প্রতিদিন কয়টা আমলকি খাওয়া উচিত

প্রতিদিন কয়টা আমলকি খাওয়া উচিত এই বিষয়ে আমাদের অনেকেরই জানা নেই। তাই আজকের আর্টিকেলের মূল আলোচনার বিষয় হলো প্রতিদিন কয়টা করে আমলকি খেলে আমাদের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। চলুন তাহলে জেনে নেই।
প্রতিদিন কয়টা আমলকি খাওয়া উচিত সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন
তাছাড়া আমরা আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেমন আমলকি তেল তৈরির নিয়ম আর্টিকেলের মাধ্যমে আলোচনা করার চেষ্টা করব। আশা করি আমলকি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো জানতে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথেই থাকবেন।
পেজ সূচিপএ

প্রতিদিন কয়টা আমলকি খাওয়া উচিত

প্রতিদিন কয়টা আমলকি খাওয়া উচিত এ বিষয়ে আমাদের অবশ্যই ভালোভাবে জেনে নেওয়া উচিত কারণ আমলকি একটি স্বাস্থ্যকর ফল। আমলকির মধ্যে রয়েছে ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। ভিটামিন সি আমাদের ত্বক ও চুলের যত্নের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এছাড়া অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের শরীরের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে এবং হজমের উন্নতি করতে সাহায্য করে। 

প্রতিদিন সকালে এক থেকে দুইটি আমলকি খাওয়া উচিত কিংবা আপনি আমলকির জুস বানিয়েও খেতে পারেন। এতে পেপটিক আলসার প্রতিরোধে ভালো কাজ করে। এছাড়া আমলকি শরীরের বিষাক্ত পদার্থগুলো বের করে ফেলে এবং শরীরের বাড়তি ওজন কমাতে সাহায্য করে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে আমলকি খাওয়া উচিত নয় কারণ এতে রয়েছে ভিটামিন সি যা আমাদের পেটে অনেক সময় গ্যাসের প্রবলেম তৈরি করতে পারে। আশা করি প্রতিদিন কয়টা আমলকি খাওয়া উচিত সে সম্পর্কে আমরা আপনাদের বিস্তারিত জানাতে পেরেছি।

আমলকি চুলে দেওয়ার নিয়ম

আমলকি চুলে দেওয়ার নিয়ম সঠিকভাবে যদি আপনার জানা থাকে তাহলে আপনি আমলকির তেল দিয়ে আপনার চুলের গোড়া খুব সহজেই মজবুত কিংবা চুল পড়া রোধ করতে পারবেন। অনেক যুগ আগে থেকেই আমলকি শুধু খাওয়ার উপাদান নয় চুলের যত্নেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে। স্বাস্থ্যকর ও ঝকঝকে চুল পেতে অনেকেই নিয়মিত আমলকি ব্যবহার করে থাকে। 

আমলকি চুলে দিলে চুলের বৃদ্ধি, চুলে প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে, খুশকি দূর করে, মাথার ত্বকের পুষ্টি যোগায়, ধুলোবালি এবং দূষণ থেকে আমাদের চুলকে রক্ষা করে, চুল মজবুত করে। আসুন তাহলে জেনে নেই আমলকি চুলে দেওয়ার নিয়ম সম্পর্কে।

আমলকি চুলে দেওয়ার নিয়ম

  • আমলকি ভালো করে বিলিন্ডারে মিশ্রিন করে আপনি আপনার চুলের গোড়ায় লাগাতে পারেন এতে চুলের গোড়া মজবুত হবে।
  • আমলকির তেল বানিয়ে হাতে তালুই নিয়ে চুলের গোড়ায় ভালোভাবেই মালিশ করতে পারেন এতে চুলের গোড়া মজবুত হবে এবং চুল দ্রুত বড় করতে সাহায্য করবে।
  • আমলকির রস বের করে ভালো করে চুলের গোড়ায় মালিশ করুন এতে চুলের রুক্ষতা এবং খুশকি দূর হবে।
  • তাছাড়া আমলকির রসের সাথে লেবু মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন এটা আপনার চুলের গোড়া মজবুত হবে, চুলের বৃদ্ধি হবে এবং মাথার ত্বকের পুষ্টি যোগাবে।
এছাড়া নারিকেল তেল কিংবা আমন্ড তেল সাথেও আমলকি রস ব্যবহার করতে পারেন। এই উপকরণটি আপনি সপ্তাহে দুই দিন ব্যবহার করতে পারেন এতে আপনার চুল ঝরঝরে হবে এবং অনেক সিল্কি হবে। এই উপকরণটি প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে।

