও আপনি পা চাবানো কমাতে পারেন যেমন বাদাম, ডিম, দুধ, মাছ ইত্যাদি
তাছাড়া এ ঘরোয়া পদ্ধতি গুলো যদি আপনি সময় না পান কিংবা করার ক্ষেত্রে বিরক্ত লাগে তাহলে প্যারাসিটামল সেবন করতে পারেন। এতে অনেকটা আরাম পাবেন তবে ওষুধ খাওয়া তেমন ভালো না ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ফলে ক্ষতি হতে পারে। আপনার যদি হাত-পা চাবানোর সমস্যা থাকে তাহলে অবশ্যই এ ঘরোয়া চিকিৎসা অনুসরণ করতে পারেন তাহলে কিছুদিনের মধ্যেই আপনার হাত পা চাবানোর সমস্যাটি কমে আসবে। তবে যদি অতিরিক্ত পরিমাণে হাত পা চাবায় এবং দীর্ঘদিন ধরে তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরী।

পায়ের মাংসপেশী কামরানোর কারণ

পায়ের মাংসপেশী কামড়ানোর কারণ আমরা অনেক সময় বুঝতে পারি না। বিশেষ করে রাতের বেলা বেশিরভাগ আমাদের পায়ের মাংস পেশী কামড়ে থাকে। যদি পায়ের মাংসপেশী কামড়ানোর কারণ সম্পর্কে আমরা জানতে পারি তাহলে সঠিক চিকিৎসা নিতে পারব। আসুন তাহলে কি কি কারণে পায়ের মাংসপেশী কামড়ায় সে সম্পর্কে আলোচনা করি।

  • পায়ের মাংসপেশী কামড়ানোর বিভিন্ন কারণ হতে পারে শরীরে যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি না থাকে কিংবা পানির অভাব হয় তাহলে আমাদের পেশীগুলো সংকোচন ও প্রসারণে সমস্যা হয় এবং তখনই পায়ের মাংস বেশি কামড়ায়।
  • বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন যেমন ভিটামিন, ভিটামিন ডি, আয়রন ও খনিজের অভাব হলে আমাদের মাংসপেশীর সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, সোডিয়াম এর মত ইলেকট্রোলাইটের অভাবের জন্য পায়ের পেশিতে কামড়ানোর সমস্যা হয়।
  • সারাদিন অতিরিক্ত পরিমাণে কঠোর পরিশ্রম কিংবা হাঁটাচলা করলে পায়ের পেশীগুলোতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং পা কামড়ায়।
  • পায়ের পেশিগুলোর মধ্যে রক্ত চলাচল যদি সঠিকভাবে না করতে পারে কিংবা রক্ত চলাচলে যদি বাধা প্রাপ্ত হয় তাহলে পা কামড়ায়।
  • অনেক সময় ঠান্ডা জন্য আমাদের পেশীগুলো অনেক বেশি শক্ত হয়ে যায়। আর অনেকের ক্ষেত্রে পা কামড়ানোর এটাও কারণ হতে পারে।
  • অনেক ওষুধ সেবনের ফলেও পা কামড়ানো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ডায়ুরেটিক্স ওষুধ ব্যবহার করে তাদের জন্য এই সমস্যা হতে পারে।

পা চাবানো কমানোর উপায়

পা চাবানো কমানোর উপায় সম্পর্কে আমাদের কম বেশি সকলেরই জানার প্রয়োজন পড়ে কারণ আমাদের বেশিরভাগ সময়েই পা চাপানোর সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে যদি সারাদিন অতিরিক্ত হাটাহাটিঁ কিংবা পরিশ্রমের কাজ হয় তাহলে আমাদের পা চাপানো সমস্যা শুরু হয়। 

আর এ সমস্যাটি বিশেষ করে রাতের বেলা বেশি হয়। সারাদিন পরিশ্রম করার পরে যদি রাতের বেলা পা চাবানোর জন্য আপনি ঘুমাতে না পারেন তাহলে শরীরে অস্বস্তি ভাব আসে। তাই চলুন পা চাবানো কমানোর উপায় সম্পর্কে জেনে আসি। তাহলে খুব সহজে আপনি পা চাবানোর সমস্যা কমিয়ে রাতে আরাম পাবেন।