আমলকি তেল তৈরির নিয়ম

আমলকি তেল তৈরির নিয়ম এবং আমলকি থেকে কিভাবে তেল বের করবেন সে সম্পর্কে আসুন জেনে নেই। চুল পড়া বন্ধ করতে আমলকি তেল একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি চুলের গোড়া মজবুত করার পাশাপাশি চুলকে ঝলমলে করতে সাহায্য করে। ঘরোয়া পদ্ধতিতে আপনি আমলকির তেল তৈরি করে নিতে পারেন এবং এক বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করে প্রতিদিন চুলে ব্যবহার করতে পারেন।

আমলকি তেল তৈরির নিয়ম

  • আমলকির তেল তৈরির করার জন্য প্রথমে পরিমাণ মতো আমলকি নিয়ে ভালো করে ধুয়ে একটি শুকনো কাপড় দিয়ে আমলকি গুলো মুছে নিতে হবে।
  • তারপর প্রতিটা আমলকি ছুরি দিয়ে ভালো করে কেটে ভেতর থেকে বিচি গুলো বের করে ফেলে দিতে হবে।
  • তারপর বিলিন্ডারের ভেতরে কেটে রাখা আমলকি গুলো এবং কিছু কারি পাতা ও পরিমান মত নারিকেল তেল নিয়ে ভালো করে একটি পেস্ট তৈরি করে নিন।
  • পেস্ট তৈরি হয়ে গেলে শুকনো কাপড় দিয়ে ভালো করে ছেঁকে পেস্ট থেকে রস বের করে নিন।
  • এরপর গ্যাসের চুলায় একটি সসপ্যান কিংবা কড়ই চাপিয়ে দিন সেই প্যানের ভিতরে আমলকির রস গুলো দিয়ে দিন কম আচেঁ অনবরত নাড়তে থাকুন।
  • ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট নাড়াচাড়া করার পরে লক্ষ্য করুন আমলকি রসের রং বদলে গেছে এবং আস্তে আস্তে কড়াইয়ের চারিদিকে তেল দেখা যাচ্ছে
  • এমন অবস্থায় কড়ই চুলা থেকে নামিয়ে নয় থেকে দশ ঘন্টা ঢেকে রাখুন
  • ঠান্ডা হয়ে আসলে একটি পাতলা কাপড় দিয়ে তেল তেলগুলো আলাদা করে নিন। তেল অনেকদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করে রাখার জন্য অবশ্যই কাঁচের পাত্র ব্যবহার করুন।

গর্ভাবস্থায় আমলকি খাওয়ার উপকারিতা

গর্ভাবস্থায় আমলকি খাওয়ার উপকারিতা রয়েছে অনেক তাই চিকিৎসকরা গর্ভাবস্থায় আমলকি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আমলকিতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি, ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। 

আমলকি শুধু উপকারী নয় আমলকির পাতাও বিভিন্ন ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আমরা আপনাদের কিছুক্ষণ আগে প্রতিদিন কয়টা আমলকি খাওয়া উচিত সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছি এখন আমরা আপনাদের গর্ভাবস্থায় আমলকি খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবো। তাহলে জেনে নিন গর্ভাবস্থার সুস্থ থাকতে আমলকি খাওয়ার উপকারিতা।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
আমলকির মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া গর্ভাবস্থার সময় সাধারণত জরায়ু ও মূত্রনালীর বিভিন্ন সংক্রমণ আটকাতে আমলকি গুরুত্বপূর্ণ।

ক্লান্তি দূর করতে
গর্ভকালীন সময় সকালের সময়টা খুব ক্লান্ত লাগে, অলসতা, বমি ভাব এমন কি কোন কাজ করতে ইচ্ছে করে না আর এসব সমস্যার সমাধান দেয় আমলকি। আপনার শরীরের ক্লান্তি ভাব এবং বমি ভাব, অস্বস্তি ভাব দূর করতে আমলকির কোন জুড়ি নেই।

গ্যাসের সমস্যা
গর্ভাবস্থায় গ্যাসের সমস্যা খুব সাধারণ সমস্যা এটি বেশিরভাগ গর্ভবতী মহিলারই হয়ে থাকে। আমলকির জুস নিয়মিত খেলে গ্যাসের সমস্যা দূর হয়।

কোষ্ঠকাঠিন্য
আমলকির মধ্যে রয়েছে ফাইবার। আর ফাইবার আমাদের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া এটি আমাদের আয়রন ও শরীরের অন্যান্য পুষ্টি এবং হজম শক্তি বাড়ায়।

ফুলে যাওয়ার সমস্যা
গর্ভাবস্থায় আমাদের অনেকেই হাত পা ফুলে যেতে পারে কিংবা হাত পা ফুলে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দেয়। আমলকির মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি ইনফিল্মেটরি উপাদান এছাড়া আমলকির মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমানে পানি। আর পানি আমাদের গর্ভাবস্থায় দেহকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ
আমলকির মধ্যে রয়েছে ভিটামিন সি যা আমাদের উচ্চ রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে এবং রক্তচাপ বাড়তে দেয় না।

দাঁতের সমস্যা
আমলকির মধ্যে রয়েছে ভিটামিন সি এবং ক্যালসিয়াম। গর্ভাবস্থায় মাড়ি থেকে রক্ত বের হলে মুখে দুর্গন্ধ হলে কিংবা দাঁতের ক্ষয় রোধ করতে আমলকি গুরুত্ব অনেক।

সুগারের সমস্যা
আমলকির মধ্যে রয়েছে এন্টিডাইবেটিক উপাদান যা একজন গর্ভবতী মায়ের শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় কিংবা গর্ভকালীন সময় ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনাকে কমিয়ে দেয়। এছাড়া আমলকি শুধু একজন গর্ভবতী মায়েরই উপকার করে এমনটা নয় গর্ভের বাচ্চার জন্য উপকারী। 

প্রতিদিন যদি আপনি নিয়ম করে আমলকি জুস খেতে পারেন তাহলে আপনার গর্ভের শিশুর স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পাবে হাড় ও পেশিগুলো মজবুত হবে এবং গর্ভের শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

আমলকির উপকারিতা

আমলকির উপকারিতা সম্পর্কে কথা আসলেই আগে ভিটামিন সি এর কথা বলতে হয় কারণ আমলকির মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এ ছাড়া আরো অনেক পুষ্টিকর উপাদান আমলকির মধ্যে রয়েছে। ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, আয়রন, ফাইবার, ভিটামিন এ, ক্যালসিয়াম, অ্যামাইনো এসিড, প্রোটিন, ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়াম। আমলকি আমাদের দেশে খুব জনপ্রিয় একটি ফল। 
প্রতিদিন কয়টা আমলকি খাওয়া উচিত
অনেকেরই খাদ্য তালিকায় নিয়মিত এটি খেয়ে থাকে। পুষ্টিবিদরা বলেন আমলকির মধ্যে রয়েছে এমন কিছু উপাদান যা আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এছাড়া আমলকি সর্দি, কাশি অথবা যাদের ঠান্ডা লাগার মত সমস্যা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রেই বিশেষ উপকারী। আবহাওয়া পাল্টানোর জন্য আমাদের যে ভাইরাল জ্বর হয় আমলকি খেলে বেশ উপকার পাওয়া যায়।

আমলকি পুষ্টিগত উপাদান গুলোর মধ্যে এমন একটি উপাদান যা শুধু আমাদের স্বাস্থ্যগত সমস্যায় দূর করে না বরং এই ফলটি আমাদের জন্য ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও বিশেষ উপকারী ফল হিসেবে পরিচিত। তাই আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় আমলকি রাখা উচিত তবে খাদ্য তালিকায় আমলকি রাখার আগে অবশ্যই আমলকির পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জেনে নেওয়া ভালো। চলুন তাহলে আমলকির উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

আমলকির উপকারিতা

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
আমলকি একটি টক জাতীয় ফল হওয়ায় এর মধ্যে ভিটামিন সি অতিরিক্ত পরিমাণে রয়েছে। তাই আমলকি আমাদের শরীরে রক্ত প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং নতুন কোন সংক্রমণ শরীরে ভেতরে তৈরি হতে দেয় না।

হার্ট সুস্থ রাখে
আমলকির মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। আর এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান আমাদের হার্টের বিভিন্ন সমস্যা দূর করে হার্ট ভালো রাখে রক্তের কোলেস্টেরল কমিয়ে শিরার রক্ত চলাচল সচল করে।