  • পা চাবানোর সমস্যা বেশিভাগ ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি এর কারণে হয়ে থাকে তাই শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে সূর্যের আলো দরকার। কারণ সূর্যের আলোতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ডি।
  • শরীরে ক্যালসিয়াম ঘাটতি পূরণ করার জন্য দুধ, ডিম, পনির, টক, দই, মাখন, ঘি এবং কাটাসহ ছোট মাছ খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া গরু কিংবা ছাগলের পায়ের নেহেরি খেলেও ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ হয়।
তাছাড়া আপনার যদি অতিরিক্ত পরিমাণে পা ব্যথা শুরু হয় কিংবা কামড়ায় তাহলে অবশ্যই একজন ভালো চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিবেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাওয়া শুরু করা উচিত।

শিশুদের পা কামড়ানো কমানোর উপায়

শিশুদের পা কামড়ানো কমানোর উপায় সম্পর্কে আজকে আমরা জানবো। শিশুদের পা কামড়ানো কিংবা ব্যাথা হওয়া খুব সাধারন একটি সমস্যা। শিশুরা অনেক দুরন্ত হয় খুব দ্রুত চলাফেরা করে সে কারণে বেশিরভাগ সময় শিশুদের পা কামড়ায় কিংবা পা ব্যথা করে। 

এছাড়া শিশুরা ধীরে ধীরে বড় হয় আর শিশুরা ধীরে ধীরে বড় হওয়ার ফলে তার হারগুলো বৃদ্ধি পায়। আর সে কারণেও শিশুদের পা কামড়ানো সমস্যা হতে পারে। তাছাড়া শিশুদের শরীরে যদি পরিমিত পরিমাণে ভিটামিন এর ঘাটতি থাকে তাহলে তাদের পা কামড়ানোর সমস্যা দেখা দেয়। 

শিশুরা বড় হওয়ার সাথে সাথেই তাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন এর চাহিদা শরীরে দেখা দেয় আর ভিটামিনের ঘাটতি হলে শিশুদের পা কামড়ানোর সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন ভিটামিন বি১, ভিটামিন বি ৬, ভিটামিন বি১২ এসব ভিটামিনের জন্য শিশুদের পা কামড়ানো সমস্যা দেখা দেয়।

এছাড়া বিভিন্ন ধরনের খনিজ বিশেষ করে ক্যালসিয়ামের ঘাটতির জন্য শিশুদের এরকম সমস্যা দেখা দেয়। আসুন তাহলে জেনে নেই এই সমস্যাগুলো কমিয়ে কিভাবে শিশুদের পা কামড়ানো কমানো যায়।

  • অতিরিক্ত পরিমাণে যদি পা কামড়ানো কিংবা ব্যথা করে তাহলে প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে।
  • এছাড়া ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন মাখন, ঘি, পনির, ডিম কুসুমসহ, দুধ, টক দই, ছোট মাছ কাঁটা সহ চিবিয়ে খেলে ভালো ক্যালসিয়াম পাবে।
  • এছাড়া ক্যালসিয়াম যুক্ত খাবার যেমন গরু কিংবা খাসির পায়ের নেহেরি খেতে পারে এতে ক্যালসিয়াম বৃদ্ধি পায়।
  • এছাড়া অতিরিক্ত পরিমাণে পা ব্যথা করলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে।

পা কামড়ানো কমানোর ব্যায়াম

পা কামড়ানো কমানোর ব্যায়াম সম্পর্কে জানব আমরা এখন। আমরা পায়ের উপরে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি কিংবা হাঁটা চলাফেরা করি। আমাদের শরীরের সমস্ত ওজন বহন করে আমাদের পা তাই পায়ের ব্যথা করলে কিংবা কামড়ালে খুব অস্বস্তি মনে হয়। 