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কমায়
আমলকির মধ্যে রয়েছে উচ্চমাত্রার খাদ্য আশঁ যা আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এবং যে কোন খাদ্য খুব সহজেই হজমে সহায়তা করে। তাছাড়া আমলকির মধ্যে ফাইবার থাকার কারণে যেকোনো খাদ্য খুব সহজেই হজম হয়ে যায় ফলে গ্যাস্টিকের সমস্যা বৃদ্ধি পায় না।

চোখের জন্য ভালো
আমলকির মধ্যে রয়েছে ভিটামিন এ যা আমাদের চোখের বিভিন্ন সমস্যা যেমন রাতকানা রোগ থেকে মুক্তি দেয়।

হাড় ও দাঁতের জন্য উপকারী
আমলকির মধ্যে রয়েছে ক্যালসিয়াম। আর ক্যালসিয়াম আমাদের হাড় মজবুত করতে ও দাঁতের গোড়া থেকে রক্ত পড়া ও মুখের ভেতরে বিভিন্ন ইনফেকশন ভালো করতে সহায়তা করে।

কোষের কার্যক্ষমতা বাড়ায়
আমলকির মধ্যে রয়েছে ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়াম। আর এই ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়াম আমাদের শরীরের ভেতরের মরা কোষ গুলো সতেজ করতে সাহায্য করে এবং কোষের কার্যক্ষমতা বাড়ায়।

ওজন নিয়ন্ত্রণে
আমলকির মধ্যে খুব সামান্য পরিমাণে ফ্যাট রয়েছে। তাই প্রতিদিন নিয়ম করে আমলকি খেলে আমাদের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।

মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়
আমলকির মধ্যে রয়েছে ভিটামিন৫ ও বি৬। যা আমাদের মস্তিষ্ক ও নার্ভাস সিস্টেমের কার্যকারিতা অনেকটাই উন্নত করে থাকে এবং স্মৃতিশক্তি উন্নত করে।

ত্বক সুস্থ রাখে
আমলকির মধ্যে রয়েছে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। আর ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের ত্বক ও চুলের জন্য অত্যন্ত উপকারী। আমলকির মধ্যে এগুলো উপাদান উপস্থিত থাকার ফলে আমাদের ত্বক সুস্থ ও উজ্জ্বল রাখে।

সুগার কমাতে সাহায্য করে
যারা ডায়াবেটিসের রোগী রয়েছেন তাদের জন্য আমলকি একটি সুগার কমানোর প্রধান উৎস হতে পারে। আমলকি রক্তে শর্করতার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। আমলকির মধ্যে থাকা পলিফেনলসগুলি ইনসুলিন মাত্রা উন্নত করতে এবং গ্লুকোজ বিপাক নিয়ন্ত্রণের সাহায্য করে। তবে যারা ডায়াবেটিসের রোগী রয়েছেন তারা অবশ্যই প্রতিদিন কয়টা আমলকি খাওয়া উচিত সে সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেবেন।

সচার আচার জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন উত্তর

১. রাতে কি আমলকি খাওয়া যায়
আমলকি একটি টক জাতীয় ফল তাই অনেক সময় রাতে আমলকি খেলে গ্যাসের প্রবলেম হতে পারে।

২. আমলকির জল খেলে কি হয়
আমলকির জল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। আমলকির জল খেলে ওজন কমাতে সাহায্য করে।

৩. আমলকি খেলে কি এলার্জি হয়
আমলকিতে কোন অ্যালার্জি নেই তবে আমলকি খাওয়ার ফলে কিছু জনের মধ্যে এলার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৪. আমলকি খেলে কি প্রেসার কমে ?
আমলকির মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অভিটামিন সি আর এই দুটি উপাদান আমাদের রক্ত চলাচল সচল রাখে ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। তাই প্রতিদিন আমলকি খেলে প্রেসার নিয়ন্ত্রণে থাকে।

৫. আমলকি খেলে কি রুচি বাড়ে ?
আমলকির মধ্যে রয়েছে ভিটামিন সি এছাড়া মুখের ভিতরের বিভিন্ন ইনফেকশন সারাতে আমলকির কোন জুরি নেই। আর আমলকি টক জাতীয় ফল হওয়ায় এটি মুখের রুচি বাড়াতে সহায়তা করে।

আমলকি খাওয়ার নিয়ম

আমলকি খাওয়ার নিয়ম রয়েছে অনেক। বিভিন্ন ভাবে আমলকি খেতে পারেন। আমলকি হল ভিটামিন সি এর একমাত্র উৎস। দীর্ঘ মেয়াদী সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা কিংবা জ্বরের জন্য আমলকি খুব কার্যকর। এছাড়া টিভি রোগেও আমলকি প্রতিরোধ করে। 

উচ্চ রক্তচাপ,, ক্যান্সার, লিভারের সমস্যা, বদহজম শরীরের অতিরিক্ত ফ্যাট কিংবা কোথাও কেটে গেলে কিংবা ঘা থাকলে এন্টিসেফটিক হিসেবে ও আমলকি গুরুত্ব অনেক। তবে আমলকি খাওয়ার কিছু নিয়ম রয়েছে। আপনি যদি এই নিয়মে আমলকি খেতে পারেন তাহলে অবশ্যই আমলকি থেকে সঠিক উপকার পাবেন। আসুন তাহলে জেনে নেই আমলকি খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে।

  • কাঁচা আমলকি খুব ভালোভাবে ধুয়ে নিয়ে ছোট ছোট টুকরা করে হালকা গরম পানির সাথে ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে আমলকি এবং আমলকি মিশ্রিত পানিগুলো খেতে পারেন।এছাড়া হালকা বিট লবণ দিয়ে আমলকি কাঁচা চিবিয়ে খেতে পারেন এতেও বেশ উপকার পাবেন।
  • বিলিন্ডারে মিশ্রিন করে রস বের করে আমলকি খেতে পারেন।
  • এছাড়া আমলকির আচার কিংবা জুস বানিয়েও আমলকি খেতে পারেন।

খালি পেটে আমলকি খাওয়ার উপকারিতা

খালি পেটে আমলকি খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে হয়তো আমরা অনেকেই জানিনা। তবে খালি পেটে লেবু খেলে কি উপকার হয় সে সম্পর্কে আমরা অনেকেই জেনে থাকি। লেবুতে রয়েছে ভিটামিন সি তেমন আমলকিতে রয়েছে ভিটামিন সি। তাই খালি পেটে লেবু খেলে যেমন উপকার হয় যেমন খালি পেটে আমলকি খেলেও উপকারিতা কিন্তু কোন অংশে কম নয়। আমলকিতে রয়েছে ভিটামিন সি যা আমাদের সর্দি, কাশি ছাড়াও ইনফেকশনের হাত থেকেও রক্ষা করে। 
খালি পেটে আমলকি খাওয়ার উপকারিতা
এছাড়া ক্যান্সার রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। আমলকির রস আমাদের শরীরে সমস্ত প্রক্রিয়ার ভারসাম্য রক্ষা করে এবং বাত ব্যথা থেকে মুক্তি দেয়। সকালে আপনি খালি পেটে বিভিন্ন উপায়ে আমলকি খেতে পারেন। 

আমলকির জ্যাম বানিয়ে খেতে পারেন কিংবা গরম পানিতে আমলকি ছোট ছোট টুকরা করে দিয়েও খেতে পারেন। আমলকি খেলে আমাদের দৃষ্টি শক্তি বাড়ে এছাড়া আমলকি পাউডার হিসেবে খেলে আমাদের চোখের ছানি পড়ার সমস্যা দূর হয়। আমলকির রস পান করলে জ্বর কমানো সম্ভব। এছাড়া দাঁতের বিভিন্ন সমস্যায় আমলকি গুরুত্ব অনেক। 

আমলকি নিয়মিত পান করলে আমলকির মধ্যে থাকা অ্যামাইনো এসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকার কারণে আমাদের হৃদরোগে ঝুঁকি অনেকটা কমে যায়। যাদের শ্বাস কষ্টের সমস্যা রয়েছে তারা নিয়মিত আমলকি খেতে পারেন। এছাড়া যারা কাশির সমস্যায় ভুগছেন কিংবা লিভার সুস্থ রাখতে লিভার থেকে সমস্ত বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে আমলকি সহায়তা করে। 