পা কামড়ানো কিংবা পা ব্যথা আমাদের বেশিরভাগ সময়েই খুব অস্বস্তিতে ফেলে না দেয়। বিশেষ করে রাতের বেলা ঘুমাতে গেলে পা কামড়ানো শুরু হয় এবং সারারাত পা কামড়ানো চলতে থাকে এতে রাতে ভালো করে আমরা ঘুমাতেও পারি না। 
পায়ের মাংসপেশী কামরানোর কারন
তাছাড়া পা কামড়ানো সমস্যা কে গুরুত্ব না দিলে আস্তে আস্তে আরো কঠিন রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। যেমন গেটে বাত, গাউট ইত্যাদি আপনি যদি প্রতিদিন নিয়ম করে পা কামড়ানো কমানোর ব্যায়ামগুলো করে থাকেন তাহলে অবশ্যই পা কামড়ানোর মতো অস্বস্তিকর সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। আসুন তাহলে পা কামড়ানো কমানোর ব্যায়াম কিভাবে করা যায় সে সম্পর্কে আলোচনা করি।

  • একটি চেয়ারে সোজা হয়ে বসুন এবং মেঝেতে একটি পাত্র রাখুন ও পাত্রের পাশে মেঝেতে ২০ থেকে ২৫ টি মার্বেল রাখুন তারপর একটা একটা করে মার্বেল পায়ের আঙ্গুলের সাহায্যে তুলে পাত্রের ভেতরে রাখুন। এভাবে দুই পা দিয়েই মার্বেল গুলো তুলে পাত্রের ভেতরে রাখুন। প্রতিদিন এভাবে দিনে অন্তত দুইবার করুন। এতে আপনার পায়ের পেশিগুলো রক্ত চলাচলের জন্য সচল হবে এবং পা অনেক শক্তিশালী হবে।
  • এই ব্যায়ামটি করার জন্য মেঝেতে একটি ছোট বল নিন এবং একটি চেয়ারে সোজা হয়ে বসে পা দিয়ে সে বলটি ঘোরান। পাঁচ থেকে ছয় মিনিট এভাবে পায়ের সাহায্যে বলটি ঘোরাতে থাকুন। দিনে দুই থেকে তিনবার এভাবে ব্যায়ামটি করুন এতে পা কামড়ানো অনেকটাই আরাম পাবেন।
  • এই ব্যায়ামটি পায়ের স্কাম্প ও হেমাটোস সমস্যায় খুব কার্যকরী। মেঝেতে একটি তোয়ালা রাখুন এবং চেয়ারের ওপরে সোজা হয়ে বসে তোয়ালার ভেতরে আঙ্গুল দিয়ে বার বার তোয়ালাটি ধরুন আবার ছেড়ে দিন। এভাবে দিনে অন্তত দুইবার এই ব্যায়ামটি করুন এতে আপনার পায়ের পেশীগুলো রক্ত চলাচলের জন্য সচল হবে এবং পেশির শক্ত হবে।

পায়ের গোড়ালি ব্যথা কেন হয়

পায়ের গোড়ালি ব্যথা কেন হয় সে সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন। আপনার যদি হাত-পা চাবানোর সমস্যা থাকে তাহলে আর্টিকেলের ওপরের অংশ থেকে হাত পা চাবানোর ঘরোয়া চিকিৎসা সম্পর্কে জেনে নিতে পারেন। পায়ের গোড়ালি ব্যথার বিভিন্ন লক্ষণ কিংবা কারন হতে পারে। 

বিভিন্ন কারণে আপনার পায়ের ব্যথা কিংবা গোড়ালি ব্যথা হতে পারে। আমরা আপনাদের পায়ের গোড়ালি ব্যথা কেন হয় সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবো। চলুন তাহলে জানি পায়ের গোড়ালী ব্যথা কেন হয় সেই সম্পর্কে।

  • প্লান্টার ফ্যাসাইটিস রোগের কারণে পায়ের পেছনের অংশের গোড়ালির নিচে ব্যথা হতে পারে। এটি সাধারণত বেশি সময় দাঁড়িয়ে থাকা কিংবা বেশি হাঁটা, চলাফেরা করার জন্য হয়।
  • একই লিস্ট ট্যান্ডনাইটিস কারণেও পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা হতে পারে। অতিরিক্ত দৌড়াদৌড়ি, অতিরিক্ত ব্যায়ামের কারণে এই সমস্যা হয়।
  • অনেক সময় আমাদের হাড় অতিরিক্ত বড় হয়ে যাই। আর হাড়ের অতিরিক্ত বড় হওয়ার ফলেও আমাদের পায়ের গোড়ালি ব্যথা করতে পারে।
  • পায়ের গোড়ালির জয়েন্টে যদি আথাইটিস থাকে তাহলে পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা ও ফোলা ভাব হতে পারে। তবে সাধারণত বৃদ্ধ বয়সে এ সমস্যা দেখা দেয়।
  • তাছাড়া পায়ের গোড়ালিতে যদি কোন আঘাত লাগে কিংবা কোন এক্সিডেন্ট হয় তাহলে পায়ের গোড়ালি ব্যথা হতে পারে।
পায়ের গোড়ালির ব্যথা ঘরোয়াভাবে ভালো করা যায়। ঘরোয়া উপায়ে পায়ের গোড়ালের ব্যথা ভালো করার জন্য আপনাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম নিতে হবে। গোড়ালিতে বরে লাগানো যায় এবং আরামদায়ক জুতা পড়তে হবে। পায়ের আঙ্গুলগুলো মাঝে মাঝে ব্যায়াম করতে হবে। আর যদি ব্যথা অতিরিক্ত পরিমাণে হয় তাহলে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সচার আচার জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর

১. পা ব্যথার কারণ কি ?
পা ব্যথা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। অনেক সময় শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি, ভিটামিন ডি এর ঘাটতি এবং ওজন বাড়ার কারণেও পা ব্যথা হতে পারে। অনেক সময় আমাদের পায়ের ভেতরে রক্ত চলাচল স্বাভাবিকভাবে হয় না সে কারণেও পা ব্যথা হতে পারে। তবে আপনি যদি নিয়মিত ব্যায়াম করেন তাহলে পা ব্যথা হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়।

২. কি কি খাবার খেলে পা ব্যথা হয় ?
সাধারণত কি কি খাবার খেলে পা ব্যথা হয় এমন কোন নির্দিষ্ট খাবারের তালিকা নেই। তবে প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনিযুক্ত খাবার, অতিরিক্ত লবণ, খারাপ চর্বিযুক্ত মাংস এবং অ্যালকোহল জাতীয় খাবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে পা ব্যথার কারণ হতে পারে।

৩. পা ফোলা কমাতেই কি পান করা যায় ?
আমাদের অনেক সময় বিভিন্ন কারণে পা ফুলে যায়। আমাদের শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়াম এবং অন্যান্য বজ্র বেশি হয়ে গেলে পা ফুলে যেতে পারে। আরে পা ফুলা কমানোর জন্য প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা উচিত।

৪. পায়ের ব্যথা তাৎক্ষণিক দূর করার উপায় ?
হঠাৎ যদি কোনো কারণে আপনার পা ব্যথা শুরু হয় তাহলে নড়াচড়া কিংবা হাঁটাচলা ফেরা একটু কম করে বিশ্রাম নিন। এছাড়া একটি ব্যাথানাশক ওষুধ খেয়ে নিতে পারেন। এতে তাড়াতাড়ি পায়ের ব্যথা দূর হবে।

রাতে হাত-পা কামরানোর কারণ কি

রাতের বেলা হাত-পা কামড়ানোর কারণ কি এ সম্পর্কে আমাদের হয়তো অনেকেরই অজানা। আমাদের অনেকেরই রাতের বেলা প্রচুর পরিমাণে পা কামড়ায় ও জ্বালাপোড়া করে। কিন্তু দিনের বেলা তেমন কোন সমস্যা অনুভব করি না এমন একটি সমস্যাকে চিকিৎসকরা বলেন মাশল স্ক্যাম। আর এই মাশল স্ক্যাম্পের ফলে রাতের বেলা পায়ের পেছনের পেশিতে, পায়ের পাতায় প্রচন্ড ব্যথা হয়। 