আমলকি শুধু আমাদের শরীরের ভেতরে কাজ করে না আমাদের ত্বকের জন্যও কিংবা ত্বককে সুস্থ রাখার জন্য আমলকির গুরুত্ব অনেক। আপনি আমলকির পেস্ট বানিয়ে মুখে লাগাতে পারেন এতে ত্বক পরিষ্কার ও উজ্জ্বল হবে। এছাড়া মুখের মধ্যে থাকা সব দাগ দূর হবে, সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে। আমলকি চুলের গোড়া মজবুত করে এবং চুল পড়া রোধ করে। আমলকির মধ্যে থাকা প্রোটিন চুল বড় করতে সাহায্য করে তাই অবশ্যই প্রতিদিন আমলকি ব্যবহার করুন।

আমলকি খাওয়ার সতর্কতা

আমলকি খাওয়ার সতর্কতার ব্যাপারেও আমাদের নজর রাখা উচিত। আমলকি খেলে যেমন উপকার হয় তেমন কিছু কিছু ক্ষেত্রে কিংবা কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে আমলকি খেলে ক্ষতিও হতে পারে অথবা অতিরিক্ত পরিমাণে আমলকি সেবন করলে ক্ষতি হতে পারে কারণ এক একজনের স্বাস্থ্যগত সমস্যা এক এক রকম। 

কারো হজম শক্তি বেশি থাকে আবার কারো একটু শক্ত খাবার হজম করতে কষ্ট হয়ে যায়। কারো কারো এমন কোন বিশেষ রোগ রয়েছে যেগুলো রোগের জন্য অতিরিক্ত আমলকি খাওয়া মোটে উচিত হবে না। বিশেষ করে শীতের সময় আমলকি বেশি খাওয়া বিপদজনক হতে পারে। আসুন তাহলে জেনে নেই বেশি আমলকি খাওয়ার ব্যাপারে কি কি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

  • যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে তাদের আমলকি কম খাওয়ায় ভালো না হলে উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে।
  • যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে তারা অবশ্যই আমলকি কম পরিমাণে খাবেন না হলে হজমের সমস্যা হতে পারে।
  • আমলকি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়। অতিরিক্ত পরিমাণে আমলকি খেলে আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • যাদের সার্জারি হয়েছে তারা অবশ্যই আমলকি এড়িয়ে চলুন।
  • যাদের হার্টের সমস্যা রয়েছে তারা অবশ্যই আমলকি পরিমাণ মতো খাবেন। কারণ অতিরিক্ত আমলকি হার্টের জন্য ক্ষতিকর।
  • আবার অনেক সময় আমলকি খেলে ঠান্ডা লেগে যায়। ত্বকে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয় এমন কি এলার্জি হতে পারে। যদি এমন কোন সমস্যা দেখা দেয় তবে অবশ্যই আমলকি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেন।

আমাদের শেষ কথা - প্রতিদিন কয়টা আমলকি খাওয়া উচিত 

সবশেষে বলা যায় আমলকি একটি সুপার ফুট হিসেবে খাওয়া যায়। আমলকি খেলে আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যগত উপকার হয় তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অপকারও হয়ে থাকে। তাই অবশ্যই প্রয়োজনে তুলনায় অতিরিক্ত পরিমাণে আমলকি খাবেন না। 

তাছাড়া আপনি যদি আমলকি কাঁচা না খেতে পারেন তাহলে অবশ্যই আমলকির রস বানিয়ে খেতে পারেন। আশা করি আমলকি সম্পর্কে আপনি সঠিক ধারনা পেয়েছেন এবং আমলকি চুলে দেওয়ার নিয়ম সম্পর্কে সঠিকভাবে জানতে পেরেছেন।
প্রিয় পাঠক, আমার এই আমলকির সম্পর্কিত আর্টিকেলটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই বন্ধুবান্ধবদের সাথে শেয়ার করুন। নিজে ভালো থাকুন এবং অন্যকে ভালো থাকার সুযোগ করে দিন আর এরকম আরো স্বাস্থ্য বিষয়ক আর্টিকেল সম্পর্কে আপনি যদি জানতে চান তাহলে অবশ্যই আমাদের ওয়েবসাইটটি প্রতিনিয়ত ভিজিট করুন। কারণ আমরা আমাদের ওয়েবসাইটে প্রতিদিন এরকম স্বাস্থ্য বিষয়ক নতুন নতুন আর্টিকেল লেখার চেষ্টা করি

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

বিডি অনলাইন আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url