আর মাঝে মাঝে ব্যথা উরুতে উঠে যায়। অনেক সময় রাতে হাত-পা কামড়ানো এত পরিমানে শুরু হয় যে ভুক্তভোগীরা সারারাত জেগে কাটায়। আর এ সময় অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নেয়া জরুরি। তবে আসুন আগে জেনে নেই আপনার রাতের বেলা হাত পা কামড়ানোর কারণ কি এবং কি সমস্যার জন্য আপনার রাতের বেলা হাত-পা চাবায় বা ব্যথা করে।

ভিটামিন ডি এর ঘাটতি
সাধারণত শীত কালে এ ধরনের পায়ের ব্যথা বেশি হয়। শীতে সূর্যের তাপ কম থাকে ফলে আমাদের শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ডি এর চাহিদা পূরণ করতে পারেনা। ফলে পা কামড়ানোর সমস্যা সৃষ্টি হয়। এছাড়া শীতের সময় পেশি ও টিস্যু কম নমনীয় হয়ে পড়ে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমাদের পেশি শীতে টান পড়ে এবং পা কামড়ানোর সমস্যা দেখা দেয় রাতের বেলা।

পুষ্টির ঘাটতি
আমাদের শরীরে পুষ্টির ঘাটতি হলে আমাদের পা কামড়ানোর সমস্যা দেখা দেয়। ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম বিশেষ করে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পরলে পা কামড়ানোর মত সমস্যা হতে পারে।

পানির ঘাটতি
শরীরে প্রয়োজনীয় পানির ঘাটতি দেখা দিলে পা কামড়ানোর সমস্যা দেখা দেয়। পানির অভাবে রক্তে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য তারতম্য দেখা দেয় এবং রাতের বেলা পা কামড়ায়।

বয়স জনিত সমস্যা
বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয় এবং আস্তে আস্তে সায়ুগুলো দুর্বল হয়ে যেতে থাকে ফলে পা কামড়ানো ও বিভিন্ন জটিল রোগের সমস্যা তৈরি হয়।

অতিরিক্ত চলাফেরা
আপনি যদি অতিরিক্ত পরিমাণে হাঁটাহাঁটি করেন কিংবা পায়ের ব্যায়াম করেন তাহলেও আপনার শরীরে পায়ের সমস্যা পা কামানোর সমস্যা দেখা দিবে। এছাড়া অনেকক্ষণ যদি এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকেন তাহলে পায়ে সায়ুগুলোর ভেতরে রক্ত চলাচল বাধা প্রাপ্ত হয় ফলে রাতের বেলা পা কামড়ায়।

স্বাস্থ্যগত সমস্যা
অনেক সময় স্বাস্থ্যগত সমস্যার জন্য আমাদের পা কামড়াতে পারে যেমন আপনার যদি বাত ব্যথা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ধূমপান কিংবা অনেক দুশ্চিন্তা কিংবা হতাশে আছেন তাহলে আপনার পা কামড়ানোর সমস্যা হতে পারে। তাছাড়া মাংসপেশী বা সায়ুর বিভিন্ন সমস্যার জন্য রাতের বেলা পা কামড়ায়।

পায়ের তলায় ব্যথা হলে কি করতে হবে

সর্বশেষে আমরা জানবো পায়ের তলায় ব্যাথা হলে কি করতে হবে সে সম্পর্কে। আমাদের ভালোভাবে হাটাঁ এবং চলাফেরার সুবিধার জন্য পায়ের তলায় নানান ধরনের পেশী রয়েছে। আর এই পায়ের তলায় ব্যথা হলে আমাদের হাঁটা চলাফেরা অনেকটাই কষ্টকর হয়ে যায়। প্ল্যান্টার ফ্যাসিয়া হলো পায়ের গোড়ালি থেকে আঙ্গুল প্রান্তে একটি শক্ত লিগামেন্ট বা টিস্যুর চ্যাপ্টার ব্যান্ড। 
পায়ের তলায় ব্যথা হলে কি করতে হবে
যা আমাদের পায়ের বাককে সাপোর্ট দিয়ে থাকে। আর এই প্ল্যান্টার ফ্যাসিয়ায় যদি প্রচুর পরিমাণে চাপ পড়ে তাহলে আমাদের পায়ের তলায় ব্যথা অনুভব হয়। এছাড়া আরো অনেক বিশেষ কারণে পায়ের তলায় ব্যথা হতে পারে। যেমন অতিরিক্ত হাঁটা চলাফেরা, দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকা, শক্ত জুতো পড়া, অতিরিক্ত ওজন অথবা বিভিন্ন ধরনের রোগ থেকেও এ সমস্যা হতে পারে। আসুন তাহলে জেনে নেই পায়ের তলার ব্যথা হলে কি করতে হবে।

  • অনেক বেশি হাঁটাচলাফেরা এবং দাঁড়িয়ে থাকার ফলে যদি পায়ে ব্যথা অনুভূত হয় তাহলে অবশ্যই পা কে পরিমাণ মতন বিশ্রাম দিন এবং ভারী কাজ থেকে বিরত থাকুন।
  • একটি কাপড়ে বরফের টুকরো ভরে পায়ের তলায় স্পর্শ করুন এতে ব্যথা অনেকটা কমে যাবে।
  • বিছানায় শুয়ে একটি বালিশের সাহায্যে পা উপরের দিকে তুলে রাখুন এতে রক্ত সঞ্চালন ভালো হবে এবং পায়ের তলার ব্যথা কমবে।
  • আরামদায়ক এবং সঠিক জুতা নির্বাচন করুন। যাতে অতিরিক্ত পরিমাণে আপনার পায়ে চাপ না পরে।
  • কিছু হালকা ব্যায়াম করতে পারেন পায়ের ব্যথার জন্য যাতে পেশিগুলো শিথিল হয়।
উপরের এই পদ্ধতি গুলো অবলম্বন করেও যদি ব্যথা না কমে তবে অবশ্যই একজন ভালো অর্থোপেডিক বা ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরী।

লেখকের শেষ কথা - হাত পা চাবানোর ঘরোয়া চিকিৎসা

আমি আশা করি, আপনি আর্টিকেলটি খুব মনোযোগ সহকারে পড়েছেন এবং হাত-পা চাবানোর ঘরোয়া চিকিৎসা সম্পর্কে একটি সঠিক ধারণা পেয়েছেন। আপনার যদি হাত-পা চাবানোর সমস্যা থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই হাত পা চাবানোর ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে আপনি উপকৃত হতে পারেন। 

তাছাড়া যদি অতিরিক্ত পরিমাণে হাত-পা কামড়ানো কিংবা ব্যাথা করে তাহলে বিভিন্ন ধরনের ব্যায়াম ও বিভিন্ন ভিটামিন যুক্ত খাবার খেয়ে হাত পায়ের ব্যথা কমাতে পারেন। এছাড়া আপনার শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ডি এর চাহিদা পূরণ করার জন্য প্রতিদিন অন্তত এক ঘন্টা সূর্যের আলোতে থাকতে পারেন।
হাত-পা কামড়ানোর ঘরোয়া চিকিৎসা সম্পর্কিত আর্টিকেলটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে কিংবা উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনার প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করুন। নিজে ভালো থাকুন এবং অন্যকে ভালো রাখার চেষ্টা করুন। 

আর হাত পা চাবানোর ঘরোয়া চিকিৎসা সম্পর্কিত আর্টিকেলে যদি আপনার কোন মন্তব্য থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে জানিয়ে দিবেন। আমরা সত্যি আপনার মন্তব্যের অপেক্ষায় থাকি। আর এতক্ষন ধৈর্য সহকারে এবং মনোযোগ দিয়ে আমাদের পুরো আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

বিডি অনলাইন আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url